post
খেলা

এমবাপ্পেদের ‘জাতীয় বীর’ হিসাবে বরণ করল ফরাসিরা

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে গেলেও নিজ দেশে বীরের সম্মান পাচ্ছেন এমবাপ্পেরা। তাদের এ হারকে ‘বীরত্বপূর্ণ পরাজয়’ আখ্যা দিচ্ছেন ফরাসিরা। তাই তো তাদেরকে বীরের বেশেই বরণ করে নিয়েছে তারা।ফ্রান্স ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছে— জাতীয় বীরদের বরণ করছি। ২০১৮ সালে এই মঞ্চে তাদের সঙ্গে ছিল বিশ্বকাপের ট্রফি, এবার নেই। তাতে কষ্ট থাকলেও নেই আক্ষেপ। কারণ মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়েছেন ফরাসি ফুটবলাররা। আর তাদের প্রচেষ্টা মন ছুঁয়েছে ফ্রান্সবাসীর। এজন্য বীরদের ঠিক বীরের বেশেই বরণ করে নিয়েছে ফ্রান্স। সঙ্গে প্যারিসের রাস্তায় ছিল ৫০ হাজার সমর্থক। সোমবার রাতে ফ্রান্সে পা রাখেন দিদিয়ের দেশম, হুগো লরিসরা। তখন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচণ্ড শীতেও সমর্থকদের ছিল বাঁধভাঙা উল্লাস। প্যারিসের ডি লা কনকর্ডে খেলোয়াড়দের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। যেখানে উষ্ণ ভালোবাসায় সিক্ত হন এমবাপ্পেরা। গ্রিজম্যান, কোম্যান, কামাভিঙ্গেসহ প্রায় সব খেলোয়াড়ের মুখেই হাসি ছিল। সমর্থকদের ভালোবাসায় হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপের মুকুটের কথা। হাত নেড়ে ভালোবাসা ফিরিয়ে দেন তারাও। কিন্তু এখানেও বিমর্ষ ছিলেন এমবাপ্পে। মুখে এক চিলতে হাসি ছিল না। গোল্ডেন বুট পেলেও এমবাপ্পের নজরে ছিল টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। ২৩ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড সেভাবেই পারফর্ম করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় না থাকায় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পাওয়া হয়নি তরুণ সুপারস্টারের। হাত নেড়ে, চুমু উড়িয়ে সমর্থকদের ভালোবাসার জবাব দিলেও তাকে এক মুহূর্তের জন্যও হাসিমুখে দেখা যায়নি। শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার কষ্টটা এখনো রয়ে গেছে এমবাপ্পের মনে। উল্লেখ্য, রোববার রাতে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় ফ্রান্সের। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে ড্র থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। পরবর্তী ৩০ মিনিটেও খেলা ৩-৩ গোলে সমতায় শেষ হয়। এর পর টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হেরে যায় ফ্রান্স। সূত্র: বিবিসি

post
খেলা

আর্জেন্টিনায় আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা

আর্জেন্টিনার সর্বত্র এখন উৎসবের বর্ণচ্ছটা। বুয়েনস এইরেসের রাস্তায় জনস্রোত। আর্জেন্টাইনরা অপেক্ষায় আছেন, কখন লিওনেল মেসিরা বিমান থেকে দেশের মাটিতে পা রাখবেন। ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বজয় করা বীরদের নিয়ে আনন্দে মেতে উঠবে পুরো আর্জেন্টিনা। এমন আনন্দের দিনে কি আর অফিস–আদালত বা স্কুল–কলেজ করা যায়! আর্জেন্টিনার সরকারও এটা বুঝতে পেরেছে। তাই তো দেশটির প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ ভেবেছেন—আজকের দিনটা হোক আকাশি–নীলের, আজকের দিনটা হোক উৎসব আর আনন্দে মেতে ওঠার। এমন দিনে দরকার নেই অফিস–আদালতের, দরকার নেই স্কুল–কলেজের। কাজ বাদ দিয়ে সবাই সামিল হোক উৎসবে।প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনায় আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন। মেসিদের বহনকারী বিমান এজেইজা বিমানবন্দরে নামার কথা বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে। বিশ্বকাপ ট্রফি জিততে আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের অপেক্ষা ঘোচানো নায়কদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত পুরো আর্জেন্টিনা।বিমানবন্দরে এরই মধ্যে ভিড় করতে শুরু করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। রাস্তায় নেমেছে লাখো মানুষের ঢল। সবার গায়ে আর্জেন্টিনার আকাশি–নীল জার্সি, হাতে বা গায়ে জড়ানো আর্জেন্টিনার পতাকা। তাঁরা নাচছেন, গাইছেন। ওপর থেকে দেখলে মনে হয় যেন আকাশি–নীলের স্রোত বয়ে চলেছে রাস্তা দিয়ে। থেমে থেমে সেই স্রোত থেকে গগণবিদারী চিৎকার ভেসে আসছে—ভামোস আর্জেন্টিনা (এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা)।তিন যুগের অপেক্ষা ফুরিয়েছে আর্জেন্টিনার। ফ্রান্সকে হারিয়ে আলবিসেলেস্তারা জিতে নিয়েছে তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি। ছাদখোলা বাসে সেই ট্রফি নিয়ে উল্লাস করতে করতেই পরশু রাতে লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়াম থেকে দোহার বেজ ক্যাম্প কাতার ইউনিভার্সিটির ছাত্রাবাসে গেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা আর্জেন্টিনার মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে মেসিরা ট্রফি নিয়ে রাস্তায় ঘুরবেন ছাদ খোলা বাসে। সেই বাসে যখন মেসিরা একে একে উঠে আর্জেন্টিনার মানুষদের উদ্দেশে কথা বলবেন, ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন, তখন জনতা আবেগে কতটা ভাসবেন আর উদ্‌যাপনে কতটা উন্মত্ত হবেন, কে জানে!

post
খেলা

মেসিদের জয়ে উন্মাদনায় বাংলাদেশ, যা বলছে আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম

বুয়েনস এইরেস টাইমস তাদের প্রতিবেদনটি শুরুই করেছে ১৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি আর্জেন্টিনা ও মেসি–ভক্ত নেফাউর রহমান জিয়ানের কথা দিয়ে। বিশ্বকাপের শ্বাসরূদ্ধকর ফাইনালে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে ৪–২ গোলে হারিয়ে ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনার শিরোপা জয় ছুঁয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশকেও। জিয়ান তখন কাঁদছিলেন। হাজার মাইল দূরের দেশ আর্জেন্টিনার জয়ে তিনি কেন কাঁদছেন—এমন প্রশ্নে তাঁর মন্তব্য, ‘আমি জানি না আমি কেন কাঁদছি, কিন্তু আমি তাঁর জন্য কাঁদছি। এই “তিনি” লিওনেল মেসি।’বাংলাদেশের মানুষের আবেগ এরই মধ্যে ছুঁয়ে গেছে আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ তাদের। প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশের মানুষের উচ্ছ্বাস, সমর্থন ও মেসির প্রতি অনুরাগ নিয়ে প্রতিবেদন ছেপেছে তারা। বুয়েনস এইরেস টাইম বাংলাদেশকে ‘ক্রিকেট পাগল দেশ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, দেশটির ক্রিকেট দল বিশ্বের অন্যতম সেরা। যদিও বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কে তাদের মন্তব্য, ‘ফুটবলে বৈশ্বিক তালিকার তলানিতে অবস্থান বাংলাদেশের’। বুইনস এইরেস টাইমস লিখেছে, চার বছর পরপর বিশ্বকাপ এলে বাংলাদেশের মানুষ ফুটবল নিয়ে মেতে ওঠে। তারা নিজেদের ভাগ করে নেয় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা—এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকগোষ্ঠীতে।

post
খেলা

আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা মেসির

১৯৭৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা। এরপর দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতে আর্জেন্টাইনরা। এরপর ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেও শিরোপাবঞ্চিত হয়। ম্যারাডোনা বিশ্বকাপ উপহার দিয়ে যাওয়ার পর ৩৬ বছরে কেটে যায়। শিরোপার এই খরা কাটালেন লিওনেল মেসি। তার পায়ের জাদুতে কাতার বিশ্বকাপে জিতে তৃতীয়বার শিরোপা ঘরে তুলে নেয় আর্জেন্টাইনরা। লিওনেল মেসি ফুটবল ক্যারিয়ারে সবকিছুই পেয়েছিলেন। বাকি ছিল বিশ্বকাপ। রোববার ফ্রান্সকে ফাইনালে হারিয়ে শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে সেই অপূর্ণতা সারলেন মেসি। এদিন শিরোপা জয়ে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে কিংবদন্তিদের তালিকায় নিজের নাম লেখান লিও। বিশ্বকাপের ফাইনাল ফাইনালের মতোই হলো। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে অবশেষে জয় পেল আর্জেন্টিনা। ২৩ ও ৩৬ মিনিটে মেসি ও ডি মারিয়ার গোলে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত (২-০) গোলে এগিয়ে থেকে জয়ের অপেক্ষায় ছিল আর্জেন্টাইনরা।এরপর মাত্র দুই মিনিটে ২ গোল করে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরান কিলিয়ান এমবাপ্পে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় ২-২ ব্যবধানে ড্র হওয়ার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে গোল করে (১০৮ মিনিটে) আর্জেন্টিনাকে ফের এগিয়ে নেন লিওনেল মেসি। এরপর মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে (১১৮ মিনিটে) পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক করার মধ্য দিয়ে ফ্রান্সকে ফের সমতায় (৩-৩) ফেরান এমবাপ্পে। ১২০ মিনিটের খেলা ৩-৩ ড্র হওয়ায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জিতে তৃতীয় শিরোপা নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারে ম্যাজিকম্যান মেসি বলেন, ‘অবশ্যই আমি চেয়েছিলাম আমার ক্যারিয়ার এখানেই শেষ করতে। আমি এর থেকে আর বেশি কিছু চাইতে পারি না। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তিনি সব দিয়েছেন আমাকে। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে এমন অর্জন সত্যিই ঈর্ষণীয়।’ মেসি এরপরই ঘোষণা দিলেন জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি।বললেন, ‘আমি ফুটবলকে ভালোবাসি। আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলা উপভোগ করি। চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে আমি খেলা চালিয়ে যাব।’

post
খেলা

'আমার কাছে আগে থেকেই মনে হতো আমি জিতব'

আর্জেন্টিনার টানা তিন যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটালেন লিওনেল মেসি। বিজয়ের পর মেসির ঠোঁটের স্পর্শ পেল সোনালি কাপ। শিরোপা হাতে বিজয়োল্লাসের সময় মেসি দাবি করলেন, জয়ের ব্যাপারে আগে থেকেই জানতেন তিনি। খবর মার্কার। কাপ হাতে উল্লসিত আর্জেন্টাইনরা। এমন সময় মেসির অনুভূতি জানতে চান এক সাংবাদিক। মেসি বলেন, 'আমার কাছে আগে থেকেই মনে হতো আমি জিতব। কেন এমন মনে হতো তা বলতে পারি না। ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ।' ৩৫ বছরে মোট পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলেছেন লিওনেল মেসি। ফুটবলে অনেক অর্জন থাকলেও বিশ্বকাপ নেওয়া হয়নি তার। ২০১৪-এর বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠে জার্মানির সঙ্গে হারে আর্জেন্টিনা। সে বছরও স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এবার শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি শূন্যতা পূরণ হলো লিওনেল মেসির। 

post
খেলা

বিশ্বকাপ জিতে কত টাকা পেল মেসিরা

যদি ভেবে থাকেন লড়াইটা ছিল শুধু ৬.১৭ কেজি ওজনের একটা ট্রফির জন্য, তাহলে আপনি ভুল। ১৮ ক্যারেট সোনার ট্রফি তো আছেই, সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থযোগও হয়েছে আর্জেন্টিনার। লুসাইলের আইকনিক স্টেডিয়ামে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপজেতা আর্জেন্টিনা দল পেয়েছে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা) একটি চেক। টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হওয়া ফ্রান্স পেয়েছে ৩০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩১৪ কোটি টাকা)। তৃতীয় হওয়া ক্রোয়েশিয়ার প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ ২৭ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৮৩ কোটি টাকা)।কাতার থেকে খালি হাতে ফেরেনি বাকি ২৯ দলও। ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে চতুর্থ হওয়া মরক্কো পেয়েছে ২৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৬২ কোটি টাকা)। কোয়ার্টার ফাইনালে পরাজিত চারটি দল পেয়েছে ১৭ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা) করে। শেষ ষোলো পর্বে হেরে যাওয়া আট দলের সবাই দেশে ফিরেছে ১৩ মিলিয়ন ডলার (১৩৬ কোটি টাকার কিছু বেশি) করে সঙ্গে নিয়ে। আর গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া দলগুলো ৯ মিলিয়ন ডলার (৯৪ কোটির টাকার কিছু বেশি) করে পেয়েছে।

post
খেলা

চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপে মেসির চুমু

বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরা ফাইনাল! এমনটাই বারবার বলছিলেন ধারাভাষ্যকার। সত্যিই তাই। এমন প্রতিযোগিতপূর্ণ বিশ্বকাপ কমই হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে শেষ হাসিটি হাসলো আর্জেন্টিনা। মেসির আর্জেন্টিনা। সারাবিশ্বের শতকোটি ভক্তকুলের প্রিয় আর্জেন্টিনা। জয় পরাজয় সেতো নির্ধারিত হবেই। কিন্তু একটি ফাইনাল ম্যাচ যা দেখার জন্য সকল ফুটবলপ্রেমী অধীর আগ্রহে বসে থাকেন তারা এমন ফুটবলই দেখতে চান। তবে সরাসরি যারা আর্জেন্টিনার ফুটবলের ভক্ত নন, তাদের মধ্যেও অনেকে রয়েছেন যারা লিওনেল মেসির ভক্ত। যারা ফুটবলে মেসি ম্যাজিক দেখার অপেক্ষায় থাকেন। আজও ছিলেন। এবং মেসি তাদের নিরাস করেন নি। লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ যাবে, সেটা কি ভাগ্যলিখন। না! নিজ দক্ষতায় তিনি সেটা অর্জন করেছেন। এই যে স্বর্ণে গড়া বিশ্বকাপে চুমু খেলেন মেসি, সেটা তিনি অর্জন করেই নিলেন। শেষ ম্যাচে, ফুটবলের যে মঞ্চ রচিত হয়েছিলো তাতে পট পরিবর্তন হচ্ছিলো বার বার। শুরু দিকে একক আধিপত্যে মঞ্চ মাতিয়ে আর্জেন্টিনা ফাইনালকে নিজের করে নিয়েছিলো বটে কিন্তু এমবাপেদের ফিরে আসাটা ছিলো দারুণ উপভোগ্য। মেসির জোড়া গোল, এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক, ডি মারিয়ার গোল মিলিয়ে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ৩-৩ সমতা। তবে খেলা বার বার তার গতি পেয়েছে একেকটি পেনাল্টি কিকের মধ্য দিয়ে। শেষ পর্যন্ত সেই পেনাল্টি শুটআউটেই গড়ালো ম্যাচ আর ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ হাসিটি হাসলো আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবার আর্জেন্টিনা। ৩৬ বছর পর জুলেরিমে কাপটিকে নিজের ঘরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ মিললো ফুটবলের এই পরাশক্তির। 

post
খেলা

মরক্কোকে বিদায় করে ফাইনালে ফ্রান্স

দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা সময় চেষ্টা করেও যা করতে পারেনি মরক্কো, বদলি হিসেবে মাঠে নামার ৪৪ সেকেন্ডের মধ্যে সেটিই করে ফেললেন ফ্রান্সের রান্দাল কোলো মুয়ানি। উসমান দেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই গোল পেয়ে গেলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। কিলিয়ান এমবাপ্পের শট মরক্কোর এক খেলোয়াড়ের শরীরে বাঁধা পেলেও চলে যায় ডান পাশে ফাঁকায় দাড়ানো মুয়ানির কাছে। ঠাণ্ডা মাথায় ফ্রান্সের জার্সিতে প্রথম গোলটি করতে ভুল করেননি মাত্রই চতুর্থ ম্যাচ খেলতে নামা মুয়ানি। আর এই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় টানা দ্বিতীয়বার ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা। আল বায়ত স্টেডিয়ামে কাতার বিশ্বকাপের চমক মরক্কোকে ২–০ গোলে হারিয়ে ৬০ বছরের মধ্যে প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ে খুব কাছে চলে গেল ফরাসিরা। আগামী রোববার লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স সেই কীর্তি গড়তে মাঠে নামবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। এমবাপ্পে অবশ্য আজ গোল পাননি। মুয়ানির আগে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রথম গোলটি থিও এরনান্দেজের।সেমিফাইনালের আগে মাত্র একটি গোল খাওয়া মরক্কোর দুর্ভেদ্য রক্ষণ দুর্গ জয় করতে মাত্র ৫ মিনিট লাগে ফ্রান্সের। গোলের উৎস সেই আঁতোয়ান গ্রিজমান। ডান প্রান্ত থেকে মরোক্কান ডিফেন্ডার জাওয়াদ আল ইয়ামিককে ফাঁকি দিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ক্রস বাড়ান ফরাসি ফরোয়ার্ড। প্রথম শটটা মরোক্কান রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের গায়ে লেগে ফেরত আসে এমবাপ্পের কাছে। ফিরতি শট আরেক ডিফেন্ডারে শরীরে লেগে চলে যায় বাঁ পাশে প্রায় ফাঁকায় দাড়ানো থিও এরনান্দেজের কাছে। বাঁ পায়ের দারুণ এক ভলিতে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ও জাতীয় দলের জার্সিতে দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যান ফ্রান্স ডিফেন্ডার। মিনিট পাঁচেক পরেই সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল মরক্কো। মিডফিল্ডার আজেদিন উনাহির ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া শট বাঁয়ে ঝাপিয়ে রুখে দেন ফ্রান্স অধিনায়ক উগো লরিস। ১৭তম মিনিটে আবার সুযোগ নষ্ট হয় মরক্কোর। এবার আর লরিসের পরীক্ষা নিতে পারেননি হাকিম জিয়েশ। ডান প্রা্ন্ত দিয়ে এগিয়ে যাওয়া চেলসি তারকার শট চলে যায় বাইরে। জিয়েশ সুযোগ নষ্ট করতে না করতেই ব্যবধানটা দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল ফরাসিরা। একটা লং পাস ধরে অলিভিয়ের জিরুর নেওয়া হাফ ভলি প্রতিহত হয় সাইড বারে। এর মিনিট চারেক পরেই জিয়েশের হাতে অধিনায়কের বাহুবন্ধনী দিয়ে মাঠ ছাড়েন চোটের সঙ্গে লড়া অধিনায়ক রোমেইন সাইস। কোয়ার্টার ফাইনালে পাওয়া চোটটাই মাঠ ছাড়তে বাধ্য করে তাঁকে। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগেও চোটের কাছে হার মেনে একাদশ থেকে নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন মরক্কোর আরেক খেলোয়াড় নায়েফ আগুয়ের্দ।২১ মিনিটের মধ্যেই মূল দুই খেলোয়াড়কে হারিয়ে ফেলা মরক্কোকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে ফেলার সুযোগ ফরাসিরা পেয়ে গিয়েছিল মিনিট ১৫ পরেই। এমবাপ্পে ও জিরু কী করে যেন সেই সুযোগ নষ্ট করলেন । অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির চুলচেরা পাস মরক্কোর বক্সে খুঁজে নেয় এমবাপ্পেকে। মরক্কো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুকে ফাঁকি দিতে পারলেও এল ইয়ামিক ফিরিয়ে দেন সেই শট। ফরাসিরা একটু পরেই বলের দখল পেলেও জিরুর ১২ গজি শট চলের যায় বাইরে। এই ব্যর্থতার মাশুল প্রথমার্ধেই গুনতে বসেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফ্রান্সকে চেপে ধরে মরোক্কানরা। ৪৪ মিনিটে কাতার বিশ্বকাপের সেরা গোলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অল্পের জন্যই নাম লেখাতে পারেননি এল ইয়ামিক! জিয়েশের কর্নার ফ্রান্স গোলরক্ষকের হাত ঘুরে চলে যায় পেনাল্টি বক্সের মাথায় দাঁড়ানো মরোক্কান ডিফেন্ডার কাছে। পুরো শরীর শূন্যে ভাসিয়ে অ্যাক্রোবেটিক ভঙিতে ওভারহেড কিক নিলেন ইয়ামিক। পুরো শরীর ডানে ভাসানো লরিসের হাতের হালকা ছোঁয়া লেগে বারে লাগল বল। বিরতির পরও বারবার চ্যাম্পিয়নদের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিয়েছে মরক্কো। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১৫ মিনিট বল তো ছিল ফ্রান্সের সীমানাতেই। এক আক্রমণেই একাধিকবার গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি মরোক্কানরা। ৫৪তম মিনিটের সেই আক্রমণে একবার রাফায়েল ভারান ও আরেকবার ইব্রাহিমা কোনাতে রক্ষা করেন ফ্রান্সকে। দু মিনিট পর আবার গোলের সুযোগ মরক্কোর, এবার আক্রমণ ছেড়ে রক্ষণে দলকে বাঁচান গ্রিজমান। ৭৫ মিনিটেও দারুণ এক সুযোগ নষ্ট করে মরক্কো্। এবারও সময়মতো শট নিতে পারেনি দলটি। এ সব সুযোগ হারানোর আক্ষেপ নিয়েই শেষ পর্যন্ত ফাইনাল খেলার স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছে অ্যাটলাসের সিংহদের।

post
খেলা

বিশ্বকাপ জয়ের জন্য সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে মেসির দল

আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি জানান, ফাইনালে নিজেদের সবটুকু দিয়ে ৩৬ বছরের অধরা স্বপ্ন স্পর্শ করতে মরিয়া আর্জেন্টিনা, 'আমরা মাত্র এক ধাপ দূরে আছি। আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য খেলব।'স্মরণীয় ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম দারিও দেপোর্তিভো ওলেকে মেসি বলেন তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচের কথা, 'এটা (ফাইনালে ওঠার যোগ্যতা) অর্জন করতে পারায় আমি খুবই খুশি। ফাইনালে শেষ ম্যাচ খেলে আমার বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি টানব। পরের বিশ্বকাপের এখনো অনেকটা বাকি। আমার মনে হয় না আমি সেটায় থাকতে পারব। কাজেই এভাবে শেষ করতে পারাই হবে সেরা।' এদিকে, আগামী রোববার কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল হতে যাচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে তার শেষ ম্যাচ। অর্থাৎ আর কোনো বিশ্বকাপে খেলতে দেখা যাবে না সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারকে। তবে আর্জেন্টিনার হয়ে এরপর আর কোনো ম্যাচ খেলবেন কিনা তা পরিষ্কার করেননি তিনি। লুসাইল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। দলের হয়ে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করার পর তিন নম্বর গোলটিও বানিয়ে দেন মেসি। এই ম্যাচে তিনি গড়েন একাধিক রেকর্ড। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডে (২৫ ম্যাচ) জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসকে স্পর্শ করেন তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করায় (১১ গোল) তিনি ছাড়িয়ে যান গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে। মরক্কো ও ফ্রান্সের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দল আগামী রোববার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে।

post
খেলা

মেসি–আলভারেজ ফুটবল নৈপুন্যে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

আরেকটি মেসিময় ম্যাচ দেখলো বিশ্ব ফুটবল প্রেমিরা। মেসির সঙ্গে যুগলবন্দী ছিলেন জুলিয়ান আলভারেজ। এই মানিকজোড়ের দুরন্ত পারফরম্যান্সে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে স্বপ্নের ফাইনালে আর্জেন্টিনা। জোড়া গোল আলভারেজের, এ নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে ৪ গোল ২২ বছর বয়সী এই তরুণের। পেনাল্টি থেকে অপর গোলটি করেছেন লিওনেল মেসি, কাতার বিশ্বকাপে এটি তার পঞ্চম গোল। শিরোপা থেকে মাত্র এক ম্যাচ দূরে আর্জেন্টিনা।এদিন ম্যাচের শুরুতে নিজেদের মধ্যে বল ধরে খেলার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। ছোট ছোট পাসে আক্রমণে উঠেন মেসিরা। অন্য দিকে ক্রোয়েশিয়া খেলছিল প্রেসিং ফুটবল। মেসিদের পায়ে বল থাকলেই তাড়া করেন মদ্রিচরা। লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজের গোলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা। ৩৪ মিনিটে পেনাল্টি কিক থেকে গোল করেন মেসি। আর ৩৯ মিনিটে আলভারেজ গোল করেন চোখ ধাঁধানো নৈপুন্যে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণ বাড়ায় ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু নিজেদের রক্ষণ মজবুত রাখে আর্জেন্টিনা। ফলে গোলের মুখ খুলতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। কিছুটা রক্ষণাত্মক খেললেও হঠাৎই প্রতি আক্রমণ চালান মেসিরা। ম্যাচের ৭০ মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যাচের তৃতীয় গোল করেন আলভারেজ। তবে গোলটি যত না তার, তার থেকে অনেক বেশি মেসির। ডান প্রান্তে সাইড লাইনের কাছে বল ধরে ডিফেন্ডারকে ঘাড়ের কাছে নিয়ে এগিয়ে যান মেসি। পায়ের কাজ দেখাতে দেখাতে বক্সে ঢোকেন। তার পরে বল রাখেন অরক্ষিত আলভারেজের কাছে। ডান পায়ে গোল করে ব্যবধান বাড়াতে ভুল করেননি আলভারেজ। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। নিজের শেষ বিশ্বকাপ থেকে খালি হাতেই ফিরতে হল মদ্রিচকে। আগের বার ফাইনালে গিয়ে হেরেছিলেন। এ বার সেমিফাইনালেই শেষ হয়ে গেল লড়াই। এদিকে এই গোলে এবারের আসরে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছুঁয়েছেন মেসি। দুজনের গোল এখন ৫টি। কাতার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচটি খেলতে নেমেই একটি রেকর্ডের মালিক হয়েছিলেন লিওনেল মেসি। সেবার আর্জেন্টাইন মহাতারকা ছুঁয়েছিলেন সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড। সেই মেসি আজ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলতে নেমে ছুঁয়ে ফেললেন আরেকটি রেকর্ড। বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লোথার ম্যাথাউসের পাশে বসলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ১৯৮২ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত পাঁচ বিশ্বকাপে ২৫টি ম্যাচ খেলেছেন ম্যাথাউস।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.