post
সংবাদ

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় মোস্তফা কামাল মুন্সি নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের নয়াচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোস্তফা কামাল মুন্সি তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বাড়ি রঘুনাথপুর এলাকায়। তিতাস থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি কাঞ্চন কান্তি দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা কামাল মুন্সির সঙ্গে পূর্ব-শত্রুতা ছিল ওই এলাকার সাঈদুর নামে একজনের। সেই শত্রুতার জেরে সোমবার বিকেলে নয়াপুর এলাকায় কথা কাটাকাটি হয় দুজনের মধ্যে। এ সময় ছুরি দিয়ে মোস্তফা কামাল মুন্সির পেটে আঘাত করে পালিয়ে যান সাঈদুর ও তার সঙ্গীরা। পরে স্থানীয়রা মোস্তফা কামাল মুন্সিকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ওসি বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি, এখনো সেখানেই অবস্থান করছি। ঘাতকদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে মাঠে। সাঈদুরের সঙ্গে আর কারা কারা ছিল তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের ঝুঁকি নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে আরব বসন্তের মতো বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভার বক্তব্য নাকচ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের কিছু হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশে নেই। রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘৫২ বছরে বাংলাদেশের অর্জন’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মোমেন।এসময় বাংলাদেশ ইস্যুতে মস্কোর মুখপাত্রের বক্তব্যের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, রাশিয়া কী বলেছে, এটা আমাদের ইস্যু নয়। এটা ওদের জিজ্ঞেস করুন। অনেকে অনেক ধরনের কথা বলবে, আমরা এটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমরা সার্বভৌম, আমাদের ভারসাম্য পররাষ্ট্রনীতি আছে।‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এটার প্রেক্ষিতে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি। কে কী বলল না বলল, এটা তাদের মাথাব্যথা নয়। আমরা পরাশক্তিগুলোর টানাটানিতে পা দিতে চাই না। আমাদের ভারসাম্য কূটনীতি নিয়ে আমরা চলতে চাই’- বক্তব্যে যোগ করেন মোমেন।আরব বসন্তের সম্ভাবনা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার তো মনে হয় না এ ধরনের কোনো সুযোগ আছে। আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশ। শেখ হাসিনার কারণে আমাদের দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত আছে। আর আমরা ৭ জানুয়ারি নির্বাচন করব। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সেটা করব। আমরা খুব ভালোভাবে চলছি।মোমেন বলেন, আমাদের যে উন্নয়ন হয়েছে, এটা সম্ভব হয়েছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে। আমরা আমাদের লক্ষ্য নিয়ে সামনে যেতে চাই। অন্য কিছু আমাদের দরকার নেই। আমরা একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাই।প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর বাংলাদেশে আরব বসন্তের মতো পরিস্থিতি তেরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তার আগে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসহ আরও কয়েকটি চাপ প্রয়োগ করতে পারে ওয়াশিংটন। বাইডেন প্রশাসনের টার্গেট হতে পারে বাংলাদেশের প্রধান শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার দায়ে অনেক কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযোগ আনতে পারে।বাংলাদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, সড়কে যান চলাচল বন্ধ, বাস পোড়ানো ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখ করে মারিয়া জাখারোভা বলেন, আমরা এসব ঘটনার সঙ্গে ঢাকায় পশ্চিমা একটি কূটনৈতিক মিশনের সন্দেহজনক কার্যকলাপের সংযোগ দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বিরোধীদের সঙ্গে বৈঠক, যা নিয়ে গত ২২ নভেম্বরের ব্রিফিংয়ে আমরা কথা বলেছি।

post
বাংলাদেশ

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সম্মতি রাষ্ট্রপতির

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সেনা মোতায়েনে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল রোববার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো.সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সেনা মোতায়েনে ইসির আগ্রহের কথা জানান। রাষ্ট্রপতি এতে সম্মতি দেন।পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো.জয়নাল আবেদীন ব্রিফিংয়ে জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সেনা মোতায়নের অনুরোধ জানান। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সম্মতি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে সেনা মোতায়নের তারিখ ও সময় জানানো হবে।এছাড়া সাক্ষাৎকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। রাষ্ট্রপতি আশা করেন সবার সহযোগিতায় দেশে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।এর আগে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিনের জন্য তারা ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। তফসিল অনুযায়ী ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে আগামীকাল ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত ভোটের প্রচারণা চালাতে পারবেন। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

post
বাংলাদেশ

নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি: চুন্নু

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে জাতীয় পার্টি। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও অর্থবহ হয় সেই লক্ষ্যে আমরা সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করব। তবে এই মুহূর্তে বলতে চাই, আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি।চুন্নু জানান, এবার আওয়ামী লীগকে ছাড়াই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবে জাতীয় পার্টি। ২৮৩ আসনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন তারা। জাপা মহাসচিব বলেন, জাতীয় পার্টি আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে আসছিল। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের একটি দাবি ছিল যে, যেন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু হয়, যাতে করে মানুষ ভোট দিতে আসতে পারে। তাহলে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসে আমাদের আস্থা এসেছে যে, তারা নির্বাচনটা ভালোভাবে করতে চান। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব এবং নির্বাচন যেন প্রতিযোগিতামূলক হয় সেই আলোকে আমরা কাজ করে যাব।আমরা আশা করি এদেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে ভোট দেবে। এদেশের মানুষ অনেক সচেতন। আমরা আশা করি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম হবে। আমরা নির্বাচনটা করার জন্য আমাদের সব প্রার্থীকে আজকে চিঠি দিচ্ছি।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ২৮৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। কিছু কিছু আসনে সমঝোতা হচ্ছে বা হবে। নির্বাচনে আমরা যাচ্ছি। সব বাধা উপেক্ষা করে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। নির্বাচনে আসার জন্য আপনাদের ওপর কোনো চাপ ছিল কি না, জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব বলেন, আমাদের ওপর কোনো চাপ ছিল না। জাতীয় পার্টি স্বতন্ত্র একটা দল, আমাদের নিজস্ব একটা রাজনীতি আছে।

post
বাংলাদেশ

২৬৩ আসনে নির্বাচন করছে আওয়ামী লীগ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা ২৬৩টি আসনে নির্বাচন করছে বলে জানিয়েছেন দলটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। রোববার বিকেল ৪টার দিকে আগারগাঁওয়ে ইসি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।বিপ্লব বড়ুয়া জানান, জাতীয় পার্টিকে ২৬টিসহ শরিকদের মোট ৩২টি আসনে আওয়ামী লীগ ছাড় দিয়েছে। আওয়ামী লীগের মিত্রদের সঙ্গে জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করছি আমরা। যাচাই-বাছাই শেষে আমাদের নিজেদের ৫টি আসনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। সেসব আসন আমাদের দিক থেকে উন্মুক্ত থাকবে।জাপার সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে– ঠাকুরগাঁও-৩, নীলফামারী-৩ ও ৪, রংপুর-১ ও ৩, কুড়িগ্রাম-১ ও ২, গাইবান্ধা-১ ও ২, বগুড়া-২ ও ৩, সাতক্ষীরা-২, পটুয়াখালী-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-৩, ময়মনসিংহ-৫ ও ৮, কিশোরগঞ্জ-৩, মানিকগঞ্জ-১, ঢাকা-১৮, হবিগঞ্জ-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ফেনী-৩, চট্টগ্রাম-৫ ও ৮, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে। এ আসনগুলোতে নৌকার প্রার্থী থাকবে না বলে জানিয়েছেন বিপ্লব বড়ুয়া। ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে– বগুড়া-৪, রাজশাহী-২, কুষ্টিয়া-২, বরিশাল-২, পিরোজপুর-২, লক্ষীপুর-৪ আসনে। এসব আসনেও নৌকার প্রার্থী থাকবে না।

post
এনআরবি সাফল্য

১৫ দিনে ১০৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা

দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। চলতি মাসের (ডিসেম্বর) প্রথম ১৫ দিনে প্রবাসীরা বৈধ পথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১০৭ কোটি মার্কিন ডলার। দৈনিক রেমিট্যান্স আসছে ৭ কোটি ১৩ লাখ ডলার করে।রোববার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে ব্যাংকগুলোতে ১০৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১০ কোটি ৮০ লাখ ৬০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৯২ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২২ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার।২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, আগস্টে এসেছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার, সেপ্টেম্বরে ১৩৩ কোটি ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার, অক্টোবরে ১৯৭ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং নভেম্বর মাসে এসেছে ১৯৩ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকলে কিছুদিনের মধ্যে দেশে ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশে ডলার-সংকট দেখা দেয়। এ সংকট মোকাবিলায় শুরুতে ডলারের দাম বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তাতে সংকট আরও প্রকট হয়। পরে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়। এ দায়িত্ব দেওয়া হয় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন-অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এর উপর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় তারা সভা করে ডলারের রেট নির্ধারণ করে আসছে। গত ১৩ ডিসেম্বর দেশের মুদ্রা বাজারে ডলারের স্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ায় মুদ্রাটির দাম তৃতীয় দফায় কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনগুলো। ভবিষ্যতে ডলারের দাম আরও কমবে বলে জানানো হয়। সবশেষ ব্যাংকগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রবাসী ও রপ্তানি আয় কেনার ক্ষেত্রে ডলারের ঘোষিত দাম ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। আর বিক্রি দর ১১০ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজকে আন্তঃব্যাংকে ডলার লেনদেন হচ্ছে ১১০ টাকা ২৫ পয়সা। কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে নগদ এক ডলার কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে ১২২ টাকা। চিকিৎসা, শিক্ষা বা ভ্রমণের জন্য যারা বিদেশে যাচ্ছেন তাদের নগদ প্রতি ডলার কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ১২২ টাকা পর্যন্ত।

post
বাংলাদেশ

সরে দাঁড়ানোর কারণ জানাতে এসে হিরো আলম বললেন, ‘নির্বাচন করব’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্ত বদল করে আবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। আজ রোববার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। হিরো আলম বলেন, "আমি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও এখন নির্বাচনে থাকব। এবারও হিরো আলমের ওপর হামলা হবে, মার হবে। তিন দফা নির্বাচন করেছি, তিন দফাই আমাকে মারধর করা হয়েছে।" একতরফা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আহ্বানে সংবাদ সম্মেলন করা হয় বাংলাদেশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্য পরিষদের ব্যনারে। এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার ৬ মিনিটের মাথায় হিরো আলম বলেন, "আমি প্রার্থিতা উইথড্রো করবো বলেছি। কেন উইথড্রো করতে চাইছি- এই যে পাতানো নির্বাচন। সারা বাংলাদেশের লোকজন বলে কেউ নির্বাচনে আসছে না, কেন আসছে না? যারা পাতানো নির্বাচন করছে, তারা সুবিধাভোগী আসনগুলো ভাগ করে নিয়ে নির্বাচন করছে। আজকে বলেছিলাম, আমি আর নির্বাচন করবো না ,কারণ এই নির্বাচন করে আমি মার খেয়েছি, লাঞ্ছিত হয়েছি অনেক বার।"এই বক্তব্যের পরক্ষণেই হিরো আলম বলেন, "নির্বাচন করে কোনো লাভ হবে না; কারণ তারা আসনগুলো আগেই ভাগ করে নিয়েছে। তাই আমাদের এই লোক দেখানো নির্বাচনের মনে হয় না কোনো দরকার আছে। আমি আজকে বলেছিলাম, প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবো। এখন আমি বলছি, আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবো না।" "আমি প্রার্থিতা উইথড্রো করবো না। আপনারা নিশ্চয়ই বলবেন কেন করবো না? আপনারাই হিরো আলমকে হিরো বানিয়েছেন এবং আপনারাই আবার হিরো আলমকে জিরো বানিয়ে দেন। আপনারাই বলেছেন, হিরো আলম টাকা খেয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছে, মার খাওয়ার ভয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছে। কিন্তু না, আমি এর আগেও নির্বাচন করেছি," যোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম আরও বলেন, "এই নির্বাচন সরকারের সাজানো নির্বাচন। আমি হিরো আলম নির্বাচনে থাকবো; এই নির্বাচন কত সুষ্ঠু হয়, সেটা দেখবো। প্রতিবারই হিরো আলম মার খায়, এবারও হিরো আলম মার খাবে।" তিনি বলেন, "নির্বাচনে আমি ফেল করবো এটাও জানি। আপনারা দেখবেন এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হয়। যেটা দেখানোর জন্য নির্বাচনে থাকছি। নির্বাচনে থাকছি প্রতিবাদ করার জন্য।" সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম বলেন, "প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলতে চাই, ৩০০ আসনের মধ্যে আপনারা আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী নিলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীও নিলেন। কিন্তু আমরা যারা আমজনতা আছি, তাদের আসন কোথায়?" বক্তব্যের ৮ মিনিটের দিকে তিনি বলেন, "আমি নির্বাচন যে কোনো সময় বর্জন করতে পারি।" এদিকে, সম্মেলনে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যন মো. আব্দুর রহিম এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "হিরো আলমের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল, সেই কারণে তিনি এসেছেন। তবে আজকে তিনি বলছেন, নির্বাচন থেকে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতেও পারেন, আবার নাও পারেন। এটি কোনো নেতা সুলভ কথা না।" আব্দুর রহিম দাবি করেন, প্রায় ৩০০ স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে, তারা নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন। তারা সবাইকে এ নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এর আগে, আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা তিনি। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, 'নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যাচ্ছেন হিরো আলম। ১৭ ডিসেম্বর প্রার্থী উইড্র করবেন তিনি।' এর আগে, গত ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিলের রায়ে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। গত ৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করায় হিরো আলমের প্রার্থিতা বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। এই রায়ের বিপরীতে গত ৬ ডিসেম্বর কমিশনে আপিল আবেদন করেন হিরো আলম। আপিলে তিনি মনোনয়ন ফিরে পান।  

post
খেলা

এশিয়াকাপে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল

স্বপ্নটা জোরালো হয় সেমি-ফাইনালের পরপরই। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়াকাপে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা ভারতকে হারিয়ে দেয় তারা। সেই স্বপ্নটা আরও চওড়া হয় আরেক সেমি-ফাইনালে পাকিস্তানের হারে। কিছুটা দুর্বল প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পায় ফাইনালে। যাদের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বেও মিলেছিল বড় জয়। সেই স্বপ্ন সত্যি করে আমিরাতকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। রোববার দুবাইতে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ১৯৫ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮২ রান করে যুব টাইগাররা। জবাবে ১৫১ বল বাকি থাকতে মাত্র ৮৭ রানে গুটিয়ে যায় আমিরাত।বাংলাদেশের জয়ের মূল নায়ক ছিলেন দারুণ ছন্দে থাকা ওপেনার আশিকুর রহমান শিবলি। করেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। তার সঙ্গে জ্বলে ওঠে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও আরিফুল ইসলামের ব্যাটও। দুইজনই পেয়েছেন ফিফটি। তাতে আমিরাতকে বড় লক্ষ্যই ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ। এরপর বল হাতে তিন পেসার মারুফ মৃধা, রহনত দৌল্লা বর্ষণ ও ইকবাল হোসেন ইমনের তোপে একশ রানও করতে পারেনি স্বাগতিকরা। এশিয়াকাপে এর আগের নয় আসরের আটটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। এরমধ্যে একবার পাকিস্তানের সঙ্গে শিরোপা ভাগাভাগি করে তারা। অপর একটিতে চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান। অন্যদিকে এই আসরে আটবার খেললেও তেমন কোনো সাফল্য ছিল না বাংলাদেশের। সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে গেলে ২০১৯ সালে ফাইনাল খেলা। সেবার ফাইনালে ভারতের কাছে ৫ রানে হেরে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদের। ২৮৩ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে এদিন শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং করেন বাংলাদেশের পেসাররা। এদিনও শুরুতে গর্জে ওঠেন আরিফ। আমিরাতের দুই ওপেনারকেই ছাঁটাই করেন এই পেসার। এরপর মঞ্চে আসেন বর্ষণ। মিডল অর্ডার ধসিয়ে দিয়ে টানা তিনটি উইকেট তুলে নেন তিনি। ফলে ৫০ রানের আগেই আমিরাতের অর্ধেক ব্যাটার সাজঘরে। এরপর ইমনও তুলে নেন দুটি উইকেট। তখন বাংলাদেশের জয় ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু বাংলাদেশের অপেক্ষা বাড়াতে থাকেন ধ্রুব পারাশার। এক প্রান্ত আগলে রেখে যুব টাইগারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে থাকেন এই ব্যাটার। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেও অপর প্রান্তে ঠিকই উইকেট তুলে নিতে থাকেন যুব টাইগাররা। স্পিনার শেখ পারভেজ জীবন ২টি উইকেট তুলে লেজ ছাঁটাইয়ের কাজ করেন। আরিফও বোলিংয়ে ফিরে তুলে নেন নিজের তৃতীয় শিকার। তাতে বিশাল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। আরব আমিরাতের স্রেফ দুই ব্যাটার ছুঁতে পেরেছেন দুই অঙ্ক। ৪০ বলে ২টি চারের সাহায্যে ২৫ রান করে অপরাজিত থাকেন ধ্রুব। এছাড়া ১১ রান করেছেন আকশাত রায়। বাংলাদেশের হয়ে ৭ ওভার বল করে ২৯ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন আরিফ। ৬ ওভার বল করেন ২৬ রানের বিনিময়ে ৩টি শিকার বর্ষণেরও। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন ইমন ও জীবন। এর আগে এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৩ রানেই ওপেনার জিশান আলমকে হারায় বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় উইকেটে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ানকে নিয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়েন আরেক ওপেনার শিবলি। ১২৫ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন এ দুই ব্যাটার। এরপর রিজওয়ান ফিরে গেলে আরিফুল ইসলামের সঙ্গে ৮৬ রানের আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন শিবলি। তাতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে নামা শিবলি টিকে ছিলেন প্রায় শেষ পর্যন্ত। ইনিংস শেষ হওয়ার এক বল আগে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। একপ্রান্ত আগলে রেখে তার ব্যাট থেকে আসে ১২৯ রান। ১৪৯ বল মোকাবিলায় তিনি ১২ চারের সঙ্গে মারেন ১ ছক্কা। এর আগে গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। দুটি ফিফটিও করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে তিনি এবারের আসর শেষ করেছেন ৫ ম্যাচে ৩৭৮ রান নিয়ে। তার ধারেকাছে নেই আর কেউ। এখন পর্যন্ত আড়াইশ রানও আসেনি আর কোনো ব্যাটারের কাছ থেকে। ৭৮ বলে হাফসেঞ্চুরিতে পৌঁছানো শিবলি তিন অঙ্কে পৌঁছান ১২৯ বলে। ৭১ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬০ রান করেন রিজওয়ান। আরিফুলের ব্যাট থেকে আসে ৪০ বলে ৫০ রানের আগ্রাসী ইনিংস। শেষদিকে অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান রাব্বি খেলেন ১১ বলে ২১ রানের ক্যামিও। আমিরাতের হয়ে আয়মান আহমেদ ৪ উইকেট নেন ৫২ রানে। যার তিনটিই তিনি শিকার করেন বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ ওভারে। ওমিদ রেহমান ৪১ রানে পান ২টি উইকেট।

post
আন্তর্জাতিক

কুয়েতের নতুন আমির শেখ মিশেল আল-আহমেদ আল-সাবাহ

কুয়েতের নতুন আমির হিসেবে শেখ মিশেল আল-আহমেদ আল-সাবাহর (৮৩) নাম ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দেশটির আমির শেখ নাওয়াফ আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহর মৃত্যুর পর এ ঘোষণা করা হয়।শেখ মিশেল শেখ নাওয়াফের সৎভাই । ৮৬ বছর বয়সী আমির শেখ নাওয়াফের মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি। গত মাসে অসুস্থ হয়ে পড়ায় জরুরিভাবে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন শেখ নাওয়াফ। ২০২১ সালে তিনি শেখ মিশেলের হাতে বেশির ভাগ দায়িত্ব তুলে দেন। সে বছরই কুয়েতের পরবর্তী আমির হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়। কুয়েতের সংবিধান অনুযায়ী, যুবরাজ শেখ মিশেল দেশটির পার্লামেন্টে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আমির হিসেবে ক্ষমতায় বসবেন। নিজের উত্তরসূরি ঘোষণার জন্য সর্বোচ্চ এক বছর সময় পাবেন তিনি। এদিকে শেখ নাওয়াফের মৃত্যুর পর কুয়েতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলো তিন দিন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক শেখ নাওয়াফকে ‘বন্ধু’ অভিহিত করেছেন। আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ বলেছেন, শেখ নাওয়াফ একজন ‘বিজ্ঞ নেতা’ ছিলেন।শেখ নাওয়াফ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কুয়েতের আমির হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সৎভাই ও তৎকালীন আমির শেখ সাবাহ আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহর মৃত্যুর পর এ দায়িত্ব পান তিনি। এর আগে ২০০৬ সালে শেখ নাওয়াফকে দেশটির পরবর্তী আমির হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

post
আন্তর্জাতিক

মারা গেছেন কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফ

কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফ আল আহমদ আল-সাবাহ মারা গেছেন। শনিবার কুয়েতের রাজ দরবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬।কুয়েতের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, 'কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ'র মৃত্যুতে শোক সংবাদ প্রকাশ করছি।' রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান বন্ধ রেখে শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করার মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর সম্প্রচার করা হয়। কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা কুনা'র তথ্য মতে, গত নভেম্বরে অসুস্থতার জন্য শেখ নওয়াফ আল-আহমাদ আল-জাবেরকে জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়। যদিও পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। ২০০৬ সালে কুয়েতের আমিরের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। ৯১ বছর বয়সী সৎ ভাই শেখ সাবাহ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর– ২০২০ সালে কুয়েতের নতুন আমিরের দায়িত্ব নেন নওয়াফ। দায়িত্ব নেওয়ার পরই ২০২০ সালে তেলের দাম হ্রাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটকে মোকাবেলা করতে হয়েছিল তাঁকে। কুয়েতে একটি শক্তিশালী সংসদীয় ব্যবস্থা আছে। শাসক রাজপরিবার মন্ত্রিপরিষদে মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। নানান বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের সাথে রাজ পরিবারের মতপার্থক্য এ পার্লামেন্টের অগ্রগতি কমিয়ে দিচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের অস্বস্তিতে ফেলছে। একে একে সরকারের পদত্যাগ এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ায়– কুয়েতে গত বছরে পাঁচটি ভিন্ন মন্ত্রিসভা হয়েছে। রাজনৈতিক অচলাবস্থা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলিকে স্থগিত করেছে, উন্নয়ন প্রকল্পগুলি বন্ধ করে দিয়েছে এবং অবকাঠামো ও শিক্ষাকে খারাপ অবস্থায় ফেলেছে, যা জনগণকে অসন্তুষ্ট করে। কুয়েতের সাবেক শাসক শেখ আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ-এর পঞ্চম পুত্র শেখ নাওয়াফ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৭ সালে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে হাওয়ালি প্রদেশের গভর্নর হিসাবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। তিনি ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, পরবর্তীতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.