post
বাংলাদেশ

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যে ঋণ পেতে যাচ্ছে

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন তহবিল থেকে প্রথম ঋণ পেতে যাচ্ছে। তবে বিশ্বে প্রথম এই ঋণটি পায় বার্বাডোজ, তারপর কোস্টারিকা, আর সবশেষে রুয়ান্ডা। এরপরই ঋণ পাওয়ার তালিকায় আছে আরও পাঁচটি দেশ। এর মধ্যে সবার ওপরে আছে বাংলাদেশের নাম। নতুন এই ঋণ তহবিলের নাম রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফান্ড বা আরএসএফ। গত বছরের ১৩ এপ্রিল আইএমএফের বোর্ড এই তহবিলের অনুমোদন দেয় আর কার্যকর হয় পয়লা মে থেকে। যেসব স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে আছে, তাদের জন্যই এই তহবিলের সৃষ্টি। আইএমএফ বলছে, যেসব দেশের আয় কম, ঋণ পরিশোধের দায় বেশি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়, এতে উন্নয়ন ব্যয়ে ঘাটতি পড়ে, তাদের জন্যই এই তহবিল। সংস্থাটি বলছে, কোভিড-১৯-এর পরে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের অনেক দেশেরই ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং এই তহবিলের প্রয়োজনও অনেক বেড়ে গেছে। জলবায়ু ঝুঁকি যেভাবে দায় বাড়াচ্ছে আইএমএফের মতে, জলবায়ু ঝুঁকি একটি দেশের ঋণসংকটকে তীব্রতর করে। দুইভাবে সরকারের এই ঋণ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যেমন ঋণের অর্থ যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির প্রকোপে তার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানের ঋণ মান সংস্থাগুলো সম্প্রতি কোনো কোনো দেশের ঋণ ঝুঁকি (কান্ট্রি রিস্ক) যাচাইয়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো ভৌত পর্যায়ের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিকে বিবেচনার মধ্যে আনছে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ঋণ গ্রহণে গুনতে হচ্ছে বাড়তি সুদ। জাতিসংঘের গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণের সুদ পরিশোধে প্রতি ১০ ডলারে অতিরিক্ত আরও ১ ডলার ব্যয় করতে হয়। অপর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ বাংলাদেশের রাজস্ব আয় অত্যন্ত কম। দেশের রাজস্ব আয় এখন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। আর প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব আয়ের ২১ দশমিক ১ শতাংশ ব্যয় হয় ঋণের সুদ পরিশোধে। বিপুল অঙ্কের এ ঋণদায় মেটাতে সরকারকে ধারাবাহিকভাবে বাজেটঘাটতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আবার বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকারকে আবারও ঋণ নিতে হয়। এভাবে ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে হয় বলে জলবায়ু অর্থায়নে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে থাকছে। বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে জলবায়ু অর্থায়নে বাজেটে বরাদ্দ ছিল জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। আর এর আগের দুই অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু অর্থায়নে সরকারের চলমান বৃহৎ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার প্রকল্পগুলোতে জিডিপির ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।অর্থনৈতিক মন্দাদশার চাপ বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ৭৮০ কোটি ডলার। এর ৫৮ শতাংশই দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণ। আর বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের এক যৌথ প্রতিবেদনে ঋণের স্থায়িত্ব বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনো নিম্ন ঋণ ঝুঁকিতে আছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মন্দার প্রেক্ষাপটে আরও অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বছরজুড়েই ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যা এখন ৮ শতাংশের বেশি। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নিয়ে আছে নানা উদ্বেগ। চলতি হিসাবের ভারসাম্য ঠিক রাখতেও সরকারকে হিমশিম খেতে হয়েছে। রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে ওঠানামা রয়েছে। আবার ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নের ফলে ঋণ পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে। ফলে আড়ালেই চলে যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার কার্যক্রম। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি বনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ পরিচালিত ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক’ সূচকের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ প্রতিবছর শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারাচ্ছে। ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে দুই দশকে এ ক্ষেত্রে দেশটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৭২ কোটি ডলার। গত ২০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বিশ্বব্যাংকের মতে, দেশে কৃষি খাতের অবদান এখনো মোট জিডিপির ১২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দেশ আজও কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিককালে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও সারের ব্যবহারের ফলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বেড়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত সার প্রয়োগের ফলে ধ্বংস হয়েছে পটাশিয়ামসহ মাটির অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান। বিশ্বব্যাংক বলছে, গত ৩০ বছরে মাটিতে সারের ব্যবহার ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ৩০ বছরের মধ্যে দেশে খাবার পানীয় ও সেচব্যবস্থায় সংকট দেখা দিতে পারে। এতে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত চাল উৎপাদন কমে যেতে পারে। চাল ছাড়াও গম, সবজি ও অন্যান্য শস্য উৎপাদনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিশেষ প্রভাব পড়বে।শুধু বাংলাদেশই নয় উচ্চ ঋণ ঝুঁকিতে নেই, কিন্তু ঋণ পরিশোধের চাপে জলবায়ু অর্থায়নে রাজস্ব সক্ষমতা হারাচ্ছে, এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ একা নয়। জলবায়ু ঝুঁকিতে আছে এমন ৫৫টি স্বল্প ও উন্নয়নশীল দেশ মিলে গঠন করেছে ভালনার‍্যাবল গ্রুপ অব টোয়েন্টি (ভি ২০)। এ তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। গ্রুপের ২২টি দরিদ্র দেশ ইতিমধ্যে উচ্চ ঋণ ঝুঁকিতে আছে। ভি ২০ গ্রুপের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন, এসব দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের যৌক্তিক সমাধান করা না গেলে আগামী দশকে একটি বড় বৈশ্বিক ঋণখেলাপির ঘটনা ঘটতে পারে। নতুন তহবিল কতটা সহায়ক বাংলাদেশ আইএমএফের কাছ ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে। এর মধ্যে রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফান্ড বা আরএসএফ থেকে চেয়েছে ১৩০ কোটি ডলার। নিয়ম হচ্ছে, আইএমএফের কোনো একটি ঋণ কর্মসূচির মধ্যে থাকলেই কেবল আরএসটি থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশই এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে এই ঋণ চেয়েছে। ঋণের অর্থ দেওয়া হবে ১৮ মাসে। পরিশোধের সময় ২০ বছর, আর এর বাড়তি সময় বা গ্রেস পিরিয়ড হচ্ছে সাড়ে ১০ বছর। এই ঋণের সঙ্গেও শর্ত থাকবে। ঋণ পেতে আইএমএফের ভাষায় বেশ কিছু উচ্চ মানের বা ‘হাই কোয়ালিটি’ সংস্কার কর্মসূচি নিতে হবে। এর মধ্যে থাকবে দীর্ঘ মেয়াদে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করার মতো কর্মসূচি। প্রশ্ন হচ্ছে এই তহবিল কি জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর হবে। বাংলাদেশই বা লাভবান হবে কতটা। আসলে এর উত্তর পাওয়া যাবে সামনের দিনগুলোতেই। সুত্র- প্রথম আলো 

post
খেলা

এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের মেয়েরা

পুরুষ ও মেয়েদের যেকোনো বিশ্বকাপে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আগের ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এবার শ্রীলঙ্কাকেও হারাল দিশা-প্রত্যাশারা। তাতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের মেয়েরা। সোমবার বাংলাদেশের দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৫৫ রানেই থেমেছে শ্রীলঙ্কা অনুর্ধ্ব-১৯ দলেন নারী দলের ইনিংস। তাতে ১০ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দিশা বিশ্বাসের দল।দক্ষিণ আফ্রিকায় বেনোনির উইলমোর পার্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান করে শ্রীলঙ্কা। দলটির হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন ভিশমি গুনারত্নে। ৬১ রানে অপরাজিত থাকার পরেও পারেননি দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে। এছাড়া ডিউমি ভিহাঙ্গা করেন ৫৫ রান। বাংলাদেশের হয়ে মারুফা আক্তার নেন ২ উইকেট। এছাড়া ১ উইকেট পেয়েছেন দিশা বিশ্বাস। এর আগে দিনের শুরুতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশের মেয়েরা। ওপেনার আফিয়া হুমায়রা করেন ৫৩ রান। আরেক ওপেনার রানি সাহা রান আউটে কাটা পড়ার আগে করেন ১৪ রান। তবে আরও বড় জুটি গড়েন তিন এবং চারে নামা ব্যাটার দিলারা আক্তার এবং স্বর্না আক্তার। এই দুই ব্যাটার মিলে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ৮৬ রানের জুটি। তাতেই বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় বড় সংগ্রহ। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫ রান। দিলারা ৩৬ এবং স্বর্না ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন।

post
বাংলাদেশ

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের প্রথম পর্বের ইজতেমা

আজ রোববার সকাল নয়টার কথা। তুরাগতীরে যত দূর চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। গলি রাস্তা থেকে মহাসড়ক, সড়কে থেমে থাকা বাস কিংবা তুরাগের দুই তীরে ভিড়িয়ে রাখা নৌকা—সব জায়গাতেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ বসে আছেন। আবার কেউ দাঁড়িয়ে কান পেতে আছেন মাইকের দিকে। সবার অপেক্ষা আখেরি মোনাজাতের জন্য। বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আজ সকালের দৃশ্য ছিল এমনই। সকাল ১০টায় শুরু হলো সেই কাঙ্ক্ষিত মোনাজাত। মাওলানা জুবায়েরের কণ্ঠ ভেসে এল মাইকে। ‘হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সমস্ত গুনাহ মাফ করিয়া দেন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের ঈমানকে মজবুত করিয়া দেন। আমরা তওবা করিতেছি। আপনি আমাদের রব, আপনি আমাদের গুনাহকে মাফ করিয়া দেন। হে আল্লাহ, আপনি সব উম্মতকে মাফ করিয়া দেন...।’ মাওলানা জুবায়েরের কথাগুলো চারপাশের লাখো মুসল্লিকে যেন ছুঁয়ে যাচ্ছিল। সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চেয়ে অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। আবেগাপ্লুত লাখো লাখো মুসল্লির কণ্ঠে তখন উচ্চারিত হয় ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনি। গত শুক্রবার শুরু হয়েছিল জুবায়েরপন্থীদের ইজতেমা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ৩০ মিনিট এগিয়ে তা শুরু হয় সকাল ১০টায়। মোনাজাত শেষ হয় ১০টা ২০ মিনিটে। এদিকে মোনাজাতে অংশ নিতে গতকাল শনিবার দুপুরের পর থেকেই টঙ্গীর ইজতেমা মাঠের দিকে আসতে থাকেন সাধারণ মুসল্লিরা। তাঁদের অধিকাংশই রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের জেলার। দুপুরের পর থেকেই তাঁরা ইজতেমা মাঠের দিকে আসতে থাকেন। এর মধ্যে আজ জায়গা পাবেন না—এমন ভাবনায় রাত থেকেই তাঁরা অবস্থান নেন ইজতেমার মাঠসংলগ্ন সড়ক-মহাসড়কে। মুসল্লিদের চলাচলের সুবিধার্থে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন। যান চলাচল বন্ধের কারণে হেঁটেই ইজতেমাস্থলে জড়ো হন মুসল্লিরা। প্রথম পর্বের ইজতেমার শেষ দিনে ভারতের মাওলানা আকরাম হোসেনের বয়ানের মধ্য দিয়ে আজ সকালের কার্যক্রম শুরু হয়। এর পর সকাল ১০টায় মোনাজাত শুরু করেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা জুবায়ের। মোনাজাত শুরু হতেই ইজতেমার মাঠ ও আশপাশের এলাকায় অন্যরকম এক নীরবতা নেমে আসে। যে অবস্থায় ছিলেন, সেই অবস্থাতেই মোনাজাতে অংশ নেন। লোকসমাগম বেশি হওয়ায় অনেকে ইজতেমা মাঠ থেকে অনেক দূরে ছিলেন। অনেকের কাছে মাইকের আওয়াজও পৌঁছানো কঠিন ছিল। তাই অনেকেই মুঠোফোনে এফএম রেডিও চালু করে বসে পড়েন মোনাজাতে। তাবলিগ জামাতের বিবদমান বিরোধের কারণে এবারও বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আলাদাভাবে। শুক্রবার সকালে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার প্রথম পর্ব। এই পর্বে অংশ নিয়েছেন জুবায়েরপন্থীরা। আজ আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলো প্রথম পর্বের ইজতেমা। এরপর ২০ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা। ওই পর্বে অংশ নেবেন সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা

post
খেলা

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের শুভ সূচনা

মেয়েদের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটা জিতেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বেনোনির উইলোমুর পার্কে আজ মেয়েদের ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৩০ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ১৩১ রানের লক্ষ্য ১৩ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। জয়সূচক রানটা হতেই উইলোমুর পার্কে উচ্ছ্বাসে ভাসেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ডাগআউট থেকে ছুটে এসে দুই অপরাজিত ব্যাটার স্বর্ণা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তারকে জড়িয়ে ধরেন সতীর্থরা। রান তাড়ার শুরুতে বোঝা যায়নি বাংলাদেশের মেয়েরা এত সহজেই জিতে যাবে। শুরুটা যে হয়েছিল যতটা সম্ভব বাজেভাবে। ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেটকিপারকে ক্যাচ দিলেন ওপেনার মিষ্টি সাহা।সেখান থেকে ৬০ বলে ৬৬ রানের জুটি গড়েন দিলারা আক্তার ও আফিয়া প্রত্যাশা। ওয়ানডাউনে নামা দিলারা ৪২ বলে ৪০ রান করে ফেরেন একাদশ ওভারের প্রথম বলে দলকে ৬৬ রানে রেখে। ৫ বলও ৫ রান পর প্রত্যাশাও ফেরেন ২২ বলে ২৪ রান করে। ২টি করে চার-ছক্কা ছিল প্রত্যাশার ইনিংসে। দিলারার ইনিংসটি সাজানো ৭টি চারে। দ্রুতই ২ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর চেপে বসা চাপটাকে এরপর কী দারুণভাবেই না উড়িয়ে দিলেন স্বর্ণা ও সুমাইয়ার। পাল্টা আক্রমণ করে সুমাইয়াই মূল কাজটা করেছেন। তিনি যখন উইকেটে এলেন সে সময় ৫৪ বলে ৬০ রান দরকার বাংলাদেশের। সেখান থেকেই ১৩ বল হাতে রেখে দলকে জেতালেন সুমাইয়া। ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে বিশাল এক ছক্কা মারা সুমাইয়া ২৭ বলের ইনিংসে মেরেছেন ৬টি চারও। অন্য প্রান্তে স্বর্ণা আক্তার ১৫ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন।এর আগে ২২ রানেই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ২ উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশের বোলাররা। দুটি উইকেটই পেয়েছেন দিশা বিশ্বাস। এরপর ৭৬ রানের জুটি গড়েন ক্লেয়ার মুর ও এলা হেওয়ার্ড। ৫১ বলে ৭ চারে ম্যাচের সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন ক্লেয়ার। ৩৯ বলে ৩৫ রান করেছেন এলা। দিশা ছাড়াও বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন মারুফা আক্তার।

post
এনআরবি বিশ্ব

পাসপোর্ট সূচকে ১০৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০১তম

পাসপোর্ট সূচকে মোট ১০৯ দেশ আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০১তম। কসোভো ও লিবিয়াও একই অবস্থানে আছে।লন্ডনভিত্তিক অভিবাসন, নাগরিকত্ব ও পরিকল্পনাবিষয়ক সংস্থা 'হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স' গত ১০ জানুয়ারি এক গবেষণামূলক তথ্য প্রকাশ করে। ওই তথ্য নতুন করে প্রমাণ করেছে, এখনো জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে কতটা পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। কতটা পিছিয়ে আছে দেশটির অর্থনীতি, শাসনপদ্ধতি ও মানুষের জীবনযাপন।হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সর তথ্য ৩ মাস পরপর হালনাগাদ করে। একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনযাপনের গতিশীলতা বিবেচনায় নিয়ে সে দেশের পাসপোর্টের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। গত ১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে অত্যাধুনিক বিশেষজ্ঞের ভাষ্য ও ঐতিহাসিক তথ্য নিয়ে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স পাসপোর্টের সূচক নির্ধারণ করে আসছে। ২২৭ দেশের মধ্যে ১৯৯ দেশের পাসপোর্টের ভিসামুক্ত প্রবেশ তুলনা করতে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অথরিটির তথ্য ব্যবহার করা হয়। একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তির সঙ্গে সেই দেশের সার্বিক শক্তির সম্পর্ক আছে। পাসপোর্টের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে নাগরিকত্বের মূল্যায়ন হয়। এই সূচকের মাধ্যমে একটি দেশ সম্পর্কে জানা যায়। পাসপোর্টের এ সূচক দেশের অর্থনীতি, শাসন ব্যবস্থা ও দেশের মানুষের অবস্থাসহ অনেক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা হয়। মনে করা হয়, যে দেশগুলোর পাসপোর্ট যত বেশি শক্তিশালী ওই দেশগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, অর্থনীতি ও শাসনপদ্ধতি তত বেশি শক্তিশালী। বিশ্বে ওই দেশগুলোর ইতিবাচক ভাবমূর্তি আছে। যে সব দেশের পাসপোর্টের অবস্থান তলানিতে তাদেরকে উন্নত দেশগুলো নানাভাবে অবমূল্যায়ন করে থাকে। কোন প্রচারণাতেই সেই বাস্তবতা ঢেকে দেওয়া যায় না। ২০২৩ সালের হেনলি পাসপোর্ট সূচকে শীর্ষে আছে জাপান। জাপানিরা এখন বিশ্বের ২২৭ দেশের মধ্যে ১৯৩ দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারেন। সূচকে সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাসপোর্ট বিশ্বে দ্বিতীয় শক্তিশালী। জার্মানি ও স্পেন তৃতীয় অবস্থানে আছে। তারা ১৯০ দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যথাক্রমে ৬ ও ৭-এ। তাদের দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়া যথাক্রমে ১৮৭ ও ১৮৬ দেশে প্রবেশ করতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্টের অবস্থান অষ্টম। এ দেশের নাগরিকরা ১৮৫ দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্টধারী প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশিও এই সুযোগ পেয়ে থাকেন। পর্তুগাল থেকে পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন পর্যন্ত ৩৯ ইউরোপীয় দেশ অস্ট্রেলিয়ানদের ভিসা ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। নিউজিল্যান্ড, ফিজি ও ফরাসি পলিনেশিয়াসহ বার্বাডোস, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ, জ্যামাইকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোয় যেতে অস্ট্রেলিয়ানদের ভিসার প্রয়োজন হয় না। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে ১৯ দেশে ও আফ্রিকার ১২ দেশে অস্ট্রেলিয়ানদের ভিসা ছাড়া যেতে পারেন। এ ছাড়াও, অস্ট্রেলিয়ানরা ভিসা ছাড়া এশিয়ার ১০ দেশে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ ভ্রমণ করতে পারেন। কম্বোডিয়া, মিশর, লেবানন, প্যারাগুয়ে, সামোয়াসহ ৪০টিরও বেশি দেশে অস্ট্রেলিয়ানরা ভিসা বা ভিজিটর পারমিট পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে প্রবেশের সময় তাদেরকে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি নিতে হয়।বাংলাদেশিরা ৪১ দেশ ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান। এশিয়ায় ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলংকা ও পূর্ব তিমুর ছাড়াও আফ্রিকার ১৬, ওশেনিয়া অঞ্চলের ৭ ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ১২ দেশে বাংলাদেশিদের ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা মেলে। সূচক অনুসারে ভারত ৮৫তম অবস্থানে আছে। এই দেশের পাসপোর্টধারীরা ৬০ দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারেন। গত ১০ জানুয়ারি প্রকাশিত সূচকে বেশ কয়েকটি দেশ সম্পর্কে আকর্ষণীয় মন্তব্য ও তাদের ভবিষ্যৎ বাস্তবতা তুলে ধরেছে।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের মতামতের প্রয়োজন নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের মতামতের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, এ দেশের নির্বাচন ভালো কি মন্দ হবে, সেটা ঠিক করবে এ দেশের জনগণ। অন্য কেউ না।আজ (শনিবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জাপানি স্টাডিজ বিভাগের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই। অন্যদের আমাদের গণতন্ত্র শেখানোর প্রয়োজন নেই। আমাদের গণতন্ত্র আছে, মানবাধিকার আছে। এ দেশের নির্বাচন ভালো কি মন্দ হবে সেটা ঠিক করবে এ দেশের জনগণ। অন্য কেউ না। অন্য কেউ এটা নিয়ে কিছুই করতে পারবে না। বাংলাদেশের জনগণ এটা ঠিক করবে। আওয়ামী লীগ সরকার বুলেটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি উল্লেখ করে মোমেন বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচন করতে চায় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সরকারে এসেছে ব্যালটের মাধ্যমে। আমরা যথাসময়ে নির্বাচন করব। আওয়ামী লীগ এমন দল না যে, কোনো বড় দলকে নির্বাচন করতে দেবে না। সবাইকে নিয়ে আমরা নির্বাচন করি।যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে সবসময় সরব। দেশটির হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বন্ধু দেশ বলে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের অনেক উপদেশ দেয়। আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশ ভালো প্রস্তাব পেলে সেটা গ্রহণ করে। আমরা যেটা ভালো সেটা গ্রহণ করি। এতে করে আমাদের অর্জন বাড়ে। দুই দিনের সফরে ভারত হয়ে আজ ঢাকায় আসছেন মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক মার্কিন অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু। লু’র সফরে আলোচনায় বিষয়ে জানতে জানতে চাইলে মোমেন বলেন, আমরা আমাদের যেসব ইস্যু আছে সেগুলো তুলব। তারা তাদের ইস্যু তুলবে। আমেরিকার প্রিন্সিপালের সঙ্গে আমরা একমত। তাদের একটা প্রিন্সিপাল হচ্ছে গণতন্ত্র, তারা গণতন্ত্র চায়; আমরাও চাই। র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা নিয়ে মোমেন বলেন, আমেরিকা অন্য ইস্যুতে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমরা তুলে ধরছি এবং তুলে ধরব। আমাদের একটা অনুরোধ থাকবে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) যেন বিষয়টাকে বিবেচনা করে। আমাদের মনে হয়, আলোচনার মাধ্যমে এগুলো সমাধান করতে পারব। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, লু’র সফরে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নতুন করে যাতে আর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা না হয়, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করবে বাংলাদেশ। নতুন করে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা জানি না। আমরা জানব কোথা থেকে? তারা তো আমাদের বলেনি। 

post
এনআরবি বিশ্ব

মালদ্বীপে ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড

মালদ্বীপে ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত শাহ আলম মিয়া সেলিম (২৯) উচ্চ আদালতে শুনানিতে দাবি করেছেন, তিনি ওই ব্যবসায়ীকে হত্যা করেননি। দোভাষীর শেখানো কথায় হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন। এজন্য দোভাষী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। মালদ্বীপের এডিএইচ ধানগেঠি আইল্যান্ডের ব্যবসায়ী মাহমুদ আবুবকরু (৫৭) হত্যা মামলায় সেলিমকে দণ্ড দিয়েছেন আদালত।মালদ্বীপের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম সান এমবির তথ্য মতে, ৫৭ বছর বয়সী মাহমুদকে গত ২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর দেশটির রাজধানীর দূরবর্তী আইল্যান্ড ধানগেঠির একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে হত্যার পর মরদেহ পানির কূপের ভেতরে রাখা হয়। পরে কূপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশি শাহ আলাম সেলিম একই আইল্যান্ডে একজন বয়স্ক ব্যক্তির লিভ-ইন কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। তাকে মাহমুদ হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পরের দিন পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ উপস্থাপন করেন— হত্যা এবং মরদেহের অপব্যবহার। সেলিম জবানবন্দিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে উভয় অভিযোগে দোষী বলে প্রমাণিত হন। পরে আদালত নিহতের সাত জন উত্তরাধিকারীর মতামত চাইলে তারা হত্যার পরিবর্তে কোনো ক্ষতিপূরণ বা ‘দিয়াত’ চাননি। তারা হত্যার বদলে সমান প্রতিশোধ চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মালদ্বীপের ফৌজদারি আদালত ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সেলিমকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেইসঙ্গে উল্লেখ করেন, আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করলে নিম্ন আদালতের রায়ের বৈধতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষকে মামলাটি হাইকোর্টে জমা দিতে হবে।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইইউয়ে

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত সংকটজনক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্যের রপ্তানি গত জুলাই থেকে ডিসেম্বরে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির সবচেয়ে বৃহৎ বাজারগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ। এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৪ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার, যা এর আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি।অর্থের পরিমাণ ৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার থাকলেও এর আগের বছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। জুলাই-ডিসেম্বরে ইইউ থেকে আয় হয়েছে ১১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ। এই তালিকায় যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে পাওয়া ২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ পরবর্তীতে ইইউ থেকে ইউকে আলাদা হয়ে গেছে। অথচ ৬ মাস আগেও এর পরিমাণ ছিল ১২ বিলিয়ন ডলার এবং তখন প্রবৃদ্ধি ছিল ২৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। তবে, তখন এই তালিকায় যুক্তরাজ্য থেকে আসা ২ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, চলমান যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সত্ত্বেও বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি থেকে আয় আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু, প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির বিধিনিষেধ শিথিল হতে শুরু করার পর থেকে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে বাংলাদেশ গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যে প্রভাব পড়েছে, তা এখনো কাটানো যায়নি। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পশ্চিমা অর্থনীতিতে উচ্চতর মুদ্রাস্ফীতির কারণে আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলো অর্ডার কম করেছে। সেই কারণে আগামী ৩ মাসের মধ্যেও পোশাক রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন নাও হতে পারে।' বাংলাদেশের ৮০ শতাংশেরও বেশি গার্মেন্টস পণ্য যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউতে। ইইউর পরিসংখ্যান বিষয়ক অফিস ইউরোস্ট্যাটের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ইউরো অঞ্চলের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে আশা করা হয়েছিল, যা নভেম্বরে ১০ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, চরম আবহাওয়া, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে ইউরোপের বেশিরভাগ মানুষ দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে এশিয়ার প্রধান প্রধান বাজারে

চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম ছয় মাসে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে এশিয়ার প্রধান প্রধান বাজারে। তবে মন্দার কারণে ইউরোপ আমেরিকায় রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করার ফলে অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি পোশাক রপ্তানি জুলাই-ডিসেম্বর মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথমার্ধে ভারতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪৯ শতাংশ বেড়ে ৫৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।যা ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৬ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ২৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৮ কোটি ৮৩ লাখ ডলার।বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, বিজিএমইএর গৃহীত পোশাক কূটনীতির উদ্যোগের সুফল পাচ্ছেন দেশের রপ্তানিকারকরা।এশিয়ার বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএর প্রতিনিধি দল বেশ কয়েকবার ভারত ও কোরিয়া সফর করেছে।তিনি আরও বলেন, এশিয়ার দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। এটা খুবই ভালো দিক। কিন্তু মন্দার কারণে ইউরোপ ও আমেরিকায় আমাদের রপ্তানি লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না।তারপরও এশিয়ার দেশগুলোতে রপ্তানি বাড়ায় লোকসান কিছুটা হলেও কমবে। এখন বিশ্বব্যাপী করোনার চেয়েও খারাপ অবস্থা। জ্বালানি সংকটে কারখানা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে গেছে। গত ২০-৩০ বছরে এত বড় সংকট তৈরি হয়নি। এবার যেটা চলছে।বিজিএমইএ সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে মন্দার কারণে ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন রপ্তানিকারকরা। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেও কাজ করছে। ২০০৯ সাল থেকে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে বিজিএমইএ। সরকার এবং বিজিএমইএর অব্যাহত প্রচেষ্টার কারণে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি ২০০৯ সালের ৭ শতাংশ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।ইপিবির তথ্য মতে, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে জাপানে পোশাক রপ্তানি ৪২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৭৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরের তুলনায় চীনে পোশাক রপ্তানি ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ১২ কোটি ৭২ লাখ ডলার হয়েছে। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ কোটি ডলার।চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে অস্ট্রেলিয়া থেকে পোশাক রপ্তানি আয় ২৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৫১ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৯ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। রাশিয়ায় পোশাক রপ্তানি ৪৭ শতাংশ কমে ১৮ কোটি ডলার হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৪ কোটি ১২ লাখ ডলার। রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। ইপিবি তথ্য মতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমাদের পোশাক রপ্তানি ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৫০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯৮৭ কোটি ডলার। ইপিবি সূত্র জানায়, জার্মানিতে পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৩৪৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। স্পেনে ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে ১৭০ কোটি ডলার এবং ফ্রান্সে ৩৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ১৪১ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে পোল্যান্ডে রপ্তানি ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে আমেরিকায় রপ্তানি ৪২৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যে ২৩৯ কোটি ডলার এবং কানাডায় ৭৭ কোটি ৪১ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আগুনে পুরে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ঘরে আগুন লেগে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) দিনগত রাত ২টার দিকে উপজেলার উত্তর পারুয়া গ্রামের বসাকপাড়ার খোকন বসাকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন- খোকন বসাকের বাবা কাঙ্গাল বসাক (৭০), মা ললিতা বসাক (৬০), স্ত্রী লাকী বসাক (৩২), ছেলে সৌরভ বসাক (১২) ও মেয়ে সায়ন্তী বসাক (৪)। এ ঘটনায় গৃহকর্তা খোকন বসাককে (৪২) দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাত ২টা ১০ মিনিটে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করি। আমাদের রাঙ্গুনিয়া ও আগ্রাবাদ স্টেশন আগুন নেভানোর কাজ করে। ভোর ৪টায় আগুন নির্বাপণ হয়। নিহতদের মধ্যে কাঙ্গাল বসাক ও লাকী বসাক হলেন খোকন বসাকের বাবা-মা, লাকী বসাক স্ত্রী এবং সৌরভ ও সায়ন্তী তার ছেলেমেয়ে।তিনি বলেন, খোকন বসাকের ঘরটি ছিল সেমিপাকা। পাঁচটি থাকার কক্ষ ছিল। কিন্তু তাদের ঘর থেকে বের হওয়ার দরজা ছিল একটি। বের হওয়ার দরজার সামনে ছিল রান্নাঘর। রাতে রান্নাঘরের চুলার উপর লাকড়ি শুকাতে দেওয়া হয়েছিল। ওই লাকড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুন রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ার পর তারা খবর পান। সে সময় ওই দরজা দিয়ে বের হতে না পেরে সবাই একটি কক্ষে গিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। একস্থানেই সবাই দগ্ধ হন।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.