post
এনআরবি বিশ্ব

যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ইরানের নিষেধাজ্ঞা

ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়ায়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইরান। ইরানের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দিয়ে বলা হয়,তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে, এ পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে, সাত মার্কিনৎ নাগরিক। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল ব্রায়ান পি ফেন্টন ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সাবেক কমান্ডার, ভাইস অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্র্যান্ট শ্যাপস,ব্রিটিশ আর্মি স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডার, জেমস হকেনহালের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইরান। এর বাইরে লোহিত সাগরে যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তেহরান।

post
এনআরবি বিশ্ব

লস অ্যাঞ্জেলেসে সপ্তম আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু সম্মেলন অনুষ্ঠিত

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন প্রবাসী বাংলাদেশি ও বর্তমান প্রজন্মের মাঝে আরও বেশি করে তুলে ধরার লক্ষ্যে দিনব্যাপী সপ্তম আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু সম্মেলনের আয়োজন করেছে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ। শনিবার স্থানীয় সময় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ স ম আরেফিন সিদ্দিক।জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান। এ সময় জাতির পিতার ওপর শুরু হয় সিরিজ আলোচনা। সম্মেলনের প্রধান অতিথি আরেফিন সিদ্দিক ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন- আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ভোরের কাগজ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, লস অ্যাঞ্জেলেসস্থ বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল সামিয়া আনজুম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ড. নূরান নবী, সহসভাপতি নজরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক রানা হাসান মাহমুদ প্রমুখ। সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ওপর নির্মিত একাধিক তথ্যচিত্র প্রদর্শন, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। দুপুরে বঙ্গবন্ধু ও তার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক এক সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন শ্যামল দত্ত। এ সময় তিনি উপস্থিত দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বিকেলে শিশু-কিশোরদের জন্য বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ সময় অনেকেই কবিতা আবৃত্তি করেন। এছাড়া দিনব্যাপী নানা আয়োজনের পাশাপাশি রাতে শুরু হয় বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড সোলসের একক সংগীত পরিবেশনা। 

post
এনআরবি বিশ্ব

নিউইয়র্কে দুই বাংলাদেশিকে হত্যায় বন্দুকধারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে দুর্বৃত্তের বন্দুকের গুলিতে দুই বাংলাদেশি হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বাফেলো পুলিশ। সোমবার বিকেলে বাফেলো সিটি কোর্টে তাকে হাজির করা হয়। স্থায়ী ঠিকানাহীন ৩১ বছর বয়সী ডেল কামিংসের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত করা হয়েছে। শুনানির পর শুক্রবার পর্যন্ত জামিন ছাড়াই তাকে আটক রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাফেলোর ইস্ট ফেরি ও জেনার স্ট্রিটের ১০০ ব্লকে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবু সালেহ ইউসুফ জনি (৫৩) ও কুমিল্লার লাঙ্গলকোর্টের বাবুল মিয়া (৫০) নামের দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে ডেল কামিংস। এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে বাফেলো শহর।বাফেলো পুলিশ বিভাগ জানায়, জেনার স্ট্রিটের একটি বাড়ি পরিষ্কারের জন্য বাবুল মিয়া ও আবু ইউসুফ সেখানে গিয়েছিলেন। তারা যখন বাড়ির বারান্দায় পৌঁছেন তখন ভেতরে থাকা এক ব্যক্তি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। অপরজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরে ওই দুর্বৃত্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ওই ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে। বাফেলোর পুলিশ কমিশনার জোসেফ গ্র্যাগম্যাগলিয়া বলেন, কামিংসের কাছে একটি ৯ মিমি লম্বা রাইফেল ছিল যার অর্ধেক ভেঙে পড়ে। রাইফেলটি একটি ব্যাগে সহজেই লুকানো যায়। এরি কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নি অফিস বলেন, কামিংসকে ডেপুটি অ্যাটর্নির (ডিএ) অনুরোধের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন ডিএ বলেছেন, শুক্রবার শুনানির উদ্দেশ্য হলো- আদালতে এই প্রমাণ উপস্থাপন করা যে, কামিংস অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের অধিকারী। এটি তাকে হেফাজতে রাখার অনুমতি দেবে। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। বাফেলোর মেয়র বায়রন ব্রাউন বলেন, গুলিতে নিহতদের একজনের স্ত্রী সন্তানসম্ভাবা। তিনি শিশুসহ দুই সন্তানের পিতা। অন্যজন সাত সন্তানের বাবা।

post
এনআরবি বিশ্ব

আমিরাতে বৈশাখী উৎসব উদযাপন

আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ও বৈশাখী উৎসব-১৪৩১ উদযাপন করা হয়েছে। আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজে এ আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দূতাবাসের কাউন্সিলর লুৎফুন নাহার নাজিম। এতে বক্তব্য রাখেন মহিলা এসোসিয়েশনের সভাপতি মিসেস আবু জাফর, জায়েদ ভার্সিটির অধ্যাপক ড: হাবীবুল হক খন্দাকার, বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ আবুধাবির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইমরাদ হোসেন ইমুসহ অনেকে। দূতাবাস কাউন্সিলর লুৎফুন নাহার নাজিম, দিলীপ কুমার ও শিক্ষিকা ফালুনা হকের যৌথ সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। পরে দূতাবাস কাউন্সিলর মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়।

post
এনআরবি বিশ্ব

কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যু

কুয়েতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল আজিম নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। আব্দুল আজিম ২১ বছর ধরে কুয়েতে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আদান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তিনি ঢাকার দোহার উপজেলার শিলাকোঠা এলাকার মোহাম্মদ সাদেকের ছেলে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। জানা গেছে,যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে আনা হবে।

post
এনআরবি বিশ্ব

ইতালির মিলানে বৈশাখ উৎসব পালিত

ইতালির মিলানের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কৃষ্ণ চন্দ্র কর ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জিসা শ্যাম এর উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনে বৈশাখ উৎসব পালিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নারী পুরুষদের পাশাপাশি শিশুদের বৈশাখী পোশাক সকলের নজর কাড়ে। দুপুরে সকলকে নিয়ে রকমারি ভর্তা- ইলিশ দিয়ে পান্তা পরিবেশন করা হয়। ভিন্ন ধর্মী বৈশাখীর এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেন মিলানের কয়েকজন নারী। আয়োজনে সার্বিক পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন মিলানের কয়েকজন যুবক।

post
এনআরবি বিশ্ব

নিউইয়র্কে গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলোতে বন্দুকধারীর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বাফেলোর জেনার ও ইস্ট ফেরিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন– বাবুল ও ইউসুফ। তাদের বাড়ি কুমিল্লা ও সিলেটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ইউসুফের বাড়িতে কাজ করছিলেন বাবুল।এমন সময় একজন কৃষ্ণাঙ্গ যুবক এসে, তাদের কাছে অর্থ দাবি করেন। উভয়ের মধ্যে কথাকাটির একপর্যায়ে ওই যুবক তাদের ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের মরদেহ ইসিএমসি হাসপাতালে রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এঘটনায় রোববার বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে। বাফেলোর মেয়রের কাছে দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন কমিউনিটি। এ ঘটনায় বাফেলোর বাংলাদেশিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া।

post
এনআরবি বিশ্ব

মালয়েশিয়ায় ১৩২ বাংলাদেশি আটক

অবৈধ অভিবাসনের দায়ে মালয়েশিয়ায় ১৩২ বাংলাদেশিসহ ২০৬ জনকে আটক করা হয়েছে। পাসির গুদাংয়ের একটি নির্মাণ স্থলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার এক বিবৃতিতে জোহর ইমিগ্রেশনের পরিচালক বাহারউদ্দিন তাহির এ তথ্য জানান। তাহির জানান, মালয়েশিয়ায় প্রবেশে ভিসার অপব্যবহার করার দায়ে তাদের আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বাংলাদেশের ১৩২ জন ছাড়াও চীনের ৫১ জন, মিয়ানমারের ১০ জন, পাকিস্তানের ৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৩ জন, ভিয়েতনামের ২জন এবং চীনের ২ জন নারীও রয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ১৮ থেকে ৬১ এর মধ্যে। এছাড়াও তাদের সহায়তা করার জন্য স্থানীয় এক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

বাহরাইনে প্রবাসীদের মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প

বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার মানামায় আল ইসলাহ সোসাইটি হলে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অভিবাসন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যরাও। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। যেখানে বাহরাইনের আইনকানুন, ট্রাফিক আইন , ভিসা সংশোধনের পদ্ধতি, শ্রমিকদের অধিকার ও সাধারণ স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। সেমিনারে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়, শ্রম বাজার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, পূর্ত মন্ত্রণালয়, ট্রাফিক জেনারেল ডিরেক্টরেট, ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন-আইওএম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও’র প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

post
এনআরবি বিশ্ব

হোয়াইট হাউসে বেজে উঠলো বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত

ইউএসএ সংবাদদাতাঅবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, গত ১৯ এপ্রিল হোয়াইট হাউজের সামনে একদল প্রবাসীকে দেখতে পেয়েই বেজে উঠলো বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। মূল গেটের সামনে ক্যাসেটে গানটি শোনার সাথে সকলে থমকে দাঁড়ালেন কিছুক্ষণের জন্যে। হৃদয় উজার করে এবং প্রাণ ভরে নিজেরাও গাইলেন ৩০ লাখ বাঙালির তাজা রক্ত আর আড়াই লক্ষাধিক মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’। সেখানে লাল-সবুজের পতাকা দৃশ্যমান না হলেও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়পটে ভেসে উঠেছিল তা। গোটাবিশ্বের পরিস্থিতির আলোকে করণীয় নির্দ্ধারণকারি অর্থাৎ কখনো কোন দেশ গণতান্ত্রিক অথবা মানবাধিকার সংকটে নিপতিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ঝাপিয়ে পড়ে সে সব দেশের কর্তৃত্ববাদি শাসকের বিরুদ্ধে। আবার মিত্র দেশ আক্রান্ত হলেও সৈন্য পাঠানো হয় দেশটিকে রক্ষার্থে। এসব কারণে বিশ্বের কাছে মোড়ল হিসেবেও পরিচিত এই হোয়াইট হাউজের অধিকর্তা। তবে সব সময়েই যে প্রত্যাশিত রেজাল্ট যুক্তরাষ্ট্রের ঘরে এসেছে তা ঠিক নয়। কখনো কখনো নাজুক পরিস্থিতিতেও নিপতিত হতে হয়, লজ্জাজনক পরাজয়ের গ্লানি সইতে হয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যাবার ঘটনাবলি এখনো সচেতন আমেরিকানদের পীড়া দেয়। গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার গণহত্যা পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নগ্ন অবস্থানের রেজাল্ট আসছে নভেম্বরের নির্বাচনে কিছুটা হলেও পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন একটি ভবনের ভেতরে থেকে কীভাবে এতসব সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, কোথায় বসে সিদ্ধান্তে উপনীত হোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, মাঝেমধ্যে অতিথি আপ্যায়নের ঘটনাও কোন টেবিলে ঘটে, কোথায় ঘুমান প্রেসিডেন্ট, ফার্স্টলেডি, কীভাবে অবলোকন করা হয় গোটাবিশ্বের পরিস্থিতি ইত্যাদি নিয়ে খোদ আমেরিকানদের মধেও কৌতুহলের শেষ নেই। কারণ, ইচ্ছা করলেই এই হাউসের ভেতরে প্রবেশাধিকার মেলে না। এই ভবনের বাসিন্দা ছাড়া সকলকেই সিকিউরিটি পয়েন্ট অতিক্রম করতে হয়। ব্যাক গ্রাউন্ড চেক করা হয় পরিদর্শণ/পরিভ্রমণে আগ্রহীদের। এরপর অন্তত: তিনটি চেক পয়েন্ট পাড়ি দিয়ে ভেতরে ঢুকতে হয়। প্রতিটি চলার পথ, কক্ষ, ডাইনিং রুম, সিনেমা হল, গসিপ রুম, ব্রিফিং রুম সর্বত্র মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ কোনকিছুই লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা প্রহরিদের দৃষ্টি এড়িয়ে ভিডিও করাও সম্ভব হয় না। তবে আইফোনের সুবাদে (ফ্লাশ ঝলসে উঠবে না) সবকিছুর ছবি সংগ্রহ করার অনুমতি দেয়া হয় দর্শনার্থী অথবা ভ্রমণকারিকে। ভবনটি তন্ন তন্ন করে অবলোকনের আগ পর্যন্ত থাকা কৌতুহল একেবারেই চুপসে যায় ৩০/৪০ মিনিট পরিভ্রমণের পর। কারণ, সবকিছুই স্বাভাবিক, চিরচেনা। বিছানা, ডাইনিং টেবিল, অতিথি কক্ষ, ব্রিফিং রুম-সবকিছু একই রকমের। মিটিং রুমেও কোন বিশেষ বৈশিষ্ট নেই। গোটাবিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু এই হোয়াইট হাউজ পরিভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল ১৯ এপ্রিল শুক্রবার। ৩৮ জনের একটি টিমে সকলেই ছিলাম বাংলাদেশী আমেরিকান। নেতৃত্ব দেন ম্যারিল্যান্ড স্টেট ডেমক্র্যাটিক পার্টির নির্বাহী সদস্য এবং এএপিআই লিডারশিপ কাউন্সিলের মেম্বার আনিস আহমেদ। তিনি মাঝেমধ্যেই প্রবাসীদের জন্যে এমন আয়োজনে নেতৃত্ব দেন বিধায় চলতি পথে সকলকে নিজ ভাষায় জানিয়ে দেন কক্ষগুলোর ইতিহাস-ঐতিহ্য। অর্থাৎ গাইডেন ভ’মিকায় অবতীর্ণ হোন তিনি। কোথায় দাঁড়িয়ে ছবি উঠানো সম্ভব সেটিও তারই ইশারায় ঘটেছে। ধীওে চলার অবকাশ নেই, কিংবা কোথাও অকারণে সময়ক্ষেপণেরও সুযোগ নেই। সক্রিয় থাকতে হয় সারাক্ষণ। কারণ, সময় বেধে দেয়া হয়েছে। উচ্চস্বরে, এমনকি ফোনে কথা বলাও মানা। তবে বোবা হয়ে চলতে হয় না। হোয়াইট হাউস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক বাসভবন। ওয়াশিংটন ডি.সির ১৬০০ পেনসিলভেনিয়া এভিনিউয়ে অবস্থিত এই বাসভবনটি ১৭৯২ থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। জন অ্যাডামসের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সকল প্রেসিডেন্টই এই বাসভবনে ছিলেন। এই ভবনের স্থাপতি ছিলেন জেমস হোবান, তিনি আয়ারল্যান্ডের নাগরিক। পুরো ভবনটি মূলত তিনটি আলাদা ভাগে বিভক্ত-ওয়েস্ট উইং, ইস্ট উইং ও এক্সিকিউটিভ রেসিডেন্স। ভবনের মোট আয়তন প্রায় ৫৫ হাজার বর্গফুট। চারতলা এই ভবনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রেসিডেন্টস রুম, ওভাল অফিস ও কেবিনেট রুম। আগে প্রেসিডেন্টস রুমে সেক্রেটারি দপ্তর ও প্রেসিডেন্টের দপ্তর ছিল। বর্তমানে এই কক্ষ ডাইনিং রুম বা খাবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ওভাল অফিসটি বর্তমানে প্রেসিডেন্টের প্রধান দপ্তর। ডিম্বাকৃতির এই কক্ষের জানালাগুলো বুলেটপ্রুফ কাঁচ দিয়ে তৈরি। কক্ষটির অন্দরসজ্জা ও আসবাব প্রেসিডেন্টের পছন্দ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। কেবিনেট রুমে প্রেসিডেন্ট তাঁর মন্ত্রীসভার সঙ্গে বৈঠক করেন। হোয়াইট হাউসের রীতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সব সময় টেবিলের মাঝখানে বসেন। গ্রাউন্ড ফ্লোরে আছে সিচুয়েশন রুম। ৫ হাজার বর্গফুটের এই ঘরে প্রেসিডেন্ট আসেন সমস্যার মুখোমুখি হলে। এখানে তিনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করেন। সিচুয়েশন রুম চালান ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কর্মীরা। হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুম। এখান থেকে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউস চত্বরের কেন্দ্রীয় ভবন হলো এক্সিকিউটিভ রেসিডেন্স। এটি মূলত ওয়েস্ট ও ইস্ট উইংয়ের মাঝখানে অবস্থিত। এই ভবনে আছে সবুজ, নীল ও লাল কক্ষ। এসব কক্ষের জানালার পর্দা, মেঝের কার্পেটসহ গৃহসজ্জার সামগ্রীর রং কক্ষের নাম অনুসারে হয়ে থাকে। এক্সিকিউটিভ রেসিডেন্সের পুবদিকে দ্বিতল ভবনটি হলো ইস্ট উইং। ভবনের দ্বিতীয় তলায় আছে ফার্স্ট লেডির দপ্তর। এ ছাড়া এই ভবনে আছে একটি পারিবারিক থিয়েটার হল, যেখানে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দিনের যেকোনো সময় নিজেদের পছন্দের সিনেমা উপভোগ করতে পারেন। এক্সিকিউটিভ রেসিডেন্সের ফার্স্ট ফ্লোরে আছে ক্রস হল। এটি হোয়াইট হাউসের সবচেয়ে প্রশস্ত হলওয়ে। ক্রস হল স্টেট ডাইনিং রুম এবং ইস্ট রুমের সঙ্গে এক্সিকিউটিভ রেসিডেন্সের সংযোগ স্থাপন করেছে। অনেকেই হয়ত ভাবেন বাড়িটার নাম হোয়াইট হাউস কেন? কারণ, ১৮১২ সালে সংঘঠিত হয় ইংল্যান্ড-আমেরিকা যুদ্ধ। যুদ্ধ চলাকালে ১৮১৪ সালের ২৪ আগস্ট ব্রিটিশ সেনাবাহিনী হোয়াইট হাউস জ্বালিয়ে দেয়। এরপর বিল্ডিংয়ের ছোট একটি অংশ শুধু অবশিষ্ট ছিল। বিল্ডিংটির বিভিন্ন জায়গায় তখন আগুন ও ধোঁয়ার দাগ ঢাকতে এর দেয়ালে সাদা রং দেওয়া হয়। সেই থেকে মূলত একে ‘হোয়াইট হাউস’ বলা শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের মোট রুমের সংখ্যা ১৩২ টি। বাংলাদেশী আমেরিকানদের এই টিমে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক লাবলু আনসার, বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভির চেয়ারপার্সন আলিম খান আকাশ এবং ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নুরুন্নাহার নিশা খান, আলভি খান, স্নেহা খান, আলিসা খান, সাফিন চৌধুরী, আসমা চৌধুরী, শামীন চৌধুরী, সারাহ চৌধুরী, ওমর চৌধুরী, হাসিনা পারভিন, তাসমিয়া দিয়া, সাফকাত চৌধুরী, নাফিজা আহমেদ, সুজাত হোসেন, লোকমান খান, শাহানা সুলতানা, তারেক মেহেদী, নাবিল আহমেদ, সাঈদ হারুন, রফিকুল আলম, ফরিদা পারভিন, কাজী ইসলাম, জাকির চৌধরী, মাহমুদা ইসলাম, সৈয়দ জুনায়েদ, কারাবি চৌধরী, মিজানুর রহমান, রাহেলা সুইটি, নূরজাহান খাতুন, নাসিমা আহমেদ, মোহাম্মদ খান, ডা. নুরুল চৌধুরী, লোকমান খিয়ানি প্রমুখ।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.