এই ম্যাচে জয় পেলেই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলতে যাওয়া, এবং হারলে একরকম আর্ন্তজাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসনে যেতে হবে, – এই কঠিন সমীকরণ নিয়েই ১৭ অক্টোবর ঢাকায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের জাতীয় ফুটবল দল। লাল-সবুজদের এই ম্যাচটি জেতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এই বাস্তবতাও স্বীকার করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। তিনি বলেছেন, এই ম্যাচটি তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল। ম্যাচটিকে তিনি বলে রেখেছিলেন ‘ফাইনাল অব দ্য ইয়ার’ ম্যাচ।
বাছাই পর্বের প্লে অফের দ্বিতীয় লেগের এমন ম্যাচে দশ জন নিয়েও বাংলাদেশ মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ধাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মূল গ্রুপপর্বে জায়গা করে নিতে মালদ্বীপের বিপক্ষে এ ম্যাচ জেতার বিকল্প ছিল না। মালেতে প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার এ ম্যাচ আসলেই পরিণত হয়েছিল ‘ফাইনালে’। সেই ফাইনাল ২-১ গোলে জিতেই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে হাভিয়ের কাবরেরার দল।
প্রথমার্ধের খেলা ছিল ১-১ গোলে অমীমাংসিত। ১১ মিনিটে রাকিব হোসেনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সাদউদ্দিনের বাড়ানো বল ধরে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম খুব ছোট অ্যাঙ্গেল থেকে চমৎকার এক কাটব্যাক করেন মালদ্বীপ বক্সে। তা থেকে গোল করে কিংস অ্যারেনাকে উল্লাসে মাতান রাকিব হোসেন। ৩৬ মিনিটে আইসাম ইব্রাহিমের গোলে সমতায় ফিরেছিল মালদ্বীপ।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের গোলে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু ৫৯ মিনিটে সোহেল রানা জুনিয়র লাল কার্ড পেলে ম্যাচের বাকি সময়টা ১০ জন নিয়ে দরুণ লড়াই করেছে বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণে গেছে বাংলাদেশের ফুটবলাররা। মালদ্বীপও অবশ্য এ সময় গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছে।
ম্যাচের শেষ প্রান্তে গিয়ে মালদ্বীপও দশ জনের দলে পরিণত হয়। বক্সের সামনে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডকে বাজেভাবে ফাউল করলে রেফারি মালদ্বীপের ফুটবলারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ফলে দশজন নিয়েও র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা মালদ্বীপকে হারিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠল হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা।
কোচ কাবরেরা ম্যাচ শেষেও বলেছেন, মালদ্বীপকে হারিয়ে লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। এখন আরও বড় অর্জনের দিকে ঝাঁপাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ দল। সেই অর্জনের পথটা কঠিন। গ্রুপপর্বে বাংলাদেশকে লড়তে হবে অস্ট্রেলিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিনের বিপক্ষে।
