post
এনআরবি বিশ্ব

কুয়েতে হুন্ডি ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রাষ্ট্রদূত

বিদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোয় বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সে কারণে হুন্ডি ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) কুয়েতে বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত এ হুঁশিয়ারি দেন।তিনি বলেন, হুন্ডি প্রতিরোধে আমাদের অবস্থান কঠোর। এ ব্যবসায় জড়িতদের অনেকের তথ্য আমাদের কাছে আছে। হুন্ডি ব্যবসায় জড়িতদের তথ্য সংগ্রহ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে দেশ ও প্রবাসীদের কারোরই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। করোনা মহামারি পরবর্তীতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বে। দেশের ব্যাংকগুলোর অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজবে প্রভাবিত না হতে অনুরোধ জানান তিনি। সেইসঙ্গে দেশের উন্নয়নে ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় কুয়েতে থাকা আড়াই লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির বিভিন্ন সমস্যা ও সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান।

post
এনআরবি বিশ্ব

মালয়েশিয়ায় দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসী মাহবুব দেশে ফিরেছেন

অবশেষে দেশে ফিরছেন মালয়েশিয়ায় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত প্রবাসী মাহবুব আলম (৪৮)। পাঁচমাস ধরে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা মাহবুব সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন। তার সঙ্গে রয়েছেন মালয়েশিয়ার চিকিৎসক ও নার্স।গত ২২ জুন মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলম শহরের পানির পাইপ ঠিক করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন প্রবাসী মাহবুব। সেই থেকে স্থানীয় শাহ আলম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনায় প্রচণ্ড আঘাতে তার মুখের হাড় ভেঙে গেছে, ডান চোখ নষ্ট হয়ে গেছে ও শিরা ছিঁড়ে মাথার ব্রেইনের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।চিকিৎসকদের মতে— মাহবুবের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু, বিদেশে ব্যয়বহুল চিকিৎসা এগিয়ে নেওয়া তার পরিবারের সাধ্যের বাইরে। তাই সব মিলিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই ছিল বেশি প্রয়োজন।শুরুতেই ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়। চিকিৎসা অব্যাহত না রাখলে তাকে বাঁচানো সম্ভব নাও হতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু, মালয়েশিয়ার হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার সামর্থ্য তার পরিবারের ছিল না।১৮ নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে মাহবুবের বিল হয়েছে ৭৭ হাজার রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকা। এ টাকা পরিশোধ করতে পরিবারের পক্ষে মুশকিল হয়ে পড়েছিল। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে বাঁচাতে, দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার-বিত্তবানদের কাছে আকুতি জানান মাহবুবের পরিবার।মাহবুবের স্ত্রী সিমা আক্তারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ৯ হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশি ২ লাখ টাকা) সহায়তা করেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় ছিল খুবই অপ্রতুল।অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহায়তা দিলেও হাসপাতালের বিপুল পরিমাণ বিল মেটাতে এগিয়ে আসেন মালয়েশিয়া বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশন, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া, প্রবাসী ব্যবসায়ী মোস্তাফা হুসেইনসহ অনেকে। হাসপাতালের ৭৭ হাজার রিঙ্গিতের মধ্যে সবার সহযোগিতায় ৪৭ হাজার রিঙ্গিত বিল পরিশোধ করা হয়।এ ছাড়া আহত মাহবুবকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিমান ভাড়া চিকিৎসক ও নার্সসহ আরও ২৭ হাজার রিঙ্গিত খরচ হয়েছে। যা হাইকমিশন ও প্রবাসীদের সহযোগিতায় সম্ভব হয়েছে।ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়— ২০১৬ সালে ওয়ার্ক পারমিটে পাম অয়েল বাগানে কাজ নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসেন মাহবুব। পাম অয়েল বাগানের ভিসা শেষ হলে অবৈধ হন তিনি। তবে সরকারের রিক্যালিব্রেশন প্রক্রিয়ায় বৈধ হয়েছেন। মাহবুবের তিন মেয়ে ও স্ত্রী থাকেন গাজীপুর বোর্ডবাজারে একটি ভাড়া বাসায়। পুরো সংসার নির্ভরশীল মাহবুবের ওপর।অসহায় এ রেমিট্যান্সযোদ্ধার স্বপ্ন ছিল ভালো কিছু করবেন। তিন মেয়েকে ভালো কলেজে পড়ালেখা করাবেন। কিন্তু তার সব স্বপ্ন নিমিষেই উবে গেলো। অবশেষে স্ট্রেচারে করে দেশে ফিরছেন মাহবুব।মালয়েশিয়ায় থাকা মাহবুবের ভাতিজা আনোয়ার বলেন, মাহবুব সাব এজেন্ট নেওয়া এক ইন্দোনেশিয়ানের অধীনে কাজ করতেন।রাওয়াংয়ে থাকা ভাতিজা আনোয়ার নিজেও একজন শ্রমিক। কাজের ফাঁকে চাচাকে দেখতে যান। নিজের সামান্য আয় থেকে এরই মধ্যে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন

post
এনআরবি বিশ্ব

গ্রিসে পাসপোর্ট ভোগান্তিতে ২ হাজার বাংলাদেশি

গ্রিস প্রবাসী আব্দুল কালাম চলতি বছরের মার্চ মাসের ২ তারিখ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)-এর জন্য আবেদন করেছিলেন। গ্রিসের এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস আব্দুল কালামের নতুন পাসপোর্টের আবেদনটি গ্রহণ করে পরের মাস অর্থাৎ এপ্রিলের ২৫ তারিখ পাসপোর্টটি সংগ্রহ করার জন্য একটি রসিদ দিয়েছিল। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনও হয় তার। কিন্তু ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখনোও পাসপোর্টটি ছাপা হয়নি তার। দূতাবাসে গেলে কর্মকর্তারা বলেন, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সার্ভারে দেখাচ্ছে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট আসেনি। তাদের সার্ভারে পুলিশ ভেরিফিকেশন পেন্ডিং দেখাচ্ছে। অথচ আবেদনকারী হিসেবে আবেদনের অবস্থা সার্ভারে যাচাই করতে গেলে সেখানে লেখা দেখাচ্ছে- পুলিশ ভেরিফিকেশন অ্যাপ্রুভড। অপরদিকে, পুলিশও বলছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদনটি তাৎক্ষনিক পাঠিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। ১২ বছর পূর্বে হাতের লেখা পাসপোর্ট নিয়ে গ্রিসে পাড়ি দেওয়া প্রবাসী আব্দুল কালাম বলেন, এক যুগ ধরে অবৈধভাবে থাকায় দেশেও যেতে পারছি না। এবার গ্রিসে বৈধ হওয়ার সুযোগ এসেছে। কিন্তু পাসপোর্ট না পেলে আমরা এ সুযোগটি হারাবো। দূতাবাসে গেলে কর্মকর্তারা বলেন পাসপোর্ট ঢাকা অফিসে আটকে আছে। জেলা পুলিশের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন গত এপ্রিলেই তদন্ত করে পক্ষে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন, আমাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা মোকদ্দমা নেই, এমনকি পাঠানোর প্রমাণও দেখিয়েছেন। কিন্তু দূতাবাসের কমকর্তারা অনলাইনে দেখে বলছেন পুলিশ রিপোর্টের জন্য আটক আছে। তারা কিছু জানেন না। ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা আছেন এই প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। শুধু আব্দুল কালামই নয়, গ্রিসে পাসপোর্ট জটিলতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশির ভবিষ্যৎ। রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ইউরোপে বৈধ হতে পাসপোর্টের ভুল তথ্যের কারণে পড়ছেন নানা বিড়াম্বনায়। এমনকি অনেকেই অবৈধ পথে এনালগ পাসপোর্ট নিয়ে গ্রিসে প্রবেশ করেছেন কিন্তু তাদের কাছে বর্তমানে নেই কোন পাসপোর্ট। নতুন করে পাসপোর্ট করার সুযোগও পাচ্ছে না তারা। এমন সমস্যা প্রতিকারের আশায় দৌড়ঝাঁপ করে সদুত্তর না পেয়ে অনেকটা হতাশায় ভুগছেন। গ্রিসে বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন। কিন্তু এদের মধ্যে সিংহভাগই অনিয়মিত। নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। দূতাবাসের তথ্য মতে- গ্রিসে পাসপোর্ট নেই এমন পরের শত থেকে দুই হাজার বাংলাদেশি আছেন। যাদের অনেকেই এমআরপির জন্য আবেদন করেছেন। প্রায় ৫০০ আবেদন আছে যারা বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু এসব সকল আবেদনই আটকে আছে ঢাকায়। পাসপোর্টের জন্য গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদপ্তরে বারবার তাগিদ দেয়া হলেও আটকে থাকা পাসপোর্টগুলো ছাপা হচ্ছে না। এদিকে নানা জল্পনা কল্পনার পর বাংলাদেশ ও প্রাচীণ সভ্যতার দেশ গ্রিসের সমঝোতা চুক্তিটি গ্রিক সংসদে অনুমোদন হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছরে ৪ হাজার করে কর্মী মৌসুমি কর্মভিসায় নেওয়ার পাশাপাশি গ্রিসে থাকা অবৈধ ১৫ হাজার অভিবাসীদেরকেও বৈধতা দেয়া হবে। অনিয়মিত বাংলাদেশীদের নিয়মিতকরন বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্স কর্তৃক আরেকটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে- নিয়মিত হওয়ার জন্য ২ বছরের বেশি মেয়াদ সম্পন্ন পাসপোর্ট, দূতাবাস হতে পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি লাগবে। কিন্তু যাদের পাসপোর্ট নেই তারা এখন মহা বিপদে পড়েছেন। এ নিয়ে অনেকেই হতশায় ভুগছেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির ফলে অনিয়মিতদের বৈধ করণের সুযোগ আসছে। এ বছরই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈধতা পেলে অনেকেই উপকৃত হবেন। তবে বাংলাদেশিদের বৈধ হতে প্রথম শর্ত হচ্ছে মূল পাসপোর্ট লাগবে। বর্তমানে অনেকের কাছেই পাসপোর্ট নেই। এক্ষেত্রে অনিয়মিত প্রবাসীদের পাসর্পোটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সমস্যা নিরসনের দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা ও প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ইউরোপের প্রথম মিশন হিসাবে বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্সে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট সেবা চালু হওয়ার কিছুদিন পর পাসপোর্ট অধিদপ্তর অত্র দূতাবাস থেকে এমআরপি পাসপোর্ট কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রিস-বাংলাদেশ দ্বীপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে গ্রিসে অনিয়মিতভাবে বসবাসরত আনুমানিক ১৫ হাজার বাংলাদেশীর বৈধ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় প্রেক্ষিতে অনিয়মিতদের দ্রুত পাসপোর্ট প্রদানের জন্য দূতাবাসের অনুরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬ মাসের জন্য এমআরপি পাসপোর্ট কার্যক্রম পুনরায় চালু করে যা আগামী জানুয়ারি ২০২৩ সাল পর্যন্ত চলমান থাকবে। যদি এই অনুমোদনের সময়সীমা বৃদ্ধি করা না হয়, তবে জানুয়ারি ২০২৩ সালের পর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারবেন। এই সময়সীমার মধ্যে যারা এমআরপি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করেছেন বা করবেন তারা তাদের পাসপোর্ট যথা নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। এ ব্যাপারে এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিষ্টার মোহাম্মদ খালেদ বলেন, ২০২১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অনুমোদন এবং নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি তাদের পাসপোর্টে নাম, ঠিকানা ও জন্ম সালসহ বিভিন্ন ধরনের এক বা একাধিক তথ্য সংশোধনের আবেদন করেন এবং এসময় তারা তাদের আবেদনের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র পেশ করেন। এই সকল পাসপোর্ট আবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। প্রবাসীদের অবস্থা বিবেচনা করে এবং তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই অনিষ্পন্ন পাসপোর্ট এর আবেদনসমূহ দ্রুত নিষ্পন্ন করে প্রবাসীদের নিয়মিত হওয়ার সুযোগ দানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। আশা করা যাচ্ছে এই সকল অনিষ্পন্ন পাসপোর্ট এর আবেদন সমূহ ভবিষ্যতে নিষ্পন্ন হবে। এদিকে বর্তমানে গ্রিসে অনেক বাংলাদেশি আছেন যাদের কাছে কোন পাসপোর্ট নেই। ১০-১৫ বছর পূর্বে অনেকেই হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়ে ইরান-তুরস্ক হয়ে গ্রিসে প্রবেশ করেছেন। দালালের কথায় সেই পাসপোর্টও সীমান্তে ফেলে দিয়েছিলেন। শূন্য হাতে প্রবেশ করেছিলেন গ্রিসে। এসব এনালগ পাসপোর্টধারীদের কোনও তথ্য নেই পাসপোর্ট অধিদফতরের সার্ভারে। এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় দেড় সহস্রাধিক লোক আছে যাদের কাছে পাসপোর্ট নেই। এদের অনেকেই এক থেকে দেড় বছর আগে আবেদনের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু পাসপোর্ট পাননি। বর্তমানে আবেদন গ্রহণ কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। তাদের উপায় কি হবে? এ প্রসঙ্গে দূতাবাসের মিনিষ্টার মোহাম্মদ খালেদ বলেন, গ্রিসে বিদ্যমান প্রায় সহস্রাধিক বাংলাদেশীদের যাদের পাসপোর্ট নেই বা পূর্বে হাতে লেখা পাসপোর্ট থাকলেও তার কোনও রেকর্ড নেই। এমন আবেদনকারীদের পাসপোর্ট প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা এখনো পাসপোর্ট অধিদপ্তরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় আছে। সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনগুলো যথাশীঘ্র নিষ্পন্ন করা না গেলে এই সমস্ত প্রবাসীরা গ্রিস ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় বৈধ হওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে।সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

post
এনআরবি বিশ্ব

ডলার–সংকটে আতঙ্কিত কানাডায় পড়তে আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশে ডলার–সংকটে আতঙ্কিত কানাডায় পড়তে আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। অধীকাংশ শিক্ষার্থীকে নিজ দেশ থেকে ডলার এনে পড়তে হয়। এখানকার টিউশন ফি অনেক বেশি এবং থাকা-খাওয়ার খরচ বেশি হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা এখন হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে কানাডার ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি তাঁদের জীবনকে আরও কঠিন করে দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা বিপাকে। কানাডায় পড়তে এসে পড়াশোনা না করলে ভিসা বাতিল হয়ে যায় আর কানাডায় অবৈধ হয়ে থাকা বেশ কঠিন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রী জানিয়েছেন, ‘কয়েক মাস আগেও আমার বাবা বাংলাদেশি ৮৬ টাকার বিনিময়ে ১ আমেরিকান ডলার পাঠাতে পারতেন।কানাডায় বিদেশি শিক্ষার্থী এখন ১ আমেরিকান ডলার পাঠাতে ১১০ বাংলাদেশি টাকা খরচ হয়। কয়েক দিন পর আমার ছয় হাজার আমেরিকান ডলার টিউশন ফি দিতে হবে। যার ফলে আমার বাবার অতিরিক্ত বাংলাদেশি টাকা খরচ করতে হবে। তারপর থাকা–খাওয়ার খরচ তো রয়েছেই।’ অন্য দিকে ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাঠানোর সমস্যার কারণে হুন্ডির প্রবণতা বেড়ে যাবে। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের আরও বেশি টাকা জোগাড় করতে হবে যা অনেক অভিভাবকেই পারবে না। উল্লেখ্য, কানাডার প্রায় সব ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি সেমিস্টার শুরু হওয়ার আগে দিতে হয় আর না দিতে পারলে সে ক্লাস করতে পারে না। আর সেমিস্টার ড্রপ করলে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বেশ কঠিন। অন্য দিকে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন কানাডায় পড়তে আসা গ্রাজুয়েশন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা আগে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারতেন। আজ ১৫ নভেম্বর থেকে তাঁরা তাঁদের ইচ্ছে মতো কাজ করতে পারবেন। তবে পড়াশোনার চাপ বেশি থাকার কারণে কাজ বেশি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে এখনো কানাডার আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী কাজ করার অনুমতি পান না। তাদের সম্পূর্ণ খরচ নিজ দেশ থেকে আনতে হয়।

post
এনআরবি বিশ্ব

আরব আমিরাতে ভবন থেকে পড়ে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি অভিযান চলার সময় একটি ভবনের তিনতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে মুহাম্মাদ আনোয়ার হোসেন (৩৪) নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন সজিব নামে আরও এক বাংলাদেশি। নিহত আনোয়ারের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যায়। তার বাবার নাম আব্দুল হাই জমাদ্দার। দুর্ঘটনায় আহত একই জেলার অপর বাংলাদেশি মুহাম্মদ সজিব (২৮) স্থানীয় শেখাবুত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বাবার নাম সিকান্দর মাতবর।আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মুহাম্মদ আব্দুল আলীম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত আনোয়ার আট বছর ধরে আবুধাবিতে বসবাস করছিলেন এবং ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হিসেবে একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। ‘নিয়মিত বেতন না পাওয়ায়’ তিনি কোম্পানি থেকে পালিয়ে আসেন এবং অবৈধ হয়ে পড়েন। অন্যদিকে সজীব ভিজিট ভিসায় আবুধাবি এসে অবৈধ হয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মুহাম্মদ আব্দুল আলীম মিয়া জানান, নিহতের মরদেহ সোমবার স্থানীয় সময় রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হবে। 

post
এনআরবি বিশ্ব

সৌদিতে তৈরি পোশাক খাতে প্রভাব বাড়ছে বাংলাদেশিদের

প্রবাসীরা বলছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপনির্ভর হলেও, এই অঞ্চলেও রয়েছে নতুন সম্ভাবনা। বাংলাদেশি তৈরি পোশাক শিল্পের কদর রয়েছে বিশ্বজুড়ে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রভাব রয়েছে মেড ইন বাংলাদেশের। এবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক। রাজধানী রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের শপিংমলে শোভা পায় বাংলাদেশি পোশাক। সৌদি আরবের পোশাক খাতে ভারত, চীন ও পাকিস্তানিদের প্রভাব থাকলেও, এই খাতে এখন বিনিয়োগ বাড়ছে বাংলাদেশিদেরও। বর্তমানে কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি করছেন এই ব্যবসা।বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের অন্যতম খাত তৈরি পোশাক। মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮২ ভাগ আসে এই খাত থেকে। প্রবাসী ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশের পোশাক রফতানির নতুন বাজার হতে পারে সৌদি আরব। আগামী অর্থবছরে কেবল সৌদি আরব থেকেই রফতানি আয় হতে পারে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার

post
এনআরবি বিশ্ব

বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজার

তৌসিফ শাহারিয়ার দ্বীন ইসলামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ। গত চার বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় একজন অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে নিজের জীবন এবং আয়-উপার্জনে বেশ খুশি তিনি। তিনি বলেন, বেতনের দিক থেকে এই দেশ এগিয়ে। জীবনমান এখানে অনেক উন্নত। আমার প্রতি মাসের বেতন এক লাখ ২০ হাজার টাকা। আর ওভারটাইম করলে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয় মাসে। এই দেশে কাজ করলে অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক ভালো পরিস্থিতিতে থাকা যায়। দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো যায়। তৌসিফ শাহারিয়ার দ্বীন ইসলামের মতো আরও শত শত বাংলাদেশি এখন অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া যেতে উন্মুখ। মধ্যপ্রাচ্য বা মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারে যখন বাংলাদেশিরা নানা ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে, তখন সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া এক আদর্শ শ্রমবাজার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়া এখন অনেকের পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠছে। সরকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের কর্মীরা যেসব দেশে কাজ করছেন তার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া সেরা। আদর্শ গন্তব্য নুরুল ইসলাম বলেন, অভিবাসী কর্মীর সংখ্যার দিকটা বিবেচনা না করে যদি আপনি জীবনমান, বেতন এসবের কথা চিন্তা করেন, তাহলে দক্ষিণ কোরিয়া এখন এক নম্বরে আছে। কারণ যারা যাচ্ছে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কোম্পানি সিলেক্ট করে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রত্যেকের বেতন এক লাখের ওপরে। ওভার টাইমে যে টাকা পান সেটা দিয়ে বেতন আরো বেশি হয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় দক্ষ কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যেমন সাফল্য পেয়েছে এবং সেখানে যাওয়া কর্মীরাও যে রকম খুশি- সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা এখন এই বাজারের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার আরও আড়াইশো বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী হিসেব কাজ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। আর এরা সবাই সেখানে গেছেন দুই দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তির অধীনে বোয়েসেলের তত্ত্বাবধানে। বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানো হয় দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা-চুক্তি অনুযায়ী। যে কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেখানে কর্মী পাঠায় তার নাম এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম বা ইপিএস। বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি জনশক্তি রফতানি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল ২০০৮ সাল থেকে ইপিএস কর্মসূচির আওতায় স্বল্প ব্যয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ইপিএস-এর আওতায় নির্ধারিত ১৬টি দেশ থেকে কোরীয় ভাষা দক্ষতা ও স্কিল টেস্টের মাধ্যমে অদক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকে। তবে কোভিড মহামারির কারণে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সব কটি দেশ থেকে কর্মীদের কোরিয়ায় যাওয়া বন্ধ রেখেছিল। বাংলাদেশে সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন কোভিড পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির পর নির্ধারিত কোভিড বিধি অনুসরণ করে গত বছরের ডিসেম্বর হতে আবার কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। গত ডিসেম্বরে প্রথম যে দলটি দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হয় সেখানে ছিল ১১১ জন কর্মী। আর এ বছরের প্রথম ধাপের জন্য বাংলাদেশকে ১৯৪১ জন কর্মী পাঠানোর কোটা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই কোটা পূরণের পর আরও অতিরিক্ত তিন হাজার কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে ইপিএস কর্মসূচির আওতায় এ বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে একটা রেকর্ড করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে যা করতে হবে কেউ যদি দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজের উদ্দেশ্যে যেতে চান তাহলে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড বা বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে নাম নিবন্ধন করতে হয়। এরপর লটারির মাধ্যমে আগ্রহীদের মধ্য থেকে কর্মী বাছাই করা হয়। যারা লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হন, তাদের কোরিয়ান ভাষা শিখতে হয়। সাধারণত প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে নিবন্ধন শুরু হয়। লটারিতে নাম উঠলে ভাষা শেখার জন্য গড়ে প্রায় দুই মাস সময় পান প্রার্থীরা। এরপর ভাষা পরীক্ষায় বসতে হয়। দুশো নম্বরের এই পরীক্ষার মধ্যে রিডিং টেস্টের জন্য থাকে একশো নম্বর, আর লিসেনিং টেস্টের জন্য একশো নম্বর। ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে কাজের দক্ষতার পরীক্ষা বা স্কিল টেস্ট নেওয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরাই প্রার্থীদের কাজ করার দক্ষতা যাচাই করেন। এরপর প্রার্থীর নিজ জেলায় সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিতে হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নিজ থানা থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। কোন খাতে কর্মী নেওয়া হয় কর্মকর্তারা বলছেন, কেউ দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী হিসেবে যাওয়ার জন্য সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তাদের চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা বোয়েসেলের নেই। দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো ক্ষুদ্র বা মাঝারি প্রতিষ্ঠান যখন তাদের প্রতিষ্ঠানে বাইরে থেকে কর্মী এনে নিয়োগ দিতে চান, তখন তাদের সে দেশের শ্রম এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। মন্ত্রণালয় তখন চাহিদা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেয়। বাৎসরিক কোটা অনুযায়ী চাহিদার ভিত্তিতে তখন দৈবচয়ন পদ্ধতিতে জব রোস্টার থেকে লেবার কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার চাকরিদাতা হলো সেখানকার ছোট ছোট বেসরকারি কোম্পানি। কোন কোম্পানি কোন কর্মীকে জব অফার প্রদান করলেই কেবল তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় চাকরি পান। ভাষা খুব গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ কোরিয়ার ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে আছেন ম্যাক্সিম চৌধুরি। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অবশ্যই ভালো দেশ। তবে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এখানে ভাষার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আগের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজের পরিবেশ ভালো। একজন বেতন-ওভারটাইম মিলিয়ে দুই লাখের মদো আয় করতে পারেন। তবে যারা এখানে আসেন তারা বইয়ের ভাষা শিখে আসেন। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে দেখা যায় এখানকার প্রচলিত ভাষায় তারা সেভাবে কথা বলতে পারেন না। তাই ভাষাটা আরো ভালো করে রপ্ত করে আসলে সমস্যা কম হয়। কত মানুষ কোরিয়াতে গেছেন বোয়েসেলের ২০১৯ সালের সর্বশেষ তথ্যে বলা হচ্ছে, ২০০৮ সাল থেকে কোরিয়ার ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মোট ২৭ হাজার ৩৬৩ জন যোগ্য কর্মীর তথ্য জব রোস্টারের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে থেকে ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১ হাজার ৬৬৯ জন কোরিয়াতে গেছেন। বাকিরা যাওয়ার প্রক্রিয়াতে আছেন।বোয়েসেল বলছে চলতি বছরের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪ হাজার ৯৪১ জন কর্মী পাঠিয়ে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন তারা। কত খরচ হয় তৌসিফ শাহারিয়ার দ্বীন ইসলাম চার বছর আগে যখন দক্ষিণ কোরিয়াতে যান তখন তার খরচ হয়েছিল দুই লাখ টাকা। এর মধ্যে এক লাখ জামানত রাখতে হয়েছিল বোয়েসেলের কাছে। এই এক লাখ টাকা ফেরত যোগ্য। কন্ট্রাক্ট শেষে বাংলাদেশে গিয়ে বোয়েসেলের কাছে আবেদন করলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়। বাকি এক লাখ টাকা বিমান ভাড়া এবং অন্যান্য বিষয়ে খরচ হয়েছিল। বোয়েসেলের কাছে জমা রাখা জামানতের পরিমাণ অবশ্য এখন বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। কেউ যদি দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে কন্ট্রাক্ট শেষ হওয়ার আগেই কোম্পানি পরিবর্তন করেন, তাহলে আবার এই জামানতের অর্থ ফেরত পাবেন না। দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীরা এই নিয়মের পরিবর্তন চাচ্ছেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা

post
এনআরবি বিশ্ব

বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ কর্মী নিবে সৌদি আরব

বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ কর্মী নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি সরকার। শনিবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সৌদি আরবের ডেপুটি ইন্টেরিয়র মিনিস্টার ড. নাসের বিন আব্দুল আজিজ আল দাউদ।সাক্ষাৎ শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দুটি চুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ কর্মী নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি সরকার। রোড টু মক্কা চুক্তি অনুসারে এখন দীর্ঘ সময় ধরে ইমিগ্রেশনের কোনও হয়রানি ছাড়াই প্লেন থেকে নেমেই হাজিরা মক্কা শরীফে চলে যেতে পারবেন।মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সাথে রুট টু মক্কা সার্ভিস চুক্তি করতে যাচ্ছে।তিনি আরও জানান, আরেকটি নিরাপত্তা বিষয়ে কথা হয়েছে। দুই দেশের পুলিশের মধ্যে ট্রেনিং বিনিময় হবে। তাদের নারী পুলিশ সদস্যরা বাংলাদেশ থেকে ট্রেনিং নেবেন। এ দেশের নারী পুলিশ সদস্যরা তাদের দেশ থেকে ট্রেনিং নেবেন।এর আগে, শনিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে সৌদি আরবের উপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নাসের বিন আব্দুল আজিজ আল-দাউদ দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সৌদি উপমন্ত্রী রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় তার সৌদি আরব ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

দেশে ফেরার ১০ দিনের মাথায় রেমিট্যান্স যোদ্ধা খুন গাজীপুরে

জমির সীমানা প্রাচীর নিয়ে বাকবিতণ্ডায় ছুরিকাঘাতে মো. মোবারক হোসেন (৪০) নামের এক বিদেশ ফেরত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।শনিবার সকাল ৯টার দিকে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বড়বাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মো. মোবারক হোসেন ওই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি দশ দিন আগে সৌদি আরব থেকে থেকে বাড়ি ফিরেছেন। প্রতিবেশী আব্দুল লতিফের ছেলে মো. হাদিউল নামের একজন তাকে ছুরিকাঘাত করেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। নিহত মোবারক হোসেনের প্রতিবেশী ও সিংহ শ্রী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য হাদিউল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, কয়েকদিন আগেই মোবারক হোসেন বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরেন। বাড়ির পাশের জমির আইলে গাছ লাগানো নিয়ে প্রতিবেশী আব্দুল লতিফের ছেলে মো. হাদিউল ও রফিকুলের সঙ্গে শনিবার সকালে মোবারক হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে হাদিউল মোবারককে ছুরি দিয়ে আঘাত করে বলে জানিয়েছেন। ইউপি সদস্য হাজিউল আরও বলেন, কিশোরদের কাছে খবর পেয়ে তিনি ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মোবারক হোসেনকে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি পিকআপ ভ্যানে করে পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুল হোসেন জানান, মৃত অবস্থায় মোবারক হোসেনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। কাপাসিয়া মডেল থানার ওসি এ এফ এম নাসিম বলেন, আমরা খবর পেয়েছি। অভিযোগ পেলে এই ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

post
এনআরবি বিশ্ব

মালদ্বীপে আগুনে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে বিদেশি শ্রমিকদের একটি আবাসস্থলে আগুনে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত করেছে মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। নিহতরা হলেন— টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের জরিফ আলীর মেয়ে আসিয়া বেগম এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের গোলামের ছেলে উজ্জ্বল। মালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব সোহেল পারভেজ শুক্রবার (১১ নভেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গুরুতর আহত হয়ে মালদ্বীপের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের রোকন মোল্লা ও রহিমার ছেলে তৈয়ব। এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) ভোরে মালের মাফান্নু ও ইস্কান্দার মাগুর কাছে একটি ভবনের নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুনে দুই বাংলাদেশিসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় অনেকে দগ্ধ হয়েছেন। এ বিষয়ে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ শহিদ ফোনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনকে সমবেদনা জানিয়েছেন। মালদ্বীপ পুলিশ জানিয়েছে— অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১১ জনের মধ্যে নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চার নারী ও পাঁচ পুরুষ রয়েছেন। চার নারীর মধ্যে তিনজন ভারতীয় ও একজন বাংলাদেশি। এছাড়া পাঁচজন পুরুষের মধ্যে চারজন ভারতীয় ও একজন বাংলাদেশি। এখনো দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। দেশটির ফায়ার সার্ভিস জানায়— সেনরোজ নামের ওই ভবনের নিচে গ্যারেজে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার সময় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। ভবনটিতে বেশিরভাগ অভিবাসী নারী শ্রমিকেরা থাকতেন

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.