বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস অবিচ্ছেদ্য বলে এক ওয়েবিনার আলোচনায় মন্তব্য করেন জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
ওয়ার্ল্ড সামিট অব ইনফরমেশন সোসাইটি-ডব্লিউএসআইএস এর পৃষ্ঠপোষকতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে যুগ্মভাবে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা- আইটিইউ, জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা- ইউনেস্কো, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি- ইউএনডিপি ও জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন- আনকটাড-এর সাথে যৌথভাবে এবারের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির কার্যালয়।
এসময় স্থায়ী প্রতিনিধি আরো বলেন, "বাংলাদেশের স্বাধীনতার দীর্ঘ আন্দোলেনের মূল সূতিকাগার হলো ভাষা আন্দোলন। তাই শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজও বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক ঐক্যের অনুপ্রেরণার উ ৎস।"
এছাড়াও, মাতৃভাষার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট, ভাষা জাদুঘর ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য তাদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষার প্রচলন বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার সংরক্ষণ ও দেশের অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
ওয়েবিনারটিতে আলোচক হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন জেনেভায় নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি ইন্দ্র মনি পান্ডে, আইটিইউ-এর উপ-মহাসচিব ম্যালকম জনসন, ইউনেস্কোর সহকারি মহাপরিচালক ড. তৌফিক জেলাসি, আদিবাসীদের অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপর্টিয়ার ফ্রান্সিস্কো ক্যালি য্যায়, মরক্কোর শিক্ষাবিদ ড. ফাতিমা সাদিকি ও উগান্ডার সুশীল সমাজের সদস্য মার্গারেটা লোকাউয়া।
মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ে ১৯৫২ সালে বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বক্তারা ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি প্রদানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রসংশা করেন।
দিবসটি উপলক্ষ্যে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কনফারেন্স হলে আরেকটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আলোচনা সভায় অংশ নেন।
