post
এনআরবি বিশ্ব

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতীয় শোক দিবস ২০২৩ পালন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সকলের একযোগে কাজ করার বিকল্প নেই।” ১৫ আগস্ট সোমবার জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী পালন উপলক্ষে নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মিশনস্থ বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন অনুষ্ঠান আয়োজন করে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। এতে যুক্তরাষ্ট্র বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় দিবসটির কর্মসূচি। এরপর জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতসহ উপস্থিত সকল অতিথিবৃন্দ। এর পর শুরু হয় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মুহিত তার বক্তব্যে বলেন, “বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে বাঙ্গালী জাতি। এমন একজন মহান ও বিশ্বনন্দিত নেতাকে যারা স্বপরিবারে হত্যা করেছে, তারা এখনো বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করে জাতিকে কলংকমুক্ত করতে সকলকে সরকারের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেবার কথা বলেন তিনি। বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠণের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দন্ডপ্রাপ্ত খুনীদের মধ্যে যারা এখনও বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “আমরা চাই জাতির পিতার কোনো খুনীই যেন বিচারের হাত থেকে পার না পায়”। বক্তাগণ পনের আগস্টের এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে জাতির পিতা যে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্ব স্ব অবস্থান থেকে তা অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

post
এনআরবি বিশ্ব

সাড়ে সাত হাজার মাইল দূরে , তবু হৃদয় জুড়ে বাংলাদেশ!

লেখক: ফারহানা হানিপআর আট দশটা সাধারন মেয়ের মত বেড়ে ওঠা আমার। অস্তিত্ত্বের মাঝে একাত্তর একটা আলাদা জায়গা নিয়ে ছিল আমার চিরদিন। আমাকে ছোটবেলায় সবাই ফারহা নামে ডাকতো। ফারহা থেকে ফারহানা হানিপ, এতগুলো বছরের পথচলা আমাকে একদিনের জন্যও দেশ কিংবা দেশের মাটি থেকে আলাদা করতে পারেনি। বরং প্রতিটি মুহূর্তে আমি অনুভব করেছি মাটি, মা আর একাত্তরকে। আমার কাছে বাঙালীয়ানা শব্দটার পূর্নতা বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠের ৭ই মার্চের ভাষনে আর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটা একটুকরো বাংলাদেশ। আমি সবসময় চাইতাম আমার সন্তান যেন ঠিক আমার মত করেই দেশ, মাটি, একাত্তর, বঙ্গবন্ধুকে আপন করে নেয় হৃদয়ের অন্ত:স্তলে।লেখালেখি আমি তেমন একটা করিনা। সারাদিন কাজের ব্যস্ততায় আর সংসার সামলে ঠিক হয়েও ওঠেনা। কিন্তু মার্চ মাস এলেই কেমন জানি লাগতে থাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা হয়েছিল এই মার্চ মাসেই। দেশাত্মবোধক গানগুলো শুনে আজও আমার রোমকূপ দাঁড়িয়ে যায়। ‘৭১ এ আমার জন্ম হয় নি, কিন্তু বাবা-মার কাছে অনেক শুনেছি সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা। অনেকের মতই জীবন সংগ্রামে আজ বসতি গড়েছি বিদেশের মাটিতে, কিন্তু শিকড়টা ঠিকই পড়ে আছে আমার মাতৃভূমি, বাংলাদেশে।তাই দেশকে নিয়ে কিছু লেখার সুযোগ পেয়ে লোভ সামলাতে পারলাম না। আমার তিন মেয়ে। নাফিসা, প্রিয়েতা আর ইলাফ। ছোট মেয়েটা তখন খুবই ছোট। গত বছর গ্রীষ্মের ছুটিতে মেয়েদের নিয়ে গিয়েছিলাম বাংলাদেশে বেড়াতে। উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের সাথে ঈদ করা আর বিদেশে যে জিনিসটা খুব মিস করি; মেয়েদের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাস আর সংস্কৃতির সংযোগ তৈরি করে দেয়া। মাত্র কয়েক সপ্তাহর ছুটি। কিন্তু শত ব্যস্ততার মধ্যেও এবার চেয়েছিলাম মেয়েদেরকে কিছু হলেও ঢাকা শহর ঘুরিয়ে দেখাব। লিস্ট করলাম কোথায় কোথায় যাওয়া যায়; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মৃতি জাদুঘর, লালবাগের কেল্লা, আহসান মঞ্জিল ইত্যাদি ইত্যাদি।ঢাকায়পৌঁছানোর পরই নানা কাজের ব্যাস্ততায় দেখতে দেখতে সময়টা শেষ হয়ে এলো! কিন্তু এবার না হলেই নয়... দিনটি ছিল আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ। জাতীয় শোক দিবস আবার সরকারি ছুটির দিনও। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডে সপরিবারে প্রাণ হারান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। ভাবছিলাম আজকের দিনটায় কি করা যায়। দেখতে দেখতে চলে যাবার সময় হয়ে গেলো, আর কিছুদিন পরেই আমেরিকায় ফিরতে হবে। ভাবলাম সময় নষ্ট না করে আজকের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণ করে রাখার জন্য সবচেয়ে ভাল হবে যদি ওদেরকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মৃতি জাদুঘরটা ঘুরে আসা যায়। ওরাও জানলো মাতৃভূমি জন্মের ইতিহাস। কয়েকজন বন্ধুদেরকে ফোন দিলাম কিন্তু কাওকেই পেলাম না, সবাই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও ছুটি কাটাতে গিয়েছে। অতঃপর আমাদের যাত্রা ধানমণ্ডি৩২ নং এর ঐতিহাসিক বাড়ি। ড্রাইভার বেশ অবাক হয়ে বলল, আপা আজ তো সব বন্ধ- শপিং মল, দোকানপাট সব বন্ধ। আমি বললাম ধানমণ্ডি ৩২এ চল। গাড়িতে আমি, দুই মেয়ে আর আমার ভাগ্নে লিংকন। ঘুরতে বের হয়ে প্রথমে বাচ্চাদের আগ্রহ যমুনা ফিউচার পার্ক বা হাতিরঝিল ফ্লাইওভারে থাকলেও পরের ঘটনা ছিল একেবারে ভিন্নরকম!কথা বলতে বলতে কখন যে গাড়ি পৌঁছে গেলো টেরই পাইনি। যদিও ধানমণ্ডি এলাকায় বেশ ট্রাফিক এ পড়তে হয়েছিল। কয়েক বছরে আশেপাশের পরিবেশ অনেক বদলে গেছে। ধানমন্ডির লেক সার্কাসে৩২ নম্বর রোডেই সেই স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি। এখানেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি তাঁর জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সপরিবারে ছিলেন। এই বাড়ি থেকেই পাকিস্তানী সৈন্যরা তাকে অসংখ্যবার গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি এখান থেকেই দেশ পরিচালনার কাজ করতেন। বাড়ির প্রতিটি জায়গায় বঙ্গবন্ধুর সেই সময়ের সব চিহ্নগুলোকে সেভাবেই রেখে দেয়া হয়েছে।১৯৯৪ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের ধানমণ্ডি ৩২ এর এই বাড়িটি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ট্রাস্ট তাঁর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সেটাকে জাদুঘরে রূপান্তর করে আর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয় ১৯৯৭ সালে। গেটে ঢুকতেই সিকিউরিটি চেকিং। ব্যাগ, মোবাইল, ক্যামেরা সব রেখে ঢুকতে হয়। মেয়েরা ছোট, তাই ক্যামেরা সাথে নেয়ার জন্য খুব বায়না ধরল, কিন্তু ওদেরকে না বললাম। বাসার নিচতলায় বঙ্গবন্ধুর অফিস রুম। গুলির আঘাতে সব ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। সব ঠিক সেভাবে সংরক্ষণ করা আছে। এছাড়া তার বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিবিজড়িত ছবি দিয়ে জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে। জাদুঘরটিতে গাইডের ব্যাবস্থাও আছে যিনি জাদুঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে এর ইতিহাসও বর্ণনা করলেন আমাদের কাছে। আমি বুঝতে পারলাম মেয়েরা তখন আগ্রহ পাচ্ছে। ওদের জন্য বাংলা, আর ইংরেজিতে বুঝিয়ে দিতে হচ্ছিল। কিন্তু ওদেরকে আমাদের দেশের ইতিহাস পড়ে শোনাতে আমার খুব ভাল লাগছিল। দোতলায় বঙ্গবন্ধুর বেডরুম। এতো বড় মাপের একজন মানুষ, কিন্তু তাঁর কী সাধারণ আটপৌরে জীবন। কোন বিলাসিতা নেই! বাড়ির ভেতরটা ছিল খুবই শান্ত, বিশেষ দিন হওয়াতে লোকজনের বেশ ভিড় ছিল। তবু আমি ওদেরকে পুরো বাড়ির সবগুলো ঘর ঘুরে দেখালাম। হায়নাদের গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল চারপাশের সব দেয়ালগুলো। সেই গুলিতে একতলার সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। পাশেই পড়ে থাকা তাঁর ভাঙা চশমা ও পছন্দের তামাকের পাইপটি আজও একিভাবে রাখা আছে। রিসেপশান, বেডরুমের সামনে, সিঁড়িতে, বাথরুমে সব জায়গায় নারকীয় পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সপরিবারে হত্যা করে খুনিরা। বাচ্চারা প্রতিটি জিনিস খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিল, শুনছিল আর কাগজে নোট করছিল। একটা সময়ে হঠাত খেয়াল করলাম, বড় মেয়েটা খুব ইমোশনাল হয়ে পড়েছে। আমি বুঝতে পারলাম, কিন্তু কিছু বললাম না। সবশেষে গেলাম শেখ রাসেলের রুম এ। তার সেই ব্যবহৃত খেলনা বাই সাইকেল সব ওভাবেই পড়ে আছে। তখন নাফিসা আর চোখের পানি আটকে রাখতে পারল না। আমাকে জরিয়ে ধরে হাঁটছে, ছবি আর জিনিসের কাপশান পড়ছে আর তার চোখ দিয়ে পানি পড়েই যাচ্ছে। ঘুরতে ঘুরতে আমরা চলে গেলাম বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলের রুমের পাশের ছাঁদে। কেন জানি না, এমন এক মুহূর্তে বাইরে ঝির ঝির করে বৃষ্টি পড়ছিল। মনের অবস্থা আর পুরো পরিবেশের সাথে একদম মানিয়ে গিয়েছিল বৃষ্টিটা। অচেনা বাতাস আর একটা দীর্ঘশ্বাস। লিওন তখন আমাকে বলল, ফুপ্পি, আমার স্কুল এখানেই। আমরা এখানে আসে পাশে অনেক আসি। কিন্তু এই জাদুঘরে আগে আসা হয়নি। সত্যি, এখানে এসে আমাদের দেশ নিয়ে অনেক কিছু জানলাম। থ্যাঙ্ক ইউ।বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি। আমার সন্তানদের জানাতে চাই ওদের মাতৃভূমি সম্পর্কে, কিভাবে জন্ম হল, কিভাবে স্বাধীন হল, কাদের অবদানের জন্য আমরা আজ বাংলায় কথা বলতে পাড়ি, আমার দেশের ইতিহাস অবশ্যই জানা উচিত। মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস। ৯ মাস সংগ্রাম, আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরিচালিত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগে আমরা যে স্বাধীন দেশ পেয়েছি, মাতৃভূমি এবং মাতৃভাষার জন্য এই আত্মত্যাগের উদাহরণ ইতিহাসে বিরল। আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনকরে বলতে চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন আমদের দেশ নিয়ে ভাবে, দেশের ইতিহাস জানে, দেশের জন্য কাজ করে। তাহলেই তারা খুশি হবেন। গ্রীষ্মের ঐ ছুটিতে মেয়েদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে যাওয়া ছিল আমাদের জন্য সত্যিই সেরা সিদ্ধান্ত ও অভিজ্ঞতা। - ফারহানা হানিপ, ওয়াশিংটন প্রবাসী।

post
এনআরবি বিশ্ব

ওয়ার্ল্ড ফেয়ার অ্যান্ড ফিস্ট-২০২৩ এ বিশেষ সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড পেলেন রথীন্দ্রনাথ রায় ও কাজী মারুফ!

৬ আগষ্ট রোববার নিউইয়র্কের উডসাইটের গুলশান ট্যারেসে হয়ে গেলে ওয়ার্ল্ড ফেয়ার এন্ড ফিস্ট-২০২৩। অনুষ্ঠানটির আয়োজক অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়ার্ল্ড ফেয়ার অ্যান্ড ফিস্ট ইউএসও ইনক। তারা কাজ করে বিভিন্ন পেশাজিবীদের মাঝে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রচার, প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও পরিষেবা অন্য দেশগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে। সন্ধ্যা সাতটায় ফিতা ফ্যাস্টিভলের উদ্বোধন করেন আয়োজনের আহ্ববায়ক মেহজাবিন মেহা, প্রধান উপদেষ্টা মো: আতিকুর রহমান ও সভাপতি তারেক মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী, লেস্টার চ্যাং, মার্ক মেয়ার অ্যাপেল ও কে সি রায়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুলে আনিষ্ঠানিকতা।  বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পেশার নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ অংশ নেন এই আয়োজনে। একে অপরের ভাবনা শেয়ার করেন মঞ্চে। ফাকে ফাকে চলে বিশেষদের সম্মান জানানো ও বিশিষ্ট অতিথীদের পরিচিতি পর্ব। সেখানে আয়োজক ও আমন্ত্রিত অতিথীরা পুরস্কার তুলে দেন বিশেষ ক্ষেত্রে অবদান রাখা ১২ জন ব্যাক্তিবর্গকে। পুরস্কার পাওয়া ব্যাক্তিরা হলেন অভিনেতা কাজী মারুফ, রথীন্দ্র নাথ রায়, তমালিকা করমোকার, ইরফান খান। পুরস্কার দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়েছে আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথীদেরও। পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন লেস্টার চ্যাং, প্রতিষ্ঠাতা বিএমএপিসি মার্ক মেয়ার অ্যাপল, কে সি রায়, মার্সিডিজ নার্সিস, মার্ক মেয়ার অ্যাপল, অ্যাল্ডার অ্যাম্বার, ডাঃ সিমা কারেতনয়া এবং ফাহাদ সুলাইমান পুরস্কার পেয়েছেন।এরপর মার্ক মেয়ার আপেল নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট গ্রহন করেন আয়োজনের আহ্বায়ক মেহাজাবিন মেহা এবং প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। এরপর তাদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মডলে মোনালিসা। আমন্ত্রিত নগর কর্মকর্তাদের সামনে মঞ্চে ডেকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি বিশেষ সম্মান জানানো হয় অনুষ্ঠানের রাষ্ট্রদূত সগীর খানকে, বাংলাদেশ আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদর্ক প্রিন্স আলম, বাপার দ্বিতীয় সহ-সভাপতি আলী চৌধুরী, সিডব্লিউ লোকাল ১১৮২'র সভাপতি সৈয়দ রহিম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইসলাম ও সহ-সভাপতি সাদিক প্রমুখকে। অনুষ্ঠানে শেষ অংশে ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৌশ ভোজ। খাবার গ্রহনের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথীরা উপভোগ করেছেন জমকালো সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান। যেখানে পারফর্ম করে বাংলা ব্যান্ড। গান গেয়ে দর্শকদের মাতান রেশমী মির্জা, হীরা, মার্শাল টিটো, শামীম সিদ্দিক, অউনিক ও আহবায়ক নিজেও। সবশেষে পারফর্ম করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার রিজিয়া পারভিন। রাত ১২টায় শেষ হয় ওয়ার্ল্ড ফিস্ট অ্যান্ড ফেয়ারের দ্বিতীয় আসরের আয়োজন। সংগঠনের কার্যক্রম ও পুরো আয়োজনকে সফল করতে যারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা হলেন সহ-আহ্বায়ক মার্শাল টিটো, সহ-সভাপতি সাংস্কৃতিক কমিটির সদস্য মাহমুদুল হাসান অণিক, অনুষ্ঠান কমিটির সদস্য হীরা, নিলুফার ইয়াসমিন, নাসরিন ঝুমুর, ডা. রফিক, ডা. মোক্তার, ড. কামরুল, প্রধান সমন্বয়ক মিন্টু কুমার রায় ও সদস্য সচিব দীপক দাস। অনুষ্ঠানটির পরিচালনা করে আনিকা চৌধুরী। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়া সংগঠনটি ২০২২ সালে ওরলেন্ডুতে করিছেলা তাদের প্রথম ওয়ার্ল্ড ফেয়ার অ্যান্ড ফ্যাস্টিবল। গতবারের আয়োজনে অংশ নিয়েছিলো বিশ্বের ছয়টি দেশের প্রতিনিধগণ। এবার আয়োজনে উপস্থিত হয়েছিলেন দশটি দেশের বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা। 

post
এনআরবি বিশ্ব

ওয়াশিংটন ডিসিতে হয়ে গেলো রাবি এলামনাই'র বনভোজন ও কমিটি গঠন

মতিহারের সবুজ চত্বরে ফেলা আসা স্মৃতি রোমান্থন করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ছুটে এসেছেন বনভোজনে। প্রবাসে ব্যস্ত জীবনের পিছুটান ঠেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, ওয়াশিংটন ডিসি'র অনুষ্ঠান, তাইতো এমন প্রাণের উচ্ছাস। টগবগে যৌবনে পেরিয়ে অনেকেই এখন প্রৌঢ় বয়সে পড়েছেন। কিন্তু রাবির প্রতি আন্তরিকতা ও ভালোবাসা যেন এতটুকু ম্লান হয়নি তাঁদের। অনুষ্ঠানে এসে কেউ খুঁজে পায় তাদের শিক্ষক, বন্ধু, বড় ভাই-বোনকে। প্রবাসে যেখানে বাংলাদেশী মানুষ পেলে উচ্ছাসের ঘাটতি থাকে না, সেখানে ক্যাম্পাসের পরিচিত যেনকে পেয়ে যেন আনন্দ- উল্লাসের কমতি ছিল না।'এসো মিলি শেকড়ের টানে, রাবিয়ানরা একসাথে' এই স্লোগানে গেল ২৯ শে জুলাই শনিবার বনভোজন ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, ওয়াশিংটন ডিসি।একইসাথে সংগঠনের কাজ বড় পরিসরে করতে গঠন করা হয় নতুন কমিটি। কোরআন তোলওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। তেলাওয়াত করেন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এস এম জাহিদুর রহমান এবং ড. ইয়াসমিন এর কন্যা জাফরা রহমান।এরপর শুরু হয় পরিচিতি ও বক্তব্যের পালা। শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি ব্যাক্ত করেন। ব্যক্তব্যের সময় অনেকে আনমনা হয়ে ক্ষণিকের জন্য ফিরে যায় রাবি ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পসের প্রিয় মানুষদের সাথে মিলতে নিজ গৃহে তৈরি করা নানা পদের, নানা স্বাদের খাবার নিয়ে হাজির হয় অনেকে। সুস্বাদু এসব খাবার বেশ আনন্দের সাথেই গ্রহণ করে আমন্ত্রিত অতিথিরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে গানে গানে চলতে থাকে আলাপচারিতা এবং পারস্পারিক পরিচিতি। গান পরিবেশন করেন ওয়াশিংটন ডিসির জনপ্রিয় শিল্পী অসিম রানা, ড.সীমা খান, বুলবুলি ইসলাম, মাসুদ রহমান প্রমুখ। পড়ন্ত বেলায় সুরের মূর্ছনায় হঠাৎ বৃষ্টির আগমন সবাইকে উদ্বেলিত করে। বৃষ্টি বিলাসে ফিরে যায় মতিহারের সবুজ আঙ্গিনায়।  বনভোজনে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতারও পূর্বের পরিসংখ্যানের ছাত্র ড. কাশেম। তিনি ওয়াশিংটন ডিসির হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন দশক ধরে অধ্যাপনা করেন; এখন তিনি প্রফেসর ইমিরেটস। স্মরণ করেন ফেলে আসা দিনগুলি, সহপাঠী, সহকর্মীদের কথা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্টার অধ্যাপক এন্তাজুল ইসলাম জানান, ছাত্র জীবন, শিক্ষকতা ও প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে তর অভিজ্ঞতা। তিনিই ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই এসোসিয়েশনের প্রথম সেক্রেটারি। প্রফেসর ড.আতিয়ার রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনের সুন্দর সময় বলে অবহিত করেন।অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের জন্য ছিল 'যেমন খুশি তেমন সাজো'। পুরুষরা সুই সুতান মালা গেঁথে ভালোবাসার বন্ধনে স্ত্রীদের গলায় মালা পরিয়ে দেয়। আর ঈদের আমেজকে জাগিয়ে তুলতে মেয়েরা হাতে দেয় মেহেদী। পরে বাচ্চাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাবেক রেজিস্টার ড. এন্তাজুল ইসলাম।আর র‍্যাফেল ড্রতে ৫০ ইঞ্চি টেলিভিশন জিতে নেন শিল্পী ড. সীমা খান।উল্লেখ্য র‍্যাফেল ড্র স্পনসর করেন রিয়েলেটর মোঃ মজিবুল হক।পিকনিকের আমেজের মধ্যেই এলামনাই-এর সকলের উপস্থিতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, ওয়াশিংটন ডিসি-এর কমিটি গঠন করা হয়। অ্যালামনাই ও উপস্থিত সকলের সম্মুখে ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জোহুরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি হন আজিমা আজমল (রক্সি)। নির্বাচন পরিচালনা করেন ড.মোহাম্মদ কাসেম, ড.এন্তাজুল ইসলাম।প্রকাশ্যে কেউ দায়িত্ব নিতে আগ্রহী না থাকায় ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। তাদের হাত ধরে এগিয়ে যাবে রাবির সাবেক শিক্ষার্থীদের আবেগের সংগঠন এমনটাই প্রত্যাশা সবার।অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন, আবু জাফর ও সাংবাদিক জাহিদ রহমান। আর গরম আবহাওয়ার মধ্যে উপস্থিত থাকায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এলামনাই এর প্রতিষ্ঠাতা এস এম জাহিদুর রহমান।প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে ২৩ শে অক্টোবর পিকনিক এবং আহবায়ক কমিটির মাধ্যমে পথ চলা শুরু হয় সংগঠনটির। গেল বছর ১০ই ডিসেম্বর পিঠা উৎসবও করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন ওয়াশিংটন ডিসি।

post
এনআরবি বিশ্ব

তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো জুনে

সদ্য শেষ হওয়া জুনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এ অর্থ প্রায় তিন বছরের মধ্যে কোনো একটি মাসে দেশে আসা সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয়। এর আগে ২০২০ সালের জুলাইয়ে ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল।বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, গত বছরের একই মাসে অর্থাৎ জুনে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৮৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার। সেই হিসাবে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। সম্প্রতি ২০২০ সালের জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। তবে তখন করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পরিবহণ বন্ধ থাকায় হুন্ডি বন্ধ ছিল। ফলে বৈধপথে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বেড়েছিল।ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি দামে প্রবাসী আয় কেনা বন্ধ করে দিয়েছিল ব্যাংকগুলো। তবে সংকটের কারণে ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর দেনা শোধের চাপের কারণে বিদায়ী মাসে তদারকি অনেকটা শিথিল ছিল। ফলে কিছু ব্যাংক নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে প্রবাসী আয়ের ডলার কেনে। এতে প্রবাসী আয় বেড়েছে। তবে এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে কিছু ব্যাংক।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত প্রবাসীরা প্রায় ২০২ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন। এর পরের কয়েক দিনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারে। গত মে মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৬৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, গত বছরের জুনে প্রায় ১৮৪ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। ২০২১ সালের জুনে এসেছিল ১৯৪ কোটি ডলার। ২০১৯ ও ২০২০ সালের জুনে এসেছিল যথাক্রমে ১৩৬ কোটি ও ১৮৩ কোটি ডলার।প্রবাসী আয় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখেই মূলত প্রবাসীরা দেশে থাকা তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে বাড়তি অর্থ পাঠিয়েছেন। সাধারণত প্রতি ঈদের আগে দেশে অতিরিক্ত প্রবাসী আয় আসে। তবে গত এপ্রিলে উদযাপিত ঈদুল ফিতরের আগে প্রবাসী আয় খুব বেশি বাড়েনি। সেই তুলনায় ঈদুল আজহার সময় দেশে প্রবাসী আয় বেশি এসেছে।এর কারণ হিসেবে ব্যাংক খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই দেশে কুরবানি দিয়ে থাকেন, তাই তারা বাড়তি অর্থ পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে বিভিন্ন সংস্থা কুরবানির জন্যও বাংলাদেশে অর্থ পাঠায়।প্রবাসী আয় দেশে আনার দিক থেকে বরাবরের মতো এবারো শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে। তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এনেছে বেসরকারি খাতের প্রিমিয়ার ব্যাংক।দেশে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ডলার-সংকট এখনো চলছে। তবে প্রবাসী আয় বৈধপথে দেশে আনার জন্য চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। প্রবাসী আয়ে এখন ব্যাংকগুলো ডলারপ্রতি ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা দাম দিচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র সরোয়ার হোসেন বলেন, ডলারের সংকট কমে আসছে। একদিকে প্রবাসী আয় ভালো পরিমাণে আসছে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোতে ডলারের মজুতও বাড়ছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

মালয়েশিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে দুই বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

মালয়েশিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে দুই বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ হয়েছেন আরও চার বাংলাদেশি। বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) ভোরে সেলাঙ্গর রাজ্যের বান্ডারবারু বাঙ্গির তামান ইন্ডাস্ট্রি সোলেমানের একটি ছাপাখানায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সেলাঙ্গর রাজ্যের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ডিপার্টমেন্টের (জেবিপিএম) সহকারী অপারেশন ডিরেক্টর মোহামাদুল এহসান মোহাম্মাদ জেইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ১৪ মিনিটে ফোনে আগুন লাগার খবর পান। এরপর বান্ডারবারু বাঙ্গি ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ স্টেশন (বিবিপি), কাজাং ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ স্টেশন (বিবিপি), সেমেনিহ ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ স্টেশন (বিবিপি) এবং সেরদাং ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ স্টেশন (বিবিপি) থেকে ৩৬ জন কর্মকর্তা-কর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, আগুন লাগার পর বাংলাদেশি ছয় শ্রমিক ওই কারখানায় আটকা পড়েন। তাদের মধ্যে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে তাদের পরিচয় জানায়নি পুলিশ। হাসপাতালে দগ্ধদের চিকিৎসা চলছে। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য দুজনের মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।মোহামাদুল এহসান মোহাম্মাদ জেইন বলেন, ছাপাখানাটি ৬০/৮০ বর্গফুট আয়তনের। এতে বায়ু চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। এ কারণে আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় নিশ্বাস নিতে না পেরে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পরে দমকল কর্মীরা ভোর ৪টা ৪৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার কারণ জানার চেষ্টা চলছে। ঘটনা তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

post
এনআরবি বিশ্ব

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিবে ইতালি

দ্বিপক্ষীয় অভিবাসন ও চলাচল ব্যবস্থার আওতায় বিশেষত নির্মাণ কাজ, জাহাজ নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিতে সম্মত হয়েছে ইতালি। বুধবার রোমে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ইতালির রাজনৈতিক আলোচনা থেকে এ তথ্য জানা যায়।পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব রিকার্ডো গুয়ারিগলিয়া আলোচনায় নিজ নিজ দেশের নেতৃত্ব দেন। ফ্লুসি ডিক্রির আওতায় ৪৬ শতাংশের বেশি কর্মী মৌসুমি ও অ-মৌসুমি কাজের জন্য বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে যাওয়ায় এ সময় সন্তোষ প্রকাশ করে ইতালি। রাজনৈতিক আলোচনার আগে মাসুদ বিন মোমেন এবং রিকার্ডো গুয়ারিগলিয়া বাংলাদেশ ও ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে রাজনৈতিক পরামর্শ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই করেন। বৈঠকে উভয় দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, আইসিটি, কৃষি, অভিবাসনসহ একাধিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করে। উভয় পক্ষ ইতালিতে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সম্মত হয়। ইতালি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে এবং তাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ও মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সহায়তার আশ্বাস দেয়। ইতালি প্রতিনিধি দল ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় ইন্দো-প্যাসিফিকের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

post
এনআরবি বিশ্ব

দ্বিতীয়বারের মতো নিচে নামলো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

চলতি মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্বিতীয়বারের মতো ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।এর আগে, গত ৭ মে বাংলাদেশ ব্যাংক এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নকে ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ করায় রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছিল ২৯ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে।তবে, এর ২ দিন পর বিশ্বব্যাংকের দেওয়া ঋণ যোগ হওয়ায় রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।বিশ্বব্যাংক সরকারকে ৫০৭ মিলিয়ন ডলার দিলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের চলমান চাপ কিছুটা কমে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রিজার্ভ দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারে। এক বছর আগে একই দিনে যা ছিল ৪২.২৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ গত এক বছরে রিজার্ভ প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের রিজার্ভ চাপে আছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদকে সংহতি প্রদর্শনের আহ্বান

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদকে সংহতি প্রদর্শনের আহ্বান জা‌নি‌য়ে‌ছে বাংলা‌দেশ। নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় বুধবার (৩ মে) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে `ফিউচার প্রুফিং ট্রাস্ট ফর সাস্টেইনিং পিস` শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত। রাষ্ট্রদূত মুহিত ব‌লেন, রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হওয়ার প্রায় ছয় বছর কেটে গেছে। এই সংকট নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং এটি ক্রমাগত নীরব ভূমিকা পালন করেছে।রাষ্ট্রদূত মুহিত বিশ্বশান্তির জন্য দৃশ্যমান হুমকিসমূহ মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের মতো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের সুরক্ষায় সংহতি ও ঐক্য প্রদর্শনের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান।তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাঝে বিশ্বাস অর্জনের জন্য পরিষদকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়া আবশ্যক। স্থায়ী প্রতিনিধি মুহিত তার বক্তব্যে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে শান্তিরক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং এ প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) এ সংক্রান্ত ম্যান্ডেট আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় পিবিসির পরিপূরক ভূমিকা গ্রহণের জন্য পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই মেয়াদের জন্য পিবিসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ কমিশনের সম্ভাবনাকে অধিকতর প্রসারিত করার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে।তিনি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বিনির্মাণে নারীর পূর্ণ, সমান ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং মানবাধিকার রক্ষাসহ বৃহত্তর শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে জাতিসংঘের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।স্থায়ী মিশন জানায়, মে ২০২৩ এর জন্য সুইজারল্যান্ড নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে এবং দেশটি পরিষদে তার প্রথম সভাপতিত্বের একটি স্বাক্ষর ইভেন্ট হিসেবে এ উচ্চ পর্যায়ের উন্মুক্ত বিতর্কের আয়োজন করেছিল। এতে সভাপতিত্ব করেন সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিস।

post
এনআরবি বিশ্ব

বাংলাদেশিদের জন্য সৌদি আরবে ই-ভিসা কার্যক্রম চালু

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সৌদি আরব যাত্রা সহজতর করতে আজ ১ মে থেকে ই-ভিসা বা ইলেকট্রনিক ভিসা চালু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশটি। সৌদি আরবের নতুন ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে দিয়ে এই কার্যক্রমের সূচনা হলো।আজ সোমবার দুপুরে ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান তাঁর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, এক বছর ধরে পবিত্র হজ পালনকারীদের জন্য ই-ভিসা চালু ছিল। এখন থেকে কাজ, ভ্রমণ ও থাকাসহ সব ধরনের কর্মকাণ্ডে সৌদি আরব যেতে হলে কাগজের ভিসার পরিবর্তে ই-ভিসা পুরোদমে চালু হলো। সৌদি আরব পুরো ভিসাপ্রক্রিয়াটি যান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করতে চায়। আশা করা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে ভিসাপ্রক্রিয়া সহজতর হবে।ই-ভিসা সাশ্রয়ী ও সহজতর—তা বোঝাতে রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান বলেন, ভিসা স্টিকার খরচ সাপেক্ষ এবং এখানে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ই-ভিসা চালুর ফলে এখন থেকে এফোর সাইজের কাগজে ভিসা প্রিন্ট করে দেওয়া হবে। কাগজের নিচের অংশে একটি বারকোড থাকবে। ওই বারকোডে ভিসা যিনি পেয়েছেন, তাঁর সব তথ্য সন্নিবেশিত থাকবে। নতুন ব্যবস্থার কারণে শ্রমিক, চাকরিদাতা, মেডিকেল সেন্টারের কর্মীসহ অন্য সবাই উপকৃত হবেন বলে মনে করেন রাষ্ট্রদূত।রাষ্ট্রদূত জানান, আগে ভিসা স্টিকারে শুধু আরবি ভাষায় তথ্য লেখা থাকত। কিন্তু ই-ভিসা চালুর পর তা আরবি ও ইংরেজি দুই ভাষায় থাকবে। এর ফলে বাংলাদেশিরা সহজে বুঝতে পারবেন ভিসা কত দিনের জন্য এবং কোন শ্রেণিতে আবেদনকারী ভিসা পেলেন।দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে শ্রমিক, চাকরিদাতা ও কর্তৃপক্ষ সমস্যায় পড়ে উল্লেখ করে সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, দালালেরা শ্রমিকদের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে টাকা সংগ্রহ করেন। কিন্তু এর জন্য শ্রমিক বা চাকরিদাতা কেউই দায়ী নয়; বরং এর জন্য দায়ী দালাল শ্রেণি।সৌদি যাত্রার আগে শ্রমিকদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার জন্য জনশক্তি রপ্তানিকারকদের অনুরোধ জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, শ্রমিকেরা যাওয়ার আগে যেন জানেন, তাঁদের বেতন কত এবং কোথায় কীভাবে কাজ করবেন।দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের সঙ্গে দূতাবাসের যোগসাজশের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান বলেন, ‘অনেক সময় শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। তাঁদের বলা হয়, সৌদি দূতাবাস টাকা নেয়। আমি বলতে চাই, এমন অভিযোগ একেবারে মিথ্যা।’সৌদি আরবে এই মুহূর্তে কোনো ফ্রি ভিসা দেওয়া হয় না উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কাজের জন্য ভিসা দেওয়া হয়। এ ছাড়া শ্রমিক ভিসার মেয়াদ দুই বছর।সংবাদ সম্মেলনে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক শহীদুল আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব কর্মী সৌদি আরব যান, তাঁরা আরবি ভাষা পড়তে পারেন না। এজেন্সি থেকে ভিসা নিয়ে তাঁরা আসলে বুঝতে পারেন না, এটা কোন প্রকার ভিসা। সে কারণে ভিসায় ইংরেজি বা বাংলা ভাষা থাকলে সুবিধা হবে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.