নারী ও শিশু

শীতে চোখের রোগ ও প্রতিকার

post-img

শীতে বাতাসে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা কমে যায় এবং বায়ু দূষণের কারণে চোখ শুকিয়ে যেতে পারে। একে ‘ড্রাই আই’ বলে। চোখের পানির তিনটি অংশ- লিপিড বা চর্বি, অ্যাকুয়াস বা পানি ও মিউসিন বা পিচ্ছিলকারক।

শীতে বায়ুমণ্ডল শুষ্ক থাকার জন্য অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস যাকে সাধারণভাবে চোখ ওঠা বলে তাও হতে পারে। এ সময় কিছু ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা চোখকেও সংক্রমণ করে ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস করে। এর ঠিকমতো চিকিৎসা না হলে চোখের কর্নিয়া বা মণিতে গর্ত বা ঘা হতে পারে।

একে কর্নিয়াল কেরাটাইসিস বলে। শীতে ঠান্ডা সর্দি হতে দেখা যায়, ফলে নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। চোখের পানি চোখে তৈরি হয়ে নাক ও নেত্রনালি দিয়ে গলায় চলে যায়। নাক বন্ধ থাকলে চোখ দিয়ে পানি বের হয় এবং চোখে ইরিটেশন করে। শীতকালে দেখা যায়, আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফল ও ফুলের চাষ হয়। কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির কারণে কর্নিয়া আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তাই এ কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিরা সতর্ক থাকবেন এবং চোখের যে কোনো ট্রমা বা আঘাতে অতি শিগ্গির নিকটবর্তী চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।

চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়া ও কেতুর জমা

চোখের নেত্রনালির মুখ বন্ধ হওয়া যাকে পাংটাল বা অকলুশন বলে, তার ফলে এ সমস্যা হয়। নেত্রনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া যাকে ক্রনিক ডেক্রায়োসিস্টাইটিস বলে। ফলে চোখের পানি বাইরে যেতে পারে না এবং চোখ দিয়ে ময়লা বের হয়। অ্যালার্জির কারণেও চোখ দিয়ে পানি পড়ে। এ জন্য সেক প্যাটেনসি টেস্ট কার হয়।

এতে পাংটাল বড় করে একটি সিরিঞ্জ দিয়ে ওয়াশ করা হয়, গলা দিয়ে ওষুধ এলে আশা করা যায় চোখ দিয়ে পানি পড়া কমে যাবে। গলা দিয়ে পানি যদি না যায় সে ক্ষেত্রে ‘ডিসিআর’ নামক অপারেশন করা হয়। চিকিৎকরা অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ এবং ন্যাপ্রোসিন আই ওয়েনমেন্ট দিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

চোখ দিয়ে পানি পড়া

লাক্রিমেশন বা চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং ইপিফোরা অর্থাৎ চোখ দিয়ে পানি ও কেতুর বের হওয়ার সমস্যা তখনই হয় যখন নেত্রনালি বন্ধ হয়ে যায়। চোখে নিউমোকক্কাস জীবাণুর সংক্রমণ হয় এবং পুঁজ জমে ও কেতুর আসে। চোখ ফুলে অ্যাবসেস বা ফোড়া হয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সার্জারি করার পরামর্শ দেন। সার্জারির ৪-৬ মাস পর রোগী আরোগ্য লাভ করে।

চোখ ওঠা

চোখ ওঠা রোগকে কনজাংটিভাইটিস বলে। এক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াল হলে চোখের ড্রপ ও অয়েনমেন্ট দেওয়া হয়। ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত জটিলতা এড়ানোর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ ও আর্টিফিসিয়াল আই ড্রপ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসা সময় মতো নিলে চোখ লাল হওয়া কমে যাবে।

চোখ লাল হওয়া

চোখ লাল হওয়া কোনো রোগ নয় বরং কোনো রোগের কারণে চোখ লাল হয়। কনজিংটিভাইটিস, অ্যালার্জি, কর্নিয়া বা মণিতে ঘা এবং গ্লুকোমা রোগ, ইউভাইটিস থেকে চোখ লাল হয়। কর্নিয়াতে ঘা হলে চোখের মণিতে সাদা অংশ দেখা যায়। এমনটি হলে চোখে ব্যথা করবে ও দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে। কিন্তু কনজাংটিভাইটিস হলে দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা কিংবা ব্যথা হবে না।

এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কোনোভাবেই ফার্মেসি থেকে স্টেরয়েড ড্রপ নেওয়া যাবে না। এমনটি করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জীবাণুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়ে কর্নিয়া ফুটো হয়ে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট যাওয়ার আশংকা থাকে।

লেখক : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, ভাইস প্রিন্সিপাল, এনাম মেডিকেল কলেজ, সাভার, ঢাকা

সম্পর্কিত খবর

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.