post
এনআরবি লাইফ

যাকাত কাকে দিবেন এবং কাকে দিতে পারবেন না

যাকাত ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। এ বিধান পালনে প্রয়োজন সঠিক পথ ও পন্থা। যাকাতের বণ্টন সঠিক না হলে যাকাত আদায় হবে না। পবিত্র কোরআনে আট খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ পাক কোরআনে বলেন, যাকাত কেবল ফকির মিসকিন ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণে জর্জরিত ব্যক্তিদের জন্য, আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী এবং মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর নির্ধারিত বিধান এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। ১. ফকির : যে ব্যক্তি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষা চায়, যারা সর্বদা অভাব অনটনে জীবন কাটায়, নিজ জীবিকার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী এরাই ফকির।২. মিসকিন : একজন দরিদ্র ভদ্রলোককে বুঝায়, যার বাহ্যিক অবস্থা দেখেও অভাবগ্রস্ত মনে হয় না, স্বীয় আত্মসম্মান বোধের জন্য অপরের নিকট সাহায্য চাইতে পারে না অথচ কঠোর শ্রম ও প্রাণান্তর চেষ্টার পরও সংসারের অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে না। সমাজে তথা নিজ আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে এরকম কেউ থাকলে তারাই হকদার বেশি।৩. যাকাত আদায়কারী কর্মচারী : সরকারিভাবে নিযুক্ত যাকাত আদায় ও বিতরণের কর্মচারী। বর্তমানে এই খাত বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়।৪. মন জয় করার জন্য/নওমুসলিম : যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট তবে সামাজিক বা আর্থিক ভয়ে ইসলাম ধর্মে আসছে না তাদের সাহায্য করে প্রকাশ্যে দলভুক্তি করা অথবা যারা নওমুসলিম হয়েছে অন্য ধর্ম ছাড়ার কারণে পারিবারিক সামাজিক ও আর্থিকভাবে বঞ্চিত হয়েছে তাদের সাহায্য করে ইসলামে সুদৃঢ় করা। যেমন, সফওয়া ইবনু উমাইয়াকে হুনাইন যুদ্ধের গনিমত দিয়েছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সুফিয়ান ইবনু হারবকে, আক্বা ইবনু হাবেসক এবং উয়াইনাহ ইবনু মিহসানকে যাকাত দিয়েছিলেন। ৫. ঋণমুক্তির জন্য : জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য সঙ্গত কারণে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঋণমুক্তির জন্য যাকাত প্রদান করা যায়। সেসব গরিব যারা ঋণ করেছে এবং শোধ করার সামর্থ্য নেই তাদের যাকাতের টাকা দিয়ে সাহায্য করা যাবে। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ ঋণ খেলাফি ধনী এর আওতায় আসবে না যারা ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিয়ে শোধ করতে পারছে না। তাদের ওই ঋণ জীবন বাঁচানোর তাগিদে নেওয়া হয়নি। বরং তা নেওয়া হয়েছিল নিজেদের বিলাসিতাকে পরিপূর্ণ করার মানসে।৬. দাসমুক্তি : কৃতদাস মুক্তির জন্য—এ-প্রথা এখন প্রযোজ্য নয়।৭. ফি সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর পথে : সাবিলিল্লাহ শব্দের অর্থ ব্যাপক। যেসব কাজ দ্বারা আল্লাহর সন্তোষ ও নৈকট্য লাভ করা যায় তাকেই ফি-সাবিলিল্লাহ্ বুঝায়। অন্যকথায় মুসলিম জনগণের কল্যাণকর যাবতীয় কাজ যার ফলে দীন ও রাষ্ট্রের স্থিতি আসে এমন কাজ। যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে। বর্তমানে জিহাদের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কাজেই এটি একটি বিতর্কিত বিষয়। এতিমখানায় দেওয়া যেতে পারে যেখানে গরিব বাচ্চারা লেখাপড়া করে। তবে প্রাপ্ত যাকাত বা ফিতরার টাকা থেকে শিক্ষকদের বেতনভাতা দেওয়া যাবে না। ৮. মুসাফির/প্রবাসী : পথে বা প্রবাসে মুসাফির অবস্থায় কোনো ব্যক্তি বিশেষ কারণে অভাবগ্রস্ত হলে ওই ব্যক্তির বাড়িতে যতই ধন-সম্পদ থাকুক না কেন তাকে যাকাত প্রদান করা যাবে। যাকাত কাকে দেওয়া যাবে না ১. নেসাব পরিমাণ মালের অধিকারী বা ধনীকে যাকাত দেওয়া যাবে না (মুসাফির ব্যতীত)। যে ব্যক্তির কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদ নেসাব পরিমাণ নেই কিন্তু অন্য ধরনের সম্পদ, যাতে যাকাত আসে না। যেমন ঘরের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, জুতা ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ও নিসাবের সমমূল্য পরিমাণ আছে, তাকে যাকাত দেওয়া যাবে না। ২. যাকাতের টাকা কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যাবে না। ব্যয় করা হলে যাকাত আদায় হবে না। যেমন, রাস্তাঘাট, পুল নির্মাণ করা, কূপ খনন করা, বিদ্যুৎ-পানি ইত্যাদির ব্যবস্থা করা। কেননা শরীয়তে যাকাতের বিধান দেওয়া হয়েছে ব্যক্তির প্রয়োজন পূরণের জন্য; সামাজিক প্রয়োজন পূরণের জন্য নয়। যাকাতের টাকা দ্বারা মসজিদ-মাদরাসার বিল্ডিং নির্মাণ করা, ইসলাম প্রচারের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যয় করা, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা দেওয়া, ওয়াজ-মাহফিলের জন্য ব্যয় করা বা এগুলোতে সহায়তা দেওয়া, মিডিয়া তথা রেডিও, টিভি চ্যানেল করা জায়েয নয়; বরং যাকাতের টাকা তার হকদারকেই মালিক বানিয়ে দিতে হবে। অন্য কোনো ভালো খাতে ব্যয় করলেও যাকাত আদায় হবে না। ৩. নিজের বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, পরদাদা প্রমুখ ব্যক্তিÑ যারা তার জন্মের উৎস তাদের নিজের যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। এভাবে নিজের ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনী এবং তাদের অধস্তনকে নিজ সম্পদের যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। ৪. সম্পদশালীর নাবালক পুত্র-কন্যাকে যাকাত দেওয়া যাবে না। ৫. কুরাইশ গোত্রের বনু-হাশেমের অন্তর্গত আব্বাস, জাফর, আকীল (রাযি.)-এর বংশধরের জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ নয়। ৬. অমুসলিম ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে না। ৭. যেসব প্রতিষ্ঠানে ধনী-গরিব সবাই সেবা পায় সেখানে যাকাত দেওয়া যাবে না। যেমন : মসজিদ, মাদরাসা (এতিম ফান্ড বা লিল্লাহ বোডিং ব্যতীত), শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র, সেতু, টিউবয়েল, কূপ, পুকুর, রাস্তাঘাট ইত্যাদি।৮. দরিদ্র পিতামাতা, সন্তান, দাদা, নানা, স্বামী বা স্ত্রীকে যাকাত দেওয়া যাবে না।  ৯. প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মচারী প্রতিষ্ঠানের এতিমখানা/লিল্লাহ বোডিং এর জন্য যাকাত আদায়কারী নিযুক্ত হলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু হাদিয়া/উপঢৌকন হিসাবে দেওয়া যাবে না।  ১০. নিজ চাকর চাকরাণীকে যাকাতের টাকায় বেতন-ভাতা দেওয়া যাবে না। 

post
বিশেষ প্রতিবেদন

পিপলএনটেক এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক বাংলাদেশ অফিসের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (২৩ এপ্রিল) ২১ শে রমজান বৈকাল ৫ ঘটিকায় পিপলএনটেকের নিজস্ব অফিস রুমে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাশরুল হোসেন খান লিয়নের সভাপতিত্বে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে পিপলএনটেক এর সাবেক ডিএমডি লায়ন ইউসুফ খানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর, পিপলএনটেক, এনআরবি কানেক্ট টিভির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আবু বকর হানিপ সহ যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর জন্য মোনাজাত করা হয়।উক্ত দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্হিত ছিলেন পিপলএনটেক'র উপদেষ্টা জনাব আবুল হোসেন মিয়া। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক জনাব লিয়াকত হোসেন খান সহ পিপলএনটেকের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের ফ্যাকাল্টিবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীগণ।

post
বাংলাদেশ

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের অবরোধের পর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে দশটার পর নীলক্ষেত মোড় থেকে সায়েন্সল্যাব পর্যন্ত এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরনের আওয়াজও পাওয়া গেছে।সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজের গেটে এবং ব্যবসায়ীরা চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়েছে।এর আগে রাতের সংঘর্ষের জেরে সকাল থেকেই সায়েন্সল্যাব থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর ফলে সায়েন্সল্যাব, আজিমপুর ও মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।সোমবার রাতে নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৮ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ চলে রাত আড়াইটা পর্যন্ত। মধ্যরাতে দুই পক্ষকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে গেছেন। ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন।তবে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ- এমন অভিযোগ করে কলেজের ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা হলের ছাদে ও তেলের পাম্প এলাকায় অবস্থান নেন। ফলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।তবে রাত ৩টার পরে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলে ফিরে গেছেন। ব্যবসায়ীদেরও কোথাও জড়ো হতে দেখা যায়নি। এতে পুরো এলাকার পরিস্থিতি শান্ত হয়। ওই এলাকার সব সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

post
দূতাবাস খবর

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে রোববার যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন করা হয়।যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহিদুল ইসলাম দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্ণারে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি করেন। এ সময় দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত বানী পাঠ, দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা এবং ‘মুজিবনগর সরকার’ শীর্ষক একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন।আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং ত্রিশ লক্ষ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন এবং মুজিবনগর বাঙালি জাতির বীরত্বের প্রতীক।রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদিন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর নামকরণ করা হয়।তিনি আরো বলেন, প্রথম সরকার মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক মতামতকে সুসংহত করেছে।ডেপুটি চীফ অফ দি মিশন ফেরদৌসি শাহরিয়ার, মিনিস্টার (ইকোনোমিক) মেহেদি হাসান এবং কাউন্সিলর (পাবলিক ডিপ্লোমেসি) আরিফা রহমান রুমা আলোচনায় অংশ নেন।এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে একটি বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়।

post
বাংলাদেশ

বৈশাখ এলো... এলো নতুন বছর

সাদিয়া ইসলাম: বৈশাখ এলো... এলো নতুন বছর। এলো বাংলা নববর্ষ... ১৪২৯ সাল। গাছে গাছে বেড়েছে পত্রপল্লব। সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে চারিদিক। শাখায় শাখায় দোল খাচ্ছে ফুলের সমাহার। মৃদুমন্দ বাতাসে ঝিরি ঝিরি কাঁপছে গাছের পাতা। প্রকৃতিতে এসবই এলেই সাথে বয়ে নিয়ে আসে নতুন বছরের আগমনী সুর। আর আসে কালবৈশাখি। ঝড়ের তাণ্ডবেও বাঙালি মন উতাল হয়... বৈশাখি হাওয়ায় শাড়ির আচল উড়িয়ে মেয়েরা মেলায় যায়। সে মেলার গান চলে-বাজে ঢোল বাজে ঢাক ঐ এলো বৈশাখ !!”” মেলা হবে খেলা হবে হবে কবি গান... এটাই বাংলা। এটাই বাংলার বর্ষবরণ। জীর্ণ পুরাতন সবকিছু ভেসে যাক, ‘মুছে যাক গ্লানি’ এভাবে বিদায়ী সূর্যের কাছে আহ্বান জানায় বাঙালি। আর নতুন সূর্যালোকে ধরাকে সুচি করে নিতে চায়। পয়লা বৈশাখ আমাদের সকল সঙ্কীর্ণতা, কুপমণ্ডুকতা পরিহার করে উদারনৈতিক জীবন-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের মনের ভিতরের সকল ক্লেদ, জীর্ণতা দূর করে আমাদের নতুন উদ্যোমে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা যে বাঙালি, বিশ্বের বুকে এক গর্বিত জাতি, পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণে আমাদের মধ্যে এই স্বাজাত্যবোধ এবং বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণ পায়, উজ্জীবিত হয়। আর পহেলা বৈশাখ, বাঙালির একটি সার্বজনীন লোকউৎসব। ঠিক একদিন আগে চৈত্রসংক্রান্তির নানা আয়োজন শেষ করে একটি বছরকে বিদায় করে নতুন বছরকে আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়ার তাগীদ থাকে প্রতিটি বাঙালির মনে প্রাণে। তারা মনে করেন, কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ। কোভিড-১৯ এর কারণে বন্ধ থাকায় আজ দুইবছর পর পহেলা বৈশাখে বর্ণিল উৎসবে মাতবে দেশ। ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দেবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষ ১৪২৯' জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। দিনটি সরকারি ছুটির দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা' ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। রমনা বটমূলে রয়েছে ছায়ানটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন। এরমধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা আজ বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বাঙ্গালী সংস্কৃতি আজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ জাতিসংঘের সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয়। শুধু বাংলাদেশ কেনো বিশ্বের যেখানে যেই দেশেই বাঙালির বাস সেখানেই তাদের মধ্যে এখন বৈশাখ বরণের আমেজ। বিদেশ বিভুঁইয়েও তারা ভুলে যাননি নিজের সংস্কৃতি। তাই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দূরপ্রাচ্য থেকেও আসছে বর্ষবরণে উৎসবের খবর। এই সার্বজনীন উৎসবে সারা বিশ্বের সকল বাঙালি প্রাণ উচ্ছ্বাস আনন্দে ভাসুক। নতুন বছর আমাদের সকলের জন্য আনন্দ ও মঙ্গল বয়ে আনুক, এটাই প্রত্যাশা। সবাইকে শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।

post
বাংলাদেশ

জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরুতেই সরকার প্রধান দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। মোবারকবাদ জানান মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজানের।ভাষণে তিনি বলেন সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে স্বস্তি নিয়ে আসতে সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে চালসহ কোনও পণ্যের ঘাটতি নেই। সাশ্রয়ী দামে পণ্য কেনার জন্য টিসিবি’র দোকানে মানুষ ভিড় করবে—এটাই স্বাভাবিক। এটাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার কী কারণ থাকতে পারে?বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।‌শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে পণ্যের দামে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে পণ্য পরিবহণের ভাড়া ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আমাদের দেশেও কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আমরা কিন্তু চুপচাপ বসে নেই। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে স্বস্তি নিয়ে আসতে। তিনি বলেন, চলতি পবিত্র রমজান মাসে আমরা টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে প্রায় ১ কোটি পরিবারকে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী দামে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। ঢাকায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৫টি ফ্রিজার ভ্যানে করে সাশ্রয়ী দামে মাংস, ডিম ও দুধ বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ইতোমধ্যে কমে স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। এছাড়া, সরকার আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ১ কোটি ৩৩ হাজার ৫৪টি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১ লাখ ৩৩০ মেট্রিক টনের বেশি চালের বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে।করোনার মধ্যেও উন্নয়নের চাকা থেমে নেইকরোনার মধ্যেও উন্নয়নের চাকা থেমে নেই এমনটি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারিতেও আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬.৯৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছর রেকর্ড ২৪.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। এ বছরও আশানুরূপ রেমিটেন্স আসছে। গত বছর রফতানি আয় হয়েছে ৪৪ দশমিক দুই দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে রফতানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮ দশমিক ছয় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এ বছর রফতানি আয়ে বাংলাদেশ নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে, ইনশাআল্লাহ।বোরোতে বাম্পার ফলনকৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে চাল, শাক-সবজি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ উৎপাদনে আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি বোরো মওসুমে ধানের বাম্পার ফলন আশা করা হচ্ছে।ঋণ যাতে বোঝা না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টিআমাদের মেগাপ্রকল্পগুলো নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে- কোনও ঋণ নেওয়া হয়নি। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা অর্থনৈতিক সমীক্ষার মাধ্যমে আমরা অন্যান্য মেগাপ্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছি। আর শুধু ঋণ নয়, বিদেশি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আমাদের অর্থনীতির চেহারা বদলে যাবে। আমরা দেশি-বিদেশি ঋণ নিচ্ছি। তবে তা যাতে বোঝা হয়ে না উঠে সে দিকে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদ বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা।দুই বছর হবে অবকাঠামো উন্নয়নের মাইলফলক২০২২ এবং ২০২৩ হবে বাংলাদেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের এক মাইলফলক বছর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কয়েক মাস পরেই চালু হতে যাচ্ছে বহুল আকাঙ্খিত পদ্মা সেতু। এই সেতু জিডিপিতে ১.২ শতাংশ হারে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বছরের শেষ নাগাদ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার অংশে মেট্রো রেল চালু হবে। মেট্রো রেল রাজধানী ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আগামী অক্টোবর মাসে চট্টগ্রামে কর্ণফুলীর নদীর তলদেশ দিয়ে চালু হবে দেশের প্রথম টানেল। এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট আগামী বছরের শেষ নাগাদ চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গত মাসে পায়রায় ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্ধারিত সময়ের আগেই উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যান্য মেগাপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ভাবনায় অর্থনৈতিক অর্জনপ্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিগত ১৩ বছরে যে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে তা অর্থনীতির সামষ্টিক সূচকগুলো বিবেচনা করলেই স্পষ্ট হয়। ২০০৯ সালে জিডিপি’র আকার ছিল মাত্র ১০২ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালে তা ৪১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৭০২ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২,৫৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ভাবনা এবং দূরদৃষ্টি-সম্পন্ন অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে। গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রেখে মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার ফলেই আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতা যে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়ন করতে অবদান রাখতে পারছি বলে আমরা গর্বিত। যতদিন বেঁচে আছি, মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে কাজ করার সামর্থ্য দিবেন, ততদিন মানুষের জন্য কাজ করে যাব, জনগণের সেবা করে যাব।বাঙালির মুখের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যকে উপজীব্য করেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে একদিন এদেশে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটেছিল। যার উপর ভিত্তি করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। কাজেই আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা মানে আমাদের স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা।দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দের শুভ মুহূর্তে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় স্নাত হয়ে আসুন বাংলাদেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলি—যেখানে বৈষম্য থাকবে না, মানুষে মানুষে থাকবে না কোন ভেদাভেদ, থাকবে না ধর্মে-ধর্মে কোন বিভেদ। পারস্পরিক সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আসুন বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি।এ সময় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলা নতুন বছরের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানান।

post
বাংলাদেশ

প্রবাসেও পহেলা বৈশাখ উদযাপন হয়, বললেন প্রধানমন্ত্রী, ধর্মের সঙ্গে সংস্কৃতির সংঘাত সৃষ্টি না করার আহ্বান

ধর্মের সঙ্গে সংস্কৃতির সংঘাত সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অনেকেই ধর্মের সঙ্গে সংস্কৃতির সংঘাত সৃষ্টি করতে চায়। এটা মোটেও সঠিক কাজ নয়।’বুধবার (১৩ এপ্রিল) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে নবনির্মিত ৮টি জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবনের উদ্বোধনকালে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।সরকার প্রধান বলেন, ‘ধর্ম যার যার। আমরা এটাই বলি ধর্ম যার যার উৎসব সকলের। কাজেই উৎসব সকলে আমরা এক হয়ে পালন করবো।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি, আমরা বাঙালি, আমাদের দেশে কিন্তু সকল ধর্মের মানুষ বাস করে। সেখানে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সবাইতো আছে।’সকল জাতি-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি বিকশিত করতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই যে সকল ধর্ম-বর্ণ, বিভিন্ন ছোট ছোট ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, তাদের নিজস্ব যে সংস্কৃতি, অর্থাৎ শুধু ধর্মালম্বী না, আমাদের যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তাদেরও কিন্তু নিজস্ব সাংস্কৃতিক চর্চা আছে, সংস্কৃতি আছে। সেগুলোতে যাতে বিকশিত হয়। সেদিকে দৃষ্টি রেখেও কিন্তু আমরা প্রত্যেকটি এলাকায় তাদের এই সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ আমরা করে দিয়েছি।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘আবহমান কাল থেকে যেগুলো চলে আসছে এগুলোও যাতে বিকশিত হতে পারে। বিশেষভাবে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ এগুলো আমাদের ঐতিহ্য, এগুলো আমরা ভুলবো না। কিন্তু আমরা সামনের দিকেও এগিয়ে যাবো। আধুনিক যুগের যত সংস্কৃতি সেটাও আমরা রপ্ত করবো। সেভাবে আমরা করতে চাই।’সবাইকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে পহেলা বৈখাশ আমরা উদযাপন করি। এই একটা উৎসবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে, সকল বাঙালি এক হয়ে আমরা কিন্তু এই পহেলা বৈশাখ উদযাপন করি। যেখানে সকলের একটা চমৎকার মিলন কেন্দ্র হয়।… আমাদের প্রবাসীরাও এই পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেন।’অতিতে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বাধার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ, যে পহেলা বৈশাখ পালন করতে যেয়ে আমরা বাধার সম্মুখিন হয়েছিলাম। ১৪০০ সাল বরণ করে যেয়ে আমরা বাধার সম্মুখিন হয়েছিলাম। এটা হচ্ছে অত্যন্ত দুর্ভাগ্য জনক। এমনকি বটমূলে বোমা হামলা করেও মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। যাতে করে আমাদের এই সংস্কৃতি চর্চা বন্ধ হয়ে যায়।’আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি-ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই ঐতিহ্য আমাদেরকেই ধারণ করে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম যাতে চর্চা করতে পারে, বিকশিত করতে পারে এবং আরও এই আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সম্মিলন ঘটিয়ে যেন এটাকে যেন আরও বেশি উৎকর্ষ সাধন করতে পারে সেদিকে আমাদের বিশেষ ভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। সেটাই আমরা দিবো।’দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি, অর্থনৈতিক ভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী আমরা হয়েছি আমাদের এই অগ্রযাত্রা অবশ্যই আমাদের ধরে রাখতে হবে।’সংস্কৃতি চর্চাটাকে আরো সমৃদ্ধশালী করতে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর পরামর্শ শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রযুক্তি কাজে লাগিয়েই আমাদের সংস্কৃতি চর্চাটাকে আমরা আরো সমৃদ্ধশালী করতে পারি। সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেব।’সংস্কৃতি চর্চায় সহযোগিতা করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিকাশে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন সরকার প্রধান।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রান্ত হতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা ও কুষ্টিয়া, খুলনা, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রান্ত থেকে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সে গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন।

post
দূতাবাস খবর

ফ্লোরিডার মায়ামীতে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট অফিস উদ্বোধন

ফ্লোরিডার মায়ামীতে বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করা হলো বাংলাদেশে নতুন কন্স্যুলেট অফিস। যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) এই কার্যালয় উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন ধরেই ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেলের অফিসের দাবি ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখানকার প্রবাসীদের ২৭ বছর আগে প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন সেই দাবি পূরণের। তারই বাস্তবায়ন ঘটলো এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে।এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিজস্ব ভবনে আমাদের দূতাবাস, কন্স্যুলেট স্থাপিত হয়েছে। এ ধারা সূচিত হয় জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর আমলে। এরপর আবারো শুরু হয়েছে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার পর। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপূর্ব পরিবেশ বিরাজ করছে, তা এই ফ্লোরিডার ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরাও লুফে নেবেন।তিনি বলেন, প্রবাসীরা হচ্ছেন একেকজন মাতৃভূমির রাষ্ট্রদূত। এছাড়া, করোনাকালেও তাদের প্রেরিত অর্থে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। এজন্য আমরা প্রবাসীদেরকে অভিবাদন জানাচ্ছি। "শেখ হাসিনা যা বলেন তা করেন। প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে শেখ হাসিনা তার বাবা বঙ্গবন্ধুর মতোই সাহসী একজন ব্যক্তিত্ব। এভাবেই তিনি নানা সীমাবদ্ধতা সত্বেও বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে পরিণত করেছেন," বলেন ড. এ কে আবদুল মোমেন।কমিউনিটির পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ফজলুর রহমান বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এ অঞ্চলের প্রবাসীদের বিশেষ এক টান রয়েছে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। তাঁরই পুরস্কার পেলাম আমরা। এরপর টেক্সাস, মিশিগান, জর্জিয়াতেও কন্স্যুলেট অফিস স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম ছাড়াও মায়ামীর আশপাশের কয়েকটি সিটির মেয়র শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এই উদ্বোধনী কর্মসূচিতে। আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ৭৬০ নর্থওয়েস্ট, ১০৭ এভিনিউতে অবস্থিত এপার্টমেন্ট ভবনের ৩২০ নম্বর স্যুইটে ফিতা কাটার মধ্যদিয়ে। উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই বাংলাদেশ থেকে ফ্লোরিডার কনসাল জেনারেল হিসেবে ইকবাল আহমেদকে নিয়োগ দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিনি সামগ্রিক অবস্থার আলোকে মায়ামীকে বেছে নেন অফিস স্থাপনের জন্যে। এর আগে মায়ামীতে পৌঁছলে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রবাসীরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুর রহমান, মুজিবউদ্দিন, এডভোকেট জহীর, নান্নু আহমেদ, নাফিজ জুয়েল, আনোয়ার খান দিপু, লেবু চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা ইফজাল চৌধুরী, জামাল হোসেন প্রমুখ। বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরো ছিলেন সমাজ-সংগঠক ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতা জুনায়েদ আকতার।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে একটি আনন্দঘন সন্ধ্যা

পরিবেশটা ছিল বেশ আনন্দঘন। সোমবার (৪ এপ্রিল) উপস্থিত অভ্যাগতরা একটা সুন্দর সন্ধ্যা কাটালেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে। মৃদুমন্দ সুরে বেজে চলছিলো যন্ত্রসঙ্গীত।‌‌‌‌‌ তার মধ্যে মৃদুভাষ্যে মানুষের কথোপকথন। উপলক্ষ্য বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন।জমায়েতটা শুরু হয় সন্ধ্যা ৬ টা থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই ছিলেন সেখানে। নিমন্ত্রিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানিত অতিথিবৃন্দ। প্রথম কিছুটা সময় কাটে একে অন্যের সাথে কুশল বিনিময় করে। এরপর অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তার সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহীদুল ইসলাম আরও ছিলেন ইউএসএআইডির ডেপুটি এডমিন্সট্রেটর ইসোবেল কোলম্যান। ততক্ষণে যোগ দেন আরো অভ্যাগত অতিথিরা। তাদের উপস্থিতিতেই শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। যার শুরুটা হয়েছিল যন্ত্রে দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানোর মধ্য দিয়ে।আলোচনার শুরুতেই এই উদযাপন উপলক্ষে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যন্থনি ব্লিংকেনের ভিডিও ধারণকৃত বক্তব্য প্রচার করা হয়।এতে ব্লিংকেন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল যে সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে গত ৫০ বছরে তা দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়েছে।জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংকট নিরসনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন অগ্রসরতা বাংলাদেশের তথা বাংলাদেশিদের ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে ব্লিংকেন বলেন, ১৯৭২ সালে ফজলুর রহমান খান যুক্তরাষ্ট্রে ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে এসেছিলেন এবং এখানে পিএইচডি এবং দুটি মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন। ১৯৭২ সালে দুই দেশের সম্পর্ক স্থাপনের এক বছর পর ১৯৭৩ সালে তিনি সিয়ার্স করপোরেশনের মতো অত্যাধুনিক স্কাইস্ক্র্যাপার ডিজাইন করেছিলেন, তখন থেকেই সেই টাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাসিক স্কাইলাইনের প্রতীক হয়ে রয়েছে, স্মরণ করেন ব্লিংকেন। তিনি বলেন, এই একটি বিষয়ই বলে দেয় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কি করতে পারে।ব্লিংকেন বলেন, আগামী দিনগুলোতে আমাদের দুই দেশের জনগণ মিলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কটি কিভাবে এগিয়ে নেবে সেদিকেই আমরা তাকিয়ে আছি।এরপর বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের সঙ্গে যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে তা অব্যাহতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে এবং ৫০ বছরে তা একটি শক্ত ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বক্তব্যে উল্লেখ করেন শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০২২ নাল হচ্ছে সেই সম্পর্কের উদযাপনের বছর। গোটা বছরজুড়ে আমরা দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সম্পর্কের শক্তির দিকটি প্রদর্শনের যেমন সুযোগ পেয়েছি তেমনি করে এই সম্পর্ককে আরও গভীরতা দিকে নিয়ে যেতে করণীয় নির্দেশ করতে পেরেছি। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কসম্পর্ক জোরদারে অংশীদারিত্ব সংলাপের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জানান, গত ২০ মার্চ ঢাকায় অষ্টম অংশীদারিত্ব সংলাপ সম্পন্ন হয়েছে, আগামী ৬ এপ্রিল ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে ৮ম নিরাপত্তা সংলাপ এবং ৯ম প্রতিরক্ষা সংলাপ আগামী মেমাসের প্রথম ভাগে অনুষ্ঠিত হবে হাওয়াইয়ে, জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিতীয় বাণিজ্য সংলাপ, এছাড়াও মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ পর্যায়ের বাণিজ্যিক দল বাংলাদেশ সফর করবে।এ সকল কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রসরতা কেবল আমাদের নিজস্ব জনগণের জন্যই উপকার বয়ে আনছে না বিশ্বময় শান্তি সমৃদ্ধি অগ্রসর তা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখছে, বলেন রাষ্ট্রদূত।অনুষ্ঠানে গেস্ট অফ অনার হিসেবে রাখা বক্তব্যে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন ইউএস এআইডির ডেপুটি এডমিন্সট্রেটর ইসোবেল কোলম্যান। তিনি বাংলাদেশ যেসব খাতে অগ্রসর হয়ে বিশ্ব অর্থনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে তা উল্লেখ করে বলেন, আমি লক্ষ্য করেছি বাংলাদেশ গত কয়েক দশক ধরেই তার জনগণের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পেরেছে। এবং বিশ্বের কাছে সাফল্যের উদাহরণ হয়ে ধরা দিয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ যে অগ্রসরতা নিশ্চিত করেছে তা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য ও উদযাপনের দাবি রাখে, বলেন ইসোবেল।তিনি বলেন, আজ বিশ্বের অগ্রসরমান অর্থনীতির কাছে বাংলাদেশ একটি মডেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।সবশেষে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, আজ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের এই সন্ধ্যায় আপনাদের সবার সামনে উপস্থিত হতে পেরে খুশি লাগছে। মোমেন বলেন, আজ দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেনের সঙ্গে অত্যন্ত সফল একটি বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এছাড়া ইউএসএআইডির প্রধান সামান্থা পাওয়ারের সঙ্গে আমার বৈঠক হয়েছে এবং দুটি বৈঠকই ছিল ফলপ্রসূ।তিনি বলেন, আমরা আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক সম্পর্ক কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছি।দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো চিঠির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন ড. মোমেন। বাইডেন তার চিঠিতে গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ- যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দিকগুলো উল্লেখ করে বলেছেন বাংলাদেশ এখন অগ্রসরতার দিক থেকে একটি মডেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভালো বন্ধু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে বাইডেন আশা প্রকাশ করেছেন আগামী ৫৯ বছরে দুই দেশের জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় থাকবে।বাংলাদেশের জন্মলগ্নে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব নাগরিক, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং বিশিষ্ট জন বাংলাদেশের পক্ষে তাদের অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন তাদের স্মরণ করে ড. মোমেন বলেন, জাতিসংঘে যখন বাংলাদেশের সদস্য পদ নিয়ে ভোটাভুটি হয় তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সিনিয়র জর্জ বুশ ১৬ বার ভোটাভুটির মধ্যে ১৫ বারই বাংলাদেশের পক্ষে তার ভোট দিয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ গভীরভাবে মূল্যায়ন করে এমনটা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংহতি ও সাধারণ মূল্যবোধের ভিত্তিতে গঠিত এই সম্পর্ক‌। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আর্থ- সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে দুই দেশ একসাথে কাজ করবে।অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সংসদ সদস্য নাহিন রাজ্জাক, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল ওয়ার উজ-জামান, হোয়াইট হাউস ন্যাশনাল সিকিউরিট কাউন্সিলের সিনিয়র ডিরেক্টর সুমনা গুহ, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পররাষ্ট্র উপসহকারী মন্ত্রী কেলি কিডারলিং, ইউএসএআইডি'র ডেপুটি অ্যাসিট্যান্ট এডমিন্সট্রেটর মিজ অঞ্জলি কৌর, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম, লসএঞ্জেলসের কনসাল জেনারেল সামিয়া আনজুম, বাংলাদেশ নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া গ্রুপ ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়ার এমডি সায়েম সোবহান আনভীর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী চৌধুরী নাফিস সরাফত, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ, প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক, সিএফও ফারহানা হানিপ, ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক প্রধান রোকেয়া হায়দার, আনিস আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কমিউনিকেশন ডাইরেকটর বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ এবং কোষাধক্ষ বিশ্ববাংলা টোয়েন্টি ফোর টিভির সিইও আলিম খান আকাশ, ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতা মোর্শেদ আলম, অধ্যাপক আদনান মোর্শেদ প্রমুখ।পরে একটি কেক কেটে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর সেলিব্রেট করা হয়।সবশেষে ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি কবিতা পড়ে শোনান যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের . । এছাড়া পরিবেশিত হয় একটি নৃত্যাল্লেখ্য। যার পরিবেশনায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশুরা।মুখোরোচক নৈশভোজের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।

post
বাংলাদেশ

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে, বললেন ড. মোমেন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় এসেছে, এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে একমত হয়েছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সোমবার (৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রেমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, অত্যন্ত ফলপ্রসু ছিলো তাদের আলোচনা। তিনি এই আলোচনায় ভীষণ খুশি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র মানবাধিকার প্রসঙ্গও উঠে আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই সহায়তার ক্ষেত্রে নতুন নতুন দিক উন্মোচন হয়েছে। বাংলাদেশে উদারভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পেতে চায়। আলোচনায় র্যাব'এর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ এসেছিলো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি উঠেছে এবং আমরা বলেছি র্যাব গঠনের উদ্দেশ্যই ছিলো সন্ত্রাসদমন। যে সময়টিতে র্যাব গঠিত হয় তখন বাংলাদেশে সারা দেশ জুড়ে বোমা হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলে থাকার সময় সন্ত্রাসবিরোধী বৈঠকেও গ্রেনেড হামলা হয়েছে। এ সব দমনে র্যাব বড় ভূমিকা রেখেছে। "র্যাব কোথাও কোথাও বেশি করেছে, এমনটা উল্লেখ করেই আমি বলেছি বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে আমরা সচেষ্ট রয়েছি," বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টিতে আমি অনেক বেশি আশাবাদী তবে এটি একটি প্রক্রিয়ার বিষয়। সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। র্যাব কে নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টির মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে ড. মোমেন এই বৈঠকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই যেমন অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস সহিংসতা দূর করতে কাজ করে বাংলাদেশে র্যাবও একই ভূমিকা পালন করছে। আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি বলেছি, আমাদের অপেক্ষাকৃত নতুন গণতন্ত্র। যুক্তরাষ্ট্র আড়াইশ' বছর ধরে এর চর্চা করছে, এখানে এখনো সমস্যা হয়। বাংলাদেশে ৫০ বছরের মধ্যে ১৮ বছর সামরিক সরকারের অধীনে ছিলো। বাংলাদেশে একটি দল নির্বাচনে আসে না তাদের নির্বাচনে আনাটাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ, উল্লেখ করেন ড. মোমেন। তিনি বলেন, একটি স্বচ্ছ নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা সরকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু সামরিক বাহিনীর হাতে গঠিত একটি দল জাতীয় নির্বাচনে আসতে চায় না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন বলেও জানান ড. একে আবদুল মোমেন। অ্যান্থনি ব্লিংকেনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এমনটাও জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি সহযোগিতা করতে পারে এমনটা উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। তিনি বলেন, শরণার্থীদের ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আমরা মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা করার সুযোগ রয়েছে। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.