নিউইর্য়কের টাইমস স্কয়ারে মাহে রমজানের ইফতারি ও তারাবির নামাজ আদায় করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম এমন একটি উদ্যোগের বাস্তবায়ন হলো।
নিয়ন আলোর ঝলকানিময় আর সারাক্ষণ লোকে লোকারণ্য হয়ে থাকা চত্ত্বরটি এসময় ছিল একান্তই মুসলিম আমেরিকানদের।
শনিবার প্রথম রমজানে এখানে ইফতারি করেছেন ১৫০০ মানুষ এবং রাত আটটায় এক হাজার মানুষ জামাতের মাধ্যমে তারাবির নামাজ পড়েন।
সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে টাইমস স্কয়ারে প্রথমবারের মতো নামাজ আদায় করার একটি আহবান জানানো হয়। টাইমস স্কোয়ারে প্রথম তারাবিহ নামাজ নামে একটি প্রচারনা চালানো হলে সেই আহবানে সাড়া দেন ১২শ জন। সে অনুসারে শনিবার বিকেল থেকে সেখানে বিভিন্ন স্থানের রোজাদাররা জমায়েত হতে শুরু করেন। ইফতারির সময় সবাই এক সাথে ইফতারি করেন। তারপর রাত আটটায় তারাবির নামাজের আগে ও পরে করা হয় কুরআন তেলাওয়াত।
নামাজ শেষে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সামনে এই আয়োজনের উদ্দ্যেশ্য তুলে ধরেন আয়োজকরা। তারা বলেন, যারা ইসলাম ধর্ম সর্ম্পকে জানেন না তাদের কাছে ব্যাখ্যা করতে এসেছি, ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। আরও বলেন,"মাহে রমজান মুসলমানদের কাছে এটি শুধুমাত্র উপবাসের জন্য নয়, এটি সে জন্য আমরা যাতে বুঝতে পারি যে যারা খাদ্য নিরাপত্তাহীন তারা কেমন অনুভব করে। আমরা আসলে এটি করছি যাতে আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তা, আমাদের প্রভু, আল্লাহর নিকটবর্তী হতে পারি।
আয়োজকদের একজন আলী কামারা বলেন "ইসলাম সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে, সমস্ত সংস্কৃতি, সমস্ত ধর্ম জুড়েই কিছু মানুষ থাকেন যাদের কারণে সেই ধর্ম ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে, কিন্তু মনে রাখতে হবে সেই মানুষের দলগুলো খুবই ছোট, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিনিধিত্ব করে না। আমরা প্রার্থনা করতে, উপবাস করতে, ভাল কাজ করতে, দান করতে মানুষকে উত্সাহিত করছি।"
শুধু নিউইয়র্ক নয় এর বাইরে থেকেও অনেকে এসেছেন টাইমস স্কয়ারে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই তারাবিহ পড়তে।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বাইরেরও কেউ কেউ এই আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কুইন্সে বসবাসরত সাবরিনা জামাল নামে একজন মন্তব্য করেছেন টাইমস স্কয়ার হলো ব্যাস্ততম একটি স্থান যেখানে সারাক্ষণ উচ্চ আওয়াজে মিউজিক বাজে, চারপাশের বিলবোর্ডে ছবি থাকে সেখানে নামাজ আদায়টা কতোটা যৌক্তিক। যে আওয়াজের মাঝে কুরআনের পবিত্র আয়াত পাঠ করা হবে। এর মাধ্যমে অমুসলিমদের কাছে আমরা কি বার্তা পৌছে দেবো, প্রশ্ন তার।
ব্রুকলিনের ফারাহ জায়দি বলেছেন ওয়ান ইলাভেনের পর থেকে মুসলিমরা নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিম জমায়েতের উপর নানা রকম আক্রমন হয়েছে, এরকম আয়োজনে কেউ যদি কোন আক্রমনের পরিকল্পনা করে সেটিও ভাবনায় রাখা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের একজন সামী রিজওয়ান বলছেন ইফতারির টাকা দিয়ে এখানকার হোমলেসদের মধ্যে খাবার বিতরন করা যেতে পারে। সেটি শুধু প্রথম দিন রমজানের যে কোন দিনই হতে পারে। আর সেটি হলে অনেকেই এতে অর্থ দিয়ে পাশে থাকতে চাইবে।
টাইমস স্কয়ারের এই আয়োজনে দেখা যায়নি এখানকার মেয়র বা সংলিষ্ট কারো সম্পর্ক রয়েছে। আর পরবর্তীতে এরকম আয়োজন আরও হবে কিনা তা নিয়ে আয়োজকদের কাছ থেকে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এই আয়োজনকে অনেকেই সাধুবাদ জানান। নামাজ আদায়ের পর বেশ উৎফুল্ল প্রতিক্রিয়া জানান তারা।
