‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে বিজিবির প্রতিটি সদস্যকে সুশৃঙ্খল ও স্মার্ট সৈনিক হিসেবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিব মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান। এসময়ে তিনি আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অর্পিত যে কোনো দায়িত্ব নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালনের জন্য বিজিবি সদস্যদের প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।
বুধবার ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দিবস-২০২৩’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ দরবারে সব পর্যায়ের বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিজি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশ গঠন এবং দেশমাতৃকার সেবায় এ বাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য। দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ যে কোনো দুর্যোগময় মুহূর্তে জনগণের সেবায় এ বাহিনী এগিয়ে এসেছে, মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে।
মহাপরিচালক বলেন, আজ বাহিনীর সব সদস্যের জন্য একটি বিশেষ দিন। গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যমণ্ডিত এই বাহিনী আজ ২২৯ বছরে পদার্পণ করলো।
প্রতিষ্ঠালাভের পর থেকে এ বাহিনী ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা এবং সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান রোধ, নারী-শিশু ও মাদকপাচার রোধসহ যে কোনো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে।
বিজিবি ডিজি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম বিওপিসমূহকে যোগাযোগের আওতায় আনা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজিবির রিক্রুটিং ব্যবস্থাকে ই-রিক্রুটিংয়ে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বাহিনীর ক্রমবর্ধমান প্রশিক্ষণ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে চুয়াডাঙ্গায় অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্বলিত আরও একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান। এছাড়াও বিজিবি সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে সৈনিকদের বেতন স্কেল সমন্বয়, সীমান্ত ভাতা, রেশন ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধিসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
দরবার শেষে পদোন্নতিপ্রাপ্ত চারজনকে অনারারি সুবেদার মেজর থেকে অনারারি সহকারী পরিচালক এবং দুজনকে অনারারি সহকারী পরিচালক থেকে অনারারি উপপরিচালক পদে র্যাংক ব্যাজ পরানো হয়। এসময় বিজিবির সব কর্মকর্তা ও অন্য পদবির সৈনিকরা উপস্থিত ছিলেন।
