বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগুলোর অব্যহত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করেছেন মার্সা বার্নিকাট। বাংলাদেশের সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত দেশটির অব্যহত উন্নয়ন এবং আগামী নির্বাচন যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সে ব্যাপারেও তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান বিজয় দিবস উদযাপন আয়োজনে অংশ নিয়ে এনআরবি কানেক্ট টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
মার্সিয়া স্টেফেন ব্লুম বার্নিকাট বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেওয়া সকল নীতি ও উদ্যোগগুলো আমাকে গর্বিত করেছে। এখন বাংলাদেশ এই সঙ্কটকে অতিক্রম করে গেছে। এছাড়াও বাংলাদেশের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
বার্নিকাট আরও বলেন, "দেশটিতে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। আমি চাই একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন সংগঠিত হোক। আর এই বিজয় দিবসে এই প্রত্যাশাই করি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন হোক।"
বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার পর মার্সা বার্নিকাট আরও বলেন, সবসময়ের মতো এবারও দূতাবাসের বিজয় উদযাপন ছিলো অসাধারণ।
"আমার সবসময়ই নাচের আয়োজনগুলো দেখতে ভালো লাগে। বিশেষ করে এখানকার তরুণ-তরুণীরা যখন তাদের নৃত্যকলা প্রদর্শণ করে আমি ভীষণ উপভোগ করি।"
কোভিড-১৯ এর পর এবার আমরা আবার সশরীরে হাজির হয়ে এই আনন্দ উদযাপন করতে পারছি, এটাও ভালো লাগছে। এখানে সকল বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গেও দেখা হয়ে গেলো, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ, বলছিলেন মার্শা বার্নিকাট।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি কমিউনিটির অতি পরিচিত মুখ, শিক্ষা ও আইটি প্রশিক্ষণ উদ্যোক্তা, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি'র চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিযার আবুবকর হানিপ এসময় মার্শা বার্নিকাটের পাশে ছিলেন।
বাংলাদেশকে তিনি ভীষন মিস করেন, বাংলাদেশের জন্য তিনি ভীষণ হোমসিক বোধ করেন এমনটাই বলছিলেন মার্সা বার্নিকাট। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মসলাদার খাবারগুলোও তার প্রিয়। দূতাবাসের ডিনারে সেই খাবারগুলো খেতে পারবেন বলেও তার ভালো লাগছে।
বাংলাদেশের কথা তিনি আজও তার নতুন কর্মস্থলের সবাইকে শেয়ার করেন। বাংলাদেশ কখনো তার হৃদয় থেকে মুছে যাবে না, বলছিলেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।
বাংলাদেশে নিযুক্ত বর্তমান রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের কথা উল্লেখ করে মার্সা বলেন, বাংলাদেশ এখন একজন অসাধারণ রাষ্ট্রদূতকে পেয়েছে। অ্যাম্বাসাডার হাস আমার খুব প্রিয় বন্ধু, দারুণ এক সহকর্মী। আমি সত্যিই গর্বিত পিটার হাসের মতো এক রাষ্ট্রদূত এখন বাংলাদেশে নিযুক্ত রয়েছেন।
'জয়বাংলা' বলে সাক্ষাৎকারটি শেষ করেন মার্শা বার্নিকাট।
