সূর্যের সমশক্তি এখন ল্যবরেটরিতে উৎপাদন করা সম্ভব। ঠিক এমনই একটি ঘোষণা দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এই গবেষণা চালিয়ে আসছিলেন।
তারা বলে আসছিলেন পরমানু বিক্রিয়া থেকেই গ্রহপুঞ্জে আলো জ্বলে। আর এই বিক্রিয়া ল্যবরেটরিতে সম্ভব হলে তা হতে পারে বিপুল শক্তির উৎস।
এই বিষয়টিই এখন চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হলো ল্যাবরেটরিতে। মঙ্গলবার এই গবেষণায় নতুন মাইলফলক তৈরি হলো।
বিজ্ঞানীরা তাদের ঘোষণায় বলেছেন, তারা গবেষণাগারে প্রথম ফিউশন রিঅ্যাকশনটি ঘটিয়েছেন যার মধ্য দিয়ে একটি বিক্রিয়া সৃষ্টির জন্য যতটুকু শক্তির প্রয়োজন তার চেয়েও বেশি শক্তি তার উৎপাদন করতে পেরেছেন।
বিজ্ঞান গবেষণার এক মাইলফলক আমরা রচনা করতে পেরেছি। আর এর মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ শক্তি উৎপাদনে আমাদের আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হলো, বলছিলেন হোয়াইট হাউজের সায়েন্স অ্যাডভাইজার আরতি প্রভাকর।
মঙ্গলবার সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
পরিবেশ ভাবনা থেকে এমন নিউক্লীয় ফিউশনের একটা বড় আবেদন রয়েছে। সূর্য ও তারকারাজির মাঝে এমন নিউক্লিয়াস ফিউসন সারাক্ষণই ঘটতে থাকে। যার মাধ্যমে হাইড্রোজেন অনুগুলো হিলিয়ামের ভেতরে ঢুকতে থাকে এবং সূর্যালোক সৃষ্টি হয়। আর সৃষ্টি হয় তাপ ও উষ্ণতা। যা গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ছড়িয়ে পড়ে।
ল্যাবরেটরিতে এমন শক্তি সৃষ্টি করার এই আবিষ্কার পৃথবীর জন্য এক নতুন শক্তির উৎস হয়ে উঠবে যা পরিবেশ দূষণকারী জ্বালানির চাপ থেকে ধরিত্রীকে রক্ষা করবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
