post
এনআরবি সাফল্য

রত্নগর্ভা সম্মাননা পেলেন প্রবাসী সোহাগের মা

বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ক্যালগেরি প্রবাসী সোহাগ হাসানের মা এ বছর রত্নগর্ভা সম্মাননা পেয়েছেন। মা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে যে ২৫ জন রত্নগর্ভা মাদের সম্মাননা দেওয়া হয় তারমধ্যে সোহাগ হাসানের মা ফয়েজুন্নেছা বেগম অন্যতম।আট সন্তানের জননী ফয়েজুন্নেছার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আব্দুল সাত্তার। তিনি বর্তমানে চাঁদপুরে বসবাস করেন। এই দম্পতির আট সন্তানের প্রত্যেকেই দেশে বিদেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষিত হয়ে স্ব-স্ব স্থানে দেশে-বিদেশে মর্যাদা সম্পন্ন চাকরিতে নিয়োজিত রয়েছেন। ভাই বোনের মধ্যে সোহাগ হাসান পঞ্চম।প্রবাসী সোহাগ হাসানের বড় ভাই ইসমে আজম পনির আমেরিকা থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বিএসসি এবং এমবিএ সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার এটিএন টির প্রিন্সিপাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। অন্যদিকে সোহাগ হাসান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে আলবার্টার সাউদার্ন আলবার্টা ইনস্টিউট অফ টেকনোলজি থেকে পিপিডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে বর্তমানে আগাড ওয়েল এন্ড গ্যাস ল্যাবে কর্মরত রয়েছেন।ফয়েজুন্নেছার বাকি ছয় সন্তানের মধ্যে জান্নাতুল মাওয়া চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি বেসরকারি এনজিও তে কর্মরত। এ এস এম মঈন ডুয়েট থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) সম্পন্ন করে বর্তমানে ঢাকা আনোয়ার গ্রুপে ডিরেক্টর (অপারেশন) কর্মরত। গাউছুল আজম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএসএস সম্পন্ন করে বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। আহসান হাবীব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এম এ ও পরবর্তীতে ডিপ্লোমা ইন মাল্টিমিডিয়া সম্পন্ন করে বর্তমানে ক্লিক অন মার্কেটিং কমিউনিকেশনস লিমিটেডে ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন। জান্নাতুল নাঈম ইডেন মহিলা কলেজ থেকে (সমাজ বিজ্ঞান) এএমএ সম্পন্ন করে সামাজিক সেবা কার্যক্রমে নিয়োজিত। রত্নগর্ভা ফয়জুন্নেসার সর্বকনিষ্ঠ সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (উদ্ভিদবিজ্ঞান) এমএসসি এবং পিএইচডি সম্পন্ন করে বর্তমানে রাজশাহী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।মা রত্নগর্ভা সম্মানে ভূষিত হওয়ার পর ফয়েজুন্নেছার বড় সন্তান ইসমে আজম পনির গণমাধ্যমকে বলেন, সন্তানরা মাকে ঘিরেই ভালোবাসার পৃথিবী রচনা করে। মাকে খুশি করাই সব সন্তানের ব্রত হওয়া উচিত। ছোট বেলা থেকেই দেখেছি কিভাবে মা তার শাসন আর ভালোবাসা দিয়ে আমাদের আগলে রেখেছেন।আবেগে আপ্লুত হয়ে কন্ঠশিল্পী সোহাগ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রবাসে প্রতিটা ক্ষণ যাকে খুব মিস করি, যার কল্যাণে পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখা সেই মা আজ রত্নগর্ভা সম্মাননা নিচ্ছে এর চাইতে বড় আনন্দ সন্তানের আর কিছুই হতে পারে না। নৈতিক চরিত্র ও মূল্যবোধের শিক্ষা সন্তানকে মাই দিয়ে থাকেন। একজন আদর্শ মা সন্তানের পাশে থাকেন বিপদে বন্ধু হিসেবে। হতাশায় আশার আলোকবর্তিকা হয়ে। অসহায় অবস্থায় অভিভাবক হয়ে। সর্বোপরি সকল পরিস্থিতিতে স্নেহ-দয়া ও ভালোবাসার অপার ভাণ্ডার হলেন মা। সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।রত্নগর্ভা সম্মাননা পাওয়ায় আবেগে আপ্লুত ফয়েজুন্নেছা বলেন, আমিও কোন মায়ের সন্তান। এই আনন্দ সব সন্তানদের আনন্দ। পৃথিবীর সব মায়েদের আনন্দ। আমাদের মনে রাখা উচিত, আজ যিনি সন্তান, তিনিই আগামী দিনের বাবা কিংবা মা। বৃদ্ধ বয়সে এসে মা-বাবারা যেহেতু শিশুদের মতো হয়ে যায়, তাই তাদের জন্য সুন্দর জীবনযাত্রার পরিবেশ তৈরি করাই সন্তানের কর্তব্য। এ সময় তিনি রত্নগর্ভা সম্মাননা দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

post
এনআরবি সাফল্য

টাওয়ার হ্যামলেটসে মেয়র হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত লুৎফুর রহমান

বাঙালি অধ্যুষিত লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসে আবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত লুৎফুর রহমান।শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে নতুন মেয়র নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি বর্তমান মেয়র লেবার পার্টির জন বিগসকে প্রায় সাত হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান।জন বিগস গত সাত বছর ধরে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।এর আগে ২০১৪ সালে টাওয়ার হ্যামলেটসে দ্বিতীয়বারের মত মেয়র পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন লুৎফর। তবে পরের বছর ভোট জালিয়াতি করে মেয়র হয়েছিলেন বলে প্রমাণিত হওয়ায় তখন নতুন করে ভোট হয়; যাতে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।২০১০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশি অধ্যুষিত বারা কাউন্সিলে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।২০১৪ সালের ভোটে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং তাকে মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। এ কারণে গত পাঁচ বছর তিনি নিবা‍র্চনে অংশ নিতে পারেননি।বির্তকিত লুৎফুরের বিরুদ্ধে উগ্র ইসলামি গোষ্ঠীকে মদদ দেওয়ার পাশাপাশি লন্ডনে থাকা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।এবার বৃহস্পতিবারের ভোটে আসপায়ার দলের প্রার্থী লুত্‌ফুর পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৮৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিগস পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৪৮৭ ভোট। নির্বাচনে মোট ভোট পরে ৮৬ হাজার ৯টি।বিজয়ী হওয়ার পর লুৎফুর বলেন, “জনগণ আমাকে ও আমার দলকে আরেকবার সুযোগ দিয়েছেন টাওয়ার হ্যামলেটসকে এবং আমাদের ভবিষ্যতকে রিবিল্ড করতে। আমি সকল কমিউনিটর প্রত্যেককে সেবা দিতে চাই। আমি বাঙালি, অবাঙালি, সাদা-কালো সকল কমিউনিটির মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ তারা দলে দলে এসে ভোট দিয়েছেন।“বারার মানুষের উপর আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস আছে। তারা কোনটি সঠিক কোনটি ভুল তা বুঝতে পারেন। আমার বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডার পরেও তারা আমাকে বিশ্বাস করেছেন। আমার উপর বিশ্বাস রেখেছেন।“প্রথম দফা প্রথম পছন্দের ভোট গণনায় লুত্‌ফুর ভোট পান ৩৯ হাজার ৫৩৩ এবং বিগস পান ২৭ হাজার ৮৯৪ ভোট। দুই প্রাথী‍র্র কেউ মোট ভোটের ৫০ শতাংশের ভোট পাননি তাই আবার দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গণনা হয়।এতে দ্বিতীয় পছন্দের ভোটেও লুৎফুর এগিয়ে যান, যা মোট ভোটের ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। পরে তাকে নিবা‍র্চিত ঘোষণা করা হয়। তৃতীয় প্রার্থী লিবডেমের রাবিনা খান পেয়েছেন ৬ হাজার ৪৩০ ভোট।শনিবার টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলরদের নিবা‍র্চনের ভোট গণনা করা হবে। ৪৫টি কাউন্সিলার পদে লেবার ও লুৎফুররে আসপায়ার দলসহ অন্যান্য দলের প্রাথী‍ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন।

post
এনআরবি সাফল্য

মর্যাদাকর ডব্লিউজিইএস নোভা অ্যাওয়ার্ড ২০২২ পেলেন আজিজ আহমদ

ওয়ার্ল্ড গ্রিন এনার্জি সিম্পোজিয়াম-ডব্লিউজিইএস কাউন্সিলের নোভা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হলেন বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি থিংকট্যাংক ও উদ্যোক্তা আজিজ আহমদ। ১৩ এপ্রিল এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।ডব্লিউজিইএস'র সাইটেশনে বলা হলা হয় অনুকরণীয় নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও সামাজিক অসমতা নিরসনে টেকসই ও শিক্ষণীয় সমাধান দিতে অসাধারণ সক্ষমতা দেখানোয় ২০২২ সালে আজিজ আহমদকে দেওয়া হচ্ছে সম্মানজনক এই আন্তর্জাতিক পুরষ্কার।আজিজ আহমদ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইউটিসি অ্যাসোসিয়েটস, কোডার্সট্রাস্ট ও প্রবিটি কেয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একাধারে একজন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবক, গবেষক, শিক্ষক ও উদ্যোক্তা। একজন জনহিতৈষী, সমাজসেবক হিসেবেও যুক্তরাষ্ট্রে সুবিদিত এই বাংলাদেশি-আমেরিকান।মর্যাদাকর এই আন্তর্জাতিক নোভা অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় আজিজ আহমদ বলেন, এই অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আর বার বার মনে পড়ছে সেইসব মুখগুলো যারা আমাদের এগিয়ে দেওয়া সুবিধা নিয়ে এখন আইটি জগতে তাদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। গ্লোবাল মার্কেট থেকে আয় করছে। তাদের একেকটি হাসিমুখ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। কিছু বিবেচক ও প্রত্যয়ী মানুষ বিশ্বটাকে বদলে দিতে পারেন, এমনটাই বলেছিলেন মার্গারেট মিড। এবারের নোভা পুরষ্কার হস্তান্তরের সময় এই উক্তিটিই স্মরণ করে ডব্লিউজিইএস।আর প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সিইও ডেইজি গ্যালাগার বলেন, আমাদের এবারের সিম্পোজিয়াম ও পুরস্কার মূল প্রতিপাদ্যে রয়েছে মানুষ। যারা এবার অ্যাওয়ার্ড ভূষিত হলেন তারা তাদের কাজ দিয়ে মানুষের কাছে যেতে পেরেছেন।আজিজ আহমদ ছাড়া নোভা অ্যাওয়ার্ড ২০২২ এ ভূষিত হয়েছে অপর দুই আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। তাদের একজন ফাদার এলবার্স জর্জ। এলডার জর্জ নামে যিনি সমধিক পরিচিত। গ্রিসের এই ক্যারিসম্যাটিক ধর্মযাজক মানবতা ও প্রকৃতির সেবায় নিয়োজিত একজন অন্যতম রোলমডেল। অপরজন হচ্ছেন কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি-সিএসআর এর পরিচালক মাইকেল জোন্স বে। টেকসই কর্পোরেট ব্যবস্থার চ্যাম্পিয়ন বলা হয় তাকে।ডেইজি গ্যালাগার আরও বলেন, ভীষণ ভিন্নরকম এই তিনটি মানুষকে পুরষ্কৃত করতে পেরে আমরা নিজেরা গর্বিত বোধ করছি।বাংলাদেশি আমেরিকান আজিজ আহমদ তাদেরই একজন। যিনি ১৯৮০'র দশকের শেষভাগে উচ্চশিক্ষা লাভে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে সেখানে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজ কৃতিত্বে তিনি অর্জন করেছেন মূলধারার একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার গৌরব।এর আগে পুরষ্কার ঘোষণার পর ডব্লিউজিইএস এর নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক জর্জ রবার্টস বলেন, আজিজ আহমদের মতো ব্যক্তিত্বকে নোভা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করতে পেরে ডব্লিউইজিএস গর্ববোধ করছে। আজিজ আহমদ একজন প্রভাবক ও গেম চেঞ্জার, বলেন রবার্ট গ্যালাগার। আজিজ আহমদ তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠান কোডার্সট্রাস্টের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া, অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রযুক্তিনির্ভর কাজের সুবিধা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এশিয়া ইউরোপ, আমেরিকার পাশাপাশি বাংলাদেশেও রয়েছে তার কার্যক্রমের বড় বিস্তৃতি। এই মানুষগুলোর জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কোডার্সট্রাস্টের মাধ্যমে তাদের দেওয়া হচ্ছে বিশ্বমানের আইটি দক্ষতা। আর তার মাধ্যমেই তারা অর্জন করতে পারছেন বিশ্ববাজার থেকে আইটি খাতে কাজের সুযোগ। তরুণ সমাজ, বিশেষ করে নারীরা যারা একটু সাচ্ছন্দের জীবনের সন্ধানে সংগ্রাম করে যাচ্ছে তারাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য, বলেন আজিজ আহমদ। শিক্ষার্থী-প্রশিক্ষণার্থীদের তথ্য-প্রযুক্তির কিছু সফট-স্কিল দিতে পারলেই তারা বিশ্ববাজার থেকে কাজ খুঁজে নিয়ে ঘরে বসেই আয় করতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা। আমরা তাদের কাছে প্রশিক্ষণের উপযোগী টুলসগুলো সহজলভ্য করে দিতে পারছি, দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিতে পারছি, যা হয়তো তাদের নাগালের মধ্যে ছিলো না। কিন্তু সামান্য সুযোগই তাদের করে তুলতে পারে বিশ্বমানের দক্ষ কর্মী, যার প্রমাণ আমরা আমাদের উদ্যোগসমূহের মধ্য দিয়ে পেয়েছি, বলেন এই ফিলানথ্রপিস্ট আইটি উদ্যোক্তা। কেবল বাংলাদেশেই এরই মধ্যে ৬০ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে আইটি দক্ষতা দিয়েছে কোডার্স ট্রাস্ট, জানান তিনি।কেবল উদ্যোক্তাই নন, আইটি খাতে বিশ্ববরেণ্য একজন থিংকট্যাঙ্ক ও সুবক্তা হিসেবেও রয়েছে আজিজ আহমদের সুনাম। ভ্যাটিক্যান সিটিতে পোপ ফ্রান্সিসের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি সেখানে আলোচনা করেছেন ডিজিটাল যুগে সাধারণের জন্য ভালো কি হতে পারে তা নিয়ে। বেলজিয়ামে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তিনি কথা বলেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অর্থবহ ব্যবহার ও নীতি কর্মকাঠামো নিয়ে। গুয়াতেমালায় সেন্ট্রাল আফ্রিকান কনফারেন্সে প্রযুক্তির অগ্রসরতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলেছেন। ডেভোসে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামেও তিনি প্যানেলিস্ট হিসেবে আইটি খাতে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন বিশ্বের অন্যান্য থিংকট্যাংকের সঙ্গে।পুরষ্কার নেওয়ার পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ সিম্পোজিয়ামে মাস্টারক্লাস কিনোট স্পিকার হিসেবে আজিজ আহমদ কথা বলেন, টেকসই তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে।উপস্থাপনায় তিনি জোর দেন আজিজ আহমদ বলেন, প্রযুক্তি যতটা এগিয়ে যাচ্ছে তার সাথে সাথে মানুষের এগিয়ে যাওয়াটাও সমানভাবে জরুরি। সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অগ্রসরতার পাশাপাশি আমরা কিছু অপরাধপ্রবণতাও দেখতে পাচ্ছি এই জগতে। সাইবার অপরাধের একটি তালিকা উপস্থাপন করে তিনি বলেন, এই অপচেষ্টাগুলো থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হবে।অতীতে যে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই ডব্লিউইজিএস নোভা পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে টেকসই কর্মসূচি গ্রিনওয়ার্কসের জন্য সিটি অব ফিলাডেলফিয়া। যার পুরস্কার গ্রহণ করেন সিটি মেয়র মাইকেল নাটার। রিও ডি জেনেরিওতে টেকসই কর্মসূচির জন্য দেশ হিসেবে এই পুরষ্কার পায় ব্রাজিল, কর্পোরেট লিডারশিপের জন্য পুরস্কার পেয়েছে তিশমান, ডিওডব্লিউ, জনসন কন্ট্রোলস, উদ্ভাবনী পণ্য ও প্রযুক্তির জন্য পেয়েছে ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ডিন ও শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি স্মার্ট হাউজের জন্য এই পুরস্কার পান। সাসটেইনেবল ডিসি প্ল্যান তৈরির জন্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এই পুরস্কারে ভূষিত হয়, যা গ্রহণ করেন এর মেয়র ভিনসেন্ট গ্রে। ইউনিভার্সিটি অব ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ককাস এই পুরস্কার পায় তাদের আরবান ফুড হাবের জন্য। যা গ্রহণ করেন এর ডিন সাবিন ও'হারা। শহুরে কৃষির একটি মডেল তৈরি করেছিলো এই বিশ্ববিদ্যালয়।   সিম্পোজিয়ামে ডব্লিউজিইএস সেইসব মানুষের সমাগম ঘটায় যারা বৈশ্বিক ও স্থানীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় দক্ষ, নীতিনির্ধারক, ক্রেতা, উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও চিন্তক।বিভিন্ন মাস্টার লেকচার, কেসস্টাডি ও ইন্টারঅ্যাকশনের মধ্য দিয়ে সবুজ জ্বালানি ও টেকসই প্রচেষ্টাসমূহের বাস্তবায়নে প্রযোজনীয় শিক্ষা ও তথ্য বিনিময় করা হয় এই সিম্পোজিয়ামে।অন্যান্য বছরের মতো এবছরও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চমাপের বহুমূখি প্রতিভার অধিকারী বক্তাদের আমন্ত্রণ জানায় ডব্লিউজিইএস। বক্তারা তাদের উপস্থাপনায় বাস্তবভিক্তিক কেসস্টাডি, টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগ ও সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেন। কোভিড-১৯ অতিমারি পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা কথা বলেন নিরাপদ ভবন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ, জলবায়ূ, ক্লিন এনার্জি ও টেকসই অর্থায়ন, গ্রিড বিদ্যুতায়ন, সাইবার সিকিউরিটির সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা, পরিষ্কার পানির সুষ্ঠু সমাধান, সঠিক বিনিয়োগ, পরিবহণ ও ক্লিন এনার্জি কর্মসূচির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাসমূহের পূর্বাভাস নিয়ে।কর্মসূচির মূল নেতৃত্বে ছিলেন ডব্লিউইজিএস এর নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক জর্জ রবার্টস। গুরুত্বপূর্ণ উপস্থাপনার মাধ্যমে দিনভর আলোচনাকে যারা সম্মৃদ্ধ করেছেন তাদের মধ্যে ছিলেন, ইউএস জেনারেল সার্ভিসেস এডমিন্সট্রেশনের প্রধান সাসটেইন্যাবিলিটি অফিসার, ফেডারেল হাই পারফরম্যান্স গ্রিন বিল্ডিংস কার্যালয়ের পরিচালক কেভিন ক্যাম্পস্রোয়ার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী প্রধান সাসটেইন্যাবিলিটি অফিসার এন্ড্রু নক্স, ওয়াশিংটন এক্সিকিউটিভ ক্লাইমেট চেঞ্জ কাউন্সিলেন চেয়ারম্যান ও ক্লাইমেট উপদেষ্টা স্টেফেন অ্যাম্ব্রোস, ইউএস এয়ারফোর্সের পরিবেশ বিষয়ক সাবেক সহকারী সেক্রেটারি ও জ্যেষ্ঠ জ্বালানি নির্বাহী, জেনারেশনস অ্যাডভাইজরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উইলিয়াম এন্ডারসন, ইউনিভার্সিটি অব ডিস্ট্রিক্ট কলাম্বিয়ার আরবান সাসটেইন্যাবিলিটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের কলেজ অব এনভায়রনমেন্টর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ও প্রতিষ্ঠাতা ডিন ড. স্যাবিন ও'হারা, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স এমবিডিএ'র ব্যবসা উন্নয়ন কার্যালয়ের ব্যবসা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও ভারপ্রাপ্ত সুপারভাইজর রন উবা, ক্যাপিটাল অ্যাকসেস অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেট এর সিনিয়র অ্যাডভাইজর ব্লক চেইন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিশেষজ্ঞ জন রবার্ট বাগুইডি, রুবিক্স লাইফ সায়েন্সেস এর প্রতিষ্ঠাতা বিজ্ঞানী ড. রেগিনাল্ড সুইফট, সাসটেইনেবল অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট স্ট্রাটেজিস ডব্লিউ জিআই ইনকর্পোরেটেড এর পরিচালক গ্যারি লরেন্স, ইউটিসি অ্যাসোসিয়েটস ও কোডার্সট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা আজিজ আহমদ, জিজিডব্লিউ ইনক. এর প্রতিষ্ঠাতা সিইও ডেইজি গ্যালাগার, কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট রিকভারি, কন এডিসনের পরিচালক মাইকেল জোনস-বে, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি ব্রুকহেভেন ন্যাশনাল ল্যাবস-এর মেরি রজার্স, সাসট্যাপ এলএলসি'র কো-ফাউন্ডার ভার্জিনিয়া গিবসন, আইএমএমআই'র প্রেসিডেন্ট সেলেস্টে উয়ান্ডার, ডিসি আরচেঞ্জেলস ইনভেস্টর গ্রুপ'র প্রেসিডেন্ট ড্যান লোয়াগ প্রমুখ।

post
এনআরবি সাফল্য

মালয়েশিয়ার কুইসে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হাসিবুর

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সেলাঙ্গর, মালয়েশিয়ার (কুইস) ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক ওয়েবিনারে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।হাসিবুর পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের খতবাড়ী গ্রামের শাহাদত হোসেন ও মরিয়ম খাতুনের ছেলে হাসিবুর রহমান, জগতলা দাখিল মাদরাসা থেকে জিপিএ ৫ ও চাটমোহর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ২০১৫ সালে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সেলাঙ্গর, মালয়েশিয়ায় ব্যাচেলর অব হিউম্যান রিসোর্সের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুর। এছাড়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয় ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থী ফারাজিল্লাহকে। কমিটিতে পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, ইউএসএ, ব্রুনাই, কানাডার প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হয়েছেন।মালয়েশিয়ার এপিটমি কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। হাসিবুর রহমান বাংলাদেশ স্টুডেন্ট ইউনিয়ন মালয়েশিয়ার (বিএসইউএম) কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

post
এনআরবি সাফল্য

কানাডায় সামাজিক কাজে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি ফারজানা হক

কানাডার আলবার্টা সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি ফারজানা হক। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে তিনি এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। ক্যালগারি শহরের মেয়র জ্যোতি গোন্ডেক ও যোগাযোগমন্ত্রী রাযন সহনি এই পুরস্কার হস্তান্তর করেন।ফারজানা হক ২০০৮ সাল থেকে অর্গানাইজেশন অফ ক্যালগারি ক্যাথলিক ইমিগ্রেশন সোসাইটির (সিসিআইএস) একজন দক্ষ কর্মী হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে কালচারাল ব্রোকার হিসেবে নতুন পদে অধিষ্ঠিত হন। যেটা আলবার্টা সরকারের সাথে যৌথভাবে সিসিআইএস পরিচালনা করে। ফারজানা হক আলবার্টা সরকারের সমাজসেবীদের সঙ্গে কাজ করে নারীদের ভাগ্যোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। যেসব নারীরা পারিবারিকভাবে নির্যাতিত-অত্যাচারিত তাদের সহযোগিতা করে নতুন পথ দেখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ফারজানা হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর অর্জন করেন এবং আলবার্টা সরকারের সমাজসেবী হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়ে সেবা করে যাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি ক্যালগেরি পুলিশ সার্ভিসেস সাউথ এশিয়ান পুলিশ এডভাইজারি বোর্ডের সঙ্গে বাঙালি কমিউনিটির সদস্য হিসেবে সাত বছর সেবামূলক কাজ ও মতামত বিনিময় করার সুযোগ পেয়েছেন। পুরষ্কার জয়ের পর মিডিয়ায় দেওয়া প্রতিক্রিয়া ফারজানা হক বলেন, যেকোনো কাজের স্বীকৃতি অত্যন্ত আনন্দের। আমি মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া চাই যেন সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি। এ স্বীকৃতি দেওয়ায় আলবার্টা সরকারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তিনি এই পুরস্কার জয়ের জন্য নিজের মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, মা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিক্ষক। সর্বদা মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। মা আমাকে সর্বদা মানুষকে সম্মান করতে শিখিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে মানুষের সঙ্গে সত্যিকারভাবে শ্রদ্ধার সাথে আচরণ করতে হয়। ফারজানা আরও বলেন, কমিউনিটির বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সহযোগিতার পাশাপাশি কাজ চালিয়ে নিতে আমার স্বামী ও সন্তানদের থেকেও অনুপ্রেরণা পেয়েছি। 

post
এনআরবি সাফল্য

টাইম স্কয়ারের বিলবোর্ডে বঙ্গবন্ধু ও তার অর্জন

আগামী ১৫ আগস্ট নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র টাইম স্কয়ারের বিলবোর্ডে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও অর্জন তুলে ধরা হবে। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এন ওয়াই ড্রিম ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রোডাকশনের কর্ণধার ফাহিম ফিরোজ এই প্রদর্শনীর উদ্যোগ নিয়েছেন। নিউইয়র্কের খাবার বাড়ি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে ফাহিম ফিরোজ এই উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিট হতে পরের দিন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ২ মিনিটে ১৫ সেকেন্ড এই প্রদর্শনী তুলে ধরা হবে। এর মোট ব্যাপ্তিকাল হবে ৩ ঘণ্টা এবং ৭২০ বার। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় এর জন্য মোট খরচ হবে প্রায় ১লাখ ডলার। ফাহিম ফিরোজ জানান, তিনি কাজ শুরু করেছেন। কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ালে তিনি সাদরে গ্রহণ করবেন। আর তা না হলেও তিনি তা সম্পন্ন করার সামর্থ্য রাখেন। কারণ এটি তাঁর স্বপ্ন। বিষয়টি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। নিজেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তি দাবি করে ফাহিম ফিরোজ বলেন, জাতির জনকের প্রতি গভীর ভালবাসা আর শ্রদ্ধা থেকে সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে তিনি প্রদর্শনীর উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিশ্বের রাজধানী খ্যাত এই নিউইয়র্ক নগরীতে দর্শনার্থীরা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করকে পারবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তোফা হোসেইন, সেলিনা সুলতানা সুইটিসহ প্রমুখ।

post
এনআরবি সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রথম ভার্সিটির উদ্বোধনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর হানিপের মালিকানাধীন ‘ইনোভেটিভ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীর ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায়ের সংযোজন ঘটলো যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘ইনোভেটিভ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি’ চালুর মধ্যদিয়ে। বহুজাতিক এ সমাজে প্রবাসীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই শুধু নয়, বাংলাদেশের উদ্যমী এবং মেধাবিদের দক্ষ হিসেবে গড়ে উঠার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের যে পাঠক্রম-তা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উচ্চ বেতনে চাকরির পথ সুগম করবে। যতবেশী বাংলাদেশি বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি পাবে ততবেশি অর্থ যাবে বাংলাদেশে এবং ইতিমধ্যেই তার প্রমাণ মিলতে শুরু করেছে।’ মার্কিন মুল্লুকে বাঙালির স্বপ্ন-সারথি হয়ে আবির্ভূত হলো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি-উল্লেখ করেন এমিরিটাস প্রফেসর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন।শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভার্সিটির মিলনায়তনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ অনুষ্ঠানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, পরিচালকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী ছাড়াও অতিথি হিসেবে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, সামিট গ্রেুপের ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদ খান, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার। ভিডিওতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. সাজ্জাদ হোসেন, জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদ।অনুষ্ঠানস্থলে প্রধান অতিথি ড. মোমেনকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানানোর পর স্বাগত বক্তব্যে এই ভার্সিটির চ্যান্সেলর এবং সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর হানিপ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাও দেয়া হবে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে, যাতে গ্র্যাজুয়েশনের সাথে সাথেই চাকরি পান সকলে। যুক্তরাষ্ট্রে অসংখ্য শিক্ষার্থী ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেও মাসের পর মাস চাকরি পান না। কারণ, অনেক দফতরেই পূর্ব অভিজ্ঞতা লাগে। আইটি সেক্টরে চাকরি কখনোই মেলে না অভিজ্ঞতা না থাকলে। এই ইউনিভার্সিটিতে সে ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই অনুমতি সংগ্রহ করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার হানিপ উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ইউনিভার্সিটি তথ্য-প্রযুক্তি, ব্যবসা-প্রশাসন, প্রজেক্ট এবং হেল্্থ কেয়ার ম্যানেজমেন্টে যথেষ্ঠ সুনাম কুড়িয়েছে। চলতি বছর এর মালিকানাসহ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় আমরা এসেছি। তাই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যাতে অবাধে ভর্তির সুযোগ পান সে চেষ্টা থাকবে। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের নামে দুটি স্কলারশিপ ঘোষণা দেয়া হয়। বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীর এর একটি ব্যাচেলর এবং আরেকটি মাস্টার্স কোর্সের জন্য পাবেন। অর্থাৎ পুরো কোর্সের ৭৫% বৃত্তি দেয়া হবে। এর বাইরেও রয়েছে আরো দু’লাখ ডলারের স্কলারশিপ বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে।অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে ইউনিভার্সিটি পরিচালনা পর্ষদের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ফারহানা হানিপ বলেন, গত দেড় দশকেরও অধিক সময়ে ‘পিপল এন টেক’র মাধ্যমে আমরা সংক্ষিপ্ত কোর্স দিয়ে মার্কিন আইটি সেক্টরে সাত হাজারের অধিক প্রবাসীকে উচ্চ বেতনে চাকরির পথ সুগম করেছি। সে অভিজ্ঞতায় আইটি, হেল্্থ, হিসাব বিজ্ঞাণ এবং ব্যবসা-প্রশাসনে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স কোর্সের সাথেই কারিগারি শিক্ষা দেয়া হবে। সেটিই হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানের বিশেষত।রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও যাতে এই প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহে ভালো বেতনে চাকরি পান, সে জন্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হবে সংশ্লিষ্ট সকলকে।বাংলাদেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদ খান বলেছেন, পিপলেএনটেক’র মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ার হানিপ বহু বাংলাদেশিকে স্কলারশিপের মাধ্যমে মার্কিন আইটি সেক্টরে চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে কারিগরি শিক্ষালাভে সক্ষম ছাত্র-ছাত্রীরা গ্র্যাজুয়েশনের পরই চাকরি পাবে বলে আশা করছি। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক ঘটনা হচ্ছে এই ইউনিভার্সিটির টিউশন ফি তুলনামূলকভাবে কম, তারওপর রয়েছে স্কলারশিপ। বাংলাদেশ টেকনোলজিতে অনেক এগিয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সেই ধারায় যুক্ত হয়ে এই ভার্সিটিও বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবে বলে আশা করছি।ভয়েস অব আমেরিকার রোকেয়া হায়দার বলেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে চলার খবরাখবরের পাশাপাশি মূলধারায় সম্পৃক্ততার সংবাদ আমেরিকার বাংলা ভাষার প্রতিটি গণমাধ্যম প্রকাশ ও প্রচার করছি। ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপের মাধ্যমে প্রবাসীদের সমৃদ্ধির পথে ধাবিত হবার ক্ষেত্রে আরেকটি অধ্যায়ের সংযোজন ঘটলো। আমি এই প্রয়াসের প্রশংসা করছি।পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন তার দীর্ঘ বক্তব্যে বলেছেন, অভিবাসী সমাজের স্বপ্ন পূরণে অন্যতম প্রধান অবলম্বন হচ্ছে দক্ষ হিসেবে শিক্ষালাভ করা। বাংলাদেশের এক কোটি ২৩ লাখেরও অধিক মানুষ এখন বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন। তারা যদি আন্তর্জাতিক মানের চাকরির উপযোগী শিক্ষালাভে সক্ষম হন তাহলে বাংলাদেশই প্রকারান্তরে উপকৃত হবে। ড. মোমেন বলেন, বাঙালিরা খুবই সৌভাগ্যবান এজন্যে যে, শেখ হাসিনার মত একজন নেতা পেয়েছি আমরা। তার দূরদর্শীতাপূর্ণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে উন্নয়নের মডেল। আমি আরেকটি সুখবর দিতে চাই যে, গতকালই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করেছে। এটিও শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণেই সম্ভব হয়েছে।উল্লেখ্য, ৫ দিনের সরকারি সফরের শেষ দিন ড. মোমেন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বক্তব্য দিলেন।ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অধ্যাপক এপাসটলোস ইলিয়পলাসের উপস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে ড. মোমেনকে ‘প্রক্লেমেশন’ প্রদান করা হয় বাংলাদেশের সুনাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজের জন্য। এরপর করতালির মধ্যে কেক ও ফিতা কেটে যুক্তরাষ্ট্রের বাঙালিদের জন্যে নয়া ইতিহাসের শুভ সূচনা। 

post
এনআরবি সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় : বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দু’লাখ ডলার স্কলারশিপ

ভাষার মাসে বহুজাতিক মার্কিন সমাজে বাঙালির এগিয়ে চলার অভিযাত্রায় যুক্ত হলো আরেকটি অধ্যায়। এজন্য কঠোর পরিশ্রমী এবং মেধাবী একজন অভিবাসী ইতিহাসের অংশ হলেন। যেমনটি হয়েছেন একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’-এ পরিণত করার ক্ষেত্রে অস্মিরণীয় ভূমিকা পালনকারী কানাডার ভ্যাঙ্কুবারের রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালাম। তিনি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত ‘ম্যাজিকম্যান’ খ্যাত ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ। এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে একটি ইউনিভার্সিটির মালিকানা অর্জনের মধ্য দিয়ে এ অধ্যায়ের যাত্রা। আর তা ঘটলো ১১ ফেব্রুয়ারি ভার্জিনিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত ‘আই গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি’ (ইনোভেটিভ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি তথা আইজিইউ)’র পুরো দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বিজ্ঞান, ব্যবসা ও প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে কাঙ্খিত একটি শিক্ষাঙ্গণ হিসেবে বিবেচিত।উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ যুক্তরাষ্ট্রে ‘পিপল এন টেক’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। এই ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে মার্কিন আইটি সেক্টরে গত দেড় দশকে ৭ হাজারের অধিক প্রবাসীকে উচ্চ বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করেছেন ইঞ্জিনিয়ার হানিপ।গত ১১ ফেব্রুয়ারি কাগজপত্রের স্বাক্ষর-অনুস্বাক্ষর এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রেই শুধু নয় সমগ্র প্রবাসে সুধীমহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরাও বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে অধিক হারে আসতে সক্ষম হবেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিমধ্যেই বিশেষ কৃতিত্বের সাথে ডিগ্রি গ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ এসেছিলেন এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। জানা গেছে, গত ১২ বছরে ৪ হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ শতাধিক। এরমধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীর (ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট) সংখ্যাই বেশি। প্রকৌশলী আবুবকর হানিপ এই ভার্সিটির পরিচালনা-পর্ষদের প্রধান এবং মালিকানায় আসার পর শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন এনে সকল ডিগ্রিধারীকে উপযুক্ত চাকুরি পাবার আগ পর্যন্ত সহায়তা আর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।এ প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার হানিপ বলেন, ‘দেখুন উচ্চ বেতনে চাকুরি পাওয়ার জন্য আপনার বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু কেবল ডিগ্রিই আপনাকে চাকুরির নিশ্চয়তা দেয় না। যেমনটা আমাকে দেয়নি ২০ বছর আগে। বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি থাকার পরও আমি এখানে স্বল্প পারিশ্রমিকের কাজ, অর্থাৎ ‘অড জব’ করতাম। সে সময় আমি অনুভব করেছি আমার এখানকার বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি থাকলে হয়তো আমি উঁচুমানের এবং অনেক বেশি বেতনের চাকুরি পাব।’ আইজিইউ এর চেয়ারম্যান এবং সিইও আবুবকর হানিপ জানালেন, “প্রায় ৫০ হাজার ডলার ঋণ নিয়ে আমি কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করলাম। সর্বোচ্চ গ্রেড নিয়ে আমি পাশ করার পরও সাাথে সাথে চাকুরি পাইনি। ফের ফিরে গেলাম অড জবে, জীবন চালিয়ে নেবার সংগ্রামে। কিন্তু আমি থেমে যাইনি, হতাশও হইনি। বেশ কিছুদিন পরে আমি ঠিকই আইটি জবে ঢুকতে পেরেছি স্কীল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং সম্পন্ন করে। তখন আমি বুঝলাম, ডিগ্রি দরকার, কিন্তু শুধু ডিগ্রি দিয়েও একজন তার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না এই দেশে, যতক্ষণ না তার স্কীল ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে। সেই মানসেই আমি ১৫ বছর আগে ‘পিপল এন টেক’ নামক প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করি, যার মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার অভিবাসী এখন উচ্চ বেতনে চাকুরি করছেন। সেই ‘পিপল এন টেক’র অভিজ্ঞতাই আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য এতদিন স্বপ্ন দেখিয়েছিল। আজ সে স্বপ্ন পূরণ হলো।” তিনি বলেন, ‘এখন আমি এবং ভার্সিটি-টিম বেশ গর্ব করেই বলতে পারছি যে, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চাকুরিতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত আমরা ক্যারিয়ার সহায়তা দেব। কেননা সেই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা সুবিধাদি আমরা এরই মধ্যে অর্জন করেছি পিপল এন টেকের মাধ্যমে। আর এজন্যেই আমাদের শিক্ষকরা শুধু স্কলার নন, তারা ইন্ডাস্ট্রি প্র্যাকটিশনারও, যাদের রয়েছে চার থেকে ৩০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা।’ এই ভার্সিটিতে মাস্টার অব সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি (এমএসআইটি), মাস্টার অব সায়েন্স ইন সাইবার সিকিউরিটি ও মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) এ উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া যায়।আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিগুলোর মধ্যে অন্যতম ব্যাচেলর অব সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি (বিএসআইটি) ও ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ)। এছাড়া কম্পিউটার ও আইটি বিষয়ে বেশ কিছু সার্টিফিকেট কোর্সও রয়েছে। ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, শিগগিরই হেলথ কেয়ার, নার্সিং, ড্যাটা সায়েন্স ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিষয়েও বেশ কয়েকটি কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।আরও জানা গেছে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যে রয়েছে বার্ষিক দু’লাখ ডলারের স্কলারশিপ। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছে ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। এই স্কলারশিপের জন্যে আবেদন করা যাবে www.igu.edu ওয়েবসাইটে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পিপল এন টেক যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি মালিকানাধীন আইটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। এই প্রতিষ্ঠান থেকে দীর্ঘ এ সময়ে যারা চাকরি পেয়েছেন তারা বছরে ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ ডলার বেতন পাচ্ছেন। এদের অধিকাংশই বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী হলেও পথ-নির্দেশনার অভাবে অড জব (ট্যাক্সি ড্রাইভিং, রেস্টুরেন্ট-কর্মী, সুপার মার্কেট কর্মী, সেলসম্যান, রিসিপশনিস্ট ইত্যাদি) করে দিনাতিপাতে বাধ্য ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার হানিপ জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটিগুলো থেকে গ্র্যাজুয়েশন করার পরও একজন এন্ট্রি লেবেলে (শুরুর দিকে) ৪০/৫০ হাজার ডলারের বেশি বেতনে চাকরি পায় না। অনেকেই ঋণ (স্টুডেন্ট লোন) নিয়ে পড়াশোনা করে ভাল চাকরি না পাওয়ার কারণে তা দ্রুত পরিশোধ করতে পারেন না। এজন্য হতাশ হয়ে পড়েন। ফলে ঋণ নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের চেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার চিন্তায় অনেকে উবার-লিফট, ট্যাক্সি ড্রাইভিংসহ অন্য অড জবকে পেশা হিসেবে নিচ্ছেন। পিপল এন টেকের প্রতিষ্ঠাতা সিইও এবং আইজিইউ’র চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ আরো বলেন, আই গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষাদান ও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য ক্যারিয়ার সহায়তার যে মডেল তৈরি করেছে, সেটি বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। এজন্য দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে তিনি যৌথভাবে পাঠদানে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের সরকারের সাথেও তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান।আবুবকর হানিপ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের তিনটি প্রধান ক্ষেত্র হচ্ছে রেমিটেন্স, গার্মেন্টস ও এগ্রিকালচার। কিন্তু ইনফরমেশন টেকনোলজিও (আইটি) দেশের অর্থনৈতিক চেহারা আরও দ্রুত পাল্টে দিতে সক্ষম। এজন্য বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে সঠিক আইটি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিদেশে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে যেখানে বাংলাদেশিরা এসে চাকরি করতে পারেন। এমনকি বাংলাদেশে থেকেও একজন ব্যক্তির প্রতি মাসে ২/৩ লাখ টাকা উপার্জন করা সম্ভব। কঠোর অধ্যাবসায় আর উদ্ভাবনী-মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে প্রবাসে উদ্যমী বাংলাদেশিদের আমেরিকার স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রে অন্যতম অবলম্বনে পরিণত হওয়া আবু হানিপ বলেন, আইটি ক্ষেত্রে ভারত যে জায়গাটি দখল করেছে, বাংলাদেশও তা করতে পারে। এজন্য গ্র্যাজুয়েশনের আগেই দরকার হাতে-কলমে শিক্ষাদান। এতে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্পও আরও বেগবান করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।প্রসঙ্গত, আই গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি (আইজিইউ) যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, স্টেট কাউন্সিল অব হায়ার এডুকেশন ফর ভার্জিনিয়া, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর স্টেট অথরাইজেশন রিসিপ্রোসিটি এগ্রিমেন্টস, অ্যাক্রিডেটিং কমিশন অব ক্যারিয়ার স্কুলস অ্যান্ড কলেজ-এসিসিএসসি সার্টিফিকেট প্রাপ্ত। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) এর আলোকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আই-২০’ ইস্যুর জন্য ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস), মার্কিন সরকারের জে-১ প্রোগ্রাম পরিচালনার জন্য ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড এর জন্য এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের অনুমোদন রয়েছে আইজিইউ’র।

post
এনআরবি সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক হলেন আবুবকর হানিপ

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক হলেন বাংলাদেশি আবুবকর  হানিপপিপলএনটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারহানা হানিপ ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবকর হানিপ তাদের বক্তব্যে পিপলএনটেকের নানা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। পিপলএনটেক এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে, যাদের বেশির ভাগই মেয়ে। এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম একটি লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা সিঙ্গেল কিংবা বেকার মাদের প্রযুক্তিভিত্তিক কাজ শিখিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের পাশে দাঁড়ানো।আবুবকর হানিপ তার বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কেউ যখন ব্যাচেলর কিংবা মাস্টার্স ডিগ্রী শেষ করে এন্ট্রি লেভেলের কোন চাকরি নেয়, তখন সে বছরে সর্বোচ্চ ৪৫-৫০ হাজার ডলার আয় করতে পারে। ১০০-১২০ হাজার ডলার আয় করতে হলে তাকে ৬/৭ বছর চাকরি করতে হয়। কিন্তু পিপলএনটেক সেখানে মাত্র ৪ মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের শিক্ষার্থীদের ১২০-১৪০ হাজার ডলারের চাকরি দিতে পেরেছে।শুধু ব্যাচেলর কিংবা মাস্টার্স ডিগ্রীধারী নয়, গৃহিণী, রেস্তোরা কর্মীদেরকে কম্পিউটার সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান আছে এমন শিক্ষার্থীদের পিপলএনটেক, রিয়েল লাইফ প্রজেক্ট নির্ভর এমন প্রশিক্ষণ দেয়, যেন তারা চাকরি পেয়েই সেই কাজটি দক্ষতার সাথে করতে পারে। মূলত কেউ এন্ট্রি লেভেলের চাকরি করলে অভিজ্ঞতার অভাবে তাকে তার সহকর্মীদের থেকে কাজ শিখে নিতে হয়। কিন্তু পিপলএনটেকের প্রশিক্ষণের যেই মডেল, তাতে শিক্ষার্থীরা রিয়েল লাইফ প্রজেক্টের অভিজ্ঞতা নিয়েই চাকরি শুরু করতে পারে।

post
এনআরবি সাফল্য

পিপলএনটেকে ২ হাজার শিক্ষার্থী স্কলারশিপের জন্য চূড়ান্ত

কোভিড-১৯ বিশ্ব অর্থনীতির ভীত যেমন নাড়িয়ে দিয়েছে, তেমনি অনেক মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবারকে ফেলে দিয়েছে দুঃসহ কষ্টের মধ্যে। এমন অস্থির সময়ে বাংলাদেশে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক গত ২৪ জুলাই ২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ২ কোটি টাকার “কোভিড রিকোভারি স্কলারশিপ” এর ঘোষণা দেয়।প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী এই স্কলারশিপ পেতে আবেদন করেন। তাদের মধ্য থেকে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে ২ হাজার শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপের জন্য চূড়ান্ত করা হয়।গত ১২ সেপ্টেম্বর এক ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে “কোভিড রিকোভারি স্কলারশিপ ২০২০” এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হোসেনে আরা বেগম (এনডিসি), ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।ভার্চুয়াল এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (পিপলএনটেক), ফারহানা হানিপ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (পিপলএনটেক), লিয়াকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক (আমরাই ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরাম), লায়ন মোঃ ইউসূফ খান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (পিপলএনটেক)।অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন পিপলএনটেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মোঃ ইউসূফ। শিক্ষার্থীদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এবং প্রযুক্তি বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে বাংলাদেশ।অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি লিয়াকত হোসেন তার বক্তব্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব তথা প্রযুক্তির বিপ্লবের জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে গার্মেন্টস সেক্টরের ওপর। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুললে সেটি আমাদের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।পিপলএনটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারহানা হানিপ ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবকর হানিপ তাদের বক্তব্যে পিপলএনটেকের নানা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। পিপলএনটেক এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে, যাদের বেশির ভাগই মেয়ে। এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম একটি লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা সিঙ্গেল কিংবা বেকার মাদের প্রযুক্তিভিত্তিক কাজ শিখিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের পাশে দাঁড়ানো।আবুবকর হানিপ তার বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কেউ যখন ব্যাচেলর কিংবা মাস্টার্স ডিগ্রী শেষ করে এন্ট্রি লেভেলের কোন চাকরি নেয়, তখন সে বছরে সর্বোচ্চ ৪৫-৫০ হাজার ডলার আয় করতে পারে। ১০০-১২০ হাজার ডলার আয় করতে হলে তাকে ৬/৭ বছর চাকরি করতে হয়। কিন্তু পিপলএনটেক সেখানে মাত্র ৪ মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের শিক্ষার্থীদের ১২০-১৪০ হাজার ডলারের চাকরি দিতে পেরেছে।শুধু ব্যাচেলর কিংবা মাস্টার্স ডিগ্রীধারী নয়, গৃহিণী, রেস্তোরা কর্মীদেরকে কম্পিউটার সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান আছে এমন শিক্ষার্থীদের পিপলএনটেক, রিয়েল লাইফ প্রজেক্ট নির্ভর এমন প্রশিক্ষণ দেয়, যেন তারা চাকরি পেয়েই সেই কাজটি দক্ষতার সাথে করতে পারে। মূলত কেউ এন্ট্রি লেভেলের চাকরি করলে অভিজ্ঞতার অভাবে তাকে তার সহকর্মীদের থেকে কাজ শিখে নিতে হয়। কিন্তু পিপলএনটেকের প্রশিক্ষণের যেই মডেল, তাতে শিক্ষার্থীরা রিয়েল লাইফ প্রজেক্টের অভিজ্ঞতা নিয়েই চাকরি শুরু করতে পারে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.