post
এনআরবি বিশ্ব

লন্ডনে আলোচনা, আবেদন করে মুক্তিযোদ্ধার সনদ পেতে চাননি গাফফার চৌধুরী

মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য নিজে আবেদন করবেন না বলে জানিয়েছিলেন কিংবদন্তী লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী। মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্তির জন্য সরকার নির্ধারিত নিয়মে আবেদনের অনুরোধের পরও গাফফার চৌধুরীকে রাজী করানো যায়নি বলে জানালেন ১৯৭১ সালের যুক্তরাজ্যে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ইউকের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মোজাম্মেল আলী। অমর একুশের গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ইউকের স্মরণ সভায় একথা বলেন তিনি। শনিবার যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাইদের সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে ইউকের ভার্চুয়াল স্মরণ সভা 'আমি কি ভূলিতে পারি' শীর্ষক আলোচনায় স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে একথা বলেন প্রয়াত গাফফার চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ মোজাম্মেল আলী। ভার্চুয়াল আলোচনায় ভিডিও বার্তায় গাফফার চৌধুরীর কন্যা ড. তনিমা চৌধুরী বলেন, বাবা ছিলেন তাদের জীবনে বট গাছের মতো, ছোট বেলায় তিনি বাবার কাঁধে বসে থাকতেন। যদিও গাফফার চৌধুরী বাঙালি জাতীর একজন আইকন, কিন্তু তার কাছে শুধুই একজন বাবা। 'পিতা হিসেবে তিনি ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সব সময় তিনি আমাদের সহযোগিতা করতেন। তবে মৃত্যুর ৩৫ দিন আগে বিনিতার মৃত্যুতে তিনি সবচেয়ে বেশী ভেঙ্গে পড়েছিলেন। দুইজন দুই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, ডাক্তারদের অনুমতি পাওয়া না যাওয়ায় পিতা-কন্যার শেষ দেখা হয়নি'। ড. তনিমা বলেন, তার বোন বিনিতা আবদুল গাফফার চৌধুরীকে বলেছিলে,' বাবা আমি যদি তোমার আগে যাই আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো, তুমি আমার আগে গেলে আমার জন্য অপেক্ষা করো'। গাফফার চৌধুরী বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুকে এতটাই ভালোবাসতেন যে ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর বাবাকে তিনি প্রথম কাঁদতে দেখেছিলেন বলে বলেন ড. তনিমা। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাহমুদ শরীফ অপর এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ১৫ আগষ্টের কষ্ট আর বেদনাকে সাথে নিয়ে মূঢ় হয়ে থাকেন নাই আবদুল গাফফার চৌধুরী। তিনি সাথে সাথে প্রতিবাদ শুরু করেছেন। ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জনমত পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে, তিরস্কার করে বিশ্ব পরিমলন্ডে প্রথম লেখাটি লিখেছিলেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ইউকে'র ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও অনুষ্ঠানের চেয়ার বিধান গোস্বামী আবদুল গাফফার চৌধুরীর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাফফার চৌধুরী চেয়ার স্থাপনের দাবী জানান। অনুষ্ঠানের মডারেটর সাংবাদিক তানভীর আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আবদুল গাফফার চৌধুরী নামে ফেলোশিপ প্রবর্তনের প্রস্তাব দেন। ভার্চুয়াল আলোচনায় আবদুল গাফফার চৌধুরীর সাথে ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তৃতা করেন ব্যরিস্টার চৌধুরী হাফিজুর রহমান, ব্যরিস্টার কাজী আশিকুর রহমান, লিংকনস ইন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, জার্মানে নিযুক্ত বাংলাদেশের সম্মানিত কনসাল জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য পলি জাহান ও শওকত আলী বেনু।অনুষ্ঠানে সিনিয়র এ্যালামনাই ও ম্যানেজমেন্টের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ব্যরিস্টার অজয় রায় রতন, সোনালী ব্যাংক ইউকের সাবেক সহকারী প্রধান নির্বাহী আমীরুল ইসলাম, প্রদীপ মজুমদার, ঝুমুর দত্ত, পুস্পদেব, ফাতেমা লিলি, চিত্রকর মাসুদ মিজান, মোকাররম হোসেন, সাংবাদিক জুনায়েদ জিলানী, আরিফুর রহমান, সুলতানা রশীদ নাসরিন সহ অন্যরা।অনুষ্ঠানের শুরুতে গাফফার চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন ও অমর একুশের সঙ্গীত রচনার প্রেক্ষাপটের উপর ধারণ করা একাত্তর টেলিভিশনে প্রচারিত আবদুল গাফফার চৌধুরীর শেষ টেলিভিশন সাক্ষাতকার ' রক্তে রাঙানো একুশের সত্তর' এর ধারণকৃত অংশ প্রচার করা হয়। 

post
বিনোদন

রোমে বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ ও রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর বর্ণিল উদযাপন

বাংলাদেশ দূতাবাস, রোমের আয়োজনে ২২ মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ (৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ) তারিখে দূতাবাস প্রাঙ্গণে বাংলা নববর্ষ ১৪২৯, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূতের স্বাগত বক্তব্যের পরে বাংলা নববর্ষ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কর্ম ও দর্শনের উপর বিশেষজ্ঞ আলোচক, বিদেশি বন্ধু ও কম্যুনিটি নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আলোচনা, দূতাবাসের-সদস্য ও শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে ছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান তাঁর স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে বাংলা নববর্ষকে বাঙ্গালি জাতির অসাম্প্রদায়িক চেতনার উৎস এবং একান্তই আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শাশ্বত বাহক হিসেবে অনন্য এক উদ্‌যাপন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাঙ্গালি জাতির নিজস্ব পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম দিনটি নববর্ষ হিসেবে দেশের সাথে সাথে বিদেশেও বর্ণাঢ্যভাবে উদ্‌যাপিত হয়। রাষ্ট্রদূত আহসান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলা নববর্ষকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্‌যাপনের ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙ্গালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে বাংলা নববর্ষের ওতপ্রোত ভূমিকা উপলব্ধি করে বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রবর্তন করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগেই বাংলাদেশের রবীন্দ্র চর্চার বিকাশে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামেও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-কে বাঙালির জাতীয় জীবনের সাথে সর্বদা প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে তাঁদেরকে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান দুই স্তম্ভ এবং বিশ্ব-সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী ভাইবোনেরাও নববর্ষ এবং রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে আবহমান বাংলার সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিবেন। বিশেষজ্ঞ-আলোচনা পর্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রোমে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত লা স্যাপিয়েঁজা ইউনিভার্সিটি অব রোম এর অধ্যাপক জর্জিও মিলানেত্তি । তিনি সংস্কৃতির বহমানতাকে দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ইতালিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন এবং ইতালি ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে উভয় দেশের মাঝে সম্পর্কের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাবে বলে মত প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় প্রায় ৫০ বছর যাবত 'ঋশিল্পী' সংগঠনের সাথে কর্মরত বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ইতালিয়ান দম্পতি মিজ গ্রাজিয়েলা মিলানো মি. ভিনসেজো ফ্যালকোন অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলা ভাষায় তাদের আবেগ প্রকাশ করেন যা অংশগ্রহণকারীদের গভীরভাবে উদ্বেলিত করে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দূতাবাস পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে 'এসো হে বৈশাখ এসো, এসো' গানটি পরিবেশিত হয়। দূতাবাসের ইকোনমিক কাউন্সেলর মানস মিত্র, প্রথম সচিব মো. সাইফুল ইসলাম এবং সদস্য দিপু অভি সাহার মনোমুগ্ধকর আবৃত্তি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। সবশেষে সুস্মিতা সুলতানার নির্দেশনায় ইতালিতে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সুপরিচিত সাংস্কৃতিক সংগঠন 'সঞ্চারি সংগীতায়ন' এর শিশু-কিশোরদের ধারণকৃত একটি মনোজ্ঞ নৃত্য 'টাকডুম টাকডুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল', রবীন্দ্র সংগীত 'দুই হাতে কালের মন্দিরা যে সদাই বাজে' ও নজরুল সংগীত 'শুকনো পাতার নূপুর পায়ে' পরিবেশিত হয়। এছাড়াও 'নব আনন্দে জাগো আজি নববিকিরণে' ও 'মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর' গান দুইটির সাথে নৃত্য পরিবেশন করে প্রবাসী বাংলাদেশী শিশুশিল্পীরা। দিয়া, দিপা, সানজিদা, পুনম, মেঘা, তিলক, স্বপ্ন ও সানিয়ার বর্ণিল পরিবেশনা সকলের মাঝে উৎসবের আমেজ তৈরি করে। একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশ কম্যুনিটির নেতারা, সাংবাদিক, ইতালিয়ান নাগরিক, দূতাবাসের সদস্যগণ ছাড়াও রোমের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। উল্লেখ্য, কোভিড মহামারীর প্রেক্ষিতে ইতালি সরকার কর্তৃক আরোপিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শুধুমাত্র দূতাবাসের সদস্যদের উপস্থিতিতে সীমিত পরিসরে দূতাবাসে এবং অনলাইন প্লাটফর্ম জুম এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

post
এনআরবি বিশ্ব

প্যারিসে বাংলাদেশিদের আনন্দপূর্ণ ঈদ উৎসব

ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্মানে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ঈদ ফেস্টিভ্যাল। আয়োজনটি করেছে ফ্রান্সের জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্স (বিসিএফ) । এ নিয়ে তৃতীয় বার আয়োজন করা হলো এই উৎসবের।প্যারিসের পার্ক দো লা ভিলের সুবিশাল সবুজ চত্বরটিতে পাঁচ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি জড়ো হন এই উৎসব উপলক্ষে। শিশু কিশোর ও পরিবারগুলো দলে দলে ভাগ হয়ে চাদর বিছিয়ে গল্প জুড়ে দেয়, তরুন-যুবকেরা মেতে থাকে গান, নাচ আর হৈ-হুল্লোড়ে।অন্যদিকে, শিশুদের দৌড়, পুরুষদের মোরগ লড়াই, নারীদের বালিশ খেলা, ফুড চ্যাম্পিয়নশিপ (রান্না) প্রতিযোগিতা, নাচ-গান আর খাবারের আয়োজন করা হয় ।অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন বিডি বসের স্বত্ত্বাধিকারী আইয়ুব হাসান, সরুফ সোদিওল, ফারুক খান, আশরাফুল ইসলাম, দাতো ইবাদত হোসেন, এমডি নুর, মোসিওঁ জেরেমি, রাব্বানী খান, লুৎফুর রহমান বাবু, ফেরদৌস করিম আখঞ্জী, নয়ন মামুন প্রমুখ।

post
এনআরবি বিশ্ব

যুক্তরাজ্যের লোকাল কাউন্সিল নির্বাচন, লড়ছেন ২ বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি

যুক্তরাজ্যে (বৃহস্পতিবার) চলছে লোকাল কাউন্সিল নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে ভোট চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। ইংল্যান্ডে ৩০০টিরও বেশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে শুধুমাত্র লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম এবং লন্ডনের ৩২টি ব্যুরোসহ ১৪৬টি কাউন্সিলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একইসঙ্গে স্কটল্যান্ডে ৩২টি এবং ওয়েলসে ২২টি কাউন্সিলে চলছে নির্বাচন।যুক্তরা‌জ্যের সব‌চে‌য়ে বে‌শি সংখ্যক বাংলা‌দেশির বসবাস টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে মেয়র নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই চলছে। মেয়র প‌দে সরাসরি নির্বাচনে বাঙালিপাড়া টাওয়ার হ‌্যাম‌লেটসে দুই বাংলা‌দেশি প্রার্থী লড়াই‌য়ে আছেন। মূলধ‌ারার বি‌ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃ‌ত্বে রয়ে‌ছেন বাঙালি ক‌মিউনিটির মানুষজন। লেবার পার্টির ‘সেফ সিট’ হি‌সে‌বে প‌রি‌চিত এ এলাকার দুই এম‌পি রুশনারা আলী ও আফসানা বেগম বাংলা‌দেশি বং‌শোদ্ভূত। তারা দুইজ‌নই লেব‌ার পা‌র্টির প্রার্থীর প‌ক্ষে মা‌ঠে র‌য়ে‌ছেন।টাওয়ার হ‌্যাম‌লেট‌সের বর্তম‌ান মেয়র লেবার পার্টির জন বিগ‌সের সঙ্গে এবার লড়াই‌য়ে র‌য়ে‌ছেন দুইবা‌রের মেয়র লুৎফুর রহমান এবং তার এক সম‌য়ের ঘনিষ্ঠ অনুসারী সাবেক মেয়র প্রার্থী কাউন্সিলার রা‌বিনা খান।  ইংল্যান্ডে ১৮ বছর, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসে ১৬ বছর বয়স হলেই ভোটার রেজিস্ট্রেশনের পর ভোট দিতে পারবেন। রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি কাউন্সিলের একটি নির্দিষ্ট স্থানের বিশাল হল রুমে ভোট গণনা করা হবে। ভোটের ফল পেতে শুক্রবার সকাল এমনকি আবার অনেক কেন্দ্রের ফল পেতে শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।বাসিন্দাদের জন্য কাউন্সিল নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা কাউন্সিলাররা বাসিন্দাদের জীবন যাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। যেমন, রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখা, রাস্তায় লাইট এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্যামেরা সেট করা, ময়লার বিন কালেকশন করা, বাসিন্দাদের জানমালের সিকিউরিটি দেওয়া, ড্রাগ ও ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ করা, নতুন হাউজিং নির্মাণ ও কাউন্সিল হাউজিং সুবিধা দেওয়া, কাউন্সিল ট্যাক্স সহনশীল অবস্থায় রাখা, যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এমনকি রাস্তাঘাট নির্মাণ ও মেরামতে ভূমিকা রাখা, স্বাস্থ্য সেবা ইত্যাদি।তাই স্থানীয় নির্বাচন বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই বাসিন্দারা তাদের ভোটের মাধ্যমে পছন্দের কাউন্সিলর নির্বাচিত করে থাকেন।  

post
এনআরবি বিশ্ব

স্পেনে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে খোলা ময়দানে ঈদের জামাত

ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো স্পেনেও সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই বছর স্পেনের মাদ্রিদে খোলা ময়দানে ঈদের নামাজ আদায়ের অনুমতি ছিল না। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হওয়ায় বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা লাভাপিয়েস সংলগ্ন ক্যাসিনো পার্কের খোলা ময়দানে দুইটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দুই জামাতেই ছিল প্রবাসী মুসলমান বাংলাদেশিদের উপচে পড়া উপস্থিতি।এছাড়াও পর্যটন নগরী বার্সেলোনা ও কানারিয়াস দ্বীপপুঞ্জসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা নামাজ শেষে একে অপরের সাথে কুশলাদি বিনিময় করে ঈদের দিনকে আনন্দময় করার চেষ্টা করেন।স্পেনের সবচেয়ে বৃহৎ মসজিদ ‘সেন্ত্র কুলতুরাল ইসলামিকো দে মাদ্রিদ’ (‘এমে তেরেন্তা’) মসজিদে দেশটির বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ৮টায়। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা লাভাপিয়েস সংলগ্ন ক্যাসিনো পার্কের খোলা ময়দানে বাংলাদেশিদের দ্বারা পরিচালিত বায়তুল মুকাররম মসজিদ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ঈদের নামাজের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।সকাল ৮টা ও ৯টায় অনুষ্ঠিত জামাত দুইটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের অভিবাসী মুসলমানরাও অংশগ্রহণ করেন। প্রথম জামাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীরা নামাজ আদায় করেন। প্রথম জামাতে উপস্থিত ছিলেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারোয়ার মাহমুদ, মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের দূতালয় প্রধান আব্দুর রউফ মণ্ডলসহ স্থানীয় বাংলাদেশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।নামাজ আদায় শেষে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারোয়ার মাহমুদ স্পেনে প্রবাসী সকল বাংলাদেশিকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। বায়তুল মুকাররম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার সুষ্ঠুভাবে ঈদের নামাজ আদায় করায় অংশগ্রহণকারী সকল মুসল্লিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।এছাড়া পর্যটন নগরী বার্সেলোনায় বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোর বাংলাদেশি পরিচালনাধীন মসজিদগুলোতেও ঈদুল ফিতরের নামাজের বেশ কয়েকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রবাসী মুসলমান বাংলাদেশিরা নিজেদের মধ্যেই ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।স্থানীয় শাহ জালাল জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে মসজিদের অভ্যন্তরে সকাল ৭টা ও ৮টা ৪৫ মিনিটে এবং মসজিদের সামনে খোলা ময়দানে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ঈদের মোট ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও বার্সেলোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে সকাল ৭টা ৩০ ও ১০টায় মসজিদে এবং প্লাসা মাকবায় খোলা ময়দানে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঈদের ৩টি জামাত, লতিফিয়া ফুলতলী জামে মসজিদে সকাল ৭টা ১৫, ৮টা ও ৮টা ৩০ মিনিটে ৩টি জামাত এবং প্লাজা তেরেনসির খোলা ময়দানে সকাল ৮টা ও ৮টা ৪৫ মিনিটে ২টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।জামাতগুলোতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশের অভিবাসীরা নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে খুতবায় বিশ্বের সকল নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য শান্তি কামনা করা হয়।

post
এনআরবি বিশ্ব

ফ্রান্সে যেমন ছিলো বাংলাদেশিদের ঈদ উদযাপন

ফ্রান্সের স্থানীয় মসজিদগুলোতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপিত হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের মুসলিম বসবাসকারী প্রায় সব দেশগুলোতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।ঈদ উপলক্ষে ফ্রান্সে বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার-ইস্তায় ৫টি জামাত, ওভারভিলিয়েস্থ বাংলাদেশ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি জামাত, গ্রান্ড মস্ক দূ পন্তায় দুইটি জামাত এবং জাতীয় মসজিদ গ্রান্ডমস্ক দূ প্যারিসে সকাল ৮টায় ও ৮ টা ৪৫ মিনিটে ২টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ফজরের নামাজের পরপরই ঈদের জামাতে অংশ নিতে স্থানীয় মসজিদগুলোতে জড়ো হন বিভিন্ন দেশের নাগরিক, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সকল দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। নামাজ শেষে বিশ্বের মানুষের শান্তি কামনায় ও করোনাভাইরাসের প্রতিরোধে দোয়া করা হয়। নামাজ শেষে দেশে থাকা স্বজনদের কথা মনে করে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।রাজধানী প্যারিস ছাড়াও ফ্রান্সের অন্যান্য প্রধান শহর তুলুজ, মার্সেই, লিল সহ বেশ কয়েকটি শহরেও বাংলাদেশি প্রবাসীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করেছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

পর্তুগালে বাংলাদেশি অধ্যুষিত লিসবনে সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ উদ্দীপনায় পর্তুগালে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। দেশটির রাজধানী লিসবন, ওডিভিলাস, কাসকাইস, দামাইয়া, বাণিজ্যিক বন্দর নগরী পোর্তো, পর্যটন নগরী আলগার্ভ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহর কোইমব্রা, কৃষি শহর ওডিমিরায় সহ সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা দিনটি উদযাপন করেছেন।বাংলাদেশি অধ্যুষিত পর্তুগালের লিসবনের মাতৃ মনিজ পার্কের মাঠে দেশটির সর্ব বৃহৎ ঈদের জামাত সকাল আটটায় অনুষ্ঠিত হয়। লিসবন বায়তুল মোকারম মসজিদের খতিব অধ্যাপক মাওলানা আবু সায়িদ ঈদুল ফিতরের জামাত পরিচালনা করেন। নামাজ পূর্বে ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য নিয়ে বয়ান করেন মাওলানা আলাউদ্দিন এবং কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন জুবায়ের আহমেদ। পর্তুগালের নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্টদূত তারিক আহসান, দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কনসুলেট প্রধান আবদুল্লাহ আল রাজি, দূতালয় প্রধান আলমগীর হোসেনসহ দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পর্তুগাল কমিউনিটির বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। এছাড়াও বন্দর নগরী ও বাণিজ্যিক শহর পোর্তোর বাঙ্গালী অধ্যুষিত রুয়া দে লউরেইরোর হযরত হামজা (র.) মসজিদে ঈদের দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পোর্তোর বাংলাদেশ কমিনিটির নেতৃবৃন্দসহ ঈদের জামাতগুলোতে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা এবং পশ্চিমা বিশ্বের বিভন্ন দেশের অন্যান্য কমিউনিটির ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মুসলিম অংশ নেন।করোনা মহামারি কাটিয়ে পর্তুগালের জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক হওয়াতে এবারের ঈদে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত অংশগ্রহন ছিল লক্ষণীয়। সেই সাথে ঈদের জামাতের পর ইসলামিক প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী মুসল্লীরা কোলাকুলি এবং কুশল বিনিময় করে। তবে লিসবনের বাংলাদেশীদের দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পাজামা পাঞ্জাবিতে বাংলাদেশীদের ঈদের ময়দানের দিকে ছুটে চলা যেন বাংলাদেশের কথাই মনে করিয়ে দিলো পর্তুগালের লিসবনের মাতৃ মনিজ পার্কের ঈদগাহ ময়দান প্রবাসের বুকে যেন এক খণ্ড বাংলাদেশ মনে হলো। এছাড়া লিসবনের সেন্ট্রাল জামে মসজিদ ও পোর্তোর হযরত বেলাল (রাঃ) জামে মসজিদে দুইটি করে, ওডিভিলাস ঈদগাঁও, দামাইয়া, আমাদোরা, রিবাইরালো, মিলপন্তেস, আলবুফেইরা, লংগাইরা, আলগ্রাব, ফারো, কাসকাইস, ওডিমিয়ারা খেলার মাঠ, কোইমব্রা জামে মসজিদে একটি করে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

post
দূতাবাস খবর

ভাষা শহীদদের সম্মানে রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজন

ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযথ মর্যাদায় "শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২২" পালন করেছে। দিবসের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয় এবং চ্যান্সেরি প্রাঙ্গণে স্থাপিত শহীদ মিনারে রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সকাল ১০টায় দূতাবাসের আয়োজনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দূতাবাসের আমন্ত্রিত দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বন্ধুপ্রতীম বিদেশি নাগরিকবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ ও প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকগণ সংযুক্ত হন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রাষ্ট্রদূত জনাব মোঃ শামীম আহসান তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে মাতৃভাষার অস্তিত্ব রক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভাষা সংগ্রামের পথ ধরেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশের গৌরবময় স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৯ তম অধিবেশনে জাতির পিতার বাংলায় ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষাকে পৃথিবীর সর্বত্র সম্মানজনকভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে যা ভবিষ্যতে আরো বেগবান হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে এ দিবস পৃথিবীর সকল দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ইউনেস্কোর মহাপরিচালকের বাণী পাঠ করা হয়। ইউনেস্কোর আঞ্চলিক পরিচালকের পক্ষে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী Ms. Megumi Watanabe মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী বাংলাদেশী তরুণদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির মাধ্যমে পৃথিবীর সকল মাতৃভাষার স্বকীয় গুরুত্ব ও অবস্থান সুসংহত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। ইতালির ফ্লোরেন্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনারারী কনসাল Ms. Giorgia Granata বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে শান্তি ও সৌহার্দ্য বিনির্মাণের ক্ষেত্রে দিনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলেও মতামত ব্যক্ত করেন। নেপলস্‌ এ নিযুক্ত বাংলাদেশের অনারারী কনসাল Ms. Fiorella Breglia ভাষার জন্য বাংলাদেশের তরুণদের আত্মত্যাগের জন্য তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান এবং গর্ববোধ করেন বলে অনুভূতি ব্যক্ত করেন। বন্ধুপ্রতীম ইতালীয় ও অন্যান্য বিদেশী নাগরিকবৃন্দও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মত্যাগকারী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা মাতৃভাষার অনন্যতা ও স্বকীয়তার বিষয়ে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। Rishilpi International নামীয় সংগঠনের উদ্যোক্তা বাংলাদেশের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু দুই ইতালীয় নাগরিক বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে, হাইব্রিড মাধ্যমে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান ও নাচের ধারণকৃত অংশ উপভোগ করেন। মিজ্‌ সুস্মিতা সুলতানার পরিচালনায় এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সঞ্চারী সংগীতায়ন’ এর শিক্ষার্থীদের সপ্রতিভ পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের এ অংশের বিশেষ আকর্ষণ ছিল মিজ লাওরা নামের একজন ইতালিয়ান ছাত্রীর মনোমুগ্ধকর একক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্যায়ে দিবসটি উপলক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমি নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। ইতালি, ভারত, থাইল্যাণ্ড ও প্রবাসী বাংলাদেশী শিল্পীদের ধারণকৃত বর্ণিল পরিবেশনা অনুষ্ঠানে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ, ইতালীয় আলোকচিত্রী Mr. Stefano Romano -এর তোলা ছবি নিয়ে তৈরি "আমার চোখে একুশ" শীর্ষক Photo Journey সকলের ব্যাপক প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়। শহীদদের রুহের মাগফেরাত ও দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ সন্ধ্যা ৭.০১ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ রাত ১২.০১ মিনিটে) ইতালির রোমে অবস্থিত আইজাক রবিন পার্কে স্থাপিত শহীদ মিনারে বাংলাদেশ দূতাবাস, রোম-এর উদ্যোগে রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা/ কর্মচারী ও পরিবারবর্গ পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, ভাষা শহীদদের সম্মানে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে মহিমান্বিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রয়াসে ইতালীয় সরকারের অনুমতিক্রমে রবিন পার্কে ২০১১ সালে শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়। ভূতাত্ত্বিক অনুপযোগিতার কারণে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকলেও দূতাবাসের সক্রিয় প্রচেষ্টার ফলে ২০১৪ সালের পর এবারই প্রথম এ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন সম্ভব হলো। দূতাবাসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীরাও এসময় ফুল দিয়ে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় রাষ্ট্রদূত তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সকলের সামনে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে রবিন পার্কে দর্শনীয় শহীদ মিনার স্থাপনের পেছনে জড়িত দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা এবং ইতালীয় সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।  

post
দূতাবাস খবর

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি, বাংলাদেশের প্রশংসায় বিশ্ব সম্প্রদায়

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস অবিচ্ছেদ্য বলে এক ওয়েবিনার আলোচনায় মন্তব্য করেন জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমান।ওয়ার্ল্ড সামিট অব ইনফরমেশন সোসাইটি-ডব্লিউএসআইএস এর পৃষ্ঠপোষকতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে যুগ্মভাবে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা- আইটিইউ, জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা- ইউনেস্কো, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি- ইউএনডিপি ও জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন- আনকটাড-এর সাথে যৌথভাবে এবারের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির কার্যালয়। এসময় স্থায়ী প্রতিনিধি আরো বলেন, "বাংলাদেশের স্বাধীনতার দীর্ঘ আন্দোলেনের মূল সূতিকাগার হলো ভাষা আন্দোলন। তাই শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজও বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক ঐক্যের অনুপ্রেরণার উ ৎস।" এছাড়াও, মাতৃভাষার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট, ভাষা জাদুঘর ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য তাদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষার প্রচলন বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার সংরক্ষণ ও দেশের অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ওয়েবিনারটিতে আলোচক হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন জেনেভায় নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি ইন্দ্র মনি পান্ডে, আইটিইউ-এর উপ-মহাসচিব ম্যালকম জনসন, ইউনেস্কোর সহকারি মহাপরিচালক ড. তৌফিক জেলাসি, আদিবাসীদের অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপর্টিয়ার ফ্রান্সিস্কো ক্যালি য্যায়, মরক্কোর শিক্ষাবিদ ড. ফাতিমা সাদিকি ও উগান্ডার সুশীল সমাজের সদস্য মার্গারেটা লোকাউয়া। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ে ১৯৫২ সালে বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বক্তারা ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি প্রদানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রসংশা করেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কনফারেন্স হলে আরেকটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আলোচনা সভায় অংশ নেন। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.