যুক্তরাষ্ট্র

শেষ হলো ৩৫তম আসর, 'ফোবানা শিক্ষা অ্যাওয়ার্ড' পেলেন চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ

post-img

বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)’র ৩৫তম সম্মেলনের পর্দা নেমেছে রোববার (২৮ নভেম্বর) মধ্যরাতে।

এবার ফোবানায় বিশেষ চমক ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদান। এ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও সন্মাননা প্রদান করা হয়। ৩৫ তম ফোবানায় বিজনেস নেটওয়ার্ক লাঞ্জ, একাডেমিক সেমিনার, মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর আলোচনা বিষয়ক সেমিনার, কালচারাল ইভেন্ট, দেশীয় পণ্যের উপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল, ট্র্যাভেল এজেন্সি, আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটির স্টল ছিল উল্লেখযোগ্য। এবার ফোবানার টাইটেল স্পন্সর ছিল আই গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি ও এনাকন লিজিওন গ্রুপ। এছাড়াও আরও বেশ কিছু ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান স্পন্সর করেন। সম্মেলনের আহ্বায়ক জিআই রাসেল ও সদস্য সচিব ছিলেন শিব্বির আহমেদ। 


ফোবানার মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা স্মারক প্রদানের পর উত্তরীয় পরিয়ে দেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন লাবলু আনসার, রাশেদ আহমেদ, হারুন অর রশীদ এবং ড. নুরুন্নবী। মন্ত্রী নিজেও একজন মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুন্নবী। বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশি মুসলিম নারী হিসেবে ১৫০ টি দেশে সফল ভ্রমনকারী নাজমুন নাহারকে বিশ্ব বিজয়ী হিসেবে বিশেষ সন্মাননা অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

এএবিইএ ফোবানা যৌথ ভাবে একাডেমীক সেমিনার আয়োজন করেন। যেখানে আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর এবং পিপলএনটেকের সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ মুল বক্তা ও গেস্ট অফ ওনার হিসেবে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

আবুবকর হানিফ তার বক্তব্যে ইন্ডাস্ট্রি এবং একাডেমীর সমন্বয়ের মাধ্যমে তার এই উদ্ভাবিত শিক্ষা পদ্ধতি দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন।তিনি তাঁর এই আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটিতে ২০২২ সালের শিক্ষাবর্ষে ১ মিলিয়ন ডলারের স্কলারশিপ ঘোষণা করেছেন। যেখানে ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের ৫০% থেকে ১০০% স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটির ওয়েব সাইটে https://www.igu.edu/ গিয়ে আবেদন করতে পারবেন।


এ ছাড়া প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মুলধারার ইউনিভার্সিটি আইজিইউ’র সত্ত্বাধিকারী ও চ্যান্সেলর হওয়ায় এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপকে ‘ফোবানা শিক্ষা অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।

সম্মেলনের আহ্বায়ক জিআই রাসেল ও সদস্য সচিব ছিলেন শিব্বির আহমেদ। এছাড়া এক্সপার্ট প্যানেলে অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন যারা তারা হচ্ছেন, ডঃ ফয়সাল কাদের, সভাপতি- এএবিইএ, কাজী জামান, সিইও, ক্রিকেট পয়েন্ট ডট নেট, সাহেদ ইসলাম, সিইও এসজে ইনোভেশন, শাহ আহমেদ, টেকনাফ আইএনসি, ডঃ আনিস রহমান এবং ফারহানা হানিপ, সিএফও, আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটি।


এদিকে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনেও বেশ কটি সেমিনার হয়েছে। সবগুলোতে সমৃদ্ধির পথে ধাবিত বাংলাদেশ নিয়ে পর্যালোচনামূলক আলোচনা হয়েছে। ‘বিজনেস নেটওয়ার্ক’ এ বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকারি মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেন মজেনা নিজের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে জোর দিয়ে বলেছেন, ‘এশিয়ায় উদিয়মান টাইগার’ হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের কাতারে উঠার সংকল্পও অপূর্ণ থাকবে না যদি বর্তমানের নেতৃত্ব অব্যাহত থাকে এবং রাজনৈতিক স্থিতি অটুট রাখা সম্ভব হয়।

এই নেটওয়ার্কে জর্জিয়া স্টেটের সিনেটর (ডেমক্র্যাট) শেখ রহমানও বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেন এবং রাজনীতিকদের আরো নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান। বাংলাদেশি আমেরিকানদের আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 এ আলোচনায় অংশ নিয়ে আই-গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর আবুবকর হানিফ বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের সাথে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশকে আরো উদারতা প্রদর্শন করতে হবে। প্রবাসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্নদেরকেও জাতীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত হবার প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। উন্নয়ন-অভিযাত্রায় রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারনীতে সাবব্জেক্ট-ম্যাটার এক্সপার্টদেরকে প্রাধান্য দিয়ে সমগ্র জনগোষ্ঠিকে উন্নয়নের ধারায় একিভুত করা সম্ভব হলে আর কোন শক্তিই বাংলাদেশকে পিছিয়ে নিতে সক্ষম হবে না।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম বলেছেন, বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে নিজস্ব অর্থ দিয়ে। এটি সম্ভব হচ্ছে প্রবাসীদের রেটিটেন্স এবং দেশমাতৃকার সার্বিক কল্যাণে আন্তরিক সহযোগিতায়। ফোবানার এই সম্মেলনেও একই চেতনা আমাকে অভিভূত করেছে।

ফোবানা ৩৫তম সম্মেলনের শেষদিনে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ইন্টারফেইথ কনফারেন্স। ইন্টারফেইথ সেন্টার অব ইউএসএ কর্তৃক আয়োজিত এই সেশন অনুষ্ঠিত হয় গত ২৮ নভেম্বর । কনফারেন্সটি পরিচালনা করেন সুখেন জোসেফ গোমেজ এবং সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

এছাড়া ফোবানা সম্মেলনের তিন দিন ব্যাপী উৎসবের শেষ দিনেও ছিল বাংলাদেশি ও প্রবাসীদের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশনা। সাদিয়া ইসলাম মৌ’র নৃত্য পরিবেশনায় মন কেড়েছে দর্শকদের। তিনদিনের উৎসবে সাবিনা ইয়াসমীন, রিজিয়া পারভীন, রবি চৌধুরী ও তাহসানের গানে মেতেছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংগঠনগুলোর সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও ছিল দৃষ্টিনন্দন। গান গেয়েছেন শশী, শাহ মাহবুব, বকুল, শামীম সিদ্দিকী, রোকসানা মির্জাসহ অনেকেই।

শেষ দিনে ফোবানার এক্সিকিউটিভ কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় রেহান রেজা চেয়ারম্যান এবং মেম্বার সেক্রেটারি পদে নির্বাচনে বিজয়ী হন মাসুদ রব চৌধুরী। নির্বাহী কমিটির সভায় আগামী ফোবানা সম্মেলন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়।

উল্লেখ্য, ফোবানা একেক বছর অনুষ্ঠিত হয় একেক অঙ্গরাজ্যে। এ বছর লাল-সবুজের আয়োজনটি বসেছিলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী লাগোয়া অঙ্গরাজ্য মেরিল্যান্ডের গেইলর্ড হোটেলে। ম্যারিল্যান্ডের গেলর্ড ন্যাশনাল রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার ম্যারিয়ট হোটেলের ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৮৯ স্কয়ার ফুটের মিলনায়তনে আসন সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।

গত তিনদিনে বাংলাদেশিদের নিয়ে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা লাল ও সবুজের মিশেলে পাঞ্জাবি ও শাড়ি দৃষ্টি কেড়েছে স্থানীয়দেরও। গেইলর্ডে আসা অন্যদেশের লোকেরাও মিশে গিয়েছিলেন বাংলার সংস্কৃতিতে।

সম্পর্কিত খবর

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.