post
এনআরবি বিশ্ব

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীরা

১০ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও গণমাধ্যমে সরকারি দল ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের কথার লড়াইয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত হয়েছে। পরিস্থিত দেখে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীরা আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে টার্গেট করলে সংঘাত-সংঘর্ষ রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে যেতে পারে। আর তাতে সরকারি-বেসরকারি আফিস, ব্যবসা-বাণিজ্য, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাধার মুখে পড়তে পারে।দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের একটি বাংলাদেশি খাবারের দোকান পরিচালনা করেন মিন্টু মিয়া। তিনি বলেন, আমরা বিদেশে এসেছি টাকা রোজগার করে দেশ গড়তে। দেশকে আর্থিকভাবে সহাযোগিতা করার জন্য। দেশের ভবিষ্যৎ সুচিন্তিত করবে রাজনৈতিক দলগুলো। সেটা কিন্তু হচ্ছে না। আমরা দেশ নিয়ে বেশি টেনশনে থাকি। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী ইকবাল হোসেন বলেন, স্বাধীনতা অর্জন করেছি, পঞ্চাশ বছর পরও আমরা রাজনৈতিক বিভাজন দেখতে পাচ্ছি। জাতির মধ্যে ঐক গড়ে ওঠেনি। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে গড়তে চাই। কোনো সংঘাত, রক্ত, জীবনহানি এসব চাই না। জোহানেসবার্গের ব্যবসায়ী নোয়াখালীর ইউসুফ মিয়ার বড় ছেলে স্থানীয় একটি কলেজে পড়ছেন। তিনি বলেন, বিদেশে বসে দেশে থাকা পরিবার-পরিজন, ছেলেদের নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তায় থাকি। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন করা দরকার।  

post
এনআরবি বিশ্ব

ইতালিতে ৭ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

ইতালিতে বিভিন্ন কারণে গেল ও চলতি মাসের কয়েক দিনের ব্যবধানে মোট সাতজন বাংলাদেশি মারা গেছেন। যার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসীদের হতাশার কথা ব্যক্ত করে দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। জানা গেছে, গত মাসের (২৬ নভেম্বর) ইতালির রোমের অদূরে অবস্থিত সিভিতা ভেক্কিয়ায় মো. সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়, তার দেশের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ। চলতি মাসের (৫ ডিসেম্বর) রেদুয়ানুর রহমান নামের আরেক ব্যক্তিকে রাস্তায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, তার দেশের বাড়ি রাজধানীর ঢাকায়। পুলিশ তার মৃতদেহটি হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। একই দিনে কাতানিয়া সিসিলিতে মো. শাহ আলম নামের এক যুবক হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান।অপরদিকে (৬ ডিসেম্বর) মো. বারেক সারেং নামের আরেক বাংলাদেশি হার্ট অ্যাটাকে দক্ষিণ ইতালির নাপোলির হাসপাতালে মারা যায়, তার দেশের বাড়ি শরীয়তপুর। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মো. ফয়সাল খান নামের এক ব্যক্তিও রোমে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে আনকোনা শহরে ইমরান দরবারী নামের আরেক বাংলাদেশি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান, তার বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। তার পিতার নাম লুৎফর দরবারী। অপরদিকে চলতি মাসের (৭ ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স যোদ্ধা মোহাম্মদ আজিম ইতালির একটি হাসপাতালে মারা যায়। তার পিতা মরহুম মতি ভেন্ডার। তার দেশের বাড়ি ঢাকায় খেপুপাড়া সবুজবাগ কলেজ রোড। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বেশিরভাগ মৃতদের ব্যক্তিগত তথ্য পরিচয় পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, বেশিরভাগ মৃতদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হবে। তাদের অকাল মৃত্যুতে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

post
এনআরবি বিশ্ব

আরব আমিরাতে তিন প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ উদ্ধার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমায় নিজ বাসা থেকে তিন প্রবাসী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৮ ডিসেম্বর) পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে।মৃত তিন ব্যক্তি হলেন, চট্টগ্রাম চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকার গিয়াস উদ্দিন, পটিয়ার বাহুবলি এলাকার আমিরুল ইসলাম কাইয়ুম ও মোহাম্মদ রাকিব। জানা যায়, তিনজনই বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি মুদি দোকানে কর্মরত ছিলেন। দোকানের মালিক জানান, কর্মচারীদের ডাকতে গেলে তাদের সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে তিনজনকেই মৃত অবস্থায় পান। তবে মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। দোকানের মালিক মোহাম্মদ রহিম মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, রুমে বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চালানোয় সেখান থেকে গ্যাসের বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যান তারা। দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেট বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম সচিব ফকির মনোয়ার হোসেন বলেন, 'তিন যুবকের মৃত্যুর কারণ জানতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।' তিনি আরও জানান, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পুলিশ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবে।

post
এনআরবি বিশ্ব

পর্তুগালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি

পর্তুগালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ আবু কায়েস (৩৮)। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজলোয়। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে বাসায় ফেরার পথে পিছন থেকে একটি পিকাআপ ভ্যানের ধাক্কায় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অ্যাম্বুলেন্স এসে কায়েসকে মৃত ঘোষণা করেন। মোহাম্মদ আবু কায়েস গত ১০ নভেম্বর জীবনের ভাগ্য পরিবর্তন করার আশায় কৃষি ভিসায় পর্তুগাল আসেন। দেশে স্ত্রী ও ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে তার। 

post
এনআরবি বিশ্ব

ভারতে একই পরিবারের ৫ ‘বাংলাদেশি’ গ্রেপ্তার

ভুয়া পাসপোর্ট বহনের অভিযোগে এক 'বাংলাদেশিকে' স্ত্রী, ২ ছেলে ও বাবাসহ গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুর শহরের পুলিশ। গতকাল রোববার তাদেরকে কানপুরের মেসটন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রিজওয়ান মোহাম্মদ (৫৩), তার স্ত্রী হিনা খালিদা, তাদের ২ ছেলে ও রিজওয়ানের বাবা খালিদ মজিদ (৭৯)। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ৫টি ভুয়া আধার কার্ড, ১১টি ভারতীয় ও বাংলাদেশি ভুয়া পাসপোর্ট, শিক্ষা সনদ, ১ হাজার মার্কিন ডলার, স্বর্ণালঙ্কার ও ১৪ লাখ ৫৬ হাজার ভারতীয় রুপি জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বাড়ি বাংলাদেশের খুলনায় উল্লেখ করে পুলিশ আরও জানায়, তারা 'ভারতীয়' হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন। কানপুর পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার আনন্দ প্রকাশ তিওয়ারি বলেন, 'তাদের সনদগুলোয় যে স্বাক্ষর আছে তা যাচাই করে দেখা হবে।' তিনি আরও বলেন, 'রেজওয়ান জানিয়েছেন যে—তিনি ১৯৯৬ সালে ভ্রমণ ভিসায় ভারতে এসেছিলেন। ২ বছর পর দিল্লিতে হিনা খালিদকে বিয়ে করেন। হিনা ও তাদের ২ ছেলে অবৈধভাবে বাংলাদেশে গিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট যোগাড় করে আবার ভারতে ফিরে আসেন।'

post
এনআরবি বিশ্ব

পর্তুগালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি

পর্তুগালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একজন প্রবাসী বাংলাদেশি। মৃত ব্যক্তির নাম আবু কায়েস (৩৮)। তার দেশের বাড়ি কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাঘাইস গ্রামে। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে বাসায় ফেরার পথে পেছন থেকে একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অ্যাম্বুলেন্স এসে কায়েসকে মৃত ঘোষণা করেন। মোহাম্মদ আবু কায়েস গত ১০ নভেম্বর জীবনের ভাগ্য পরিবর্তন করার আশায় কৃষি ভিসায় পর্তুগাল আসেন। দেশে স্ত্রী ও ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে। তার অকাল মৃত্যুতে পর্তুগালে বাংলাদেশ কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

বসনিয়া থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জঙ্গল দিয়ে বাংলাদেশিদের ইউরোপযাত্রার খবর কয়েক বছর ধরে সামনে আসছে। প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে দেশটির জঙ্গলে বাংলাদেশিদের আটকে পড়ার ঘটনা প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। ফলে বসনিয়ায় আটকে পড়া অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীর তালিকায় বাংলাদেশের নামও উঠে এসেছে। বিষয়টি বসনিয়াকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। তাই তারা এ সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশকে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুরোধ করেছে।বসনিয়ায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অভ্যর্থনাকেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজারের মতো অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী অবস্থান করছেন। অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকটি সূত্র চলতি সপ্তাহে বসনিয়া থেকে এসব তথ্য জানিয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের বিষয়টি সুরাহার জন্য গত মাসের শেষ দিকে বসনিয়ার নিরাপত্তামন্ত্রী সেলমো সিকোটিচ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে চিঠি দিয়েছেন।ইউরোপের একাধিক দেশে কর্মরত বাংলাদেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন থেকে চার বছর ধরে ইউরোপে যেতে অনেক বাংলাদেশি বসনিয়া ও স্লোভেনিয়া যাত্রা করছেন।ইউরোপের সীমান্ত ও উপকূলীয় রক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম বলকানের দেশগুলোকে ব্যবহার করে ইউরোপে মানব পাচারের বিষয়টি প্রথম বড় পরিসরে আলোচনায় আসে ২০১৫ সালে। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে ইউরোপে যেতে ৬১ হাজারের বেশি ব্যক্তি পশ্চিম বলকান অঞ্চলের ছয়টি দেশের মাধ্যমে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে।অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া বা স্লোভেনিয়া-ক্রোয়েশিয়া হয়ে উঠেছে ইউরোপে মানব পাচারের অন্যতম পথ (রুট)। মানব পাচারকারী চক্রগুলো লোকজনকে বিভিন্নভাবে ক্রোয়েশিয়া হয়ে বসনিয়া বা স্লোভেনিয়ায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে অ্যাড্রিয়াটিক সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিসহ ইউরোপের সমৃদ্ধ দেশগুলোতে পাঠাতে ভাগ্যান্বেষী এসব মানুষকে বিপজ্জনক যাত্রায় নামায় মানব পাচারকারীরা। মানব পাচারকারীরা পশ্চিম বলকানের যে ছয়টি দেশের রুট ব্যবহার করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে পাচার করে থাকে, বসনিয়া তার অন্যতম। অপর পাঁচটি দেশ হলো—আলবেনিয়া, মন্টেনেগ্রো, কসোভো, উত্তর মেসিডোনিয়া ও সার্বিয়া।২০২০ সালে বসনিয়ার জঙ্গলে কয়েকটি দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীর পাওয়ার খবর আসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। এই দলে বাংলাদেশিরাও ছিলেন। এ নিয়ে বসনিয়ায় শোরগোল শুরু হয়। মূলত তখন থেকেই অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের ফেরানোর বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অব্যাহতভাবে যোগাযোগ শুরু করে বসনিয়া। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) সাব্বির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বসনিয়া সফর করে। সে সময় বেশ কিছু বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। পরে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির নামে ভ্রমণ পাস ইস্যু হয়। কিন্তু তাঁদের অর্ধেকের বেশি পালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশিকেই আর বসনিয়া থেকে ফেরত আনা হয়নি। এতে বসনিয়া হতাশ হয়।গত মাসের শেষ সপ্তাহে আব্দুল মোমেনকে লেখা চিঠিতে বসনিয়ার নিরাপত্তামন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর দেশ সফর করেছিল। সে সময় সমস্যা সমাধানের উপায় চিহ্নিত করে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু তার পর থেকে বসনিয়ায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতির উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলছে। এমন পরিস্থিতিতে বসনিয়া সরকার চায়, বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল যেন সে দেশ সফর করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। লোকজনের পরিচয় যাচাই শেষে যেন তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিতে ভ্রমণ-সংক্রান্ত কাগজপত্র জারি করে। প্রতিনিধিদলের খরচ দেবে বসনিয়া বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বসনিয়া জানিয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত সে দেশে উপস্থিত বাংলাদেশির (অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী) সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বসনিয়ার অস্থায়ী অভ্যর্থনাকেন্দ্রে অবস্থানরত এসব লোকজনের সাক্ষাৎকারের পর তাঁদের বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। পশ্চিম বলকানের দেশটির মন্তব্য, অবৈধ পন্থায় ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী এসব লোকজন বসনিয়ার জন্য নানা মাত্রায় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বসনিয়ায় পৌঁছানো বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে পশ্চিম বলকানের দেশগুলোর একটি বিশেষায়িত কর্মসূচিতে অর্থায়ন করছে ডেনমার্ক। বাংলাদেশিদের ফেরত আনার বিষয়ে বসনিয়া সফরের জন্য কোনো প্রতিনিধিদল ঢাকা থেকে গেলে তাদের আকাশপথে যাওয়া-আসার ভাড়া, থাকা-খাওয়ার খরচ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সারায়েভো।

post
এনআরবি বিশ্ব

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে ওই ব্যবসায়ীর ছোট ভাইকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানার নজরপুর গ্রামে। ১৬ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় রাত ৯টার পর জোহানেসবার্গের বেননী এলাকায় নিজেদের দোকান থেকে গাড়িতে বাসায় ফেরার পথে ঘটনার শিকার হন ২ ভাই।তাদের মামা প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন জানান, দোকান বন্ধ করে নিজেদের গাড়িতে ফেরার সময় বাসার সামনে অবস্থান নেওয়া দুর্বৃত্তরা ২ ভাইকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দুর্বৃত্তদের একজন বড় ভাই নাজমুল হোসেন নাদিমের কপালে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান নাজমুল। তিনি আরও জানান, গুলিবিদ্ধ নাদিমকে ফেলে রেখে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছোট ভাই শামীম রহমানকে গাড়িসহ অপহরণ করে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ওই এলাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠন মুক্তবাংলা ফাউন্ডেশনের প্রধান শফিকুর রহমান বলেন, 'খুবই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। রাত ৩টা পর্যন্ত আমরা ঘটনাস্থলে থেকে স্থানীয় কমিউনিটিসহ পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি।' তিনি জানান, নিহত নাজমুলের মরদেহ ময়নাতদন্তে জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, অপহৃত শামীম রহমানকে খুঁজে বের করার কাজ চলছে।'

post
এনআরবি বিশ্ব

থাকব ভালো, রাখব ভালো দেশ; বৈধপথে প্রবাসী আয়-গড়ব বাংলাদেশ

‘থাকব ভালো, রাখব ভালো দেশ; বৈধ পথে প্রবাসী আয়-গড়ব বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে মিশরের রাজধানী কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস।সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির পর শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।ঢাকা থেকে পাঠানো রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানোর পর আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন, মিশরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।রাষ্ট্রদূত মো. মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও প্রধান অতিথি (সদ্য অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব) খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের উপস্থিতিতে দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্যের ওপর বক্তব্য দেন দূতালয় প্রধান ও শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কাউন্সিলর (শ্রম) মুহাম্মদ ইসমাইল হুসাইন।মিশরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক প্রবাসী বাংলাদেশি কাজী নূরে আলম বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরও দক্ষ হয়ে বিদেশ যেতে হবে। বাংলাদেশ থেকে যারা বিদেশ গমন করেন তাদের ঠিকমত বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা কাজ করানোর পরও অতিরিক্ত সময় কাজ করান, বিনিময়ে অর্থ পরিশোধ করেন না। বাংলাদেশি কর্মীরা অনেক অবহেলার শিকার হন। বাংলাদেশিদের বিদেশযাত্রার আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, গমনকৃত দেশের ভাষা, কাজের ক্ষেত্র এবং বেতন-ভাতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা প্রয়োজন মর্মে উল্লেখ করেন।কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ ইসমাইল হুসাইন আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, সরকার রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের কল্যাণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রবাসী কর্মীকে গন্তব্য দেশের উন্নয়ন, নিজেদের দেশের পরিবার উন্নয়ন তথা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।তিনি উপস্থিত প্রবাসী কর্মীদের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদের সুবিধাসমূহ অনিবন্ধিতদের নিবন্ধিত হওয়ার অনুরোধ করে পদ্ধতি সহজীকরণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

post
এনআরবি বিশ্ব

আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সৌদি নারীর মৃত্যু, বাংলাদেশ ও ভারতের দুই ব্যক্তিকে জরিমানা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সৌদি নারীর মৃত্যুর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত বাংলাদেশ ও ভারতের দুই ব্যক্তিকে চার লাখ দিরহাম ক্ষতিপূরণ (ব্লাড মানি) দিতে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার সমান। আবুধাবিভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য ন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। গত ৩ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের আল-বারশা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও চারজন আহত হন। এ ঘটনায় গত সোমবার দুবাইয়ের একটি আদালত বাংলাদেশ ও ভারতের দুই নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করে সাজার রায় ঘোষণা করেন। দুজনই পেশায় গাড়িচালক। তাঁদের নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তাঁদের বয়স ৪৮ বছর। আদালত বাংলাদেশিকে ১০ হাজার দিরহাম জরিমানা করেছেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের পরিবারকে ৩ লাখ ২০ হাজার দিরহাম ক্ষতিপূরণ (ব্লাড মানি) দেওয়ার জন্য তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্স তিন মাসের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে ভারতীয় ব্যক্তিকে দুই হাজার দিরহাম জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে ৮০ হাজার দিরহাম ব্লাড মানি দিতে বলা হয়েছে। দুবাই ট্রাফিক কোর্টের নথি অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হওয়া উভয় ব্যক্তি ঘটনার দিন বেপরোয়াভাবে তাঁদের গাড়ি চালিয়েছিলেন। দুর্ঘটনাটি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি ব্যক্তি প্রধান সড়কের মাঝখানে তাঁর গাড়ি থামিয়ে উল্টো দিকে যেতে শুরু করেন। ভারতীয় ব্যক্তি অপর একটি গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনি বাংলাদেশি চালকের গাড়িটি দেখতে পাননি। এ সময় দুই গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে দুটি গাড়িই তৃতীয় একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়। তৃতীয় গাড়িতে সৌদি আরবের একটি পরিবার ছিল, যারা দুর্ঘটনায় হতাহত হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় দুই সৌদি নারী গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনার পরপরই তাঁরা মারা যান। পরিবারটির অপর চার সদস্য আহত হন। আসামিরা আহত হয়েছিলেন কি না, তা জানা যায়নি। আদালতে দুই আসামি তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তাঁরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চান। কিন্তু বিচারে তাঁরা দোষী সাব্যস্ত হন।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.