রাজধানীর সবজির বাজারে প্রভাব পড়েনি অবরোধের। তবে আলু ও পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা কমেনি। বর্তমানে আলুর কেজি ৭০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম ঠেকেছে ১৪০ টাকায়।
রাজধানীর কারওয়ানবাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, আলু-পেঁয়াজের দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ খোদ খুচরা বিক্রেতারাই। তারা ক্রেতাদের বোঝাতে গিয়ে মেজাজ হারাচ্ছেন।
কোল্ড স্টোরেজে প্রচুর পরিমাণে আলু মজুত রয়েছে। সরকার তাদের ধরেন না কেন? তারা কেন বড় বড় ব্যবসায়ীদের ধরেন না? তারাই তো আলু মজুত করে বসে আছেন।
পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকার কথা জানিয়ে আরেক খুচরা বিক্রেতা বলেন, ‘হিসাব অনুযায়ী, পুরো ঢাকা শহরে দৈনিক ৪০ গাড়ি পেঁয়াজ দরকার হয়। কিন্তু সরবরাহ করা হয় মাত্র ২০ থেকে ৩০ গাড়ি। সেক্ষেত্রে বাজারে ঘাটতি তো থাকবেই।’
এদিকে অসাধু চক্রের কাছে জিম্মি ভোক্তারা। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও খুচরায় প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা থেকে ৭০ টাকায়। এছাড়া পেঁয়াজের প্রতি কেজি ঠেকেছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।
বাজারে পণ্যের দাম এত বেশি হওয়া ঠিক নয়। বর্তমানে আলুর দাম অনেক বেশি। আমরা কখনই আলু ৭০ টাকা কেজি দরে কিনিনি। তাছাড়া বাজারে সব পণ্যের যে দাম, এতে ঢাকা শহরে চলা অনেক কঠিন হয়ে উঠেছে।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। সে সময়ে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর যৌক্তিক দাম ১৪ টাকা ১৭ পয়সা, পাইকারি পর্যায়ে ২৭ টাকা ৬৩ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ৩৫ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত মূল্যে কোল্ড স্টোরেজ ও খুচরা কোনো পর্যায়েই আলু বিক্রয় করা হচ্ছে না।
এছাড়া দেশি পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৬৪ টাকা থেকে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কিন্তু তা বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি দামে।
এদিকে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) দাম নিয়ন্ত্রণে হিমাগার পর্যায়ে নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব কোল্ড স্টোরেজ থেকে সরকার নির্ধারিত দামে প্রতি কেজি আলু ২৬ থেকে ২৭ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সব জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়।
পাশাপাশি খুচরা পর্যায়েও সরকারনির্ধারিত দাম প্রতি কেজি আলু ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে বুধবার (১ নভেম্বর) এ নির্দেশনা কার্যকরের কথা বলা হলেও বাজারের চিত্র আগের মতোই।
