post
এনআরবি বিশ্ব

মিশরে, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের ইফতার মাহফিল।

এলামী মোঃ কাউসার। কায়রো,মিশর।নীলনদ ও পিরামিডের দেশ, মিশরের আল-আযহার সহ সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশী ছাত্রদের একমাত্র সংগঠন, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন এর ইফতার মাহফিল সম্পন্ন হল। আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০০ জন বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেছিলেন এই ইফাতার আয়োজনে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মিশরস্থ রাষ্ট্রদূত মো. মনিরুল ইসলাম সহ দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীগণ। এবং অন্যান্য দেশের অর্গানাইজেশনের ছাত্র প্রতিনিধিরা। মিশরীয় সময় বিকেল চারটায় অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে মাগরিবের আযানের আগ পর্যন্ত। ১৬ ই রমাজানুল মোবারকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আলাদা দুইটি অডিটরিয়াম বুকিং করা হয়। যেন অর্গানাইজেশনের মহিলা সদস্যরা পর্দার সাথে ইফতারী আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পারেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের সভাপতি মো. নাজিব শাওকী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, অর্গানাইজেশনের সেক্রেটারি জেনারেল, সাইমুম আল-মাহদী। ইফতার প্রোগ্রামে, অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্যগণ ও সিনিয়রদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, জনাব শোয়াইব হোসাইন আল-আযহারী, জনাব তাজদিদ বিন অদুদ এবং মো. শিহাবউদ্দীন আল-আযহারী। এবং সমাপনী বক্তব্য ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন, অর্গানাইজেশনের সহ সভাপতি, শাহেদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, অর্গানাইজেশনের সভাপতি এবং তিনি, ছাত্রদেরকে মতানৈক্য ভুলে ইসলামের সুমহান আদর্শের ছায়াতলে, একতার বন্ধনে অটুট থাকার জোড় তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানে বক্তরা, গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে আপামর জনতার আত্ম শুদ্ধির লক্ষ্যে ইসলামের সঠিক দাওয়াত পৌছে দেওয়ার আহ্বান জানান। উক্ত অর্গানাইজেশনের নয় সদস্যের কার্যকরী কমিটির অক্লান্ত পরিশ্রমে আয়োজিত মনজ্ঞ অনুষ্ঠানে, কুরআন তেলওয়াত, রমাজান নাশিদ, অর্গানাইজেশনের থিম সং সহ ইসলামী সাংস্কৃতির নানান কার্যক্রম উপস্থাপিত হয়। অর্গানাইজেশনের সাংস্কৃতিক ফোরামের সদস্যগণ পারফরম্যান্স করেন। মনোমুগ্ধকর এই আয়োজনে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন, রেজাউর রহমান, সাজিদুল ইসলাম, কাওসার হাবিব, নেওয়াজ জুলকারনাইন। ইফতারের আয়োজনেও ছিলো, বাংলাদেশী খাবারের ছোঁয়া। ছাত্রদের নিজ হাতে রান্না করা, বিফ বিরিয়ানি। যা বাঙালির ঐতিহ্যকে প্রোস্ফুটিত করে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্টদূত জনাব মনিরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদের কল্যাণের জন্য দূতাবাস সর্বদা বদ্ধপরিকর। অর্গানাইজেশনের সমস্ত প্রোগ্রাম, শিক্ষা ও বিনোদন কার্যক্রমে তিনি অংশগ্রহণ করেন। স্কলারশিপ বৃদ্ধি করণে আল-আযহারের গ্রান্ড ইমাম (প্রেসিডেন্ট ওব আযহার) এর সাথে তিনি সাক্ষাৎ করেছিলেন। এবং তেনার দাবির প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশী ছাত্রদের জন্য প্রতি বছর ৫০টি স্কলারশিপের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, শাইখুল আযহার। তাছাড়া,বাংলাদেশের স্টুডেন্টদের ভিসা জটিলতা ও মিশরে উচ্চ শিক্ষায় আগত ছাত্রদের কার্যক্রম সহজ করার জন্য, অর্গানাইজেশনের প্রতিনিধি নিয়ে, তিনি মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে মান্যবর মন্ত্রী মহোদয়ের দেখা করেছিলেন। মিশরে ছাত্রদের জন্য নিবেদিত প্রাণ, মান্যবর রাষ্ট্রদূত স্যার। বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন, সবার আস্থার প্রতিক। মিশরের রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে, এম্বাসী আয়োজিত বাংলাদেশের প্রতিটি জাতীয় দিবসে, অর্গানাইজেশনটি সতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশী ছাত্রদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ ও সুস্থ বিনোদনের লক্ষ্যে, নানাবিধ কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। যেমন, ক্রিকেট, ফুটবল টুর্নামেন্টে, বাৎসরিক শিক্ষা সফর, সাংস্কৃতিক নানা প্রতিযোগিতা, শিক্ষা মূলক কর্মসূচি, নানান দিবস কেন্দ্রীক প্রোগ্রাম সহ ইত্যাদি আয়োজন করে থাকে। মিশরের বুকে বাংলাদেশী ছাত্ররা উচ্চশিক্ষায় অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছে। আল-আযহারের কলেজ লেভেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে, সারা বিশ্বের ছাত্রদের মাঝে, প্রথম থেকে দশ জনের মেধা তালিকার সিংহভাগ বাংলাদেশী ছাত্ররা অর্জন করে থাকে। যা বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। ছাত্রদের রেজাল্ট ও পড়াশোনা কেন্দ্রীক উৎসাহ প্রদান ও কার্যকরী পদক্ষেপের জন্য অর্গানাইজেশন সত্যিই বিদেশের মাটিতে একটি রোল মডেল। দল মত নির্বিশেষে এই সংগঠন একটি ঐক্যমতের প্রতিক। যেখানে বাংলাদেশের সমস্ত মতাদর্শের ছাত্রগণ নিজেদের দূরত্ব ভুলে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। ইসলামের অনন্য সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে এ সংগঠনের মাধ্যমে। বর্তমান কার্যকরী কমিটির সেশনে, নয় সদস্যের মাঝে আরো রয়েছেন, অর্থ সম্পাদক, সাইফুর রহমান ও শরীফ মো. কাওসার হোসাইন। শিক্ষা সম্পাদক, আব্দুর রহমান। অফিস সম্পাদক, সাইফুল ইসলাম। সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ইয়াসিন আরাফাত। এবং মিডিয়া ও প্রেস সম্পাদক, আল আমিন সরকার।

post
শিক্ষা

বৃত্তি পেয়েও বাংলাদেশি ছাত্ররা যেতে পারছে না আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে! কেনো?

এলামী মো. কাউসার, কায়রো, মিশর: বাংলাদেশি ছাত্রদের আর যাওযা হচ্ছে না আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে! কথা টা শুনে কেমন মনে হলেও এটাই হয়তোবা সত্যি হতে যাচ্ছে। কেননা বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারিভাবে বৃত্তি প্রাপ্ত হয়েও কোন বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীর আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা সম্ভব হয়নি। মূলতঃ মিশরে সরকারিভাবে ছাত্র ও শ্রমিকদের আনা নেয়া শুরু হয় নব্বই সালের পর থেকে। তারপর ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ২০০১ সালে থেকে শুরু হয়ে ২০১৯ অথবা ২০২০ পর্যন্ত চলতে থাকে এর ধারাবাহিকতা। কিন্তু কোন এক ধূসর কালো ছায়ায় বন্ধ হতে চলেছে দেশের হাজারো তরুনদের স্বপ্নের চাওয়া আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ। তরুণরা কেনইবা এই স্বপ্ন দেখবে না বলুন? অথবা কেনইবা ছেড়ে দেবে সরকারি বৃত্তি পেয়েও পৃথিবীর প্রাচীনতম ও স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানটি পড়ার সুযোগ? আফ্রিকার ছয়টি দেশের সরকার প্রধান, বিরোধীদলীয় নেতা, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট, বিখ্যাত ধর্মতত্ত্ববিদ মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি, মুসলিম বিশ্বে নোবেল খ্যাত কিং ফায়সাল পুরস্কার জিতেছে দর্শন, ধর্ম ও সামাজিক কাজে গবেষণায় আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র শিক্ষক সহ মধ্য প্রাচ্যের অনেক বড় মুসলিম শিক্ষার্থী। এছাড়াও বাংলাদেশের গর্বিত সন্তান সৈয়দ মুজতবা আলী, হাজী শরীয়তুল্লাহ, বর্মানে জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আযহারীসহ ইন্দোনেশিয়া, মালোয়শিয়া, সিংগাপুরসহ পৃথিবীর নানা মুসলিম দেশে মন্ত্রী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও নানাবিধ সুযোগ সুবিধা প্রদান করার কারনে বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের আকর্ষণের তালিকায় রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। পৃথিবীর এমন একটি দেশ হয়তোবা পাওয়া যাবে না যে দেশের দুই একটি ছাত্র হলেও আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলবে না।কিন্তু হঠাৎ কেন বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের সেই আশায় গুড়েবালি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ অবস্থিত মিশর দূতাবাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে ভর্তি প্রসেসিং করা হয় সেখানে নকল ও অবৈধ কাগজপত্র দাখিল, বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তি জটিলতা এবং বাংলাদেশি ছাত্রদের অবৈধভাবে মিশরে এনে ভর্তি সহ এই ধরনের নানা অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশি ছাত্রদের বিরুদ্ধে।এই সম্পর্কিত অভিযোগ মিশর দূতাবাসের মাধ্যমে মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে পাসপোর্ট এবং ইমিগ্রেশন অফিসে গেলে নড়েচড়ে বসে মিশরের পাসপোর্ট এবং ইমিগ্রেশনের গোয়েন্দা সংস্থা।এই বিষয়ে জানতে চাইলে মিশর দূতাবাসে কাউন্সিলর মিনা মিকারী বলেন, যারা ছাত্র এবং ভ্রমণ ভিসায় সাধারণ পাসপোর্টে মিসরে যাওয়ার জন্য আবেদন করে আমরা মূলত তাদের সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে মোফায় পাঠাই। তারপর সেখান থেকে মানদুব হয়ে পাসপোর্ট এবং ইমিগ্রেশনে (আব্বাসিয়া) পাঠানো হয় সেখান থেকে অনুমতি অথবা ছাড়পত্র আসলেই আমরা ভিসা দেই। সরকারি ও ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্টের জন্য এই ধরনের কোনো শর্ত নেই। মূলতঃ সমস্যা টা এখানেই। মিশরের পাসপোর্ট এবং ইমিগ্রেশন‌অফিসে পড়ে আছে অসংখ্য বাংলাদেশি ভ্রমণ প্রত্যাশীদের ভ্রমন ফাইল যেন দেখার কেউ নেই।এছাড়াও সরকারি বৃত্তি পাওয়ার পরেও যারা যেতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা অনেকেই এই প্রতিবেদক কে জানান যে তাদের কেউ এক বছর কেউ দুই বছর আগে অথবা কেউ নতুন বৃত্তি পাওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে না পারছেন না। এ নিয়ে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং দায়ী করেন কুটনৈতিক ব্যর্থতাকে।এই দিকে তারা বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কারন এই আশায় বুক বেঁধে অনেকেই অন্য কোথাও আর ভর্তি হয়নি।এই প্রতিবেদককে মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর ও বাংলাদেশ পুলিশের এসপি ইসমাইল হোসেন বলেন, "বিষয়টি আমরা আপনার মাধ্যমে জানলাম আসলে অবাক হওয়ার মত একটা বিষয় এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা বাঞ্ছনীয় নয়।"এই বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রদূত সারের মাধ্যমে দ্রুত কতৃপক্ষের সাথে আলোচনায় বসে একটা সমাধান বের করবো, বলেন ইসমাইল হোসেন। এছাড়াও মিশরে অবস্থিত একমাত্র ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন চায় দ্রুত অবসান হোক এই সমস্যার। আবার অবাধ বিচরণ হোক বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশ্বের এই প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একেকজন হয়ে উঠুক সৎ দক্ষ দেশপ্রেমিক এটাই প্রত্যাশা সকলের।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.