শিক্ষা

শিক্ষায় রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট জরুরি বিষয়, দুবাইয়ে শিক্ষা সম্মেলনে বললেন ডব্লিউইউএসটি চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ

post-img

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তার শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে মানসম্মত শিক্ষা দিয়ে সারা বিশ্বের যে কোনো স্থানে কাজ করার উপযুক্ত করে তোলে। এখানকার দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের আজ ফ্রেশার হিসাবে কর্মজগত ঢুকতে হয় না। তারা মধ্য পর্যায় এমনকি সিনিয়র পর্যায় থেকেই তাদের কর্মজীবন শুরু করতে পারে। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক একটি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে অংশ নিয়ে এসব কথা বলছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-ডব্লিউইউএসটি'র চ্যান্সেলর ও বোর্ড চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ। গত ৪ থেকে ৬ ডিসেম্বর দুবাইয়ের ক্রাউন প্লাজা হোটেলে তিনদিন ব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ এডুকেশন ফোরাম। 

আবুবকর হানিপ বলেন, এখন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিক জ্ঞান জরুরি। আর সে কারণে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তার পাঠক্রমে ইন্ডাস্ট্রি নলেজের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এখানকার শিক্ষকরা তাদের একাডেমিক পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি চার থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রি অভিজ্ঞতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের শেখান। এটাই ডব্লিউইউএসটি'র বিশেষত্ব। 

"রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট এখানে একটি জরুরি বিষয়। শিক্ষার্থীরা যে অর্থ ব্যয় বা বিনিয়োগ করে লেখাপড়া করে তার সুফল যেনো কর্মজগতে ঢুকেই পেতে পারে সে ব্যাপারে জোর দেই আমরা," বলেন আবুবকর হানিপ। 

তিনি আরও বলেন, ডব্লিউইউএসটির শিক্ষার্থীরা আমেরিকান কর্পোরেট নলেজ নিয়ে বিশ্বের যেকোন স্থানে কাজ করার উপযোগী হয়ে ওঠে। 

বাংলাদেশ থেকে একটি বড় সংখ্যক শিক্ষার্থী এখন ডব্লিউইউএসটি-তে পড়ছে এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশি যে কোনো শিক্ষার্থীর জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বিশেষ সুবিধা। তিনি জানান, প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের প্রথম কোয়ার্টারে টুইশ্যান ফি'র ৫০ শতাংশ বৃত্তি পাচ্ছে। আর এরপর কোর্সের ফলের ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃত্তির সুবিধা রয়েছে। 

ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি একটি সঠিক গন্তব্য এমনট উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের ১২১টি দেশের শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠ নিয়েছে এবং নিচ্ছে। এটি একটি মাল্টি কালচারাল ডাইভার্সিফায়েড ক্যাম্পাস যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের জীবন বোধকেও আন্তর্জাতিক করে তুলতে পারে। 

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যদি তাদের শিক্ষাজীবন শেষে বাংলাদেশেও ফিরে আসতে চায় তারা একটি আন্তর্জাতিক মান নিয়ে ফিরবে। যা তাদের জন্য তো বটেই দেশের জন্যও হবে বড় পাওয়া, বলেন আবুবকর হানিপ। 

বাংলাদেশ এডুকেশন ফোরাম এই সম্মেলনে দেশের ৪.৬ বিলিয়ন ডলারের উচ্চশিক্ষা খাতকে আন্তর্জাতিকতায় উত্তীর্ণ করার লক্ষ্যে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করে। বাংলাদেশেরও বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এই সম্মেলন যোগ দেয়। অংশ নেন বাংলাদেশের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে বাংলাদেশও বিকল্প উচ্চ শিক্ষার গন্তব্য হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে কয়েক হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী বাংলাদেশের বেশ কিছু মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করছে। দিনে দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। 

এটি ছিলো বাংলাদেশ এডুকেশন ফোরামের এ ধরনের প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজসহ সাধারণ ও বিশেষায়িত কলেজগুলোতে যাতে পড়তে আগ্রহী হয় সে লক্ষেই এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, সম্মেলনে জানান আয়োজকরা। 

তারা বলেন, এতদিন বাংলাদেশ ছিলো নিছক শিক্ষার্থী রপ্তানিকারক এখন বাংলাদেশ শিক্ষার্থী আমদানিকারক হয়ে উঠতে চায়। 

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কখনোই মন্দ কিছু ছিলো না, কিন্তু এ নিয়ে কিছু সাধারণ ধারণা প্রচলিত রয়েছে যা পরিবর্তন করতে হবে, বলেন শিক্ষা-উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান। শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে তিনি দেশের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। 

এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্ত্বাধিকারী, উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, শিক্ষা-উপদেষ্টা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. বিশ্বজিৎ চন্দ এতে অংশ নিয়ে বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। দেশের ভবিষ্যত বিবেচনায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিস অব বাংলাদেশ (এপিইউবি) এই ফোরামের সঙ্গে রয়েছে। 

বাংলাদেশের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এখন ইউএই, সৌদিআরবের মতো দেশগুলোতে তাদের ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছে, জানানো হয় এই সম্মেলন। 

এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ড. এম সবুর খান বলেন, বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা খাতের জন্য এটি একটি বড় খবর। আন্তর্জাতিক বাজারে রিসোর্স ছড়িয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এরই মধ্যে ভূমিকা রেখে আসছে। এমন একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সে সুযোগ আরও বাড়বে। 

শিক্ষাখাত দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন দিক হিসেবে উন্মোচিত হতে পারে। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং বর্তমান সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসবে, বলেন তিনি। 

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে বসবাসরত নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশিদের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে ড. সবুর খান বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন কাজ খোঁজার চেয়ে তরুনদের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী হিসেবে আগ্রহী করে তুলতে হবে। উদ্যোক্তারাই তখন নতুন নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে। 

সম্পর্কিত খবর

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.