সময় যত বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বন্যাকবলিত মানুষের সংখ্যাও। ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডাকাতিয়া নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি উপচে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে কুমিল্লা নাঙ্গলকোট এলাকার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন। দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট।
এ অবস্থায় শুক্রবার (২৩ আগষ্ট) ঢাকায় অবস্থিত আইটি প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক ইন্সটিটিউট অফ আইটি ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির উদ্যোগে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক মানুষের মাঝে শুকনা খাবার ও নগদ অর্থ বিতরন করা হয়।
এদিন বন্যার্ত এসব মানুষের হাতে খাবারের প্যাকেট তুলেদেন পিপলএনটেকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাশরুল হোসাইন খান লিওন ও চীফ অপারেশন অফিসার আব্দুল হামিদ।
এসময় বানভাসি মানুষের উদ্দেশ্য মাশরুল হোসাইন বলেন, কুমিল্লায় বন্যার্তদের মাঝে পিপলএনটেকের পক্ষ থেকে আমি ও পিপলএনটেক, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ আয়োজন, ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক সকল দুর্যোগে পিপলএনটেক সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিল, আছে, থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
এর আগে বুধবার সকাল থেকে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় লাখ-লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। গ্রামীণ অধিকাংশ সড়ক ও ফসলি মাঠ তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
বিশেষ করে উপজেলার সাতবাড়িয়া, বক্সগঞ্জ, ঢালুয়া, মৌকারা, রায়কোট উত্তর, রায়কোট দক্ষিণ, আদ্রা উত্তর, আদ্রা দক্ষিণ, বাঙ্গড্ডা ও পেরিয়া ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে গিয়েছে, দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।
ঢালুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর হানিপ তার নিজ গ্রামের বন্যার্ত মানুষের মাঝে খাবার বিতরন করায় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এলাকার সাধারণ মানুষ।
এদিকে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গোমতী নদীর পানি। এছাড়াও বন্যাকবলিত জেলার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, লাকসাম মনোহরগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলার ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।
সবখানেই বন্যার্তদের মাঝে হাহাকার দেখা গেছে। অনেক এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পানিবন্দী হয়ে পড়ায় বন্যার্তদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গিয়েছে।
