এনআরবি বিশ্ব

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোয় ধীরগতি

post-img

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও চাহিদা রয়েছে অনেক। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের পদ্ধতি যেন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূলে রয়েছে উভয় দেশের সরকার নির্ধারিত পদ্ধতি, আর্থিক খরচের বাইরে কিছু অলিখিত পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া। তাহলে কী বাংলাদেশ সরকার অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় দুই ধরনের নীতি অনুসরণ করছে কি না এমন প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় প্রাইভেট রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে দেশটিতে যেতে কর্মীকে ধারদেনা করে দিতে হচ্ছে ৪/৫ লাখ টাকা। এটিও সরকারের অধীনেই হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যেতে কর্মীকে খরচ করতে হচ্ছে না।

কর্মী সরকারি-বেসরকারি যে এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাক না কেন তাকে অবশ্যই প্রবাসীকল্যাণ বোর্ড, বিএমইটি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই যেতে হচ্ছে। প্রত্যেক আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ যেতে ঋণের জালে আবদ্ধ হওয়া, বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হওয়া বিষয়গুলো নিজেই তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান তিনি, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফল দেখা যায় না।

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের সুবিধা নিতে ব্যর্থতা এবং পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে সর্বনাশ হচ্ছে। আশির দশক থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিকর্মী গেলেও দেশটির সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার আইনি ভিত্তি পায় ২০১৬ সালে। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের পর মালয়েশিয়া সরকার লেবার সোর্স কান্ট্রি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় অর্থাৎ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা করবে, হঠাৎ করে শ্রম নিয়োগ বন্ধ করতে পারবে না।

আগে যখন তখন কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দিত, ফলে কর্মী প্রেরণকারী সংস্থা, এজেন্ট, সাব এজেন্ট সবাই যেনতেনভাবে ইচ্ছামতো অর্থ নিয়ে কর্মী পাঠায়। এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে কোনো কঠোর অবস্থান না থাকায় প্রকৃত এজেন্সি বঞ্চিত হয় এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা রয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন সময় তুলে ধরে।

বাংলাদেশ সরকারের অভিবাসন নীতি, আইন, বিধি, আদেশ, নির্দেশ সবই আছে, এসব বাস্তবায়ন করার জন্য সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, দপ্তর, লোকবল, ম্যাজিস্ট্রেট সবই আছে, আরো আছে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়। কর্মীদের দেশে-বিদেশে কল্যাণ দেখবার জন্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব লোকবল আছে। রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন, নবায়ন, বাতিল, শাস্তি আরোপ এসব মন্ত্রণালয় করে। তবে কর্মী অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার অভাব এবং এ সুযোগে অনিয়ম দাপটের সঙ্গে রয়ে গেছে।

কর্মী অভিবাসন এক পক্ষের বিষয় নয় প্রেরক ও গ্রহণকারী উভয় দেশের বিষয় তাই এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে দক্ষ ও অভিজ্ঞ করে না তুললে সমস্যার গভীরে দেখবার কেউই থাকবে না। বাস্তবে তেমনি দেখা যাচ্ছে যে, মিশনে কর্মী নিয়ে যারা কাজ করে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে দেশে এনে মন্ত্রণালয় বিদায় দিয়ে দেয়। এমন কি অনেককে অপমান করে তাড়ানোর নজির রয়েছে। বিপরীতে অনভিজ্ঞদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয় যাদের তৈরি করছে তাদের বাদ দেওয়ার ট্র্যাডিশন এসেছে এজেন্সিগুলোর অপতৎপরতা থেকে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

ধারণা করা হয় কোনো কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি দূতাবাস থেকে অনৈতিক সুবিধা (অ্যাটেস্টেশন) না পেলে এবং বিদেশে কর্মীদের প্রতারিত করতে না পেলে, কর্মীদের জিম্মি করে অর্থ আয় করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর রুষ্ট হয় এবং মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরে বেনামে পত্র দিয়ে থাকে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের কাছে তদবির করে ফলে এদের কথায় গুরুত্ব দেয় এবং এমন অবস্থা গ্রহণ করে যে মন্ত্রণালয় নিজেই ঠকে।

দেখা গেছে, বিদেশে কর্মী পাঠানো এজেন্সির হাল হকিকত জানা কর্মকর্তা অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পেলে সে এজেন্সি আর সাহস পায় না। মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় কিছু বাস্তবতা উন্মোচন করেছে অনেক আগেই। মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতাকে অনুধাবন না করার ফলে সমস্যার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে, সেখান থেকে বের হওয়ার কোনো জোর প্রচেষ্টা দেখা যায় না।

মালয়েশিয়ায় আশির ও নব্বই দশকের পদ্ধতি থেকে বের হয়েছে এবং বাংলাদেশের জন্য আউট সোর্সিং বন্ধ করেছে। কিন্তু কর্মী প্রেরণে বাংলাদেশি এজেন্সি, তাদের এজেন্ট, সাব এজেন্ট সবই আগের নিয়ম অব্যাহত রাখতে কসরত করে যাচ্ছে।

ফলে বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করলেও পুরনো ঘূর্ণি থেকে বের হতে পারছে না কারণ এজেন্সি কর্মী পাঠাবে।

অন্যদিকে জি-টু-জি পদ্ধতিতে সরকার কর্মী প্রেরণ করলে খরচ খুব কম হয় কিন্তু এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারে অর্থ বিনিয়োগকারী এজেন্সিগুলোর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় এবং ক্ষতির শিকার হয়। ফলে তারা সবসময় সরকারকে এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে অতিরিক্ত কর্মী নিয়ে মালয়েশিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি করায় এবং ফলে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষতির শিকার হওয়ায় মালয়েশিয়া এজেন্ট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাংলাদেশকে বললেও কোনো ফল না পাওয়া মালয়েশিয়া নিজেই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া চালু করে।

এতে আগের অভ্যাসে মালয়েশিয়ায় ভিসা ক্রয় করা বাংলাদেশি এজেন্সি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ এজেন্সিগুলোর নানান যুক্তি তুলে ধরে মালয়েশিয়ায় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির করে এবং অতিষ্ঠ হয়ে মালয়েশিয়ার নতুন সরকার (মাহাথির সরকার) বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে।

সম্পর্কিত খবর

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.