post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন হোক, প্রত্যাশা বার্নিকাটের

বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগুলোর অব্যহত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করেছেন মার্সা বার্নিকাট। বাংলাদেশের সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত দেশটির অব্যহত উন্নয়ন এবং আগামী নির্বাচন যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সে ব্যাপারেও তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান বিজয় দিবস উদযাপন আয়োজনে অংশ নিয়ে এনআরবি কানেক্ট টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।মার্সিয়া স্টেফেন ব্লুম বার্নিকাট বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।  তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেওয়া সকল নীতি ও উদ্যোগগুলো আমাকে গর্বিত করেছে। এখন বাংলাদেশ এই সঙ্কটকে অতিক্রম করে গেছে। এছাড়াও বাংলাদেশের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।বার্নিকাট আরও বলেন, "দেশটিতে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। আমি চাই একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন সংগঠিত হোক। আর এই বিজয় দিবসে এই প্রত্যাশাই করি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন হোক।"   বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার পর মার্সা বার্নিকাট আরও বলেন, সবসময়ের মতো এবারও দূতাবাসের বিজয় উদযাপন ছিলো অসাধারণ। "আমার সবসময়ই নাচের আয়োজনগুলো দেখতে ভালো লাগে। বিশেষ করে এখানকার তরুণ-তরুণীরা যখন তাদের নৃত্যকলা প্রদর্শণ করে আমি ভীষণ উপভোগ করি।" কোভিড-১৯ এর পর এবার আমরা আবার সশরীরে হাজির হয়ে এই আনন্দ উদযাপন করতে পারছি, এটাও ভালো লাগছে। এখানে সকল বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গেও দেখা হয়ে গেলো, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ, বলছিলেন মার্শা বার্নিকাট। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি কমিউনিটির অতি পরিচিত মুখ, শিক্ষা ও আইটি প্রশিক্ষণ উদ্যোক্তা, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি'র চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিযার আবুবকর হানিপ এসময় মার্শা বার্নিকাটের পাশে ছিলেন। বাংলাদেশকে তিনি ভীষন মিস করেন, বাংলাদেশের জন্য তিনি ভীষণ হোমসিক বোধ করেন এমনটাই বলছিলেন মার্সা বার্নিকাট। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মসলাদার খাবারগুলোও তার প্রিয়। দূতাবাসের ডিনারে সেই খাবারগুলো খেতে পারবেন বলেও তার ভালো লাগছে। বাংলাদেশের কথা তিনি আজও তার নতুন কর্মস্থলের সবাইকে শেয়ার করেন। বাংলাদেশ কখনো তার হৃদয় থেকে মুছে যাবে না, বলছিলেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশে নিযুক্ত বর্তমান রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের কথা উল্লেখ করে মার্সা বলেন, বাংলাদেশ এখন একজন অসাধারণ রাষ্ট্রদূতকে পেয়েছে। অ্যাম্বাসাডার হাস আমার খুব প্রিয় বন্ধু, দারুণ এক সহকর্মী। আমি সত্যিই গর্বিত পিটার হাসের মতো এক রাষ্ট্রদূত এখন বাংলাদেশে নিযুক্ত রয়েছেন। 'জয়বাংলা' বলে সাক্ষাৎকারটি শেষ করেন মার্শা বার্নিকাট। 

post
বাংলাদেশ

শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের উদ্যোগ চায় বাংলাদেশ

“অবশ্যই শান্তিরক্ষীদের উপর হামলার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সমাজের সকল অংশীদারদের নতুন নতুন প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন”।শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও সুরক্ষার লক্ষ্যে গঠিত গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আব্দুল মুহিত। নতুন গঠিত এই গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস-টিতে কো-চেয়ার হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ, মিশর, ফ্রান্স, ভারত, মরক্কো এবং নেপাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য প্রদান করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শংকর। বাংলাদেশসহ অন্য পাঁচটি সহ-সভাপতি দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিগন স্ব-স্ব দেশের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের পিস অপারেশন বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাক্রুয়া (Jean-Pierre Lacroix) এবং অপারেশনাল সাপোর্ট বিভাগের প্রতিনিধি। শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে একটি বহু অংশিদারীত্ব ভিত্তিক প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জবাবদিহিতার বিষয়টিকে নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করার উপর জোর দেন। প্রদত্ত্ব বক্তব্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আব্দুল মুহিত বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে দূরদর্শিতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন, তা থেকেই উদ্ভূত হয়েছে বিশ্ব শান্তি রক্ষার প্রতি বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গিকার। শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে সৃষ্ট অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও সুরক্ষার লক্ষ্যে তিনি স্বাগতিক দেশের সাথে কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা, ঘটনার দ্রুত তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে স্বাগতিক দেশের স্বক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল প্রযুক্তির বাস্তবায়ন এবং ভুল ও বিকৃত তথ্যের প্রচার বন্ধ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। নবসৃষ্ট এই গ্রুপ অব ফ্রেন্ডসটি যেসকল কাজ করবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-স্বাগতিক দেশকে সহযোগিতা প্রদান, মানুষের মধ্যে সচেতনতাবোধ তৈরি, সঠিক তথ্যের আদান-প্রদান, সর্বোত্তম অনুশীলন ও সম্পদ ভাগাভাগি এবং সহযোগিতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ। এসকল কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রুপটি শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সকল প্রকার সহিংসতামূলক কার্যকলাপ প্রতিহত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে। উল্লেখ্য, উদ্বোধনী দিনে ৩৬ টি দেশ গ্রুপটিতে যোগ দেয়।

post
বাংলাদেশ

ঢাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বিবৃতি

ঢাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস একটি বিবৃতি দিয়েছেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিবৃতিটি সংবাদমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে-"যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বুধবার ঢাকায় নিহত ও আহতদের পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে। আমরা ঢাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও রাজনৈতিক সহিংসতার খবরে উদ্বিগ্ন এবং আইনের শাসনকে সম্মান জানাতে এবং সহিংসতা, হয়রানি ও ভয় দেখানো থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সহিংসতার এই খবরগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করতে, এবং মত প্রকাশ, সভা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষা করতে আমরা সরকারি কর্তৃপক্ষকে উৎসাহিত করছি।

post
বাংলাদেশ

১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ: ঢাকায় অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে নাগরিকদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ওই দিন গণসমাবেশ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি বড় জমায়েত এবং তার আশপাশের এলাকার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।বুধবার ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইট ও টুইটারে ঢাকায় অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের এ সতর্ক করেছে। টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল ঢাকার ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় সমাবেশের ডাক দিয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা উচিত এবং যেকোনো বড় গণজমায়েতের আশেপাশে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।’ ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস আজ বুধবার সন্ধ্যায় তাদের ওয়েবসাইটে গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে একটি সতর্কবার্তা জারি করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ২০২৪ সালের জানুয়ারি কিংবা তার আগে হতে পারে। এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলের সমাবেশ ও নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, সাধারণ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলের মিছিল ও গণসমাবেশ ক্রমে বাড়তে পারে। বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল ১০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গণসমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকায় অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের নিজেদের নিরাপত্তার পরিকল্পনা পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় অনুষ্ঠানসহ নিজেদের চারপাশের বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং হালনাগাদ তথ্য জানতে স্থানীয় খবরে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

post
বাংলাদেশ

"সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়” বঙ্গবন্ধুর উক্তি সন্নিবেশিত জাতিসংঘ রেজুলেশনে

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মঙ্গলবার গৃহীত “ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অব ডায়ালগ অ্যাজ এ গ্যারান্টি অব পিস, ২০২৩” শীর্ষক রেজুলেশনের ১৪তম প্যারায় সন্নিবেশন করা হলো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ও মহান উক্তি “সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়"(Friendship to all, malice towards none), যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির মূল ভিত্তি।কোভিড পরবর্তী বিশ্ব ব্যবস্থা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সাধারন পরিষদের প্লেনারিতে রেজুলেশনটি উত্থাপন করে তুর্কমেনিস্তান । এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় । বিশ্বমানবতা ও বিশ্বশান্তির অন্যতম প্রবক্তা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক উক্তিটি এবারই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ রেজুলেশনে সন্নিবেশিত হলো। রেজুলেশনটির ১৪তম প্যারাতে বঙ্গবন্ধুর উক্তিটি যেভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে, তা নিম্নরূপ: “দারিদ্র্য, ক্ষুধা, রোগ, নিরক্ষরতা এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্ব স্বীকার করে এবং গঠনমূলক সহযোগিতা, সংলাপ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার চেতনায় সকলের সাথে বন্ধুত্ব এবং কারও প্রতি বিদ্বেষ নয় মর্মে জোর দেওয়া হলে তা এই উদ্দেশ্যগুলি অর্জনে সহায়তা করবে, (Recognizing the importance of combating poverty, hunger, disease, illiteracy and unemployment, and emphasizing that friendship to all and malice towards none, in the spirit of constructive cooperation, dialogue and mutual understanding, will help to achieve these objectives,)" উল্লেখ্য ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণদানকালে জাতির পিতা যে বিষয়গুলোর উপর জোর দিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন, সেগুলোর ধারণামূলক ভিত্তি হতে এই অনুচ্ছেদটির প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আব্দুল মুহিত এর দিক নির্দেশনায় মিশনের কূটনীতিক ড. মোঃ মনোয়ার হোসেন রেজুলেশনটির প্রস্তুতিপর্ব থেকে শুরু করে চূড়ান্তপর্ব পর্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করেন। ফলে বিশ্বশান্তিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টায় গৃহীত এই রেজুলেশনটিতে জাতির পিতার ঐতিহাসিক উক্তিটি অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব হয়। রেজুলেশনটিতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশ কো-স্পন্সর করে। সর্বমোট কো-স্পন্সর করে ৭০টি দেশ।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ভ্রমণে যুক্তরাজ্যের সতর্কতা, যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ ঘিরে বাংলাদেশে ভ্রমণের বিষয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিরক্তি প্রকাশ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বলছে, বলছে। তারে জিজ্ঞেস করেন, আমাকে জিজ্ঞেস করছেন কেন? সে কি বেসিসে করেছে, তাকে জিজ্ঞেস করেন। তার দেশে ইদানীং বোধহয় অভাব-টভাব বেশি সে কারণে।’ ১০ ডিসেম্বর নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই মন্তব্য করে মোমেন বলেন, ‘এ ধরনের ঢং-ঢাং আমরা আগেও শুনেছি। জনগণের সমর্থন না থাকলে এগুলো সব বিলীন হয়ে যাবে।’ এদিকে ১০ ডিসেম্বর ঘিরে কূটনীতিকপাড়ায় বাড়তি নিরাপত্তা দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হবে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘না। আমরা মনে করি না, এটাতে বিরাট কিছু একটা হবে। এটা নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত না। আপনারা মিডিয়ারাই খুব এটা নিয়ে চিন্তিত। এটা মিডিয়া ইস্যু।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ হুঙ্কার দিলে সবাই কি পালাবে। কোনোভাবেই না। আপনাদের এত শঙ্কা কিসের, শঙ্কার তো কোনো কারণ নাই। আপনি ঠিকই খাওয়া-দাওয়া করতে পারবেন, ঘোরাফেরা করতে পারবেন। এখানে একটা সরকার আছে। সরকারের দায়-দায়িত্ব রয়েছে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার।’ উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে- ‘ঢাকায় রাজনৈতিক সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। গণপরিবহণ, যোগাযোগব্যবস্থা ও শহরে চলাচলে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সমাবেশের আগে ও পরে কয়েক দিন ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি হতে পারে। তাই আপনাদের রাজনৈতিক সমাবেশ ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, প্রতি বছর যুক্তরাজ্যের আনুমানিক দেড় লাখ নাগরিক বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন। এর মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয় না। ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ। তবে কোথায় সমাবেশ হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। স্থান নিয়ে পুলিশ ও বিএনপি নেতাদের আলোচনা চলছে।

post
অভিবাসন

২০২৩ এ বাংলাদেশ থেকে লক্ষাধিক কর্মী নেবে রোমানিয়া

আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে রোমানিয়া এক লাখের অধিক কর্মী নেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। নির্মাণ খাতে এসব কর্মী নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ড. মোমেন বলেন, অনেক দিন ধরে আমাদের লোক মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে। সুখবর হলো গত বছর থেকে রোমানিয়ায় আমাদের লোক যাওয়া শুরু হলো। গত পরশু (রোববার) খবর পেলাম আগামী বছর (২০২৩ সাল) এক লাখের অধিক কর্মী নেবে রোমানিয়া। আমাদের রাষ্ট্রদূত এ তথ্য জানিয়েছেন। যতদূর জেনেছি, রোমানিয়া নির্মাণ খাতে কর্মী নেবে। বাংলাদেশে রোমানিয়ার কোনো মিশন নেই। দেশটি ভারত থেকে বাংলাদেশের কার্যক্রম দেখভাল করে। চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝিতে দেশটি ৩ মাসের জন্য ঢাকায় ৬ সদস্যের কনস্যুলার টিম পাঠায়। তারা ঢাকা থেকে বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা দেয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশটি তিন মাসে ঢাকায় ৩ হাজার ৪০০ পেন্ডিং ভিসাসহ প্রায় ৫ হাজার ভিসা ইস্যু করেছে। আগামী বছর বাংলাদেশি কর্মী নিতে দেশটির কনস্যুলার টিম আবার ঢাকায় এসে সেবা দেবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোমানিয়ার ভিসা পেতে হলে যেতে হয় দিল্লিতে। একই অবস্থা মালটা বুলগেরিয়াও হাঙ্গেরিতে। আমরা রোমানিয়ার সঙ্গে আলাপ করলাম। আমরা বলেছি, তোমরা ঢাকায় আসো। আমরা তোমাদের সব ব্যবস্থা করে দেব। তারা রাজি হলো। তারা ১৪ হাজার ভিসা দেয়। আমাদের লোক চলে গেছে। তারা নির্মাণ খাতে কাজ করছে। তারা আগের মতো এসে সেবা দেবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হলেও টাকার কারণে রোমানিয়া ঢাকায় কনস্যুলার খুলছে না বলে জানান ড. মোমেন।

post
এনআরবি সাফল্য

পেনসিলভেনিয়া স্টেট ও সিটির তালিকায় প্রভাবশালী ১০০ নারী নেত্রীর একজন নীনা আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া স্টেটে সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ মহিলার অন্যতম একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি আমেরিকান ড. নীনা আহমেদ। ফিলাডেলফিয়া সিটিসহ পেনসিলভেনিয়া স্টেট পার্লামেন্টের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে এই ১০০ জন মহিলা নেতার তালিকা করা হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, অলাভজনক সংস্থার নেতা, মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত নেতা, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন শেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারি নেতাদের মধ্য থেকে সেরা মহিলাগণের এই তালিকা ২৮ নভেম্বর প্রকাশ করেছে স্টেট ও সিটি প্রশাসন। ড. নীনার এই সম্মান প্রাপ্তির জন্যে অভিনন্দন জানিয়েছে ‘বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি ফোরাম অব পেনসিলভেনিয়া’র নেতৃবৃন্দ।উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষার সর্বাধিক জনপ্রিয় ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’র পক্ষ থেকেও প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে ড. নীনার প্রতি। ড. নীনা দীর্ঘ ৩৫ বছরের অধিক সময় যাবত অভিবাসী সমাজের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কাজ করছেন। তৃণমূলে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ড. নীনা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা পরিষদের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়র হিসেবেও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন্স-পেনসিলভেনিয়া চ্যাপ্টারের প্রধান, ফিলাডেলফিয়া সিটির সপ্তম ওয়ার্ডের কমিটিওম্যান, পেনসিলভেনিয়া ডেমক্র্যাটিক পার্টির স্টেট কমিটির সদস্য হিসেবে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ড ককাসের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। ব্যক্তি জীবনে বিজ্ঞানী হয়েও ড. নীনা মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছেন। পেনসিলভেনিয়াস্থ রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট এবং ফাইন্যান্সিং সংস্থা ‘জেএনএ ক্যাপিটলের অন্যতম মালিক ড. নীনা ডেমক্র্যাটিক পার্টির একজন নিবেদিত সংগঠক হিসেবে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সুনজরে রয়েছেন। প্রথম প্রজন্মের বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে নিজের কর্মের মাধ্যমে বহুজাতিক এ সমাজে বিশেষ স্থানে অধিষ্ঠিত হবার বিরল গৌরব অর্জনের অনুভূতি প্রকাশকালে ড. নীনা আহমেদ বলেন, আমি নিজেকে গভীরভাবে সম্মানিত বোধ করছি, বিশেষ করে এই ধরনের ট্রেলব্লেজারদের সাথে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য। একজন তরুণ অভিবাসী হিসেবে এদেশে এসে আমি কখনো ভাবিনি যে, আমি এমনভাবে স্বীকৃত ও সম্মানিত হব। এজন্য কম্যুনিটির সকলের কাছে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন যারা তাকে এতটুকু পথ আসতে সাহায্য করেছেন।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী: গৌরব আর ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার সংকল্প

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব আর ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ১৪ হাজার এলামনাই এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত ২৪০ শিক্ষকের সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস গ্রহণের উদাত্ত আহবান জানিয়ে নিউইয়র্কে লাগোায়ার্ডিয়া প্লাজা হোটেলের বলরুমে ২৫-২৬ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনী অনুষ্ঠান হলো।দু’ শতাধিক রেজিস্টার্ড এলামনাইয়ের মনোমুগ্ধকর এ অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণকে অবিকল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যপট উপস্থাপন করা হয়। সাবেক শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করার সময়েই আন্তরিক অভ্যর্থনা জ্ঞাপণে ব্যস্ত ছিলেন হোস্ট সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদালয় এলামনাই এসোসিয়েশন’র যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামান। তিনি তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেমন বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ আলোকিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তেমনি এই প্রাণপ্রিয় শিক্ষালয় থেকে বেরিয়ে হাজারো আলোকিত মানুষগুলো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরব আরো উজ্জ্বলতর করেছেন দেশে এবং প্রবাসের মাটিতে স্বীয় মহিমায়। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্জন ও প্রাপ্তির গৌরবকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ভবিষ্যতের পথে, বিশ্বায়নের স্রোতধারায় যোগ করবে আরো বলিষ্ঠ মাইলফলক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবান্বিত ইতিহাসকে নিয়ে যাবে নতুন উচ্চতায়। আর তা সম্ভব হবে শুধুমাত্র প্রাক্তনদের প্রাণের স্পর্শে, আন্তরিক সহযোগিতায়। অতিথি হিসেবে ছিলেন এলামনাইয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আনোয়ারুল আলম পারভেজ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোল্লা কাওসার, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এম এ মোহিত, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মো. মনিরুল ইসলাম। স্মৃতিচারণের পাশাপাশি সমসাময়িক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মত কারিক্যুলাম চালুর পরামর্শ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যেকার সম্প্রীতির বন্ধন পুন:প্রতিষ্ঠার তাগিদ উচ্চারিত হয় এই চমৎকার সমাবেশের মূল বক্তব্যে এবং তা উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অর্লিন্স ইউনিভার্সিটির এমেরিটাস অধ্যাপক এবং সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোস্তফা সারওয়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবগাথা উপস্থাপনকালে ড. মোস্তফা সারওয়ার বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কালীন ছাত্র ও শিক্ষক হিসেবে গর্বিত। পৃথিবীতে এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই যেখানের আত্মত্যাগী ছাত্রদের অবদানে একটি ভাষা বিশ্ব ভাষার মর্যাদা পেয়েছে, একটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রগামী সৈনিকের ভূমিকা রেখেছে, এবং স্বৈরতন্ত্রের পতনে রেখেছে নিদারুণ অবদান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই হল একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেটি এই সব মহান অর্জনে মহিমান্বিত হয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশচুম্বী খরচ বহন করার মত সৌভাগ্য নিয়ে জন্মায়নি এমনি হাজার হাজার ছাত্রদের শিক্ষাদানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেখেছে মহান ভূমিকা। আমি গর্বিত। ড. সারওয়ার উল্লেখ করেন, আজকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিতদের শতকরা কতজন সুহৃদয় চরিত্রবান মানুষ হিসেবে পরিচিত? কতজন ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, তোষামোদি, চামচাগিরির মত ঘৃণিত জীবনকে বেছে নিয়েছে? সভ্য দেশগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় বাধ্যতামূলকভাবে এথিকস পড়ানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তা হচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে দেখা প্রয়োজন। ড. সারওয়ার আরো বলেন, এককালে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর পৃথিবীতে র‌্যাংকিং কেন নয় শত সাতাত্তর? এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং কেন দু শ তেষট্টি? এই র‌্যাংকিং আপনারা দেখতে পাবেন ইউএস নিউজ এন্ড ওয়ার্ড রিপোর্ট ওয়েব সাইটে। নানাবিধ পরিস্থিতির অসহায় ভিকটিম হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে মেধাবি শিক্ষার্থীর অন্যতম ড. সারওয়ার ক্ষোভের সাথে আরো উল্লেখ করেন, নিয়োগ ও প্রমোশনে দলবাজি, স্বজনপ্রীতি, তোষামোদি, চামচাগিরির প্রভাব কতটা? সুষ্ঠু নিয়োগ ও প্রমোশন হচ্ছে না বলেই কি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড এর আজ এই করুন পরিণতি? অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপনকালে যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রিম কোর্টে প্রথম বাংলাদেশী-আমেরিকান এটর্নী ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির লিডার মঈন চৌধুরী বলেন, পারিবারিক কোটায় ইমিগ্র্যান্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসবো বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সুযোগ হয়নি। তবে জেনেছি স্বজনের কাছে তার গৌরবোজ্জল ইতিহাস-ঐতিহ্য। আমার নামে যুক্তরাষ্ট্রে ট্যুরো কলেজে একটি স্কলারশিপ চালু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তপক্ষের আপত্তি না থাকলে সেখানেই একটি স্কলারশিপ চালু করতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন বিষয়ক অভিজ্ঞ এটর্নী অশোক কর্মকার বলেন, শতবর্ষের জন্যে অপেক্ষা নয়, প্রতি বছরই এমন আয়োজন করা হলে নিজেদের দায়বদ্ধতা লাঘবের ক্ষেত্র আরো প্রসারিত হবে। কারণ, এখন সময় হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কিছুটা ফেরৎ দেয়ার। সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এ এন্ড এম ইউনিভার্সিটির বায়ো মেডিকেল সায়েন্টিস্ট ড. নাসের বলেন, করোনাকালে সর্বপ্রথম যে কীট আবিস্কৃত হয়, তা বাংলাদেশে পাঠিয়েছি। এরপর ভ্যাকসিনের ব্যাপারেও সম্মিলিত একটি প্রয়াস চালাই। যে দেশটি আমাকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে অনেক ত্যাক স্বীকার করেছে, তার জন্যে কিছু করার তাগিদ সব সময় অনুভব করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, একসময় দক্ষিণ এশিয়ার সেরা শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদান ও গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। আজ এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও গবেষণার মান নিয়ে যখন নেতিবাচক কথাবার্তা শুনি, এর চত্বরে বিসম্বাদ ও হানাহানির ঘটনা ঘটে, তখন কষ্ট পাই আমরা। পারভেজ বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার অহংকারের জায়গা নতুনভাবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নিয়ে আসতে পারবে এটাই আমাদের বিশ্বাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি এডভোকেট মোল্লা কাওসার বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪০ জন শিক্ষকতা করছেন এবং বসতি গড়েছেন আরো ১৪ হাজারের মত। সকলকে এলামনাইয়ের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে পারলে অনেক প্রত্যাশারই বাস্তবায়ন ঘটানো সম্ভব হবে। আয়োজনের প্রধান সমন্বয়কারি মোল্লা মনিরুজ্জামান বলেন, বাঙালি জাতির বৃদ্ধিবৃত্তিক মনন গড়নের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র যে শক্তি ও চেতনার জন্মদিয়েছে, শতবর্ষব্যাপী সেই চেতনার আলো আমাদের ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনকে সমৃদ্ধ করে রেখেছে। ৩৬ বছরের পুরনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার বর্তমান সভাপতি সাঈদা আকতার লিলি বক্তব্যে বলেন, জন্ম থেকেই আমাদের অনেক ঋণ-যা সুধিবার নয়। রয়েছে অনেক দায়িত্ব। পরবর্তী প্রজন্ম এবং পরবর্তী এলামনাইদের জন্য রেখে যেতে হবে সুন্দর মসৃণ পথ। যোগসূত্র তৈরী করতে হবে নবাগতদের সাথে পুরনোদের। আরো আধুনিক চিন্তা-ভাবনার মধ্যদিয়ে সেতুবন্ধ তৈরী করতে হবে শেকড়ের সাথে। আজকের এ সমাবেশ সে তাগিদই দিচ্ছে। উদ্বোধনী ডিনার পার্টির মত সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও বাঙালির দিপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে চলার জয়ধ্বনি উচ্চারিত হয়। প্রাণের সাথে প্রাণ মিশিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা মেটানোর সংকল্প ব্যক্ত করার মধ্যদিয়ে দুদিনের অনুষ্ঠানমালা শেষ হয়। হোস্ট কমিটির সদস্য-সচিব গাজী সামসউদ্দিন, কো-কনভেনর মো. তাজুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, এম এস আলম, বিশ্বজিৎ চৌধুরী প্রমুখ-কে অতিথি আপ্যায়ন থেকে উপস্থাপনায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করতে দেখা যায়।

post
দূতাবাস খবর

আল-আযহারের শিক্ষার্থীদের ভিসা জটিলতা নিয়ে মিশরের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

এলামী মো. কাউসার, কায়রো, মিশর: অবশেষে বাংলাদেশি ছাত্রদের সকল হতাশার অবসান ঘটিয়ে আসতে পারে সমাধান!! গত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক ও প্রথম সারির অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলোতে "বাংলাদেশি ছাত্রদের আর আসা হচ্ছে না আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে"এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতালয় প্রধান ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে ছিলেন যতদ্রূত সম্ভব রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে দূতাবাস বিষয়টি সমাধানের পথে এগোবো।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ নভেম্বর নীলনদের তীর ঘেঁষা মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে, বাংলাদেশি ছাত্রদের ভিসা এবং স্কলারশিপ সংক্রান্ত বিষয়ে, মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ঈসমাঈল খাইরাতের সাথে সাক্ষাৎ করেন মিশরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলাম। সে সময় তার সাথে ছিলেন দূতাবাসের কনসুলার, মোহাম্মাদ ঈসমাঈল হোসাইন, রাষ্ট্রদূতের অনুবাদক ফাহিম আহমাদ। ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিশরের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি ছাত্রদের একমাত্র সংগঠন, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক, সাইমুম আল-মাহদী। মিশরের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশি ছাত্রদের উচ্চ শিক্ষা অর্জনে, মিশরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এডমিশনে, ভিসা সহজীকরণের দাবি তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাংলাদেশ থেকে স্কলারশিপ প্রাপ্ত, গত দুই সেশনের ছাত্রদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জটিলতা ও ভিসা প্রাপ্তিতে বিলম্বের কারণে এখনো তারা মিশরে আসার সুযোগ পায়নি। তাদের স্কলারশিপের ডকুমেন্টসগুলো সরাসরি মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে তুলে ধরা হয়। তিনি অচিরেই এর সমাধানকল্পে কার্যকরী ভূমিকা পালনের আশ্বাস দেন। এবং তৎক্ষণাৎ সিকিউরিটি বিভাগে খোঁজ নেওয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত সহকারীকে কে নির্দেশ দেন। ছাত্র প্রতিনিধির পক্ষ থেকে মিশরে পড়তে চাওয়া প্রাইভেট স্ট্যাডির ছাত্রদের ভিসা প্রাপ্তির ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত মুনিরুল ইসলাম বলেন, মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অথবা বৃত্তি পাওয়া বাংলাদেশি ছাত্রদের একটা স্বপ্নের মতো। এসময় তিনি আল-আযহারের গত সেশনগুলোর পরীক্ষার ফলাফলে বাংলাদেশি ছাত্রদের সাফল্য তুলে ধরেন। সহকারী মন্ত্রী এতে বিস্মিত হন ও আনন্দ প্রকাশ করেন। সেই সাথে সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত ভিসা প্রাপ্তির দাবিও জানানো হয়। তিনি দুই সপ্তাহের মাঝে ভিসা প্রস্তুতের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রীদূত মহোদয় , বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ শর্তে অন এরাইভ্যাল ভিসা ও বানিজ্যিক সুবিধা, টুরিজম ইস্যুতে মিশরের কার্যকর ভূমিকার জন্য প্রশংসা করেন। কায়রো টু ঢাকা সরাসরি এয়ারলাইন্স দ্রুত চালুকরনের ব্যাপারেও মন্ত্রী মহোদয় আশ্বাস দেন।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.