post
বাংলাদেশ

ভাষাশহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি...’ বাজানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। বাসস জানিয়েছে, ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা বাজার ৭ মিনিট আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান। এর ৩ মিনিট পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল রাষ্ট্রপতিকে শহীদ মিনারে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মন্ত্রিসভার সদস্য ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। তাদের পর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন৷ পরে তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ওই এলাকা ত্যাগ করলে সর্বস্তরের জনগণের জন্য শহীদ মিনার খুলে দেওয়া হয়। এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজারো মানুষের ঢল নামে। ১৯৫২ সালের এই দিনে ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করার জন্য সর্বস্তরের জনগণ ফুল হাতে এবং ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গুনগুন করে গেয়ে খালি পায়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এদিকে বিভিন্ন দল, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জেএসডি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতন্ত্রী পার্টি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাসদ ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য অপেক্ষমাণ সারিতে আরও বহু দল এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রয়েছেন।

post
বাংলাদেশ

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ছিল। সেই আন্দোলনের ইতিহাস থেকে তার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে বাঙালিরা রক্ত দিয়েছে, রক্তের অক্ষরে ভাষার অধিকারের কথা লিখে গিয়েছে। পাকিস্তানি শাসকরা আমাদের মায়ের ভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতায় আমরাই ছিলাম বেশি। আর যে ভাষাটা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, উর্দু, সেটা কারও মাতৃভাষা নয়, পুরো পাকিস্তানের ৭ ভাগ লোকও এটা ব্যবহার করত কি না সন্দেহ আছে। অথচ আমরা বাঙালিরা ছিলাম প্রায় ৫৫ ভাগ। আমাদের ভাষা কেড়ে নিয়ে দ্বিজাতীয় একটা ভাষা যখন চাপিয়ে দিতে চায়, তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। তিনি উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তমদ্দুন মজলিশসহ আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে বাংলা ভাষাকে রক্ষার জন্য সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলেন এবং আন্দোলন শুরু করেন। সেই আন্দোলনের পথ ধরেই আমরা আমাদের স্বাধিকার আদায় করেছি, স্বাধীনতা পেয়েছি।

post
আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ বন্ধের উপায় জেলেনস্কিকে খুঁজতে বললেন শেখ হাসিনা

রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেইনের যে যুদ্ধ চলছে তা বন্ধের উপায় খুঁজে বের করতে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শনিবার সকালে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের (এমএসসি) ফাঁকে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান বলে বাসস জানিয়েছে।সম্মেলনস্থল হোটেল বায়েরিশার হফে দুই নেতার এ বৈঠক হয়, যেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় বলেন, ‘আমরা সব ধরনের যুদ্ধের বিরুদ্ধে’। আজ জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার সময় কীভাবে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধ করা যায়, সে বিষয়েও তিনি বারবার আলোচনা করেছেন।”বৈঠকে দুই নেতা গাজায় নিরপরাধ নারী-পুরুষের ওপর হামলা কীভাবে বন্ধ করা যায়- তা নিয়েও আলোচনা করেন বলে জানান হাছান।যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “যুদ্ধের মাধ্যমে অন্যরা উপকৃত হতে পারে। কিন্তু যুদ্ধ লিপ্ত দেশগুলোর জন্য তা কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না এবং তাদের জনগণকে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।”এ প্রসঙ্গে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভোগের স্মৃতি স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বন্দিদশায় তাকে যে অমানবিক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল এবং একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মের কথাও স্মরণ করেন তিনি।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও জেলেনস্কির মধ্যে আলোচনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’ স্পষ্টভাবে উঠে আসে।এক প্রশ্নের জবাবে হাছান বলেন, স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।“রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই চমৎকার। মুক্তিযুদ্ধের সময় রাশিয়া আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং যুদ্ধের পর বাংলাদেশের পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তারা (শেখ হাসিনা ও ভলোদিমির জেলেনস্কি) শুধু যুদ্ধ বন্ধের জন্য আলোচনা করেছেন।”

post
বাংলাদেশ

বিএনপির হাত ধরেই উগ্রবাদের জন্ম

বিএনপির হাত ধরেই উগ্রবাদের জন্ম। দলটি দেশের রাজনীতিতে দুর্ঘটনা ঘটাতে চায়- বলে মন্তব্য করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বেফাঁস কথা বলে না, বিএনপিই বলে। বেপরোয়া গাড়ির চালকের মতো বেপরোয়া রাজনীতির চালক মির্জা ফখরুল। রাজনীতিতে বিএনপি দুর্ঘটনা ঘটাতে চায়। অতীতে তাদের এই ইতিহাস আছে। এই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি তারা বারে বারে ঘটাতে চায়। এছাড়া রাজনীতিতে টিকে থাকার তাদের আর কোনো রসদ নেই। আমরা তার বিবৃতি পড়ে দেখলাম, তারা ঘুরে দাঁড়াবে। কোথা থেকে কোথায় ঘুরবেন সেটা আমাদের জানা নেই। এই ডিসেম্বরে না আগামী অক্টোবরে কবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন। তাদের আন্দোলনের চৌকস কথার ফুলঝড়ি আমরা অনেক শুনেছি। বিএনপির নেতারা জনগণের কাছে নিজেদেরকেই খাটো করছেন। আন্দোলন করার মতো অবজেক্টিভ পজিশন বাংলাদেশে নেই।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে রক্তের দাগ, হত্যা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করেছিল বিএনপি। মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে কলংকিত হত্যাকাণ্ড করেছে। যার মাস্টারমাইন্ড ছিল খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে জিয়াউর রহমান। তারা তাদের ওপর আরোপিত অভিযোগ আরোপ করতে চায় আওয়ামী লীগের ওপর। তারা কারাগারের অভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। ২১ আগস্ট সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। প্রাইম টার্গেট আমাদের সভাপতি শেখ হাসিনা। যেখানে ২৩ টি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। এসএএমএস কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টার, নাটোরের মমতাজ, সাংবাদিক মানিক শাহ, শামসুর রহমান, হুমায়ুন কবির বালু। বিএনপি এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিল। এরপর মির্জা ফখরুল কোথা থেকে পেলেন, আমরা নাকি হত্যা-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করেছি। এখন তিনি আমাদের ওপর উধোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাচ্ছেন।

post
বাংলাদেশ

সিন্ডিকেটের জন্যই ক্ষমতাসীনরা দায়ী

দ্রব্যমুল্যের লাগামহীন সিন্ডিকেটের জন্যই ক্ষমতাসীনরা দায়ী মন্তব্য করে, রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পতনের আহবান জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।শনিবার সকলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় অংশ নিয়ে, তারা এসব কথা বলেন। এসময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, আওয়ামী সরকারের কাছে বিএনপির কোন দাবি দাওয়া নেই। কারণ জনগন বিএনপির সাথেই আছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথেই তা আদায় করা হবে। এসময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন কখনও জনদুর্ভোগ কমবে না। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামার আহবান জানান তিনি।

post
সংবাদ

কেউই দেশের জন্য কাজ করেনি

বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগেরও আহ্বান জানান। জার্মানীতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,তাঁর সরকার বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।এসময়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এপর্যন্ত আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউই দেশের জন্য কাজ করেনি। সেজন্য দেশের জনগণ আবারও নৌকার ওপরই আস্থা রেখেছে। বাংলাদেশ সমৃদ্ধি সাথে এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, দেশবাসীর ভাগ্য নিয়ে যাতে কেউ কোন ষড়যন্ত্র করতে না পারে, বাংলাদেশ যাতে কখনই রাজাকারদের আস্তানায় পরিণত না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

post
বাংলাদেশ

গণতন্ত্র সূচকে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ

গণতন্ত্র সূচকে গতবারের তুলনায় দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৬৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৭৫তম। আর বাংলাদেশে এখনো ‘হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা’ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক দি ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) প্রকাশ করা ২০২৩ সালের গণতন্ত্র সূচকে (ডেমোক্র্যাসি ইনডেক্স) এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল নিজেদের ওয়েবসাইটে এ সূচক প্রকাশ করেছে ইআইইউ। ২০২২ সালের ইআইইউর গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ ৭৩তম অবস্থানে ছিল। আর ২০২৩ সালের সূচকে দুই ধাপ পিছিয়ে এখন ৭৫তম অবস্থানে। ইআইইউ বলছে, সর্বশেষ ২০০৬ সালে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধরন ছিল ‘ত্রুটিপূর্ণ’। এরপর ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতন্ত্র টানা ‘হাইব্রিড শাসনব্যবস্থার’ তকমা পেয়ে আসছে। হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা বলতে ইআইইউ এমন এক ব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে প্রায়ই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়। এ শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দলের ওপর সরকারের চাপ থাকে। বিচারব্যবস্থা স্বাধীন নয়। সাংবাদিকদের চাপ দেওয়া ও হয়রানি করা হয়। দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার, দুর্বল আইনের শাসন, দুর্বল নাগরিক সমাজ এমন শাসনব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সূচকে প্রতিটি দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে চার ভাগে ভাগ করেছে ইআইইউ। এগুলো হলো পূর্ণ গণতন্ত্র, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র, হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা। নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও বহুত্ববাদ, সরকারের কার্যকারিতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিকদের স্বাধীনতা এ পাঁচটি ধাপে প্রাপ্ত নম্বর বা স্কোরের ওপর ভিত্তি করে সূচকে দেশগুলোর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার হালনাগাদ অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এবারের সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৫ দশমিক ৮৭। পাঁচটি ধাপের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে কম স্কোর করেছে নাগরিক স্বাধীনতা (৪ দশমিক ৭১) ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণে (৫ দশমিক ৫৬)। সবচেয়ে বেশি স্কোর করেছে নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও বহুত্ববাদে (৭ দশমিক ৪২)। সূচকে সবচেয়ে বেশি ৯ দশমিক ৮১ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। গণতান্ত্রিক দেশগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও আইসল্যান্ড। ২০২৩ সালের গণতন্ত্র সূচকে তলানিতে (১৬৭তম) রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির স্কোর শূন্য দশমিক ২৬। এর ওপরের দুই অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে মিয়ানমার (১৬৬তম) ও উত্তর কোরিয়া (১৬৫তম)। এবারের তালিকায় যুক্তরাজ্য ১৮তম ও যুক্তরাষ্ট্র ২৯তম অবস্থানে রয়েছে। রাশিয়ার অবস্থান ১৪৪তম। আর গণতন্ত্রের সূচকে চীন ১৪৮তম অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের অবস্থান ৪১তম। শ্রীলঙ্কার ৭০তম। অন্যদিকে বাংলাদেশের পরে রয়েছে ভুটান (৮১তম), নেপাল (৯৮তম) ও পাকিস্তান (১১৮তম)। ইআইইউ জানিয়েছে, এবারের সূচকে ১৬৭ দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ২৪টিতে পূর্ণ গণতন্ত্র রয়েছে। ৫০টির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ। বাংলাদেশসহ ৩৪টি দেশ ও অঞ্চলে হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান। আর সবচেয়ে বেশি ৫৯টির শাসনব্যবস্থা কর্তৃত্ববাদী। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ১০ দেশের মধ্যে আটটিতে (বাংলাদেশ, ব্রাজিল, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র) চলতি বছর জাতীয় নির্বাচন হয়েছে কিংবা হতে যাচ্ছে। এর অর্ধেক দেশের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নয়। সেই সঙ্গে সেখানে বাকস্বাধীনতাসহ গণতন্ত্রের কয়েকটি পূর্বশর্ত অনুপস্থিত। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও রাশিয়ার কথা উল্লেখ করে ইআইইউ বলেছে, এসব দেশের নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের শিকার হয়েছে ও হচ্ছে। আর এসব দেশে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকারে পরিবর্তন কিংবা পূর্ণ গণতন্ত্রের সুযোগ নেই।

post
সংবাদ

জীবনে এমন দুর্যোগ কখনো দেখিনি: ড. ইউনূস

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে গ্রামীণ টেলিকম ভবনে থাকা আটটি প্রতিষ্ঠান জবরদখল করে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ঘটনায় তিনি পুলিশের সহায়তাও পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।ড. ইউনূস বলেন, 'আমরা বহু রকমের দুর্যোগের ভেতর দিয়ে যাই। এরকম দুর্যোগ আর দেখি নাই কোনোদিন যে, হঠাৎ করে বাইরের থেকে কিছু লোক এসে বলল তোমরা সরে যাও।' রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকম ভবনে বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস। এই ভবনে ড. ইউনূসের গড়া মোট ১৬টি প্রতিষ্ঠান আছে, যার প্রতিটির চেয়ারম্যান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ড. ইউনূস বলেন, আমরা একটা ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছি। আমরা এই সুন্দর বিল্ডিংটা বানিয়েছিলাম অতি সম্প্রতি। আমরা যখন গ্রামীণ ব্যাংকে ছিলাম, তখন আমাদের অফিস ওখানে ছিল। যখন আমাদের যাওয়ার পালা এলো তখন আমরা ভাবলাম আমরা সবাই মিলে একটা বিল্ডিং করি যেখানে আমরা শান্তিতে কাজকর্ম করতে পারব। এটাই সেই জিনিস; আমাদের স্বপ্নের বীজতলা। এটা তার একটা নমুনা।' গত ১২ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ভবনে অবস্থিত আটটি অফিস দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে আজকের সংবাদ সম্মেলনে জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ‘ওই দিন থেকে তারা ভবনে তালা মেরে রেখেছে। নিজের বাড়িতে অন্য কেউ যদি তালা মারে তখন কেমন লাগার কথা আপনারাই বলেন। তাহলে দেশে আইন আদালত আছে কিসের জন্য। তারা আদালতে যেতে চায় না। আমরা জীবনে বহু দুর্যোগ দেখেছি। এমন দুর্যোগ আর কখনো দেখিনি।’ ঘটনাটি পুলিশকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি মন্তব্য করে এই নোবেলজয়ী আরও বলেন, 'আমরা পুলিশকে বললাম যে এরকম কাণ্ড হচ্ছে। আপনারা এসে দেখেন। ঠিক করে দেন। পুলিশ প্রথমে (অভিযোগ) গ্রহণই করল না। তারপর একবার এসে ঘুরে গেল। কোনো অসুবিধা দেখল না। আমরা তাদের বললাম—দেখেন আমাদের দরজায় তালা দিয়ে যাচ্ছে তারা। সকাল বেলা এসে তালা খুলে দিচ্ছে। এখনো সেই পরিস্থিতি বিরাজমান।'দেশের আইন-আদালত কোথায় গেল—এমন প্রশ্ন রেখে ড. ইউনূস বলেন, 'আমরা সকাল থেকে শুনছি এখানে ঝাড়ু নিয়ে মিছিল হচ্ছে। কেন হচ্ছে তাও বুঝছি না। আমরা ঝাড়ুর যোগ্য হয়ে গেলাম হঠাৎ করে। আমরা তো নিজের বাড়িতেই আছি। নিজের ঘরে আছি। আর কারও ঝামেলার মধ্যে তো আমরা যাই না।' ড. ইউনূস বলেন, এভাবে দেশ চলছে কীভাবে। আমাদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল হচ্ছে। এ বিষয়ে আদালতে শরণাপন্ন হবেন বলেও জানান তিনি। এর আগে সকালে ড. ইউনূসের সংবাদ সম্মেলনের কথা শুনে মিরপুরে ঝাড়ু মিছিল বের হয়। আইন মেনেই এসব প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ব্যবসার মুনাফার টাকায় এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় হয়নি। যা হয়েছে আইন মেনে হয়েছে বলে জানান তিনি। 

post
আন্তর্জাতিক

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ

মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), মাথাপিছু আয় এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হিসেবে হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ধনী দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণদাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইউরোপের ছোটো দেশ লুক্সেমবার্গ। মাত্র ২ হাজার ৫৮৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটির জনগণের মাথাপিছু আয় ১ লাখ ৪০ হাজার ৩১২ ডলার। আইমএফের তালিকায় লুক্সেমবার্গের পরে রয়েছে যথাক্রমে আয়ারল্যান্ড—মাথাপিছু আয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৮ ডলার সুইজারল্যান্ড—মাথাপিছু আয় ১ লাখ ১০ হাজার ২৫১ ডলার নরওয়ে— মাথাপিছু আয় ১ লাখ ২ হাজার ৪৬৫ ডলার সিঙ্গাপুর— মাথাপিছু আয় ৯১ হাজার ৭৩৩ ডলার আইসল্যান্ড— মাথাপিছু আয় ৮৭ হাজার ৮৭৫ ডলার কাতার— মাথপিছু আয় ৮৪ হাজার ৯০৬ ডলার যুক্তরাষ্ট্র— মাথাপিছু আয় ৮৩ হাজার ৬৬ ডলার ডেনমার্ক— মাথাপিছু আয় ৭২ হাজার ৯৪০ ডলার ম্যাকাও এসএআর— মাথাপিছু আয় ৭০ হাজার ১৩৫ ডলার

post
শিক্ষা

নোয়াখালীতে প্রবাসীদের উদ্যোগে সংবর্ধনা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘাটলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক সৈয়দ মিজানুর রহমান ও আয়েশা খাতুনকে স্কুলের প্রাক্তন প্রবাসী শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী মহিন এবং তার সহপাঠিদের সার্বিক সহযোগিতায় এই সংবর্ধনা দেয়া হয়। স্কুল কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর মোহাম্মদ মোহতাছিম বিল্লাহ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জহিরুল ইসলাম, কাদিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন ও অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক গাজি মহিন উদ্দিন মজনুসহ অনেকে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.