হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় ৯ দিন হলো বন্যার পানি এসেছে। ঘরে কোমরসমান পানি ওঠায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ছেড়ে পাশের বুরুজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন রেণু রাণী সরকার (৫৫)। তবে এখন আশ্রয়কেন্দ্রও পানিতে ডুবে আছে।
রেণু রাণী বললেন, ‘ত্রাণের লাইগ্গা ইখানো পইড়ারইছি। রাইত হইলে অন্যের বাড়িত থাকি। আর দিন ইলে ইখানো আই। এখন ফর্যন্ত সরকার থেইক্কা কোনো সায্য (সাহায্য) পাইছি না। এখন আত্মীয় আর প্রতিবেশীর দয়ায় বাইচ্চা আছি।’
রেণু রাণীর বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের বুরুজপাড়া গ্রামে। গত বছর বুরুজপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর পান রেণু রাণী। কিন্তু সেই ঘরে পানি ওঠায় রেণু রাণী বিপাকে পড়েছেন। সোমবার সকাল পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ পাননি বলে দাবি করেন রেণু রাণী। তিনি বলেন, প্রতিবেশীর কাছ থেকে ১০ কেজি চাল ধার নিয়েছেন। তবে সেটাও শেষের দিকে। ওই চাল দিয়ে আজ রাত পর্যন্ত চলবে। কিন্তু কাল রাত পোহালে কী করবেন, সেটা তিনি ভেবে পাচ্ছেন না।
১৯ জুন বিকেলে কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হয় বানিয়াচং উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে উপজেলার বুজপাড়া এলাকায় বন্যা দেখা দিলে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৬টি ঘর পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর রেণু রাণীসহ ওই প্রকল্পের বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে আশ্রয় নেন।
পাঁচ বছর আগে স্বামীকে হারান রেণু রাণী। তিন ছেলে, এক ছেলের স্ত্রী ও নাতিকে নিয়েই তাঁর সংসার। রেণু রাণী কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। কখনো মাটি কাটার কাজও করেন। তাঁর ছেলেরা দিনমজুরের কাজ করেন। তবে বন্যার কারণে কয়েক দিন ধরে তাঁরা কেউ কাজ পাচ্ছেন না। অভাবের সংসারে কোনো সঞ্চয়ও নেই তাঁদের কাছে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুয়ায়ী, বেশ ধীরগতিতে বানিয়াচংয়ে বন্যার পানি কমছে। আজ সোমবার পানি কিছুটা কমলেও বেশির ভাগ বাড়িঘরে কোমরসমান পানি রয়ে গেছে। উপজেলার বেশির ভাগ গ্রামের মানুষ কৃষিকাজ ও দিনমজুরের কাজের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে বুরজপাড়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারও ঘর ভেঙে গেছে, কারও ফসল নষ্ট হয়েছে। কাজ বন্ধ থাকায় অনেকের হাতে টাকা নেই।
বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাশেম চৌধুরী বলেন, বানিয়াচংয়ে এবার বন্যায় কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর বিপরীতে ত্রাণ অপ্রতুল।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ্মাসন সিংহ বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ পর্যাপ্ত নয়। আজ পর্যন্ত তিনি নগদ ২ লাখ টাকা, ৭০ মেট্রিক টন চাল, ৩০০ শুকনা খাবারের প্যাকেট পেয়েছেন। বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে চাহিদাপত্র জমা দিয়েছেন।
