post
যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘের সামনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

বাংলাদেশের একুশের প্রথম প্রহরের সঙ্গে মিল রেখে স্থানীয় সময় রোববার নিউইয়র্ক সময় দুপুর ১টা ১ মিনিটে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙ্গালীর চেতনা মঞ্চের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপিত হয়।জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেট, বিভিন্ন রাজনীতিক, পেশাজীবী, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, সাংষ্কৃতিক এবং আঞ্চলিক সংগঠনের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচী উদযাপিত হয়। এর মধ্য দিয়ে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙ্গালীর চেতনা মঞ্চের আয়োজনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর ৩১ বছর পূর্তি হল। নিউইয়র্ক থেকে খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন জানায় স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার মধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রবাসী বাংলাদেশিরা জাতিসংঘের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বাঙালির চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাদশার পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সম্মিলিত কন্ঠে ভাষার গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। সকলে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে 'একুশের গান' (আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি) পরিবেশন করলে অমর একুশের শোকাবহ আবহের সৃষ্টি হয়। এরপর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দুপুর ১.০১ টায় উপস্থিত সর্বকনিষ্ঠ শিশু তিথির পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পাঘ্য অর্পণ কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পক্ষে দূতালয় প্রধান রফিকুল ইসলাম ও প্রথম সচিব (প্রেস) মো. নুর এলাহি মিনা, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর পক্ষে ডেপুটি কনসাল জেনারেল এস. এম নাজমুল হাসান। পরে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে একে একে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য করেন এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী, মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল চৌধুরী, শিতাংশ গুহ, ফাহিম রেজা নূর, সাাখাওয়াত আলী, ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল, সীকৃতি বড়ুয়া, মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাসার ভূইয়া, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া, আব্দুন নূর বড় ভূইয়া, আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, ডা. শাহানারা বেগম, ডা. মিতা চৌধুরী, মনোয়ারা বেগম মনি, জাহানারা বেগম লক্ষী, অধ্যাপক হুসনে আরা, ডা. এনামুল হক, চন্দন দত্ত, শেখ আতিকুল ইসলাম, আশফাক মাশুক, শাহীন আজমল, দুরুদ মিয়া রনেল, আলপনা গুহ, গোপাল সান্যাল, মোশাররফ হোসেন, কবি রওশন হাসান, সবিতা দাস, সাহাদাত হোসেন, নূরে আলম জিকু, কাজী রবি-উজ-জামান, দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, শাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন, আশরাফ আলী খান লিটন, ময়জুর লস্কর জুয়েল, আব্দুল কাদির লিপু, মাহবুবুর রহমান অনিক, সারোয়ার প্রমুখ। শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ কারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, বাঙালির চেতনা মঞ্চ, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ইউএসএ, একুশের চেতনা মঞ্চ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র কমান্ড, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র শাখা, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক, চট্রগ্রাম সমিতি, পেষাজীবী সমন্বয় পরিষদ ইউএসএ, বঙ্গবন্ধু প্রচারকেন্দ্র সমাজকল্যাণ পরিষদ, সিলেট গণদাবী পরিষদ, বাংলাদেশ ল সোসইটি ইউএসএ, অনুপ দাশ ডান্স একাডেমী, সুচিত্রা সেন মেমোরিয়াল ইউএসএ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান ঐক্য পরিষদ, শেখ রাসেল স্মৃতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম ইউএসএ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টি, যুক্তরাষ্ট্র জাসদ, বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদ, শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ ক্রীড়া চক্র, বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন অব নর্থ আমেরিকা, আবহানী ক্রীড়া চক্র, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ সোসাইটি, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস, সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী স্বেচ্ছা সেবক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, ভাষা সৈনিক আবদুস সামাদ পরিবার, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখা, জগন্নাথ হল এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাবেক নেতৃবৃন্দ, নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটি, রাজনগর উন্নয়ন সমিতি, প্রবাসী মতলব সমিতি, নতুন বাংলা যুব সংহতি, মীরসরাই সমিতি ইউএসএ। এছাড়াও নিউইয়র্কে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কবি লেখক শিল্পী সাহিত্যিক-সাংবাদিক, ইউনাইটেড নেশন্সের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। বক্তারা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের’ স্বীকৃতি আদায়ে প্রবাসীদের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতিকে চিরজাগ্রত রাখার স্বপ্ন বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করে যেতে হবে সকলকে। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তারা গত ৩১ বছর ধরে জাতিসংঘের সামনে শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য নিউইয়র্ক সহ আমেরিকার বাংলা সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক-আঞ্চলিক সংগঠন, কবি-লেখক-সাহিত্যিকসহ প্রবাসীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, বাঙালির রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ্বে একযোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন, যৌথ আয়োজনে ৬ দেশ

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে টানা ৬ষ্ঠ বারের মতো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হলো। ২০১৭ সাল থেকে জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের এ আয়োজনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এবারেও ২১ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে ইভেন্টটির আয়োজন করে এলসালভাদর, নাইজেরিয়া, পর্তুগাল ও শ্লোভাকিয়া মিশন। এতে সহ-অংশীদারিত্ব করে জাতিসংঘ সচিবালয় ও ইউনেস্কো। জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিশেষ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি। এছাড়া অনুষ্ঠানটি উপলক্ষে শুভেচ্ছাবাণী প্রদান করেন ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র।অনুষ্ঠানের বক্তারা যাতে নিজ নিজ মাতৃভাষায় বক্তব্য রাখতে পারেন সেজন্য এই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের ছয়টি অফিশিয়াল ভাষায় গোটা অনুষ্ঠানটি অনুবাদের ব্যবস্থা রাখা হয়। বাংলাদেশের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব উইমেন এর শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের থিম সঙ্গীত-‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি..’ একাধিক ভাষায় উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে মরক্কো, এলসালভেদর, শ্লোভাকিয়া ও পর্তুগালের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও ছিল মনোমুগ্ধকর। এছাড়া জাতিসংঘ সচিবালয় এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতির কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাগণের স্ব স্ব ভাষায় রেকর্ডকৃত বহুভাষিক ভিডিও বার্তা পরিবেশন করা হয় অনুষ্ঠানটিতে। জাতিসংঘ ওয়েব টিভিতে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদগণ এবং ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই জাতির পিতার নেতৃত্বে শুরু হয় বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম যার চুড়ান্ত পরিণতি পায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের মাধ্যমে। মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মার্তভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভের জন্য প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশীদের উদ্যোগকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে ইউনেস্কোর মাধ্যমে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এর পূর্ণ স্বীকৃতি আদায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ও অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি।শিক্ষাক্ষেত্রে কোভিডের ভয়াবহ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে এবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতিপাদ্য -‘প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বহুভাষায় জ্ঞানার্জন: সঙ্কট এবং সম্ভাবনা’ বেছে নেওয়ার জন্য ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি বলেন, “প্রযুক্তি বহুভাষিক শিক্ষার অগ্রগতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। সকল ভাষার প্রাণশক্তি ফিরে পেতে আমাদের সকল অংশীজনকে একসাথে কাজ করতে হবে; কম খরচে ব্যবহার-বান্ধব প্রযুক্তির বিকাশে বিনিয়োগ করতে হবে যা বহুভাষিক শিক্ষাকে সর্বত্র এগিয়ে নিতে পারে”।স্প্যানিশ ভাষাভাষী ফ্রেন্ডস্ গ্রুপের সভাপতি হিসেবে জাতিসংঘে নিযুক্ত কোস্টারিকার স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ভাষা বিষয়ক এনজিও কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতিসহ অন্যান্য বক্তাগণ জাতিসংঘে বহুভাষাবাদ ও মাতৃভাষার প্রচারে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার অগ্রগতিতে প্রযুক্তির সম্ভাবনাময় ভূমিকা এবং প্রযুক্তিগত বিভাজন দূর করার কথা তুলে ধরেন তারা। নিজ নিজ মাতৃভাষায় কথা বলতে গিয়ে বক্তাগণ বিলুপ্তির পথে থাকা ভাষার সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের আগে, সকালে, যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের আয়োজন করা হয়। নিউইয়র্ক সফররত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জনাব মো: তাজুল ইসলাম এমপি এবং একই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব হেলালুদ্দীন আহমদ এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। মন্ত্রীর নেতৃত্বে সিনিয়র সচিব ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং উপস্থিত মিশনের কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর সফরসঙ্গীগণ মিশনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। প্রদত্ত বক্তব্যে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ মিশনকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, মাতৃভাষার গুরুত্ব, মাতৃভাষার মাধ্যমে জ্ঞানার্জনসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ও অদম্য অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেন। মিশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে আরও নিবেদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং মহান একুশের ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে সড়কের নতুন নাম 'লিটল বাংলাদেশ'

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নিউইয়র্কে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশার পূরণ হলো। নগরের জ্যামাইকায় একটি সড়কের নামকরণ করা হলো ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’। সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশির জয়-বাংলা স্লোগান আর বিপুল করতালির মধ্যে এই আনুষ্ঠানিক নামকরণ হয়। হিলসাইড এভিনিউ এবং হোমলোন স্ট্রিটের কর্ণারে ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’র এই নামফলক উন্মোচন করেন সিটি কাউন্সিলম্যান জেমস এফ জিনারো।হোমলোন কর্নার থেকে হিলসাইড এভিনিউ ধরে অন্তত দুই ব্লক পর্যন্ত এই নামে পরিচিত হবে।  নিউইয়র্ক সিটিতে তিন লাখের বেশি বাংলাদেশির বসবাস। যার বড় অংশ থাকেন জ্যামাইকার হিলসাইডে। সম্প্রতি সিটি কাউন্সিলে সর্বসম্মতভাবে এই বিলটি পাশ হয়। যার বাস্তবায়ন ঘটলো একুশে ফেব্রুয়ারিতে। এর মধ্য দিয়ে সুদুর আমেরিকায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হলো, বলছিলেন জ্যামাইকাবাসী। ব্যস্ততম হিলসাইড এভিনিউর এই অংশটুকুর পুনর্নামকরণের ফলক উম্মোচনের দিনটিকে ২১ ফেব্রুয়ারিতে বেছে নেয়া প্রসঙ্গে কাউন্সিলম্যান জেমস জিনারো বলেন, বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার জন্য বাঙালি তরুণেরা জীবন দিয়েছেন। সেই আন্দোলনের পথ বেয়ে একাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে বাঙালিরা স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’-এ পরিণত করেছে জাতিসংঘ। এমন একটি ঐতিহাসিক-স্মরণীয় দিনে ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’র উদ্বোধন হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা আরো উৎফুল্ল হলেন। কাউন্সিলম্যানকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বহুজাতিক এই সমাজে বাঙালিদের মেধা আর শ্রমের মূল্যায়ন নানাভাবে ঘটছে। রাস্তার নামকরণে তা আরো ভিন্নভাবে দৃশ্যমান হলো। আমি আশা করছি, প্রিয় মাতৃভূমির চলমান উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির স্বার্থে প্রবাসীরাও ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।' এ অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজনের নামোল্লেখ করে কাউন্সিলম্যান জিনারো ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো সকলের নাম উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি তবে শিগগিরই তাদের একটি সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হবে। যাতে উল্লেখ থাকবে যারা এই রাস্তার নামকরণে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন স্টেট এ্যাসেম্বলিওম্যান জেনিফার রাজকুমার, ডেভিড ওয়েপ্রিন, কুইন্স কাউন্টি ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ এটর্নি মঈন চৌধুরী, ডেমক্র্যাট মোহাম্মদ আমিনুল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার সাদেক প্রমুখ। এক পর্যায়ে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির পক্ষ থেকে ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, মোহাম্মদ আলিমসহ কয়েকজন কাউন্সিলম্যানকে কমিউনিটির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতাসূচক ক্রেস্ট দেওয়া হয়। শেষে শ্রী চিন্ময় সেন্টারের শিল্পীরা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের পর মহান একুশের অবিস্মরণীয় সেই ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি-আমি কী ভুলিতে পারি’ গানটি পরিবেশ করেন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটিতে এই প্রথম ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’ নামক নিজস্ব একটি জায়গা তৈরি হলো। উদ্বোধনী সমাবেশের সূচনালগ্নে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু সময় নিরবতা পালন করা হয়।

post
যুক্তরাষ্ট্র

গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও উন্নয়নে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে, নিউইয়র্কে এলজিআরডিমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে একটি সংবর্ধনা সভায় যোগ দিয়ে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিদ্বন্ধীতাপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হলেই তা হবে গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা। বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন সকলের কাছেই চোখে পড়ার মতো, এবং দেশের প্রতিটি মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষাকে সরকার সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে দেখছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। গত সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কের গুলশান টেরাসে এখানকার বৃহত্তর লাকসাম ফাউন্ডেশন ইউএসএ-র পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি উদ্যোক্তা আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রকৌশলী আবুবকর হানিপ। মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, "শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন আর সরকার মিলে সুষ্ঠ একটি র্নিবাচন দেয়া সম্ভব নয়। তার জন্য নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।" একটি প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হলে সেটি হবে গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা, এমনটাই মত দেন মন্ত্রী। সকলের কাছে গঠণমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের যে কোন ভুল নেই তা নয়, তার জন্য গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন আছে। তবে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে শুধূ বিতর্ক করলে তাতে দেশ এগুতে পারবে না বরং পিছিয়ে যাবে। তিনি বলেন, বিতর্ক করলে দেশেরই ক্ষতি হবে। আমরা জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করতেই পারবো। তার বেশি কিছু নয়। শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকলে সরকারের ভুলত্রুটি ধরা যাবে না, এমন মত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরলে দেখা যাবে অসংখ্য অর্জন সরকারের রয়েছে। কিন্ত তাই বলে কি ব্যর্থতা নেই? সমালোচকরাই সে ভুল আমাদের ধরিয়ে দিতে পারবেন। মানবাধিকারের কথা বলা হয়। আমাদের কিছু সমস্যা রয়েছে সে কথা স্বীকার করে নিয়েই বলছি, এ সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ চলছে এবং একটি সময়ের ব্যবধানে তা কেটে যাবে এবং বাংলাদেশ মানবাধিকারের প্রেক্ষাপটে উত্তরোত্তর উন্নতি করবে। গণতন্ত্র বিশ্বের দেশে দেশে ভিন্নভাবে চর্চিত হয়, এমন মত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে আড়াই শ' বছরের, ব্রিটেনের পাঁচশ' বছরের পুরোনো ইতিহাস রয়েছে, তার তুলনায় ৫০ বছরের বাংলাদেশ, যার একুশ বছরই কেটেছে সামরিক শাসনের অধীনে আর সে কারণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। তিনি বলেন, এই যুক্তরাষ্ট্রে কৃতদাস প্রথার বিলুপ্তির সিদ্ধান্তে যুদ্ধ হয়, হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দেয়, আর তারই ধারাবাহিকতায় প্রাণ দিতে হয় প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনকেও। সেই তুলনায় বাংলাদেশ তার মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পথে খুব বেশি পিছিয়ে নেই বলেও মত দেন মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সময়ের ব্যবধানেই সকল কিছু প্রতিষ্ঠিত হবে। পৃথিবীর বুকে একটি সম্মানিত জাতি হিসেবেই টিকে থাকবে বাংলাদেশ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ তার সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা অনেক বেড়েছে বলেও তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন এলজিআরডি মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ভার্জিনিয়াস্থ আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও পিপল এন টেকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ বলেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাতরত প্রতিষ্ঠিত যে সব বাংলাদেশি রয়েছেন তারা অনেকেই এখন এদেশের মূলধারায় সংযুক্ত হয়ে এদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারছেন। তিনি বলেন, আমরা যদি নিজেদের জায়গা থেকে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেই, তাহলে দেশের নাম উজ্জ্বল করার মত অনেক সুযোগ তৈরি হবে। আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশিদের বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে এমনটা্ উল্লেখ করে আবুবকর হানিপ বলেন, এর মধ্য দিয়ে দেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এগিয়ে যেতে পারবে। তারা দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষা নিয়ে এখানকার মূলধারায় যুক্ত হয়ে কাজ করার সুযোগ পাবে। বিশ্বের বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে একসময়ে বাংলাদেশিদের দেখা যাবে, এমন প্রত্যাশার কথাই জানান আবুবকর হানিপ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বৃহত্তর লাকসাম ফাউন্ডেশন ইউএসএর’র সভাপতি মশিউর রহমান মজুমদার। ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ইউছূফ মজুমদার। লাকসামকে জেলা হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নিতে মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান মশিউর রহমান।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন, বিদেশিরা বাংলাদেশের সরকার পাল্টাতে পারবে না

মার্কিন প্রশাসনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা অপপ্রচার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন বলেছেন, ‘আমাদের দেশের কিছু লোক আছে যারা অপপ্রচার করেন এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবরোধের জন্যে অনুরোধ করেন। তারা মনে করেন যে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করলেই বাংলাদেশের সরকার বদল হয়ে যাবে। অথচ তারা জানেন না যে, সরকার বদল বিদেশিরা করতে পারেন না। সরকার বদল করবে বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশের জনগণ খুব সুখে আছে। তাই ওসব অপপ্রচারে কোন ফায়দা আসবে না।’নিউইয়র্ক সফরে এসে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাগণের সাথে বৈঠক এবং চলমান পরিস্থিতির আলোকে বাংলাদেশের মতামত জাতিসংঘে উপস্থাপনের অভিপ্রায়ে এক সপ্তাহের সফরে ২৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে নিউইয়র্কে পৌঁছান ড. একে আবদুল মোমেন। প্যারিস থেকে নিউইয়র্কে এসে জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরনের পরই সাংবাদিকগণের মুখোমুখী হন তিনি। এ সময় র‌্যাবের ৭ কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ এবং আরো কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার জন্যে মহলবিশেষের দেন-দরবার প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানজানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আরো বলেন, ‘আমরা সকলেই তো জানি যে, আমেরিকা হচ্ছে স্যাঙ্কশনের দেশ। প্রত্যেক দেশেই কিছু না কিছু স্যাঙ্কশন দিয়ে আসছে। ইন্ডিয়াকেও দিয়েছিল। মোদিকেও (ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করেছিল। সবকিছুই সাময়িক। আমি আশা করছি, বাংলাদেশের র‌্যাব সম্পর্কে যখন তারা সত্য কথা জানবে, ঐ ৭ জনের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও তারা সরিয়ে নেবে। নিজেরাই নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করবে।’ ড. মোমেন প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা যারা আমেরিকার নাগরিক, তাদের বড় একটি দায়িত্ব রয়েছে মার্কিন প্রশাসনকে বাংলাদেশের ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য অবহিত করার। এক্ষেত্রে সরকারের প্রতি তাকিয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। আপনারা সেই নেতৃত্ব নিতে পারেন। তাহলেই তারা বিভ্রান্তিতে থাকবেন না। এছাড়া আপনারা সকলেইতো জানেন যে, আমাদের কিছুই লুকানোর নেই। সবকিছু ওপেন। তাই সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রত্যেক প্রবাসী কাজ করবেন বলে আশা করছি।’ বিমানবন্দরে ড. মোমেন এবং তার স্ত্রী সেলিনা মোমেনকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা, ওয়াশিংটন থেকে আসা রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি মোর্শেদা জামান, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা ডা. মাসুদুল হাসান, শরাফ সরকার, কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান, আবুল হাসিব মামুন, সাইকুল ইসলাম যুবলীগ নেতা ইফজাল চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা দরুদ মিয়া রনেল প্রমুখ। ড. মোমেন আরো জানান, দুটি ইভেন্ট ছিল ইউরোপে। একটি জার্মানির মিউনিখে। সেখানে আমি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি। জলবায়ু পরিবর্তন এবং জননিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এবারের সবকিছুতেই রাশিয়া এবং ইউক্রেন পরিস্থিতি প্রাধান্য পেয়েছে। সকলেই ভীতির মধ্যে কথা বলেছেন। মনে হচ্ছে যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছে গোটাবিশ্ব। এমনি অবস্থায় আমি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছি জলবায়ুর ভয়ংকর ছোবলে প্রতি বছর বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। তাদের বসবাসের কোন অবলম্বন নেই। নিরাপত্তাহীনতা গ্রাস করছে। উদ্বাস্তু হয়ে পড়ার ঘটনাবলি রয়েছে। ৬৫ লাখ মানুষ ইতিমধ্যেই ভিটে-মাটি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছি। কিন্তু বাংলাদেশের সেই সক্ষমতা নেই। প্রযুক্তিগত সামর্থ্যও নেই। অথচ যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেজন্যে বাংলাদেশ দায়ী নয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষ পরিস্থিতির অসহায় শিকার। তাই জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ইতিপূর্বেকার অঙ্গিকার অনুযায়ী তহবিল সরবরাহের ব্যাপারটি কি ইউক্রেন-তান্ডবে লন্ডভন্ড হতে বসেছে কিনা-সে আশংকাও জানিয়েছি। জবাবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন রোধকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। কারণ, এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করার উদ্যোগ না নিলে বিরাটসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়বে। বহুদেশ অস্থিরতায় নিপতিত হবে, জানান ড. মোমেন।তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ এবং প্রদানের ব্যাপারে জোরালো কোন কথা শুনিনি, যোগ করেন তিনি।করোনার টিকা প্রদানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রশংসা করেন ড. মোমেন। এবং বলেন, এভাবেই বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দিগন্ত ক্রমান্বয়ে প্রসারিত হচ্ছে।সমুদ্র মহীসোপান সংক্রান্ত একটি বিশেষ কর্মসূচিতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একটি দায়িত্বশীল সূত্র এনআরবিসি.টিভিকে এ তথ্য জানিয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে সাংবাদিক সমাবেশে বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প শোনালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউইয়র্কে গণমাধ্যম কর্মীদের এক সমাবেশে বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প শোনালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে গোটা বাঙালি জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ বলেই উন্নয়ন-অগ্রগতির ইচ্ছাও অপূর্ণ থাকছে না। ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়-যদি সে ইচ্ছাটি নিষ্ঠা আর আন্তরিকতায় প্রস্ফুটিত থাকে। তা এখন দৃশ্যমান হচ্ছে গোটা দেশে। ‘জিরো থেকে হিরো’-তে পরিণত হয়েছে এক সময়ের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে খ্যাত বাংলাদেশ। এমন একটি দেশে জন্মগ্রহণ করার মধ্যেই সৌভাগ্য রয়েছে।অদম্য গতিতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের প্রসঙ্গ উপস্থাপনকালে সিলেটের সন্তান ড. এ কে এ মোমেন বলেন, আমার নানার বাড়ি হচ্ছে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার সৈয়দপুর গ্রামে। সিলেট শহরের চাঁদনী ঘাট থেকে শীতকালে ঘোড়া অথবা গাধা কিংবা হাতির পিঠে চড়ে এবং অন্য সময়ে নৌকায় নানা বাড়ি যেতে ২৮ ঘণ্টা লাগতো। এজন্যে যখন শেয়ান (তরুণ) হয়েছি তখন আর নানা বাড়ি যেতে চাইতাম না। সর্বশেষ সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে অর্থাৎ ১৯৭৪ সালে প্রেসিডেন্ট (আমার সম্পর্কে নানীর স্বামী) সিলেট থেকে হেলিকপ্টারে যান নানা বাড়িতে। তার সঙ্গী হয়েছিলাম। এরপর নানাবিধ কারণে দেশ ত্যাগে বাধ্য হই এবং দীর্ঘ ৩৩ বছরের মত প্রবাসে অতিবাহিত করেছি। ২০১৫ সালে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার পর নভেম্বরে নানা বাড়িতে রওয়ানা দেই সিলেট শহরের নিজ বাড়ি থেকে। গাড়িতে উঠে মাত্র ৪৫ মিনিটে নানা বাড়ির গেইটে পৌঁছেছি। অর্থাৎ ২৮ ঘণ্টার পথ অতিক্রম করি ৪৫ মিনিটে। এটাই বাংলাদেশ। এভাবেই সর্বক্ষেত্রে অবিশ্বাস্য রকমের উন্নতি ঘটেছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের বিস্ময়। করোনাকালেও প্রবৃদ্ধির হার সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এসব কল্প-কাহিনী নয়-বাস্তব। তাই প্রবাসের সাংবাদিকগণের কাছে অনুরোধ বর্তমান বাংলাদেশকেও যথাযথভাবে উপস্থাপন করুন। প্রবাস প্রজন্মকে বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতি তথা প্রাকৃত্রিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশ মুখী করুন। তবে টিভিতে এমন কোন ফুটেজ প্রচার করা উচিত নয়-যা কোমলমতি সন্তানদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার ঘটায়। যুক্তরাষ্ট্রে পেশাজীবী সাংবাদিকদের সংগঠন ‘আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’ (এবিপিসি)’র ২০২২-২০২৪ মেয়াদের নয়া কার্যকরী কমিটির অভিষেক উপলক্ষে ২৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডে গুলশান টেরেস মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. মোমেন। এবিপিসির বিদায়ী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, পেনসিলভেনিয়া স্টেটের মিলবোর্ন সিটির মেয়র (প্রথম বাংলাদেশী আমেরিকান) মাহবুবুল আলম তৈয়ব, কাউন্সিলম্যান মোশারফ হোসেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মনোয়ার হোসেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার এ জেড এম সাজ্জাদ হোসেন, চ্যানেল আই’র পরিচালক জহিরুদ্দিন মাহমুদ মামুন, ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী, কবি ও কলামিস্ট ফকির ইলিয়াস, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের ডেলিগেট ফাহাদ সোলায়মান, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া, জেবিবিএর প্রেসিডেন্ট মাহাবুবুর রহমান টুকু, এবিপিসির নির্বাচন কমিশনার পপি চৌধুরী, এবিপিসির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম এবং নয়া প্রেসিডেন্ট রাশেদ আহমেদ। বক্তারা এবিপিসির অভিষিক্ত কর্মকর্তাগণকে শুভেচ্ছা জানান এবং দেশ ও প্রবাসের ইতিবাচক ইমেজ উপস্থাপনে সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানের শেষে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসান, ড. তনিমা হাদী, শাহ মাহবুব, সবিতা দাস। শুরুতে দেশের গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন অনুপ দাস ড্যান্স একাডেমির শিল্পীরা। অতিথিগণকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানায় ছোট্টমনি আলভি খান, স্নেহা খান, আলিশা খান প্রমুখ। সাদিয়া খন্দকারের সাবলিল উপস্থাপনায় ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে অভিষিক্তরা হলেন সভাপতি-রাশেদ আহমেদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট-তপন চৌধরী, সাধারণ সম্পাদক-মো. আবুল কাশেম, যুগ্ম সম্পাদক-শাহ ফারুক, কোষাধ্যক্ষ-জামান তপন, সাংগঠনিক সম্পাদক-আজিমউদ্দিন অভি, প্রচার সম্পাদক-শহিদুল্লাহ কায়সার এবং নির্বাহী সদস্যরা হলেন কানু দত্ত, আলিম খান আকাশ, রাজুব ভৌমিক, প্রতাপচন্দ্র শীল এবং লাবলু আনসার। 

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে 'আমরা সবাই প্রবাসী' গানের অনলাইন রিলিজ, মনোজ্ঞ সঙ্গীত সন্ধ্যা

নিউইয়র্কে গভীর ভালোবাসা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে লেখক শাহ বদরুজ্জামান রুহেলের কথা এবং বাউল শিল্পী কালা মিয়ার কন্ঠ ও সুরে "আমরা সবাই প্রবাসী" গানের অনলাইন রিলিজ উৎসব।গত ১৪ মার্চ রাতে ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার এভিনিউর এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুল হলে একইসাথে পরিবেশিত হয় প্রবাসের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী শাহ মাহবুব পরিবেশিত মনোজ্ঞ সঙ্গীত সন্ধ্যা। যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালীদের অন্যতম সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশি-আমেরিকান কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন ও হৃদয়ে বাংলাদেশ যৌথভাবে এ উৎসবের আয়োজন করে। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন'র। বাংলাদেশি-আমেরিকান কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহবাব চৌধুরী খোকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল হাসিম হাসনু। অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন ও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল চৌধুরী, মূলধারার রাজনীতিক মোহাম্মদ এন মজুমদার, বাংলাবাজার বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও হৃদয়ে বাংলাদেশের সভাপতি সাইদুর রহমান লিংকন, ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম'র সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী শাহ মাহবুব, বাংলাদেশি-আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ কামাল আহমদ, প্রচার ও গণসংযোগ সম্পাদক সোহেল আহমদ, স্কুল শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সালমা সুমি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মুমিত তানিম, হৃদয়ে বাংলাদেশের উপদেষ্টা মামুন রহমান, সাধারণ সম্পাদক পল্লব সরকার, যুগ্ম সম্পাদক মাকসুদা আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান জামান রানা, দপ্তর সম্পদক মার্গারেট মল্লিক, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার সহ সভাপতি মনজুর চৌধুরী জগলুল, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের সভাপতি সামাদ মিয়া জাকের, রংধনু সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ মোনতাসিম বিল্লাহ তুষার, লেখক-বিজ্ঞানী ড. দলিলুর রহমান, কবি জুলি রহমান, মাসুম আহমেদ, অধ্যাপক মো. আবু সুফিয়ান, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট এনজে আহমেদ জাবেদ, গোলাম মোদাব্বির চৌধুরী, আলমগীর কবির শামীম, রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ। উৎসবে তোফায়েল চৌধুরী, মোহাম্মদ এন মজুমদার, আব্দুল হাসিম হাসনু, আহবাব চৌধুরী খোকন, সারওয়ার চৌধুরী, সাইদুর রহমান লিংকনসহ অন্যান্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে সুইচ টিপে "আমরা সবাই প্রবাসী" গানের অনলাইন রিলিজ করেন। এই সময় বিপুল সংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে "আমরা সবাই প্রবাসী" গানের লেখক ও বাংলাদেশি-আমেরিকান কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ শাহ বদরুজ্জামান রুহেল "আমরা সবাই প্রবাসী" গানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনলাইনে "আমরা সবাই প্রবাসী" গানটি রিলিজ হয়ে গেলো। আপনারা গানটি উপভোগ করুন। প্রবাসীদের প্রতি উৎসর্গকৃত গানটি যদি সকলের ভালো লাগে তবেই এই প্রয়াস সফল হবে। অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশি-আমেরিকান লেখক শাহ বদরুজ্জামান রুহেলের কথা এবং বাংলাদেশের প্রখ্যাত বাউল শিল্পী কালা মিয়ার কন্ঠ ও সুরে "আমরা সবাই প্রবাসী" গানের ভুয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে "আমরা সবাই প্রবাসী" গান সহ বেশ ক’টি জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে সবাইকে মাতিয়ে রাখেন জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব। কবিতা আবৃত্তি করেন পল্লব সরকার। গভীর রাত পর্যন্ত দর্শক-শ্রোতারা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশি-আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশনের সভাপতি আহবাব চৌধুরী খোকন, সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার চৌধুরী এবং "আমরা সবাই প্রবাসী" গানের লেখক শাহ বদরুজ্জামান রুহেল।

post
যুক্তরাষ্ট্র

টাইমস স্কয়ারে ইফতারি, তারাবিহ পড়লেন মুসলিম নিউইয়র্কাররা

নিউইর্য়কের টাইমস স্কয়ারে মাহে রমজানের ইফতারি ও তারাবির নামাজ আদায় করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম এমন একটি উদ্যোগের বাস্তবায়ন হলো।নিয়ন আলোর ঝলকানিময় আর সারাক্ষণ লোকে লোকারণ্য হয়ে থাকা চত্ত্বরটি এসময় ছিল একান্তই মুসলিম আমেরিকানদের।শনিবার প্রথম রমজানে এখানে ইফতারি করেছেন ১৫০০ মানুষ এবং রাত আটটায় এক হাজার মানুষ জামাতের মাধ্যমে তারাবির নামাজ পড়েন। সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে টাইমস স্কয়ারে প্রথমবারের মতো নামাজ আদায় করার একটি আহবান জানানো হয়। টাইমস স্কোয়ারে প্রথম তারাবিহ নামাজ নামে একটি প্রচারনা চালানো হলে সেই আহবানে সাড়া দেন ১২শ জন। সে অনুসারে শনিবার বিকেল থেকে সেখানে বিভিন্ন স্থানের রোজাদাররা জমায়েত হতে শুরু করেন। ইফতারির সময় সবাই এক সাথে ইফতারি করেন। তারপর রাত আটটায় তারাবির নামাজের আগে ও পরে করা হয় কুরআন তেলাওয়াত। নামাজ শেষে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সামনে এই আয়োজনের উদ্দ্যেশ্য তুলে ধরেন আয়োজকরা। তারা বলেন, যারা ইসলাম ধর্ম সর্ম্পকে জানেন না তাদের কাছে ব্যাখ্যা করতে এসেছি, ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। আরও বলেন,"মাহে রমজান মুসলমানদের কাছে এটি শুধুমাত্র উপবাসের জন্য নয়, এটি সে জন্য আমরা যাতে বুঝতে পারি যে যারা খাদ্য নিরাপত্তাহীন তারা কেমন অনুভব করে। আমরা আসলে এটি করছি যাতে আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তা, আমাদের প্রভু, আল্লাহর নিকটবর্তী হতে পারি। আয়োজকদের একজন আলী কামারা বলেন "ইসলাম সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে, সমস্ত সংস্কৃতি, সমস্ত ধর্ম জুড়েই কিছু মানুষ থাকেন যাদের কারণে সেই ধর্ম ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে, কিন্তু মনে রাখতে হবে সেই মানুষের দলগুলো খুবই ছোট, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিনিধিত্ব করে না। আমরা প্রার্থনা করতে, উপবাস করতে, ভাল কাজ করতে, দান করতে মানুষকে উত্সাহিত করছি।"শুধু নিউইয়র্ক নয় এর বাইরে থেকেও অনেকে এসেছেন টাইমস স্কয়ারে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই তারাবিহ পড়তে।  তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বাইরেরও কেউ কেউ এই আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।কুইন্সে বসবাসরত সাবরিনা জামাল নামে একজন মন্তব্য করেছেন টাইমস স্কয়ার হলো ব্যাস্ততম একটি স্থান যেখানে সারাক্ষণ উচ্চ আওয়াজে মিউজিক বাজে, চারপাশের বিলবোর্ডে ছবি থাকে সেখানে নামাজ আদায়টা কতোটা যৌক্তিক। যে আওয়াজের মাঝে কুরআনের পবিত্র আয়াত পাঠ করা হবে। এর মাধ্যমে অমুসলিমদের কাছে আমরা কি বার্তা পৌছে দেবো, প্রশ্ন তার। ব্রুকলিনের ফারাহ জায়দি বলেছেন ওয়ান ইলাভেনের পর থেকে মুসলিমরা নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিম জমায়েতের উপর নানা রকম আক্রমন হয়েছে, এরকম আয়োজনে কেউ যদি কোন আক্রমনের পরিকল্পনা করে সেটিও ভাবনায় রাখা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের একজন সামী রিজওয়ান বলছেন ইফতারির টাকা দিয়ে এখানকার হোমলেসদের মধ্যে খাবার বিতরন করা যেতে পারে। সেটি শুধু প্রথম দিন রমজানের যে কোন দিনই হতে পারে। আর সেটি হলে অনেকেই এতে অর্থ দিয়ে পাশে থাকতে চাইবে। টাইমস স্কয়ারের এই আয়োজনে দেখা যায়নি এখানকার মেয়র বা সংলিষ্ট কারো সম্পর্ক রয়েছে। আর পরবর্তীতে এরকম আয়োজন আরও হবে কিনা তা নিয়ে আয়োজকদের কাছ থেকে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে এই আয়োজনকে অনেকেই সাধুবাদ জানান। নামাজ আদায়ের পর বেশ উৎফুল্ল প্রতিক্রিয়া জানান তারা।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কের এ সপ্তাহে ঈদমেলা, ইফতার মাহফিল ও অন্যান্য কর্মসূচি

ব্রঙ্কস বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে চাঁদ রাত মেলা শেষ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। অন্যদিকে দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে চাঁদরাত মেলার আয়োজন করেছে ব্রঙ্কস বাংলাদেশি কমিউনিটি। ঈদের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩০ এপ্রিল অথবা ১ মে এটি অনুষ্ঠিত হবে। ব্রঙ্কসের স্টারলিং বাংলাবাজার ইউনিয়নপোর্ট রোডে অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন খলিল বিরিয়ানি হাউসের সত্ত্বাধিকারী মো. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, চাঁদ রাতের এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন রোকসানা মির্জা, শাহ মাহবুব এবং নিলিমা শশী। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় থাকবেন সোনিয়া। চাঁদ রাত মেলায় ফ্রি থাকবে বিভিন্ন স্টল। থাকবে মেহেদি উৎসব এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।দারুল আহনাফের উদ্যোগে মজলিসে ইস্তেগফার ও সাহরি মাহফিলনিউইয়র্কের স্বনামধন্য দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল আহনাফের উদ্যোগে মজলিসে ইস্তেগফার ও সাহরি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন সম্পন্ন হয় গতকাল ১৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে। ব্রঙ্কসের খলিল হালাল চায়নিজে অনুষ্ঠানটি শুরু হয় রাত ২টায়। শুরুতেই ছিল থাকবে সালাতুত তাহাজ্জুদ, এটি পরিচালনা করেন মুফতি নোমান কাশেমী। রাত আড়াইটা থেকে ইসলাহি বয়ান করেন শায়খ হাম্মাদ গাজিনগরী। এরপর দোয়া ইস্তেগফার ও মোনাজাত পরিচালনা করেন শায়খুত তাহকিক আল্লামা মুহিব্বুর রহমান। সবশেষে রাত ৪টায় সাহরি পরিবেশন করা হয়। পুরো আয়োজনে নিউইয়র্কের ইমাম, উলামা এবং কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিলনিউইয়র্কে বাংলাদেশি ট্যাক্সি চালক ও মালিকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল উডসাইডের গুলশান ট্যারেসে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ওয়াসিম উদ্দীন ভূইয়া। সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় ইফতারপূর্ব আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার আবদুর রহিম হাওলাদার, সেক্রেটারি রুহুল আমিন সিদ্দিকী। এছাড়া জেবিবিএ-এর সভাপতি গিয়াস আহমেদ, নিউইয়র্ক গভর্নর প্রার্থী আগা মোহাম্মদ সালেহ, কুমিল্লা সোসাইটির সভাপতি মনিরুল চৌধুরী, শাপলা ওয়েলফেয়ারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফা রিপন, সহ-সভাপতি মাহবুব হোসেন বিপ্লব, সহ-সাধারণ সম্পাদক এম এস আলী বক্তব্য রেখেছেন অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিলবাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন তথা বাপার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল নিউইয়র্কের জয়া হলে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র অ্যানে উইলিয়াম ইসম। উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি করপোরেশনের উর্ধ্বতন কমর্কতাবৃন্দ, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, মুলধারার রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।ইফতার মাহফিলের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন বাপার সভাপতি কারাম চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স আলম। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অ্যাটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, বাপার এই আয়োজনের সঙ্গে আমি ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। তিনি উপস্থিত সবাইকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানান।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে 'দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে সুশীল সমাজের দায়িত্ব' শীর্ষক আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিংয়ে প্রবাসীদের ভূমিকা এবং সরকারের করণীয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হলো নিউইয়র্ক সিটিতে সেন্টার ফর এনআরবি’র উদ্যোগে বৃহস্পতিবার 'দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠানগুলির দায়িত্ব' শীর্ষক এক এক সমাবেশে। বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিত্বকারি প্রবাসীরা দৃঢ় প্রত্যয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এই অগ্রগতিকে টেকসই করতে দরকার বিনিয়োগে আগ্রহী প্রবাসীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার দিগন্ত প্রসারিত করা। এজন্য নিউইয়র্কে সোনালী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ একটি শাখা খোলা দরকার। যাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয় কাজ এখান থেকেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এবং এ দাবিটি অনেক পুরনো হওয়া সত্বেও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ নির্বিকার বলে মন্তব্য করা হয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মৌলিক এই অবলম্বনকে বাস্তবায়িত করা হলে প্রবাসীদের বিনিয়োগের দৃশ্যমান অনেক কিছুই ঘটবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিংয়ে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছি। সরকারও প্রবাসীদের ব্যাপারে যথেষ্ঠ আন্তরিক। সহযোগিতার এই দিগন্তকে কাজে লাগিয়ে বহুজাতিক এ সমাজে বাংলাদেশের ইমেজকে সমুন্নত রাখতে প্রতিটি প্রবাসী একেকজন শুভেচ্ছা দূত বলে মনে করি। ড. মনিরুল বলেন, কনসাল জেনারেল অফিস, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস, লসএঞ্জেলেসে কন্স্যুলেট থেকে আমরা যাবতীয় সহযোগিতা দিতে বদ্ধ পরিকর। এনআরবি সেন্টারের এম এস সেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বকারীরা অংশ নেন। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করে সকলেই ব্র্যান্ডিং বিষয়ে নানা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারিদের মধ্যে ছিলেন সাবেক এমপি এম এম শাহীন, ডা. মাসুদুল হাসান, শিক্ষাবিদ নাইমা খান, ইউএস আর্মি কর্মকর্তা জয় চৌধুরী, চেম্বার নেতা লিটন আহমদ, বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুর রহিম হাওলাদার, নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা ও বাপার সাবেক সভাপতি সুমন সাইদ এবং মুহাম্মদ শামসুল হক, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এরশাদ সিদ্দিকী ও নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের নিরাপত্তা টিমের প্রধান কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর, ব্যাংকার ইমতিয়াজ চৌধুরী, জ্যামাইকা ফ্রেন্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. শামিম আল রাসেল, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, তরুণ উদ্যোক্তা মফিজুল আহাদ শফি, সাংবাদিক এস এম সোলায়মান, আহাদ আলী সিপিএ, অধ্যাপক হোসনে আরা, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহকারী তাসকিরুল ইসলাম নিবিড়, মূলধারার রাজনীতিক হাসান আলী, নিউ আমেরিকান ভোটার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডক্টর দিলীপ নাথ, কমিউনিটি নেতা আব্দুর রহমান, মদিনা মসজিদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমদ, ব্যবসায়ী সানোয়ার চৌধুরী, জয়া হলের পরিচালক আব্দুল আহাদ, আইটি এক্সপার্ট শেখ গালিব রহমান, কমিউনিটি নেতা সৈয়দ আতিকুর রহমান। শেকিল চৌধুরী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে একেকজনের একেক মতবাদ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশি হিসেবে সকলেরই হৃদয় জুড়ে রয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। সবকিছুর উর্ধ্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন আর কল্যাণকে প্রাধান্য দিতে হবে-তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনার ক্ষেত্রে প্রবাসীরাও অনন্য ভূমিকায় অধিষ্ঠিত হবেন। সে লক্ষ্যেই সেন্টার ফর এনআরবি কাজ করছে। তিনি গণমাধ্যম কর্মীগণের প্রতি অনুরোধ জানান বাংলাদেশের ইতিবাচক বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে প্রবাস প্রজন্মকে সঠিক তথ্য অবহিত করার আহ্বানও জানান। আলোচনা শেষে জয়া হলের সৌজন্যে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইফতার পরিবেশন করা হয়।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.