post
বিনোদন

বাংলা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে দেশে এবং বিদেশে প্রচারে ঢাকা ক্লাসিকস এর যাত্রা শুরু

বাংলা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে দেশে এবং বিদেশে প্রচারে মিউজিক্যাল ফাউন্ডেশন চালু হয়েছে। দেশে ও বিদেশে পশ্চিমা শাস্ত্রীয়, জ্যাজ এবং ঐতিহ্যবাহী বাংলা সঙ্গীত প্রচারের জন্য ঢাকা ক্লাসিকস নামে একটি নতুন মিউজিক্যাল ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনটি একটি অলাভজনক সংস্থা যার লক্ষ্য স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সঙ্গীতশিল্পীদের প্রতিভা প্রদর্শনের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা এবং বাংলাদেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের মানসম্পন্ন পরিবেশনা প্রদান করা।ঢাকা ক্লাসিক, ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল, জ্যাজ এবং বাংলা গানের ক্ষেত্রে সঙ্গীতজ্ঞদের তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফাউন্ডেশন এই বাদ্যযন্ত্রের ঘরানার সংরক্ষণ এবং প্রচার এবং সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য তাদের নৈপুণ্যের বিকাশ ও উন্নতি করার সুযোগ তৈরি করার বিষয়ে উৎসাহী।মিট দ্য প্রেস ইভেন্টে ফাউন্ডেশনের ইতিহাস এবং লক্ষ্যগুলির উপর উপস্থাপনা করা হয়। সেই সাথে, কেলি টেলর এবং অতিথি শিল্পী নীল মুখার্জির সংগীত পরিবেশনা ছিল। ইভেন্টটিতে উপস্থিতদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার জন্য এবং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ সম্পর্কে আরও জানতে একটি প্রশ্নোত্তর সেশন অন্তর্ভুক্ত ছিল। কূটনীতিক, প্রবাসী, সরকারী ও কর্পোরেট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সমাজসেবী, সেলিব্রিটি, প্রভাবশালী এবং মিডিয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।ঢাকা ক্লাসিকস এমন ব্যক্তি ও সংস্থার অনুদান, স্পনসরশিপ এবং অবদানকে স্বাগত জানায় যারা সঙ্গীতের প্রতি তাদের আবেগ এবং এই গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গীতের প্রচার ও সংরক্ষণের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি শেয়ার করে। সমস্ত অবদান ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কর্মসূচির সমর্থনে যাবে।ফাউন্ডেশনের যোগাযোগ ও পাবলিক ইমেজ চেয়ার হিসেবে কাজ করা মিডিয়ার মুখপাত্র সানজানা বলেন, ঢাকা ক্লাসিকের জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রেস এবং জনসাধারণের সাথে শেয়ার করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা বিশ্বাস করি যে, পশ্চিমা শাস্ত্রীয়, জ্যাজ এবং বাংলা সঙ্গীত হল গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পদ যা উদযাপন করা উচিত এবং সংরক্ষণ করা উচিত।সঙ্গীত পরিচালক টেলর বলেন, আমরা এমন ব্যক্তি এবং সংস্থার সাথে কাজ করার জন্য উন্মুখ যারা আমাদের আবেগ এবং প্রতিশ্রুতি শেয়ার করে এই প্রচারের জন্য মিউজিক্যাল জেনারস। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারের লক্ষ্যে, ফাউন্ডেশন উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংগীতশিল্পী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শিখতে এবং তাদের দক্ষতা বিকাশের জন্য আবৃত্তি, মাস্টার ক্লাস এবং শিক্ষার সুযোগের আয়োজন করবে। ঢাকা ক্লাসিকস আসন্ন মাসগুলির জন্য পরিকল্পনা করা ইভেন্টগুলির একটি চিত্তাকর্ষক লাইন আপ রয়েছে।ঢাকা ক্লাসিকস দেশ-বিদেশে পশ্চিমা শাস্ত্রীয়, জ্যাজ এবং ঐতিহ্যবাহী বাংলা সঙ্গীত প্রচারের জন্য তাদের মিশনে যোগ দেওয়ার জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানায়।

post
বিশেষ প্রতিবেদন

শুরু ৬ হাজার দিয়ে বর্তমানে বিক্রি আড়াই লাখ টাকা

মাত্র ছয় হাজার টাকা দিয়ে অর্গানিক পণ্য গ্রাহকের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার যে প্রত্যয় নিয়েছিলেন উদ্যোক্তা উম্মে তামিমা নুপুর আজ সেটা পূরণ হয়েছে। বর্তমানে তার ‘কোকোনাট অয়েল কেয়ার বিডি’ প্রতি মাসে বিক্রি করছে কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকার পণ্য।উদ্যোক্তা উম্মে তামিমার অর্গানিক সকল পণ্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) অনুমোদনপ্রাপ্ত। খুব শীগগিরই নিজেদের নিজস্ব শোরুম করার ইচ্ছা। রাজধানীসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালে তার শোরুম রয়েছে।তামিমা নুপুরের দ্বীপজেলা ভোলায় জন্ম ও বেড়ে উঠা ভোলায়। বাবা মায়ের খুব আদরের মেয়ে আর ছোট দুই ভাইয়ের খুব আদরের ছোটবোন। বাবা সাব রেজিস্টার আর মা গৃহিণী।নারিকেল তেল নিয়ে কাজ করার ইচ্ছার কথা জানতে চাইলে তামিমা বলেন, ‘ভোলায় প্রচুর নারিকেল গাছ আছে।আর মা ছোটবেলা থেকেই উদ্যোক্তা নুপুরের খুব চুলের যত্ন নিতেন।মায়ের হাতে বানানো নারিকেল তেল যেটা পরিবারের মেয়েদের চুলের যত্নে মা ব্যবহার করতেন।সেই সাথে সাথে স্পেশাল হেয়ার প্যাক। এভাবেই হেয়ার প্যাক নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা তৈরি হয়।’অর্গানিক পণ্য তৈরি করার কোন কোর্স করা ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমার বাবার ভোলাতে একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ছিল।সেখানে উদ্যোক্তার প্যারা মেডিকেল কোর্স করার পর ল্যাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়।ল্যাবে কাজ করার এই অভিজ্ঞতা আমাকে অর্গানিক পণ্য তৈরিতে আগ্রহী করে তোলে।’২০১৫ সালে একটা ফেসবুকে পেজ খুলে শুধু একটা পোস্ট দিতেই ১০ বোতল তেল সেল হয়ে যায়।তখন উদ্যোক্তা মনে করলেন খাঁটি পণ্য যেহেতু অনেকে খুব পছন্দ করছেন তাই তার সেভাবে এগিয়ে যাওয়া দরকার। নতুন করে ফেইসবুক পেইজ খুললেন যার নাম দিলেন ‘কোকোনাট অয়েল কেয়ার বিডি’।তিনি বলেন, ‘‘প্রথম দিকে তিনটি পণ্য ছিল শুধু অর্গানিক কোকোনাট হেয়ার অয়েল, মিরাকেল হারবাল অয়েল, হেয়ার প্রোটিন প্যাক। মিরাকেল হারবাল অয়েল সবাই অনেক বেশী পছন্দ করছেন। এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও কিছু পণ্য হারবাল শ্যাম্পু, ফেইসপ্যাক, রোজ ওয়াটার, লিপ বাম, হেয়ার স্পা, বডি গ্লো প্যাক। সবগুলো পণ্য ক্রেতারা খুব পছন্দ করছেন।’’মাত্র ছয় হাজার টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু যে উদ্যোগের সেখানে বর্তমানে প্রতি মাসে বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার পণ্য।উদ্যোক্তা তামিমা বলেন, ‘শুরুতে আমি ও আমার স্বামী নারিকেল কোড়ানো থেকে শুরু করে তেল বানানো, প্যাকেজিং সব নিজে হাতে করতাম। কিন্তু চাহিদা এখন অনেক বেশী তাই মহাখালীর অফিসে দুইটা মেশিন বসিয়েছেন এবং পাঁচ জন কর্মী নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন।’উদ্যোক্তা জানালেন, উদ্যোক্তা হবার পথে তিনি শ্বশুরবাড়ির সকলের সুবিধা পেয়েছেন পাশাপাশি কাজের সহায়ক ছিলেন স্বামী।নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যে কাজটা শুরু করবেন অবশ্যই পিছপা হওয়া যাবে না। সেটা নিয়েই এগিয়ে যাওয়া উচিত।’

post
বাংলাদেশ

বরিশাল বিভাগীয় এসএমই পণ্য মেলা ২০২৩

এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধানে বরিশালে 'বিভাগীয় এসএমই পণ্য মেলা ২০২৩' উপলক্ষ্যে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব জাহিদ ফারুক এমপি। এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মো মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদ সদস্য এনায়েত হোসেন চৌধুরী। এছাড়াও বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন উল আহসান, বরিশাল রেঞ্জ এর ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ এর বিপিএম (বার) কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম, বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান।মেলায় ৬০টি স্টলে ৬০ জন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তাদের উৎপাদিত শুধু দেশীয় পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করবেন। ফ্যাশন ডিজাইনের পাশাপাশি হস্তশিল্প, হোম ডেকর প্রোডাক্ট, লাইট ইন্জিনিয়ারিং, আইটি, মৃৎ শিল্প, অর্গানিক পণ্য, কসমেটিকস জুয়েলারি, খাদ্য পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাতপণ্য, শীতল পাটি, ফুড প্রসেসিংসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্য থাকছে এবারের বরিশাল এসএমই মেলায়।  সাতদিন ব্যাপী চলেছে এই মেলা, যা ছিল সকলের জন্য উম্মুক্ত।উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে প্রথম ‘বিভাগীয় এসএমই পণ্য মেলা’ রাজশাহীতে আজ ১২-১৮ জানুয়ারি ২০২৩ আয়োজন করা হয়। আগামী ১৪-২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সিলেটে এবং পরবর্তীতে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং খুলনায় ‘বিভাগীয় এসএমই পণ্য মেলা’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশনের।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধানে ‘বিভাগীয় এসএমই পণ্য মেলা ২০২৩-এর সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। মেলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: * ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা কর্তৃক উৎপাদিত পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিক্রয় ও বাজার সম্প্রসারণ। * এসএমই উদ্যোক্তাদের পারষ্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, যোগাযোগ ও সেতু বন্ধন তৈরিতে সহায়তা। * এসএমই উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের মাঝে পারষ্পরিক সম্পর্ক স্থাপন।* পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভোক্তাসহ বিভিন্ন মহলের সৃজনশীল মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ। ১০ম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা ২০২২-এর সফল সমাপ্তির পর চলতি অর্থবছরে দেশে ৬টি ‘বিভাগীয় এসএমই পণ্য মেলা’ আয়োজন করবে এসএমই ফাউন্ডেশন।

post
প্রযুক্তি

টেলিকম অবকাঠামো ব্যবহারের লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত

যৌথভাবে টেলিকম অবকাঠামো ব্যবহারের লক্ষ্যে টেলিটক, বাংলালিংক এবং সামিট টাওয়ার্স লিমিটেডের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি অবকাঠামো উন্নয়নকারীদেরকে সম্মিলিতভাবে টেলিকম নেটওয়ার্ক উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান, টেলিটক ব‌্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম হাবিবুর রহমান, বাংলালিংক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক অস এবং সামিট টাওয়ার্স লিমিটেড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ আল ইসলাম বক্তৃতা করেন।বাংলালিংক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক আস, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম হাবিবুর রহমান এবং সামিট টাওয়ার্স লিমিটেড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ আল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।চুক্তিটির অধীনে এই দুই টেলিকম অপারেটর টাওয়ার শেয়ারিং নীতিমালাসহ সব নির্দেশিকা ও আইন অনুযায়ী নিজেদের মধ্যে অবকাঠামো শেয়ারিং করবে। সামিট টাওয়ার্স লিমিটেড এই উদ্যোগে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, অবকাঠামো শেয়ারিং মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করবে। আমরা যদি যৌথভাবে অবকাঠামো ব্যবহার করতে পারি তাহলে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য শক্তির সঠিক ব্যবহার হবে এবং সকল এলাকায় সকল অপারেটর সেবা প্রদানে সক্ষম হবে।মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় টেলিকম এখন বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এক সময়ে আমরা এসএমএস পাঠিয়ে খুশি হতাম কিন্তু এখন ফোরজি নেটওয়ার্ক যথেষ্ট মনে হয় না। ভয়েস কলের প্রাধান‌্য এখন আর নাই এটা ডাটা নির্ভর কলে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই রূপান্তরের জন‌্য বড় হাতিয়ার হচ্ছে অবকাঠামো।চার অপারেটরকে চারটি টাওয়ারে যুক্ত করার পরিবর্তে একটি টাওয়ারে চার অপারেটরকে যুক্ত করতে পারলে ব‌্যবহারকারীরা যেমন উপকৃত হবে তেমনি বিনিয়োগও কমে আসবে। ফলে অপারেটররাও লাভবান হবে। তিনি বলেন, সামনের দিনে ফাইভজিতে রূপান্তরের সময় অনেক বেশি অবকাঠামোর দরকার হবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক অপারেটরদের জন্য আলাদা আলাদা অবকাঠামো করা অনেক বেশি কঠিন হবে। মন্ত্রী অন্য অপারেটরসমূহ অনুরূপভাবে এগিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব অবকাঠামো শেয়ারিং চুক্তি মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতের জন‌্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষ সমূহের মধ‌্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতের অগ্রগতি আরও বেগবান হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব‌্যক্ত করেন।

post
টেক মেন্টর

আইসিটি বিভাগ হতে ১৬টি সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে - পলক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, বাংলা দিয়ে আমরা যেন বিশ্বের প্রযুক্তিকে প্রভাবিত করতে পারি সেজন্য প্রযুক্তির উন্নয়ন, বাংলার বিশ্বায়ন’ স্লোগান নিয়ে আইসিটি বিভাগ হতে ১৬টি সফটওয়্যার বা টুলস তৈরি করা হচ্ছে।প্রতিমন্ত্রী বুধবার বিকেলে ২১শে বই মেলায় এশরার লতিফ এর ইতিহাস-আশ্রিত ডকুফিকশন নক্ষত্র-নুপুর বই এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী প্রযুক্তি মাধ্যমে সময় কাটানোর অনেক মাধ্যম বা সুযোগ থাকলেও বই পড়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের কল্পনা জগৎ প্রশস্ত হয়। তিনি বলেন ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মকে অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল প্রজম্ম হিসেবে গড়ে তুলতে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার কোন বিকল্প নেই।বিদেশী ভাষা বা সংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের প্রভাবিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। যাতে বাংলাকে প্রযুক্তি সমৃদ্ধ করা যায় এবং আমরা বিদেশি ভাষা ও সংস্কৃতির আগ্রাসনে যেন প্রভাবিত না হই।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপন্যাসটির লেখক এরশার লতিফ ও অন্য প্রকাশনীর কর্ণধার মাজহারুল ইসলাম। পরে তিনি নক্ষত্র নুপুর বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

post
টেক মেন্টর

সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘বেসিস সফটএক্সপো ২০২৩' শুরু

‘ওয়েলকাম টু স্মার্টভার্স’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২৩ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হলো দেশের সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘বেসিস সফটএক্সপো ২০২৩’। বেসিস সফটএক্সপোর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ৪ দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা, সম্ভাবনা ও উদ্ভাবনকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে। সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজিত এবারের প্রদর্শনী রাজধানীর পূর্বাচলে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, 'প্রতিদিনই আমাদের সফটওয়্যার নির্ভরশীলতা বাড়ছে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সফটওয়্যারের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বেসিসের সদস্যরা সবচেয়ে বেশি অবদান রাখবে বলে আশা করি। তিনি আরও বলেন, ই-ফাইলিং, প্রশ্নোত্তর পর্বসহ জাতীয় সংসদের ডিজিটালাইজেশনে কাজ করেছে বেসিস। ২০৪১ সাল নাগাদ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট সোসাইটি, স্মার্ট ইকোনমি ও স্মার্ট গভর্নমেন্ট নামে চারটি স্তম্ভ নির্ধারণ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রেও বেসিস অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।বিশেষ অতিথি মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশের প্রথম প্রোগ্রামার হানিফ উদ্দিন মিয়ার কোডিং থেকে বাংলাদেশের সফটওয়্যার খাতের যাত্রা। এখন এই খাত বহুগুন সমৃদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে রফতানি বিকেন্দ্রীকরণের কথা জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি খাতই একমাত্র খাত যেখানে শুধুমাত্র মেধার মাধ্যমে শতভাগ ভ্যালুয়েশন সম্ভব। আমাদেরকে দুটি জায়গায় কাজ করতে হবে, একটি হলো মেধাসম্পদ সংরক্ষণ ও আরেকটি হলো শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তি খাত যে করমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে সেটির সময় বৃদ্ধির জন্য বেসিসসহ আইসিটি খাতের ৫টি সংগঠনকে এখনই পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আইসিটি এখন অন্যতম শিল্প খাত হয়ে উঠেছে। ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে বর্তমানে ১.৪ বিলিয়ন ডলার রফতানি হচ্ছে, ২০২৫ সাল নাগাদ সেটি ৫ বিলিয়ন ডলারের উন্নীত করতে সরকারি ও বেসিস যৌথভাবে কাজ করছে। রফতানি উৎসাহিত করতে ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। দেশের সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।পলক বলেন, এক লাখ ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রবলেম সলভার তৈরিতে প্রাথমিক থেকেই কোডিং শেখানো হচ্ছে। বেসিস সদস্যদের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিদেশের প্রয়োজন মেটাতে এআই ও মাইক্রোচিপ তৈরির কাজ করছে। এখন রোবটিক্স ও সাইবার সিকিউরিটিতে নজর দিতে বেসিস সদস্যদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, “এবারের বেসিস সফটএক্সপো দেশের এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী। সম্পূর্ণ বেসরকারি খাতের উদ্যোগে এমন বৃহৎ পরিসরে কোনো তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী এর আগে অনুষ্ঠিত হয়নি। আমাদের এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার পাশাপাশি সম্ভাবনাকে তুলে ধরা।তিনি আরও বলেন, 'ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নিরলস অবদানের কারণেই। সরকার ২০২৫ সাল নাগাদ ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদেরকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। আমরা মনে করি, সরকার, ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার সমন্বয় ঘটলে আমরা ২০৩১ সাল নাগাদ ২০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় করতে পারবো। ধারাবাহিকভাবে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে অগ্রসর হতে পারবো।”বেসিস সফটএক্সপো ২০২৩-এর আহ্বায়ক ও বেসিসের সহ-সভাপতি (প্রশাসন) আবু দাউদ খান জানান, “বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, মেটার্ভার্সসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যেই অগ্রযাত্রা চলমান সেই যাত্রায় বাংলাদেশকেও এগিয়ে নিতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের মেলার স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ওয়েলকাম টু দ্য স্মার্টভার্স’। আগ্রহীরা বেসিস সফটএক্সপোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (https://softexpo.com.bd/) থেকে বিনামূল্যে নিবন্ধন করে প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারবেন। এবারের আয়োজনে ব্যবসা সম্প্রসারণ কিংবা নতুন উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিজনেস লিডারস মিট ও সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক পদস্থ কর্মকর্তা অংশ নেবেন । এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অ্যাম্বেসেডর নাইট, মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স, তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল ও চাকরির খোঁজ দিতে আইটি জব ফেয়ার এবং ক্যারিয়ার ক্যাম্প, বিটুবি ম্যাচমেকিং সেশন, ফ্রিল্যান্সিং কনফারেন্স, স্টার্টআপ কনফারেন্স, ডেভেলপার্স কনফারেন্স, উইমেন ইন আইটি প্রোগ্রাম, জাপান ডে’সহ নানা আয়োজন থাকছে। এছাড়াও বেসিস সফটএক্সপোতে অনুষ্ঠিত হবে অন্তত ১৮টি সেমিনার ও গোলটেবিল বৈঠক। আয়োজকরা জানান, সফটএক্সপো উপলক্ষে ইতিমধ্যেই দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে। দর্শনার্থীরা যাতে সহজেই বেসিস সফটএক্সপোতে যাতায়াত করতে পারেন সেজন্য বিশেষ শাটল বাস সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া রয়েছে গেমিং জোন, বিজনেস লাউঞ্জ, ফুড কোর্ট ও কনসার্ট। আশা করা হচ্ছে, সফটএক্সপোতে সরকারি বেসরকারি নীতি নির্ধারক, প্রায় ২০০ জন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বক্তা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীবৃন্দ, বিদেশী প্রতিনিধি দল, দেশি-বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারকারী এবং আগ্রহী তরুণ-তরুণীসহ ৩ লক্ষাধিক দর্শণার্থী পরিদর্শন করবেন ।এবারের বেসিস সফটএক্সপোর প্ল্যাটিনাম স্পন্সর আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড, গোল্ড স্পন্সর হুয়াওয়ে, সিলভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে রবি, পাঠাও এবং ফাইবার অ্যাট হোম। এছাড়া ফাইভজি পার্টনার হিসেবে রয়েছে গ্রামীণফোন। আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (আইবিপিসি) এর সহযোগিতায় আয়োজিত এবারের বেসিস সফটএক্সপোর পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে বিকাশ, ইন্টারনেট পার্টনার হিসেবে আমরা নেটওয়ার্কস লিমিটেড এবং অ্যাসোসিয়েট পার্টনার হিসেবে রয়েছে দারাজ, বিডিজবস ডটকম ও ই-কুরিয়ার।রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শন কেন্দ্রে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। এতে থাকছে ২০৪টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়ন। বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নেবেন ২শ’ তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ।

post
যুক্তরাষ্ট্র

ডিসি একুশে অ্যালায়েন্সের আয়োজনে ভার্জিনিয়ায় উদযাপিত হলো অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

আরও একটি মিলনমেলা। গত ১৩ বছর ধরে এভাবেই হয়ে আসছে। বছর জুড়ে সবাই যেন অপেক্ষায় থাকে এই একটি দিনের। ফুলের তোড়া হাতে শনিবার বিকেল দলে দলে এভাবে জড়ো হতে থাকে আর্লিংটনের কেনমোড় মিডল স্কুলে। উদ্দেশ্য সবাই মিলে মানবজাতির জন্য বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে শ্রদ্ধাভরে উদযাপন করা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার বাংঙ্গালী কমিউনিটির ২৫টি সংগঠনের মিলিত এক নাম ডিসি একুশে অ্যালায়েন্স। এদের মধ্য থেকে প্রতিবছর যে কোন একটি সংগঠন প্রতিবছর সব বাঙালী হৃদয়কে এক মঞ্চে এক করার দায়িত্বটি পালন করে থাকে। এবার ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই ফোরাম ডুয়াফি পেয়েছিলো সে দায়িত্ব। তাদের ব্যাবস্থাপনায় এবং আর্লিংটন আর্টস ও আর্টিলিংটন কাউন্টির সহযোগিতায় হয়ে গেলো পরিপূর্ণ এক আয়োজন। শনিবার বিকেল সাড়ে পাচটায় নির্ধারিত সময়ের আগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর সবাই মিলে গাইলেন একুশের প্রথম প্রহবের প্রভাতফেরীর সেই গান-আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি। শুধু গানই নয় ফাকে ফাকে চলতে থাকে মহান একুশ নিয়ে অসাধারণ সব কবিতার আবৃত্তি। 'রক্তে প্রলয় দোলা' শিরোনামে শিল্পীরা গান গাইলেন সালাম সালাম হাজার সালাম সকল শহীদ স্মরণে। মৃত্যুঞ্জয়ী শিরোনামে ছিলো আবৃত্তি জানেন দাদা আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না। এই পর্ব শেষে মঞ্চে উঠে আসেন এই আয়োজনকে সফল করে তোলা ২৫টি সংগঠনের কর্তব্যাক্তিরা। যেখানে সবার মাঝে উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটন ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও পিপলএনটেকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ। আয়োজনের পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়। পরের পর্বটি ছিলো অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষনীয় অংশ। আমেরিকার মাটিতে জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠা শিশুরা গাইলো আমি একবার দেখি বারবার দেখি বাংলার মুখ। পুরো অডিটোরিয়ামে শুনশান নিরবতা। সবাই গাইলেন তাদের সাথে। তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করলো উপস্থিত সকলে। কারণে এই শিশুরা এই বিদেশী সংস্কৃতি পরিবেশের মধ্যে বড় হয়েও বাংলা ভাষাটাকে যেভাবে লালন করছে তা সত্যিই এক মুগ্ধতার বিষয়।  অডিটোরিয়ামের বাইরে ঠিক তখনই চলছিলো শিশু কিশোরদের নিয়ে আরেকটি ইভেন্ট, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগী। তিনটি গ্রুপের পঞ্চাশ জনের মতো প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন সেখানে। প্রতিযোগীতা শেষে তাদের চর্চাা আর প্রতিভা দেখে মুগ্ধ বিচারকরা। মুগ্ধ করেছেন একুশ নিয়ে লেখার প্রতিযোগিরাও। দুই বিভাগের সেরাদের পুরস্কৃত করা হয় মঞ্চে। কিংবদন্তী নৃত্যশীল্পী লায়লা হাসানের দল পরিবেশন করে নৃত্যনাট্য 'একুশ আমার অহঙ্কার'। ভাষা সংগ্রামের ইতিহাস ও মাতৃভাষার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন আয়োজনের প্রধান অতিথী যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমরান হোসেন। তিনি বলেন ভাষার অধিকার রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে যে আত্মদানের গৌরবোজ্জল ঘটনা ঘটেছিলো তা সারা বিশ্বে বিরল। মাতৃভাষার জন্য জীবনদানের মাধ্যমে আমাদের ভাষা শহীদরা পৃথিবীর ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব নজির সৃষ্টি করেছিলেন। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে এরপর মঞ্চে উঠে একসাথে কথা বলেন আরলিংটন কাউন্টি বোর্ডের চেয়ার ক্রিস্টিয়ান ডরসি, আরলিংটন বোর্ড মেম্বার কে টি ক্রিস্টাল এবং টাকিস কেরানটোনিস, ইউ এস সিনেটর মার্ক ওয়ার্নারের অফিসের রিজিওনাল ডিরেক্টর টানিয়া টেলেন্টো। তারা বলেন, বাঙালি জাতিকে স্বতন্ত্র মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে অমর একুশের রয়েছে অসামান্য অবদান। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত আজ সারাবিশ্ব। একুশ একটি চেতনা, বৈশ্বিক প্রতীক ও একটি মহান বিপ্লবের নাম। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে বাঙালির জীবন উৎসর্গের ঘটনা বিশ্বের বুকে এক অনন্য ইতিহাস। রাষ্ট্রদূত মো: ইমরানের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী মিনারে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সবাই।  আয়োজনের পরের অংশে ছিলো একটি নাটিকা। নতুন সংস্কৃতি কি করে বাংলা ভাষাকে তার গৌরবের স্থান থেকে সরিয়ে দিয়েছে তারই প্রেক্ষাপটে বিবেকের জাগরণ ও চেতনাবোধের পুনর্বিকাশকে ফুটিয়ে তোলা হয় নাটকে । নাটকের রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন শফিকুল ইসলাম। এবারেও ছিলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অন্য দেশের সদস্যদের পরিবেশনা। ভারতীয় গ্রুপ তা থৈ এর পরিবেশন করে- দুই মায়ের সন্তান। আরও বলিভিয়ান গ্রুপ ফার্দিনান্দ কালচারাল পাচামামা গ্রুপের উপস্থাপনায় ছিলো টিঙ্কু ২০২৩ নামে একটি গীতিনাট্য।আর সবশেষে ছিলো অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনের মূল অংশ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। ২৫টি সংগঠনের সবাই অস্থায়ী শহিদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ব্যাক্তিগতভাবেও অনেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্পিকারে বাজতে থাকা সেই অমর কথামালায় অমর গানখানি, সাথে ফুল হাতে থাকা মানুষগুলোও গাইতে থাকেন ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি। আমেরিকা থেকে আফ্রিকা এবং ইউরোপ থেকে এশিয়া প্রতিটি দেশে, প্রতিটি রাজধানী ও শহরে ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাঙালি জাতির জয়গান গাওয়া হচ্ছে। বাঙালি জাতির ২১শে ফেব্রুয়ারির সুমহান গৌরবে গৌরবান্বিত হয়ে উঠেন এই আয়োজনে আসা প্রতিটি মানুষ। বাঙালি জাতির সংগ্রাম ও বিজয়ের কথা শিশু-কিশোরদের পৌছে দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বাবা মারা। আর প্রতি বছর এমন আয়োজনের মাধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির ২১শে ফেব্রুয়ারির আত্মদানের ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে আরও উজ্জীবিত করবে এমনটা এ প্রজন্মের বিশ্বাস।  আর বিদেশের মাটিতে এমন সব আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববাসী জানতে পারবে এখান থেকে হাজার হাজার মাইল দূর এশিয়ার একটি ছোট্ট দেশ বাংলাদেশের মানুষ আজ থেকে ৬৭ বছর আগে সারা বিশ্ববাসীর মাতৃভাষার স্বীকৃতির জন্য হাসিমুখে জীবন দিয়েছেন। এ সত্যি এক অন্যরকম অনুভূতি। বিষন ভালো লাগার, গৌরবের।

post
বাংলাদেশ

পেপারটেক এক্সপো ২০২৩

কাগজশিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর জন্য ঢাকায় পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে পেপারটেক এক্সপো। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পেপার মিলস্ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমএ) সভাপতি আহমেদ আকবর সোবহান। ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, মিসর, জার্মানি, তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ফিনল্যান্ড ও তুরস্কের দেড় শতাধিক কোম্পানি পেপারটেক এক্সপোতে অংশ নিচ্ছে। ফরিদ প্রোডাক্টস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, 'আমরা বিভিন্ন মেশিনারিজ নিয়ে কাজ করি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমরা মেশিন স্থাপন করেছি। আমাদের দেশের পেপার একদিন রপ্তানি হবে সেই লক্ষ্যে কাজ করছি৷ আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড সবার সামনে তুলে ধরার জন্য এই এক্সপোতে অংশ নিয়েছি।'এক্সপোতে বিভিন্ন পেপার আইটেম নিয়ে অংশ নিয়েছে ইউনুস গ্রুপ। ইউনুস গ্রুপের বিপণন বিভাগের প্রধান সুমন তারেক বলেন, 'ইউনুস গ্রুপ খুবই সুনামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। এই এক্সপোতে আমরা আমাদের দেশীয় পেপার এর সাথে পরিচয় করাতে এসেছি এবং আমরা চাই পেপার সেক্টরেও বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাক।'এক্সপো প্রসঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘ঢাকাসহ বাংলাদেশের কাগজশিল্পের সব ধরনের শিল্প ইন্ডাস্ট্রির ওপর ভিত্তি করেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন। প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের কাগজ ইন্ডাস্ট্রিকে আরও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বমানের কাগজ উৎপাদনে সক্ষম করা। বর্তমানে বাংলাদেশে পেপার মিলস্, টিস্যু মিলস্, প্যাকেজিং, কনভার্টিং, প্রিন্টিং, পেপার কেমিক্যালসসহ আরও বিভিন্ন মাঝারি ও ভারী শিল্প আছে। তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হবে কাগজশিল্পের সব ধরনের মেশিনারিজ, উপকরণ ও পণ্য।’ ১৬ দেশের দেড় শতাধিক কোম্পানি অংশ নিচ্ছে এবার প্রদর্শনীতে। রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী হয়েছে। 

post
বাংলাদেশ

স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে নারীর অন্তর্ভুক্তি এবং ভূমিকা নিয়ে সফটএক্সপোতে বিশেষ সেমিনার

দেশের সফটওয়্যার ও সেবা পণ্য নির্মাতাদের সংগঠন বেসিস “ওয়েলকাম টু স্মার্টভার্স “ প্রতিপাদ্য নিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘বেসিস সফটএক্সপো ২০২৩। চার দিনের এই প্রদর্শনীতে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা, সম্ভাবনা ও উদ্ভাবনকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।বেসরকারিভাবে আয়োজিত এবারের প্রদর্শনী রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।সেই প্রদর্শনী উপলক্ষে থাকছে নানান আয়োজন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দেশে প্রযুক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরের সফল নারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, অভিনেত্রীকে নিয়ে হবে একটি বিশেষ সেমিনার। এই সেমিনার নিয়ে এরই মধ্যে নেটিজেনদের মাঝে বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে নারীর অন্তর্ভুক্তিকে এখানে বড় করে দেখানো হয়েছে। যুক্তিতে নারী এবং স্মার্ট বাংলাদেশে নারীর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে ২৩ ফেব্রুয়ারি মেলা প্রাঙ্গনে লিডারদের নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেমিনারের বিষয় ইনক্লুসন অব ওমেন ইন স্মার্ট বাংলাদেশ। সেমিনারটি বেসিস ও বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজি (বিডাব্লিউআইটি) যৌথভাবে আয়োজন করছে। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী এখন আইসিটি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যার হার দিন দিন বাড়ছে। এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি এ খাতে। বেসিস এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বেসিসের নারী সদস্যদের নিয়ে তৈরি করেছে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম বেসিস ওমেন’স ফোরাম। নারীর ক্ষমতায়নে এই প্ল্যাটফর্মটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তারই ধারাবাহিকতায় আয়োজন করা হয়েছে ইনক্লুসন অব ওমেন ইন স্মার্ট বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনার।প্রযুক্তিতে মহিলাদের জন্য প্রশিক্ষণ, শিক্ষার জন্য অনেক সহায়তা সংস্থা রয়েছে। ডেটা অ্যানালাইসিস থেকে শুরু করে সাইবার-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ-সহ প্রযুক্তিতে মেয়েরা এমন একটি ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে যা তাদের অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হয়।কারা থাকছেন সেমিনারে সে তালিকায় একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন নারী শক্তির অন্যতম সাহসিকা নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিন আখতার। আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব ওমেন -এর উপাচার্য ড. রুবানা হক, স্বনামধন্য ব্যারিস্টার ও ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা নিহাদ কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটিকস ও মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল, তরুণ উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজির সভাপতি ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা রেজওয়ানা খান, বিশিষ্ট অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন, ডাটা অ্যানাইলসিস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী জারা জাবিন মাহবুব, তরুণ উদ্যোক্তা ও বেসিসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সামিরা জুবেরি হিমিকা। আলোচকরা এই তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি তাদের নিজের অভিজ্ঞতা জানাবেন। তারা নিজেরা কিভাবে আজ এই পর্যায়ে এলেন, কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে, চারপাশের সাপোর্ট কিভাবে পেয়েছেন, বা আদৌ পেয়েছিলেন কিনা, প্রতিকূল পরিবেশে কিভাবে কাজ করে আজ সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন তা আমন্ত্রিত শ্রোতা দর্শকের সামনে তুলে ধরবেন।ফ্যাসিলিটেসন এবং কন্সাল্টেন্সি প্রতিষ্ঠানের চিফ ইন্সপিরেশন অফিসার ডন সামদানি সঞ্চালনায় সফটএক্সপোর প্রথম দিনে বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই সেমিনার অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে ইতোমধ্যেই নিবন্ধন করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সংযুক্ত বহু নারী উদ্যোক্তা, পেশাজীবি এবং শিক্ষার্থী।

post
বাংলাদেশ

কার্যাদেশের বিপরীতে জামানতবিহীন ঋণ নিতে পারবেন এসএমই উদ্যোক্তারা: এ বিষয়ে উদ্যোক্তাদের সচেতন করতে কাজ করবে এসএমই ফাউন্ডেশন

কার্যাদেশের বিপরীতে জামানতবিহীন ঋণ নিতে পারবেন এসএমই উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের সচেতন করতে কাজ করবে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং থিংকবিজ সলিউশন ট্রেডেক্স)। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ এসএমই ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে এসএমই ফাউন্ডেশন ও থিংকবিগ সলিউশনস (ট্রেডেক্স) এর উদ্যোগে আয়োজিত ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স বিষয়ে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ফাইন্যান্সার ও সাপ্লায়ার ম্যাচমেকিং ও মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জিন্নাত রেহানা, প্রশাসক (যুগ্মসচিব), বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসর্স এসোসিয়েশন (বাপা) এবং ড. এম মাসরুর রিয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, থিংকবিগ সলিউশনস (ট্রেডএক্স অনলাইন)। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক নাজিম হাসান সাত্তার। এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহ উদ্দিন মাহমদু এবং মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, দারিদ্র্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ (এমএসএমই) একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় এসএমই খাত উন্নয়নে বিভিন্ন ধরণের ঋণ সহায়তা (প্রচলিত ব্যাংক ঋণ) কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাগণের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংক ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি সহজ নয়। ঋণ প্রাপ্তির পর পণ্য তৈরি করে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহের মাধ্যমে প্রাপ্ত ‘ট্রেড রিসিভেবল’ সমূহের বিপরীতে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি সহজ ও স্বয়ংক্রিয় নয়। তাছাড়া ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নিয়েও উদ্যোক্তাবৃন্দ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদী এবং জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা হিসেবে 'ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স' শিল্প খাতে বিশেষত এসএমই খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।উল্লেখ্য, কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তার বকেয়া বিল ডিসকাউন্ট/কমিশনে দেনাদার ব্যতীত তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে বিক্রি করাকে ফ্যাক্টরিং বলে। মূলত: কোন পণ্য উৎপাদনকারী বা সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোন অর্ডারের বিপরীতে পণ্য বা সেবা প্রস্তুতের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য অর্ডারটি তৃতীয় কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট কমিশনে বিক্রি করে তহবিল সংগ্রহ করার পদ্ধতিই হলো ফ্যাক্টরিং। চলতি মূলধন সংকট লাগবের লক্ষ্যে অর্ডার দাতা এবং পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত তৃতীয় কোন পক্ষের নিকট হতে তহবিল সংগ্রহের জন্য ফ্যাক্টরিং উন্নত দেশে একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স একটি জামানতবিহীন অর্থায়ণ প্রক্রিয়া, যা বিলম্বিত পরিশোধের শর্ত এবং চেকের মাধ্যমে পরিশোধ ব্যবস্থা থাকলে যে কোনো পন্য বা সেবা উৎপাদনকারী গ্রহণ করতে পারে। বৈধ কাগজপত্র যেমন ট্রেড লাইসেন্স, এনআইডি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিক্রয় ডাটাসহ দেনাদারের তথ্য দিয়েই যে কোনো প্রতিষ্ঠান সহজে এ সেবা নিতে পারে। ‘ফ্যাক্টরিং’ এর সাথে এলসি এর মূল পার্থক্য হলো ‘এলসি’ একটি পেমেন্ট পদ্ধতি আর ‘ফ্যাক্টরিং’ এর মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষ হতে মূলধন জোগান করা হয়। স্বল্প মেয়াদী এবং জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা হিসেবে 'ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স' শিল্প খাতে বিশেষত এসএমই খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয় এলসির মাধ্যমে। কিন্তু এলসি পদ্ধতিতে বাণিজ্য করা সময়সাপেক্ষ ও জটিলতানির্ভর। তাছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) ব্যবসায়ীদের জন্য এলসি পাওয়া আরো কঠিন। এক্ষেত্রে ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স একটি বিশেষ বিকল্প হতে পারে। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের এক প্রতিবেদনে করোনার প্রভাব মোকাবেলায় রফতানি খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে ফ্যাক্টরিং প্রক্রিয়াকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।এসএমই ফাউন্ডেশন এবং থিংকবিগ সলিউশনস এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাইলট আকারে থিংকবিগ সলিউশনস (ট্রেডেক্স) -কে ১৮ জানুয়ারি ২০২২ লোকাল ফ্যাক্টরিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করার অনুমোদন প্রদান করা হয়। ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স কার্যক্রমের প্রচার ও প্রসারে যৌথ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২১ ডিসেম্বর ২০২২ এসএমই ফাউন্ডেশনের সাথে থিংকবিগ সলিউশনস (ট্রেডেক্স)-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। যৌথ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কর্পোরেট, ফাইন্যান্সার ও সাপ্লায়ার ম্যাচমেকিং এবং ফাইন্যান্সিং কর্মসূচিতে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, এসএমই চেম্বার/অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, এসএমই উদ্যোক্তাবৃন্দ এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.