post
এনআরবি বিশ্ব

লেবাননে ২ শিশু সন্তানসহ এক বাংলাদেশি নারীকর্মীর 'বিষপান' মা-মেয়ের মৃত্যু

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ২ শিশুসন্তানসহ এক বাংলাদেশি নারীকর্মী 'বিষপান' করায় তিনি ও তার এক মেয়ে মারা গেছেন। 'বিষক্রিয়া' কম থাকায় অপর শিশুসন্তানটি বেঁচে গেছে এবং এখন শঙ্কামুক্ত।বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ১৬ আগস্ট বৈরুতে বাংলাদেশি অধ্যুষিত সাবরা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত শিরিন খাতুনের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার। স্বামীর দেনা পরিশোধে জেরে সেই নারী 'আত্মহত্যার' পথ বেছে নেন উল্লেখ করে প্রতিবেশী বাংলাদেশিরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঘটনার দিন দুপুরে শিরিন খাতুন ছেলে মাহমুদ ও মেয়ে খাদিজাকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষপান করেন। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে শিরীন ও তার ২ সন্তানকে মুমূর্ষু অবস্থায় বাসা থেকে উদ্ধার করে দ্রুত বৈরুতের মাকাসাদ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ দিন পর শিশুকন্যা খাদিজা মারা যায়। এর একদিন পর মা শিরীন খাতুনের মৃত্যু হয়। প্রতিবেশীরা আরও জানান, শিরীন খাতুন তার স্বামী রাজু উদ্দিনের সঙ্গে অনেকদিন ধরে সাবরা এলাকায় আছেন। ২ বছর আগে রাজু স্থানীয় কয়েকজন বাংলাদেশির কাছ থেকে ঋণের কথা বলে অর্থ নিয়ে বাংলাদেশে চলে যান। তখন থেকেই পাওনাদাররা অর্থের জন্য শিরীনকে চাপ দিতে থাকেন। ভিডিও বার্তায় শিরীনের মা মনোয়ারা বেগম তার মেয়ে ও নাতির মৃত্যুর জন্য রাজুকে দায়ী করে তাদের মরদেহ ফিরে পেতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শিশু খাদিজার মরদেহ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে লেবাননে দাফন করা হয়েছে। শিরীনের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

গ্রিসে এক বছরে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশির মৃত্যু, অধিকাংশই মারা গেছেন হৃদরোগে

প্রবাসে স্ট্রোকে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এসব মৃত্যু যেন অনেকটাই নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং নানা কারণে মানসিক চাপে হতাশায় স্ট্রোক করেন এসব প্রবাসী। ইউরোপের দেশ গ্রিসেও বেড়েই চলছে বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর সংখ্যা। এথেন্স দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গ্রিসে ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মোট ১০৯ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪৫ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। ২০২১-২২ অর্থ ৩৭ জন এবং ২০২২ সালের সর্বশেষ ৮ মাসে প্রায় ২৭ জন বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা মারা গেছেন বিভিন্নভাবে। জরিপে দেখা গেছে এদের মাঝে বেশির ভাগই স্ট্রোকে মৃত্যু। আঞ্চলিক কমিটি ও বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্সের তত্ত্বাবধায়নে মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী কয়েকজনের মরদেহ গ্রিসেই দাফন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় বেশিরভাগ ব্যক্তি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি আরো জানান, পর্যালোচনা করে দেখা গেছে কেউ জমি বিক্রি করে, কেউ ঋণ করে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে গ্রিসে এসেছেন। বৈশ্বিক করোনা মহামারির মন্দা পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে গ্রিসে আসার পর কর্মহীন প্রবাসীরা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে মানসিক চাপে ভোগেন। বেশিরভাগ প্রবাসীই মারা গেছেন হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেইন স্ট্রোকে। তাদের অনেকের বয়সই ৩০-৪০ বছর। এমন মৃত্যু পরিবারের কাছেও অপ্রত্যাশিত। বর্তমানে গ্রিসে বৈধভাবে আসার সুযোগ তৈরী হয়েছে তাই অবৈধভাবে কেউ যেন কাজের ক্ষেত্র নিশ্চিত না হয়ে বিদেশে পাড়ি না জমান, এজন্য অনুরোধ করেছেন দূতাবাসের এই কর্মকর্তা। অনেকেই মনে করেন, ঋণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে টাকা শোধ করার চাপের কারণে অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা রয়েছে অনেক প্রবাসীর মধ্যে। অবৈধভাবে থাকা অনেকেই কোনো কাজ করার সুযোগ না পেয়ে বেকার অবস্থায় থাকেন। থাকা ও খাবারের টাকা দেশ থেকে নিয়ে পরিশোধ করেন। ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার কারণে নিয়মিত ঘুমানোর সুযোগ পান না প্রবাসীরা। এসব কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। গ্রিস প্রবাসী অভিবাসন বিশ্লেষক কামরুজ্জামান ভূইয়া ডালিম বলেন, ‘করোনার কারণে অনেকের কাজ ছিল না, অর্থনৈতিক সংকট ছিল। আবার অনেকে গ্রিসের পারমিট নবায়ন করতে পারেনি। তাই দেশেও পরিবার পরিজনের কাছে যেতে পারেনি। হতাশায় প্রবাসীদের মধ্যে স্ট্রোকের হার বাড়ে, অনেকে মৃত্যুবরণ করেন। যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত।' গ্রিস অবৈধ হয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়মিত বা বৈধকরণের কার্যক্রম আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ-গ্রিসের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির অধীনে ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিদের বড় অংশের দুশ্চিন্তা অনেকাংশে কমে যাবে বলে বিশ্বাস কমিউনিটি নেতাদের। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ‘বৈধতা পেলে অনেকেই উপকৃত হবেন। তবে সবকিছু নির্ভর করছে কর্মসূচির সফলতার ওপর। এক্ষেত্রে অনিয়মিত প্রবাসীদের পাসর্পোটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সমস্যা নিরসনে দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা ও প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি।’ চুক্তির আওতায় প্রতিবছর ৪ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তাই অবৈধভাবে কেউ যেন গ্রিসে পাড়ি না দেন সে আহ্বান জানিয়েছেন দূতাবাস কর্মকর্তা, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও কমিউনিটি নেতারা।সুত্র- বাংলাদেশ প্রতিদিন

post
এনআরবি বিশ্ব

দুবাইয়ে ৪৫ জন প্রবাসীকে ‘রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা

বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের উৎসাহিত করতে দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট ‘রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা করেছে। পাঁচটি আলাদা ক্যাটাগরিতে ৪৫জন প্রবাসীকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে।বাংলাদেশ কনস্যুলেটের দূতালয় প্রধান মো. মোজাফফর হোসেনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাস সময়ের মধ্যে শুধু বৈধপথে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রেরণকারীগণ ‘রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। পাঁচটি আলাদা ক্যাটাগরির মধ্যে মাসিক ১২’শ দিরহাম বেতনের সমপরিমাণ ও এর নিচে সাধারণকর্মীদের থেকে ১০জন, ১২’শ দিরহামের উপরের সাধারণকর্মীদের ১০জন, ব্যবসায়ী (পুরুষ) ১০ জন, ব্যবসায়ী (নারী) ৫জন ও পেশাজীবীদের মধ্যে প্রকৌশলী, শিক্ষক, ব্যাংকার, কনসালটেন্ট, সাংবাদিক, ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কর্মরত প্রবাসীদের থেকে ১০জনকে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ডের জন্য কনস্যুলেট কর্তৃক সরবরাহকৃত নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হবে। বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণের প্রমাণক, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন দাখিল করতে হবে।দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, শারজাহ ও ফুজাইরাতে বাংলাদেশ সমিতি, রাস আল খাইমাহতে বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুলে সরাসরি অথবা [email protected] ই-মেইল ঠিকানায় আবেদন দাখিল করা যাবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

post
এনআরবি বিশ্ব

গ্রিসে প্রায় দেড় মাস ধরে নিখোঁজ প্রবাসী ওয়াহিদ

ইউরোপের দেশ গ্রিসে প্রায় দেড় মাস ধরে নিখোঁজ মো. ওয়াহিদ আলী (২৭) নামে এক প্রবাসী। তার পরিবার ও গ্রিসে থাকা স্বজনদের অভিযোগ অর্থ আত্মসাতের জন্য তাকে গুম করেছে একটি চক্র। ঘটনার পর থেকে দোকান বন্ধ করে পালিয়েছে অভিযুক্ত তিন সহোদর ও তাদের সহযোগীরা। ঘটনাটি ঘটেছে গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে ৩২০ কিলোমিটার দূরে মিনি বাংলাদেশ নামে পরিচিত মানোলাদার লাপ্পা গ্রামে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও আত্মসাতকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিখোঁজের মামা রমিজ মিয়া। নিখোঁজ ওয়াহিদ হবিগঞ্জ জেলার অনন্তপুর গ্রামের সিদ্দিক আলীর ছেলে। অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হবিগঞ্জের ওয়াহিদ আলী দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গ্রিসের কৃষি কাজের জন্য প্রসিদ্ধ গ্রাম মানোলাদার পাশে লাপ্পা নামক গ্রামে বসবাস করে আসছিল। দীর্ঘদিন ধরে গ্রিসের লাপ্পায় ‘লিটন মিনি মার্কেট’ নামের একটি বাংলাদেশি মুদি দোকানে কর্মরত ছিলেন তিনি। দোকানটি পরিচালনা করতেন কুমিল্লা নাঙ্গলকোটের ইউনুস মিয়া ওরফে লিটন, মো. ইদ্রিস ও কুদ্দুস মিয়া নামে তিন সহোদর ও তাদের বন্ধু সুলতান আহমেদ এবং পলাশ মিয়া। তাদের দোকানে কর্মরত ওয়াহিদের সততায় সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মাঝে সৎ ব্যক্তি হিসেবে খুব অল্প সময়ে পরিচিতি লাভ করে। তাই বিশ্বাস করে তার মাধ্যমে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের উপার্জিত অর্থ জমা রাখতেন এবং বিকাশ-মানিগ্রামের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাতেন। লাপ্পায় বসবাসরত অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ কাগজ পত্র না থাকায় ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেননি, তাই কৃষি কাজের মতো পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ নিরাপদ মনে করে জমা রাখতেন লাপ্পায় বসবাসরত অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশীরা। আর সেই ইউরো ওয়াহিদ তার মালিকের কাছেই রাখতেন, যা মালিক পক্ষ তাদের ব্যবসায় খাটাতেন বলেও জানা গেছে। দীর্ঘ লেনদেনের সূত্রে এক সময় বড় অংকের ইউরো জমা হয়ে যায়। জানা গেছে, নিরাপদ ও জিম্মা হেফাজতের চিন্তায় গেল ঈদুল আজহার আগে তার কাছে আরও প্রায় ৬১ জন বাংলাদেশির লক্ষাধিক ইউরো জমা রাখেন, যা বর্তমানে বাংলাদেশের এক কোটি টাকার চেয়েও বেশি। ওয়াহিদ সেই ইউরোগুলোও তার কর্মরত প্রতিষ্ঠানের মালিক লিটন মো. ইদ্রিস ও কুদ্দুস মিয়ার নিকট জমা রাখেন। এ অবস্থায় গত ৭ জুলাই রাত থেকে ওয়াহিদের মোবাইল ফোন বন্ধ পায় স্বজনরা। মোবাইলে যোগাযোগ করতে না পেরে পরের দিন গ্রিসে থাকা ওয়াহিদের স্বজনরা সরেজমিনে ওই দোকানে গেলে দোকানের মালিক পক্ষ তাদের জানান, সে রাতে ঘুমিয়ে ছিল, সকালে তারা দেখতে পান সে ঘরে নেই। এ ছাড়া আর কোনো সুদুত্তর দিতে পারেনি মালিক পক্ষ। এ খবরে হতাশ হয়ে পড়েন ওয়াহিদের স্বজনরা। এক পর্যায়ে ঘটনার ৬ দিন পর স্থানীয় আখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিখোঁজের মামা রমিজ মিয়া। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওয়াহিদ কর্তৃক জমাকৃত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আমানতের পরিমাণ বেশি হওয়ায় লোভের বশীভূত হয়ে অর্থগুলো হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেন লিটন, ইদ্রিস, কুদ্দুস, সুলতান ও পলাশ মিয়াদের চক্রটি। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ওয়াহিদকে হত্যা করে লাশ গুম করার অভিযোগ উঠেছে তিন ভাই ও তাদের দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। এই খবরটি সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে সকলেই আতংকিত হয়ে পড়েন এবং ওয়াহিদকে খুঁজে বের করার জোর দাবী জানান । ঘটনার খবর জানতে এ প্রতিনিধি মানোলদার লাপ্পা গ্রামে পৌঁছালে ওয়াহিদের স্বজনরাও এমনই বর্ণনা দেন এবং সাংবাদিকের উপস্থিতির খবরে সেখানে বসবাসরত শত শত বাংলাদেশিরা জড়ো হয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় আখাইয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তাৎক্ষনিক-ভাবে অভিযান পরিচালনা করে গ্রিক পুলিশ। এরপরই দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত সবাই। পরে পুলিশ ওয়াহিদের কর্মস্থল ও বাসস্থান পরিদর্শন করেছে। এ সময় অভিযুক্ত কাউকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। এ ছাড়া এথেন্সের প্লাথিয়া ভাতিসে অবস্থিত তাদের আরেকটি দোকান রয়েছে অভিযুক্ত লিটনের। সেই দোকানটিও বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায় লিটন। এ ঘটনার বিষয়ে তাদের বক্তব্য নিতে লাপ্পার ‘লিটন মিনি মার্কেটে’ গেলে দেখা যায় সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া এথেন্সের প্লাথিয়া ভাতিসে অবস্থিত মিনি মার্কেটে একাধিকবার গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান ওই ঘটনার পরপরই তালা দিয়ে পালিয়েছে লিটন। এ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ‘ধারণা করা যাচ্ছে জমাকৃত টাকার জন্য এমন ঘটনা হতে পারে।’ তিনি বলেন ‘তাকে খুঁজে পেতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে আলোচনা করা এবং স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশের সাথে কথা বলা হয়েছে।’ তাকে খুঁজে পেতে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের পক্ষ থেকে যা কিছু করা দরকার বা যেখানে যাওয়া প্রয়োজন সেখানেই যাবেন বলে আশ্বাস দেন কমিউনিটির সভাপতি। এ ব্যাপারে এথেন্সে অবস্থিত দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করলে- দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) বিশ্বজিৎ কুমার পাল ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশের সাথে সহযোগিতার কথা জানান। এ বিষয়ে জানতে লাপ্পার আখাইয়া থানায় গেলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজ ওয়াহিদকে খুঁজে বের করতে তারা তৎপরতা চালাচ্ছেন। এছাড়া দূতাবাস থেকেও তাদের বেশ কয়েকবার ফোন করে ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করার অনুরোধ করা হয়েছে। এদিকে হোয়াটসআপে অভিযুক্ত ইউনুস মিয়া ওরফে লিটন দাবি করেন, তাদের কেউই এই ঘটনার সাথে জড়িত নই। ব্যবসায়িক শত্রুতার কারণে তাদের প্রতিপক্ষ ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তবে আত্মগোপনে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন জানান, তারা পুলিশের ভয়ে পালিয়ে গেছেন। তবে এইভাবে তাদের আত্মগোপন করা ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে জড়িতদের সনাক্ত করে ওয়াহিদকে উদ্ধার করাসহ আত্মসাৎকারীদের কবল থেকে প্রবাসীদের অর্থ উদ্ধার করে তা ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও গ্রিক প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন গ্রিস প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

post
এনআরবি বিশ্ব

মালেতে ফয়সাল ইমরান নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে মো. ফয়সাল ইমরান নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে ব্রেন স্ট্রোক করে তিনি মারা যান। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মো. হারুন মিয়ার ছেলে। জানা যায়, গতকাল বুধবার রাতের খাবার শেষে স্বাভাবিক অবস্থায় ফয়সাল ঘুমাতে যান। এর এক ঘণ্টার মধ্যে তিনি হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোক করেন। এরপর তার সহকর্মীরা তাকে দেশটির রাজধানী মালের আইজিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ফয়সাল ইমরানের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইমরানের সাত মাস বয়সী এক ছেলে রয়েছে।  

post
এনআরবি বিশ্ব

দক্ষিণ আফ্রিকায় অপহরণ আতংকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ীদের অপহরণের ঘটনা বহু গুণ বেড়েছে। আবার অপহরণের পর মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা এখন সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। দেশটির প্রধান শহর জোহানসবার্গ, কেপটাউন, ডারবান, ব্লুমফ্রন্টেন্ট ছাড়াও ৯টি প্রদেশেই বাংলাদেশি ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা অপহরণ শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি জোহানসবার্গে নিজ দোকানের সামনে ৪ দেহরক্ষীর মধ্য থেকেই বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সালাউদ্দীনকে উঠিয়ে নিয়ে যায় অপহরণকারীদের একটি দল। অপহরণের প্রায় এক মাস হয়ে গেলেও তার কোনো হদিস মেলেনি। তা ফিরে না আসা বা অপহরণকারীরা মুক্তিপণ চেয়ে যোগাযোগ না করায় বিষয়টিকে অন্যান্য অপহরণের সঙ্গে মেলাতে পারছেন না প্রবাসী বাংলাদেশিরা।গত ১৯ আগস্ট দেশটির ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্স টাউনের একটি সড়ক থেকে রিংকু, সুজন, মানিক ও ইসমাইল নামের চার বাংলাদেশি অপহৃত হওয়ার তিন দিন পর ২ লাখ ৮০ হাজার রেন্ড (স্থানীয় মুদ্রা) মুক্তিপণ দিয়ে তারা ফিরে আসেন। ফিরে আসাদের কেউ কেউ মাফিয়াদের আগের দেওয়া হুমকির বাস্তবরূপ দেখলেও বর্তমানে টার্গেটের বাইরেও রাস্তা থেকে আচমকা তুলে নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। অপহৃত হওয়ার পর আইনি পথে না গিয়ে নিরীহ প্রবাসীরা চক্রের দাবি মেনে সামর্থ্য অনুযায়ী দক্ষিণ আফ্রিকা বা বাংলাদেশিদের কাছে দাবিকৃত টাকা মিটিয়ে প্রাণে বেঁচে আসার চেষ্টায় থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় অপহৃত প্রবাসী ব্যবসায়ীদের উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেন প্রবাসী বাংলাদেশি শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সপ্তাহে দুই থেকে চারটা অপহরণের ঘটনা আমরা শুনে থাকি। বাস্তবে দেশটিতে এর চেয়ে বেশি প্রবাসী ব্যবসায়ীরা অপহরণের শিকার হচ্ছেন। বেশিরভাগ ফিরে আসার পর আর মুখ খুলেন না। শুধু ধনীরা অপহরণ হচ্ছেন এমন নয়, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তরাও অপহৃত হচ্ছেন।শফিকুর বলেন, এটা শুধু বড় বড় গ্যাংস্টার বা মাফিয়ারা করছে বিষয়টি এমন নয়। ক্ষেত্র বিশেষে পাকিস্তানি, ভারতীয়, আফ্রিকান, এমনকি কিছু এলাকায় বাংলাদেশিরা অপরাধ চক্র গড়ে তুলেছেন। শুধুমাত্র অপরাধমূলক চিন্তা থেকে তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসীদের কমিউনিটি সংগঠন বাংলাদেশ পরিষদের সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা সালাউদ্দীনের অপহরণের ঘটনাসহ বিষয়গুলো নিয়ে দেশটির পুলিশসহ বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিছু ঘটনায় সফল হয়েছি। এই সমস্যা শুধু আমাদের নয়, এটা এখানকার বড় সমস্যা। যার কিছুটা খারাপের শিকার আমরাও হয়ে যাচ্ছি। তারপরও কমিউনিটি ঐক্যবদ্ধ থাকলে, একে অপরকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে চললে আশা করছি ভালো ও নিরাপদ থাকতে পারব। দক্ষিণ আফ্রিকা শাখা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. লুৎফর রহমান রূপন বলেন, সম্প্রতি দূতাবাসের সহযোগিতায় আইনি লড়াইয়ে দেশটিতে প্রবাসী ব্যবসায়ী শহিদুর রহমানকে (৪৭) অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় দুই আফ্রিকানকে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমার ধারণা সঠিক পথে আইনি প্রক্রিয়ায় গেলে দেশটিতে বাংলাদেশিরা ভবিষ্যতে নিরাপদে থাকতে পারবেন।

post
এনআরবি বিশ্ব

আমিরাতে প্রবাসীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন বাংলাদেশি যুবকেরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে যে কোনো স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়াটা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বিদেশি ভাষায় কথা বলতে বা রোগের বর্ণনা করতে না পারায় অনেক সময় সঠিক চিকিৎসা পান না তারা।প্রবাসীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছেন তিন বাংলাদেশি যুবক। তিন বন্ধুর বিনিয়োগে গড়ে তুলেছেন ‘আমার ক্লিনিক’ হাসপাতাল। যেখানে স্বল্প খরচে চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।আমিরাতে আজমানের সানাইয়ায় স্থাপিত এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ওষুধ বিতরণ কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়েছে। আর্থিকভাবে অসহায় প্রবাসীদের যেকোনো সময় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে এখানে।শারজাহ ও আজমানে দুটি চিকিৎসা কেন্দ্রে বর্তমানে বাংলাদেশি চিকিৎসকসহ ২০ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছেন। প্রবাসীদের কথা চিন্তা করে আগামীতে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সেবায় আরো বেশ ডাক্তার ও সেবিকা নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

post
এনআরবি বিশ্ব

আমিরাতে ফেসবুক লাইভে এসে প্রবাসী বাংলাদেশির আত্মহত্যা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে মুহাম্মদ খায়রুল বাশার রানা (৫৫) নামে একজন প্রবাসী ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২২ আগস্ট) আমিরাতের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।ওই প্রবাসী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মৃত বদিউল আলমের ছেলে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের লাকী রাউন্ড নামক এলাকার একটি ভাড়া বাসার কক্ষে ভাড়ায় থাকতেন। ফেসবুক লাইভে এসে তার মৃত্যুর জন্য একই উপজেলার সুয়াবিল গ্রামের রফিক নামের এক প্রবাসীকে দায়ী করেন। রফিকের বিরুদ্ধে তার দোকান ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেন। 

post
এনআরবি বিশ্ব

আরব আমিরাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রবাসীর মৃত্যু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে সৈয়দ মুহাম্মদ বেলাল নামে ফটিকছড়ির এক প্রবাসী যুবক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।১০ দিন চিকিৎসাধীন থেকে রোববার (২১ আগস্ট) দুবাই এনএমসি স্পেশালিটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।সৈয়দ বেলাল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের সৈয়দ পাড়া নতুন হাবিলদার বাড়ির সৈয়দ শাহিনের ছেলে।আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হবে।

post
এনআরবি বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শাহরিয়ার উদ্দিন আহমেদ (১৯) বস্টনের এমআইটি’র ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং শাকিল আলী (১৯) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ার কম্প্যুটার সায়েন্সের ছাত্র। শুক্রবার রাতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তারা নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা কবলে পড়া গাড়িতে (জীপ) থাকা তাদের আরও ৩ সহপাঠী গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা হলেন, তাহমিদুর চৌধুরী (১৯), সুব্রত চৌধুরী (১৯) এবং যসোয়া রিভারা (১৮)। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন যসোয়া। নিউজার্সি স্টেটের প্যাসেইক কাউন্টি প্রসিকিউটর এবং লিটল ফলস পুলিশের পক্ষ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিউজার্সির প্যাটারসন শহরের ২৩ রুট এবং উডহ্যাল রোডে একটি মার্সিডিজ গাড়ির সাথে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই শাহরিয়ারের মুত্যু হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় নিকটস্থ সেন্ট যোসেফ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা শাকিলের মৃত্যুর তথ্য জানান। অন্যরা একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে রবিবার দুপুরে প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে। নিহত শাহরিয়ারের মা-বাবা সিলেটের এবং শাকিলের মা-বাবা পাবনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে বসতি গড়েছেন বলে প্যাটারসন সিটির বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম জানিয়েছেন। সালাম উল্লেখ করেন যে, হতাহতরা গত বছর প্যাসেইক কাউন্টি টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন। ভিকটিম পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে এম এ সালাম আরো জানান, ৫ বন্ধু নিকটস্থ একটি দোকানে আইসক্রিম কিনতে যাবার পথেই এই দুর্ঘটনার শিকার হন। উল্লেখ্য, নিহত শাহরিয়ার উদ্দিন আহমেদ ‘সবুজ বাংলা’ টিভির টেকনোলজি ডিরেক্টর ছিলেন। প্যাটারসন এলাকার কংগ্রেসম্যান বিল প্যাসক্রলের নামে তিনি একটি অনলাইন টিউটোরিং এ্যাপ চালু করেছেন হোমওয়ার্কে সহযোগিতার জন্যে। অপরদিকে শাকিল আলী ছিলেন ইউনিভার্সিটিতে চালু ‘ফিউচার বিজনেস লিডারস অব আমেরিকা’র প্রেসিডেন্ট। এটি হচ্ছে ইউনিভার্সিটির নেতৃস্থানীয় একটি কর্মসূচি, যেটি রবোটিক্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাবের পরিপূরক। অ্যামাজনের ইন্টার্ন হিসেবে কর্মরত শাকিল ট্রেজারার ছিলেন ‘রোহ ক্যাপ্পা অনর সোসাইটি’র। এদিকে, নিহতদের দাফন-কাফন এবং আহতদের চিকিৎসায় তাৎক্ষণিক সহযোগিতার অভিপ্রায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ৫ জনের বন্ধুরা ‘গো ফান্ড ফর মী’ একাউন্ট খুলেছেন। ৩০ হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্দ্ধারণ করে খোলা এই একাউন্টে রোববার দুপুর পর্যন্ত ২৫৬ জন ছাত্র-ছাত্রী ১৫৫৪৫ ডলার দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, প্যাসেইক কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস জানায় যে, দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ব্যাপারে কারো কিছু জানা থাকলে ১-৮৭৭-৩৭০-৭২৭৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। নিহত দু’বন্ধুর লাশ রবিবার পর্যন্ত মর্গে রয়েছে। ময়না তদন্তের পর তা স্বজনের কাছে হস্তান্তরের পরই জানাযার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান এম এ সালাম। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.