আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ; বাদ পড়েছেন অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী
বাংলাদেশের আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় চুড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আজ। যেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ন কিংবা হেভিওয়েট প্রার্থীরাও বাদ পড়েছেন। তবে এবারের মনোনয়ন প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রধান, সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন,মাঠের জনপ্রিয়তা যাচাই সাপেক্ষেই দল যাকে মনোনীত করবে তার পক্ষে কাজ করতে হবে দলের সকল নেতাকর্মীদের। এমন বাস্তবতায় দীর্ঘ তথ্য সংগ্রহ ও মনোনয়ন ফরমপূরন ও বিক্রির পরে নামের তালিকা চুড়ান্ত করেছে দলটি। সেখানে দেখা গেছে,একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করেছেন এমন একাধিক সংসদ সদস্য দ্বাদশ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন। আজ রবিবার বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন দলটি সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যেখানে ২৯৮ টি সংসদীয় আসনের প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়েছে। সেখানে এবার একাধিক আলোচিত ব্যাক্তি মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। বাদ পড়াদের মধ্যে মাগুরা-১ আসনে সাইফুজ্জামান শেখর। তিনি ২০০৯ সালের প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। এছাড়াও সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন। ওই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আরেক পুলিশ কর্মকমর্তা আব্দুল কাহার আকন্দ। আর ঢাকা-১৩ আসনের গতবারের এমপি সাদেক খান এবার মনোনয়ন পাননি। এই আসেন মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক।বরিশাল-৪ থেকে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন পঙ্কজ দেবনাথ। এখানে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার। এছাড়া ,ঢাকা-১০ থেকে বাদ পড়েছেন মহিউদ্দিন আহমেদ। সেখানে মনোনয়ন পেয়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস।সিরাজগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন পাননি হাবিবে মিল্লাত। সেখানে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন জান্নাত আরা। দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ ফারুক খান বলেছেন,কর্মদক্ষতা, জনপ্রিয়তা ও দলীয় আনুগত্যকে প্রাধ্যান্য দেয়া হয়েছে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে। সভাপতিমন্ডলীর আরেক সদস্য আব্দুর রহমান বলেন,গনমানুষের দল আওয়ামীলীগ। সেখানে দল যাকে যে দায়িত্ব দিবে তার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গির কবীর নানক বলেছেন, দলীয় প্রধান নিজেই সমস্ত তথ্য উপাত্ত ও পুর্বাপর কাজের আমলনামার ভিত্তিতে তিনিই সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য,১৮ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছে দলীয় ফরম বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, কেন্দ্রীয় নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ হেলালসহ কমপক্ষে ছয়জন নেতার আসনে বাড়তি কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি। বাকি আসনের জন্য ৩ হাজার ৩৫৬টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে দলটি।
